আমেরিকা কীভাবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশে পরিনত হল?

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ হল আমেরিকা। এমনকি শুধমাত্র বর্তমান সময়ই নয়, ইতিহাস ঘাঁটলেও আমেরিকার বর্তমান শক্তির সমতুল্য হাতেগোনা কয়েকটা দেশ হয়তো পাওয়া যাবে। ৮০০টিরও বেশি সামরিক ঘাঁটি এবং ৩৭% বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় নিয়ে, বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার নেতৃত্বে পরিণত হয়েছে আমেরিকা। আর আমেরিকা কীভাবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশে পরিনত হল এবং কেন এটি বিশ্ব রাজনীতির জন্য এতটা গুরুত্বপূর্ণ তা জানতে হলে, আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে দেশটির প্রতিষ্ঠাকালে – যখন আমেরিকা কোন অর্থেই বৈশ্বিক শক্তি ছিল না।

আমেরিকা কীভাবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশে পরিনত হল?

অস্তিত্বের প্রথম ৭০ বছরে, আমেরিকা, উত্তর আমেরিকাতে আঞ্চলিক এবং প্রভাব প্রতিপত্তি উভয় ক্ষেত্রেই বিস্তৃতি লাভ করে। এই বিস্তৃতি একসময় প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত পৌছায়। আর এই বিস্তৃতির সময় অনেক আদিবাসী আমেরিকানকে হত্যা করে আমেরিকা।

সেইসময় আমেরিকা প্রশান্ত মহাসাগর এবং অ্যাটলান্টিক মহাসাগর ছাড়িয়ে আরো বিস্তৃত হবে কিনা সেই বিষয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছিল। আর সেই বিতর্কটি চরম মাত্রায় পৌছায় আমেরিকান গৃহযুদ্ধের পর, যখন যুদ্ধ-পরবর্তী সেক্রেটারি স্টেট স্যাওয়ার্ডের মতো কিছু নেতা আমেরিকাকে বৈশ্বিক শক্তি হয়ে উঠার বিষয়ে মত দেন।

আলাস্কার দাম মেটানোতে ব্যবহৃত চেক
আলাস্কার দাম মেটানোতে ব্যবহৃত চেক, মূল্য ৭২ লক্ষ মার্কিন ডলারেরও বেশি

স্যাওয়ার্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা ক্রয়ের ব্যাপারে কংগ্রেস সম্মতি দিলেও, গ্রিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ড, পাশাপাশি ক্যারিবীয় সংযুক্ত অঞ্চল কেনার ব্যাপারে কংগ্রেস স্যাওয়ার্ডের বিপক্ষে রায় দেয়। কারন ক্যাপিটল হিল সহ বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতা এবং সাধারণ আমেরিকান জনগণ ছিল ঘোর সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী। এরা বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার আরও বেশি জড়িত হওয়ার পাশাপাশি নিচু জাতির জনগোষ্ঠীর সাথে আমেরিকার একীভূত করার বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। এবং এই সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মনোভাবই আমেরিকার সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখে।

কিন্তু ১৮ শতকের শেষের দিকে এমন কিছু একটা ঘটছিল যা আমেরিকান সম্প্রসারণবাদের বিতর্ককে বদলে দেয়। শিল্প বিপ্লব আমেরিকার অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক প্রবৃদ্ধি তৈরি করে, এবং বৃহত্তর মার্কিন অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি পরিচালনা করার জন্য আরও কেন্দ্রিয় সরকার এবং আমলাতন্ত্রের প্রয়োজন পরে।

স্প্যানিশ - আমেরিকান যুদ্ধ
স্প্যানিশ – আমেরিকান যুদ্ধ

সকল প্রকার শক্তি চলে যায় ফেডারেল সরকারের হাতে, এতে করে উইলিয়াম ম্যাকিনলির মতো সম্প্রসারণবাদী প্রেসিডেন্টরা একতরফাভাবে আমেরিকার বাইরে প্রভাব রাখতে শুরু করে। এরমধ্যে মূল টার্নিং পয়েন্টটি ছিল ১৮৯৮ সালে স্পেনের সাথে যুদ্ধ। তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ম্যাককিনলি কিউবা নিয়ে স্পেনের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পরেন। নতুন উদীয়মান শক্তি আমেরিকা সহজেই স্প্যানিশ সাম্রাজ্যকে পরাভূত করে এবং এই প্রক্রিয়ায় পুয়ের্তো রিকো, গুয়াম এবং ফিলিপাইন আয়ত্ত করে।

১৮৯৮ সালে সংঘটিত হওয়া এই যুদ্ধের পর থেকে আমেরিকা ল্যাটিন আমেরিকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে নিজেদের সগর্ব উপস্থিতি জানান দেয়। পরের দুই বছর ধরে আমেরিকা হাওয়াই (১৮৯৮), ওয়েক আইল্যান্ড (১৮৯৯) এবং আমেরিকান সামোয়া (১৯০০) অধিগ্রহণ করে। কয়েক বছর পরে আমেরিকা পানামা খাল অঞ্চলটি (১৯০৩) তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করে এবং ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র (১৯১৬) দখল করার জন্য সৈন্য পাঠায়। এরপর ১৯১৭ সালে আমেরিকান ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ কিনে নেয়।

সুদূর প্রসারিত এই অঞ্চলগুলো দ্রুত অধিগ্রহণের ফলে আমেরিকা সত্যিকারের বিশ্ব শক্তি হিসাবে মানচিত্রে স্থান করে নেয়। এই সময়ে, তারা তাদের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক এবং সামরিক স্বার্থ রক্ষার জন্য বিদেশেও তাদের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। যেমন নিকারাগুয়ায় আমেরিকাপন্থী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে এবং চীনের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করে।

প্যারিস শান্তি সম্মেলন
প্যারিস শান্তি সম্মেলন

এরপরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ববাসী দেখে আমেরিকার প্রভাব কতটা বেড়েছে। আমেরিকান হস্তক্ষেপ কেবল যুদ্ধের অবসানের কারণই ছিল না, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি উইলসন প্যারিস শান্তি সম্মেলনে অংশ নেন। এই সম্মেলনে বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী শান্তির শর্তাবলী নির্ধারণ করার চেষ্টা করা হয়।

তিনি এখনো পর্যন্ত নেওয়া আমেরিকার সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী বৈদেশিক নীতি গ্রহণের উদ্যোগ নেন। যার ফলে বিশ্বব্যাপী শান্তি ও সহযোগিতা প্রচারের লক্ষ্যে গঠিত হয় লিগ অফ নেশনস নামে পরিচিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। এই লিগ অফ নেশনসের মাধ্যমে আমেরিকা গ্লোবাল পলিটিক্স পুনর্নির্মাণের প্রচেষ্টা চালায়। আর এতেই স্পষ্ট হয়ে যায় আমেরিকান পররাষ্ট্রনীতি কতটা উচ্চাভিলাষীতায় পরিণত হয়েছিল।

তবুও যুক্তরাষ্ট্রে বিচ্ছিন্নতাবাদ একটি প্রধান শক্তি হিসেবেই ছিল। মার্কিন কংগ্রেস লীগ অফ নেশনস-এ আমেরিকার যোগদান করতে বাধা দেয় এবং উইলসনের প্রকল্পটি ধংস করে দেয়। মহামন্দা এবং হিটলারের উত্থানের সময়কালে ইউরোপীয় বিষয়গুলির তুলনায় আমেরিকা তার নিজস্ব অঞ্চলেই অনেক বেশি মনোনিবেশ করেছিল, যদিও বৈশ্বিক রাজনীতি আর অর্থনীতিতে আমেরিকা এতটাই জড়িয়ে পরেছিল যে পুরোপুরি এসব বিষয় থেকে দূরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল আমেরিকার জন্য।

পার্ল হারবার আক্রমণ
পার্ল হারবার আক্রমণ

পূর্ব এশিয়ায়, ক্রমবর্ধমান জাপানী সাম্রাজ্য আমেরিকান সম্পদ এবং সৈন্যবাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে দাড়ায়। যার ফলস্বরূপ আমেরিকা এবং জাপান সংঘাতে জড়িয়ে পরে। যার ফলে জাপান আমেরিকার পার্ল হারবার আক্রমণ করে। আর এই আক্রমনের মাধ্যমেই জাপান আমেরিকাকে ২য় বিশ্বযুদ্ধে নিয়ে আসে।

এই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বিশ্বব্যাপী আমেরিকার উপস্থিতিতে আমুল পরিবর্তন আনে। এই যুদ্ধের সময় পরাশক্তিদের মধ্যে একমাত্র আমেরিকাই অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ এড়াতে প্রস্তুত ছিল এবং তারাই ছিল একমাত্র দেশ যারা ছিল পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত। আর এ হিসাবেই, তারা শান্তি চুক্তি এবং পরবর্তী যুদ্ধ রোধের ব্যাপারে অনন্য এক অবস্থানে ছিল। আর আমেরিকাও এই সুযোগের পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করে।

যার অন্যতম একটি উদাহরণ হল জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা। যার লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইন, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি এবং মানবাধিকার বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গুলোর বিরোধগুলো নিয়ে বিবেচনা করতে এবং তাদের সমাধানে সহায়তা করতে একটি ফোরাম হিসেবে কাজ করে। আমেরিকানরা আশা করেছিল, এই ফোরামটি বিভিন্ন পরাশক্তিদের যুদ্ধের পরিবর্তে আপস ও আইনের মাধ্যমে তাদের বিরোধগুলো সমাধান করতে সাহায্য করবে। যদিও যুদ্ধ-পরবর্তী সংস্থাগুলির মধ্যে জাতিসংঘই সবচেয়ে বিখ্যাত, তবে এটি কেবলমাত্র নয়। আরো বেশ কয়েকটি সংস্থাই গড়ে উঠে।

ব্রেটন উডস চুক্তি
ব্রেটন উডস চুক্তি

১৯৪৪ সালে ৪৪ টি মিত্র দেশের ৭৩০ জন প্রতিনিধি একত্রিত হয় নিউ হ্যাম্পশায়ারের ব্রেটন উডস শহরে। তাদের লক্ষ্য? এমন একটি বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যা মহামন্দা এবং বিশ্বযুদ্ধকে রোধ করবে। ব্রেটন উডস চুক্তি নামে পরিচিত এই চুক্তিটিই শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার মেরুদন্ডে পরিণত হয়েছিল। কেননা এই চুক্তির ফলেই গঠিত হয় বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থা।

এই সংস্থাগুলো প্রতিষ্ঠা করে আমেরিকা বৈশ্বিক সমস্যাগুলির সাথে নিজেকে গভীরভাবে জড়িত করে। তবে এই বিষয়টি ভালভাবে নেয়নি তৎকালীন ২য় পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর তাছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্প্রসারণকে আমেরিকা তার মুক্ত-বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য বিশ্বের প্রত্যক্ষ হুমকিরূপে দেখছিল।

ন্যাটো
ন্যাটো

পশ্চিম ইউরোপের প্রতি সোভিয়েত ইউনিয়নের উদ্দেশ্যকে ভয় পেয়ে, আমেরিকা এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো মিলে একটি নতুন সংস্থা তৈরি করে, যার নাম ন্যাটো। ন্যাটো তৈরি করার উদ্দেশ্যে ছিল ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোকে সোভিয়েত ইউনিয়নের অধিগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখা।

বিশ্বব্যাপী কমিউনিজমের বিস্তারকে ঠেকাতে আমেরিকা ছিল বদ্ধপরিকর। সমগ্র বিশ্ব জুড়ে আমেরিকার নেওয়া এই কৌশলটি “কন্টেইনমেন্ট” নামে পরিচিত ছিল। আর এই কাজটি করতে আমেরিকাকে সবসময়, সব জায়গায় প্রভাব দেখাতে হত। তাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য নির্মিত বিশাল বিশাল মিলিটারি মেশিনগুলো নষ্ট করে ফেলার পরিবর্তে এর উৎপাদন এবং রক্ষণাবেক্ষণ চলতেই থাকে।

এর দুটি প্রধান ফলাফল ছিল: প্রথমত, সৌদি আরব, ইস্রায়েল এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলির সাথে আমেরিকা জোটবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং তাদের প্রত্যেকে তাদের নিজেদের অঞ্চলে কমিউনিস্ট প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রাচীর হিসেবে কাজ করে।

দ্বিতীয়ত, সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব ঠেকানোর জন্য আমেরিকা অনেক দেশে প্রায়শই গোপন হস্তক্ষেপ শুরু করে। কখনও কখনও এই হস্তক্ষেপের অর্থ ছিল ইরানের মতো দেশে স্বৈরশাসককে উত্থাপন করা আবার অনেক সময়, ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে এবং ১৯৮৫ সালে নিকারাগুয়ার মতো দেশে বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করা।

স্নায়ুযুদ্ধের এই সময়কালে আমেরিকা পৃথিবীজুড়ে কয়েক শতাধিক বিরোধে হস্তক্ষেপ করে, যারফলে বিশ্বের সর্বত্র সম্পর্ক গড়ে তুলে। ১৯৮৯ সালে বার্লিন দেয়াল পতনের পরে আমেরিকা তার মিত্রদের সাথে সম্পর্ক রেখে সেনাবাহিনীর আকার হ্রাস করতে পারতো এবং এই ব্যবস্থা থেকে সরে আসতে পারত। তবে স্নায়ুযুদ্ধের পরেও মার্কিন সামরিক অবকাঠামো থেকে গেছে এবং তারা স্নায়ুযুদ্ধের বিভিন্ন মিত্র দেশের সাথেও সম্পর্ক রাখে।

জর্জ এইচ ডাব্লু বুশ এবং বিল ক্লিনটন
জর্জ এইচ ডাব্লু বুশ এবং বিল ক্লিনটন

প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডাব্লু বুশ এবং বিল ক্লিনটন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, বিশ্বজুড়ে আমেরিকা এবং বিশ্ব উভয় এর ভালোর জন্যই বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকার উচিৎ হবে পৃথিবী জুড়ে সংগঠিত হওয়া বিভিন্ন বিষয়গুলিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করা অব্যাহত রাখা।

আর যে ন্যাটো তৈরি হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য, তা ঠিকই থেকে যায়। এই ন্যাটো তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের অনুপস্থিতিতেও ইউরোপীয় দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ রাখে। ইস্রায়েল ও জাপানের মতো দেশগুলিতেও ওয়াশিংটনের সমর্থন অক্ষত ছিল, আর তা সম্ভবত সেই অঞ্চলগুলিতে যুদ্ধ রোধ করার উপায় হিসাবে।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় শান্তি বজায় রাখার জন্য বিশ্বব্যাপী যেসব জোট ও সংস্থাগুলি তৈরি হয়েছিল সেসব স্থায়ী হয়ে যায়। আর এমনটা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমেরিকান সামরিক এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং সমর্থন ছিল। আর এভাবেই বৈশ্বিক বিষয়গুলোতে নিজেদের যুক্ত করার মাধ্যমে এবং সময়োপযোগী বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলেই আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশে পরিনত হয়।

আজো এসব ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং স্নায়ুযুদ্ধের পর থেকে কোনও শীর্ষস্থানীয় আমেরিকান রাজনীতিবিদ এগুলি ভেঙে দেওয়ার জন্য গুরুতরভাবে আহ্বান জানাননি – তবে সম্ভবত ডোনাল্ড ট্রাম্প বাদে। ট্রাম্প এসব প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী কথা বলেছেন। তবে তিনি ধারাবাহিকভাবে যুক্তি দিয়েছিলেন যে আমেরিকান মিত্ররা আমেরিকাকে এর সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে অর্থ প্রদান করছে না, এবং মুক্ত বাণিজ্যের অর্থ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। যার ফলে এটি ন্যাটো, এমনকি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।



error: