টপ ৫: আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর ৫টি দিন

একসময় ছিলো ব্রিটিশদের উপনিবেশ, তারপর যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা এরপর নানারকম রাজনৈতিক চাল আর পালটা চাল এবং পরমাণু বোমা আবিষ্কার এর মধ্য দিয়ে আমেরিকা হয়ে ওঠে আজকের পৃথিবীর অন্যতম রাজনৈতিক ও সামরিক পরাশক্তি। জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তি আর গবেষণাতেও সারা পৃথিবিকে নেতৃত্ব দিচ্ছে  আমেরিকা। তাই মানষেরও কৌ্তূহলের সীমা নেই এই আমেরিকা নিয়ে। বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে এবং নানারকম ষড়যন্ত্র সফল করতে আমেরিকা জন্ম দিয়েছে বহু নাটকীয় ঘটনার।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো আমেরিকার ইতিহাসের ভয়ংকর ৫টি দিন নিয়ে। কি হয়েছিল সেই দিনগুলোতে? কেনো মানষ আজও ভয় পায় সেই দিনগুলোর ইতিহাস শুনলে? চলুন জানা যাক:

আমেরিকার ইতিহাসে ভয়ংকর ৫ দিন

আগস্ট ২৪, ১৮১৪

(দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ)

দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ

দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ

৩১ বছর হয়ে গেছে। আমেরিকার মাটি থেকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাষণের পতন ঘটেছে। কিন্তু ৩১ বছর পর আবারো আমেরিকানদের ঘুম হারাম হতে চলেছে। কেননা ট্রেড ইস্যু মিয়ে ব্রিটিশদের সাথে আবারো আমেরিকানদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হয়েছে ১৮১২ সালে। যুদ্ধের তৃতীয় বছরে, অর্থাৎ ১৮১৪ সালে ব্যাটল অব ব্লাডেনসবার্গে আমেরিকান সৈন্যদের হারিয়ে দেয় ব্রিটিশ সৈন্য বাহিনী। তাদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে যে পরাজয়ের ৩১ বছর পর তারা আবারো আমেরিকার একটি বিশাল ভূখন্ডে নিজেদের করায়ত্ত প্রতিষ্ঠা করবে। ব্রিটিশরা ব্লাডেনসবার্গ ময়দানে বিজয়ের হাসি হেসেই নীরব থাকলো না, আক্রমণ করলো আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি তে। ব্রিটিশ সৈন্যরা আগুন জ্বালিয়ে দিলো বিভিন্ন সরকারি ভবনে। আগুনে দগ্ধ হল রাজধানী। রেহাই পায়নি হোয়াইট হাউজও। আগুন জ্বলতে থাকে হোয়াইট হাউজেও। তৎকালীন মার্কিন মুল্লল্কের প্রেসিডেন্ট জেমস ম্যাডিসন এবং তার প্রশাসনের বেশিরভাগ কর্মকর্তা রাজধানী থেকে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয় ম্যারিল্যান্ড শহরের ব্রকভিলে। একদিনের জন্য রাজধানী হয়ে যায় ম্যারিল্যান্ড শহর। সেই থেকে এই শহরের আরেক নাম হয়ে উঠেছে ‘একদিনের জন্য রাজধানী’। পরেরদিন প্রবল বৃষ্টিপাতে বৃটিশদের লাগিয়ে দেওয়া আগুন নিভে যায়।

ওয়াশিংটনের এই জ্বালাও পোড়াও শুধু্মাত্র সাধারণ মার্কিনিদেরকেই ভীত করে তোলেনি বরং প্রশাসনের বহু উর্ধ্বতন কর্মকর্তার অন্তরকেও কাপিয়ে দিয়েছিল। ১৮১২ সালে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ শেষ হয় ১৮১৫ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারীতে। এখনো অনেক আমেরিকান এই যুদ্ধ কে দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

এপ্রিল ১৪, ১৮৬৫

(আব্রাহাম লিংকনের মৃত্যু)

পাঁচ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষ। ভিতরে ভিতরে আমেরিকা প্রায়ই শেষ হয়ে গেছে। ক্লান্ত সকলের মাঝে আশার সঞ্চার করে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন। সাধারণ মানুষও ভরসা করে প্রেসিডেন্টকে। আবারো আমেরিকাকে ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি জোড় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঠিক এমনই এক সময়ে,১৮৬৫ সালের ১৪ই এপ্রিল, আব্রাহাম লিংকন যখন দ্বিতীয় মেয়াদে তার প্রেসিডেন্সি কার্যক্রম শুরু করেছে ঠিক তখনই জন উইকস বথ নামের এক ব্যক্তি হত্যা করে প্রেসিডেন্ট কে। মাত্র একটি পিস্তল দিয়েই থামিয়ে দেওয়া হয় আমেরিকার মাটিতে শান্তি বিপ্লবকে।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: আমেরিকার সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান

অক্টোবার ২৯, ১৯২৯

(স্টক মার্কেটের পতন)

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পরই আমেরিকার অর্থনীতি ফু্লে ফেঁপে উঠতে থাকে। সময়টা আমেরিকার জন্য বেশ ভালোই যাচ্ছিলো। কিন্ত একদিকে যখন শহু্রেরা ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলে নিজেদের ধনসম্পদ বাড়িয়ে তুলছিলো ঠিক তখনই সেই দেশের কৃষকরা চরম হতাশায় নিপতিত হয়। সকলেই শেয়ার বাজারে ব্যাপক বিনিয়োগ করতে থাকে। ব্যাংকগুলোও যাচ্ছেতাইভাবে সুযোগ কাজে লাগাতে থাকে।

১৯২৯ সালের ২৯শে অক্টোবার। দিনটা ছিল মঙ্গলবার। আর সেদিন সকালেই অধিয়াঙ্গশ আমেরিকানদের জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ আর্থনৈতিক ক্রাইসিস। পতন ঘটে স্টক মার্কেটের। সকলেই তাদের স্টক বিক্রয় করতে চায় কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত সেদিন স্টক কেনার মত কোন ক্রেতা ছিলো না।

আজো আমেরিকানরা সেই দিন কে ‘ব্ল্যাক টুয়েসডে’ নামে স্মরণ করে।আর এই স্টক মার্কেটের পতন সমগ্র আমেরিকাকে ভগিয়েছিলো একটানা ১২ বছর।

ডিসেম্বর ৭, ১৯৪১

(পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন নৌ ঘাটিতে জাপানের হামলা)

পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন নৌ ঘাটিতে জাপানের হামলা

পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন নৌ ঘাটিতে জাপানের হামলা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। এই বিভীষীকার খবর আমেরিকানদের চোখ এড়ায়নি। তাই পেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট যখন ২য় বিশ্বযুদ্ধে যোগদানের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করেছে ঠিক তখনই সাধারণ জনগণ রুখে দাড়ায় প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে। তারা জানিয়ে দেয় ইউরোপের এই যুদ্ধে আমেরিকার নাক গলানোর কোন প্রয়োজন নেই।

কিন্ত কে শোনে কার কথা। প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট সাহেবের মাথায় কাজ করছে কূ্টবুদ্ধি। এখনো বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষকর মনে করে নিজ দেশের সাধারণ মানুষকে রাজি করার জন্য মার্কিন মুল্লুকের রুজভেল্ট প্রশাসণ বারবার জাপানকে উষ্কানি দিতে থাকে যাতে তারা আমেরিকায় হামলা করে। শোনা যায় এই নিয়ে নাকি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন নৌ বাহিনী প্রধানের মাঝে বাক বিতণ্ডাও হয়।

আরো পড়ুন:  দেশ পরিচিতি: ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা

জাপানও চুপ করে বসে থাকার দেশ নয়। আমেরিকার মাতব্বরি জাপানের সহ্যের সীমা ভেঙে দেয়। আর সেই সূ্ত্র ধরে ১৯৪১ সালের ৭ই ডিসেম্বর জাপান আমেরিকার হাওয়াই’ র পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন নৌ ঘাটিতে হামলা চালায়। যেই হামলায় না ফেরার দেশে চলে যায় প্রায় ২৩৪৫ জন মার্কিন সৈন্য।গুরুতর আহত হয় ১২৪৭ জন সৈন্য।

নভেম্বর ২২, ১৯৬৩

(প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি হত্যা)

প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি হত্যা

প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি হত্যা

কিউবা মিসাইল ক্রাইসিস সমস্যার সমাধান হয়েছে মাত্র। কোনরকমে ১৩ মাস পার হয়েছে। ঠিক তখনই আমেরিকার ইতিহাসে সর্বকালের সেরা কয়েকজন প্রেসিডেন্টদের একজন জন এফ কেনেডি কে টেক্সাসের ডালাসে একটি মটর শোভাযাত্রায় হত্যা করা হয়। এর ঠিক এক ঘন্টা পর খবর বের হয় যে ভাইস প্রেসিডেন্ত লিন্ডন জনসন, যিনি কেনেডির গাড়ির মাত্র দুই গাড়ি পিছনে ছিলেন তাকেও গুলি করা হয়েছে।

তরুন প্রেসিডেন্টের হত্যায় শুধু্মাত্র আমেরিকা নয় সমগ্র বিশ্বই শোকাগ্রস্ত ছিল। সাধারণ মানুষ ভাবলো যে তাদের দেশের প্রেসিডেন্ট হত্যা তাদের দেশের বিরদ্ধে এক গভীর নীল নকশার অংশ। তাদের এই ভয় আর তীক্ষ্ণ হল যখন তদন্তে বের হল যে হত্যাকারি লি হারভে অসওয়ালদ একজন সাবেক ইউ এস মেরিন এবং তিনি ১৯৫৯ বসালে সোভিয়েত ইউনিয়ন গিয়েছিলেন।

প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি হত্যা এখনো মার্কিনীদের ভীত করে তোলে।

লেখক: আব্দল্লাহ আল আদিব

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *