টপ ৫: সর্বকালের সেরা ৫ ক্রিকেট ক্যাপ্টেন

ক্রিকেট, বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি খেলা। উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা বাদে (তুলনামূলক কম) পৃথিবীর সর্বত্রই ক্রিকেট খেলা খুবই জনপ্রিয়। আর দক্ষিণ এশিয়ায় এই খেলাটির জনপ্রিয়তা আরো বেশি। ক্রিকেট খেলার অন্যতম প্রধান একটি বিষয় হলো ক্যাপ্টেন্সি বা অধিনায়কত্ব। কারন ফুটবল, বেসবল বা অন্যান্য খেলার মত ক্রিকেটে খেলা চলাকালে কোচ বা ম্যানেজারের তেমন ভূমিকা থাকে না। মাঠের প্রায় সমস্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয় ক্যাপ্টেনকেই যেখানে ফুটবলে সাইড লাইনে দাড়ানো কোচকে সর্বক্ষন ইন্সট্রাকশন দিতে দেখা যায়। তাই ক্রিকেটে ক্যাপ্টেনের ভূমিকা এবং গুরুত্ব খুবই বেশি। তাকে প্লেয়িং ১১ জন সিলেকশন থেকে শুরু করে ফিল্ড সেটিং, বোলিং চেন্জ, ক্রিটিকেল বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া ইত্যাদি পালন করতে হয়। কোন দল জিতলে যেমন বেশি কৃতিত্ব পায় ক্যাপ্টেন তেমনি হারলেও দায়ভার তাকেই নিতে হয়।

এখানে সর্বকালের সেরা ৫ ক্রিকেট ক্যাপ্টেন নির্বাচনে মাঠে তাদের পারফর্মেন্স, ক্রিটিকেল সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অ্যাওয়ে ম্যাচ জয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইভেন্টে তাদের দলীয় সাফল্যও বিবেচনা করা হয়েছে। তো চলুন জেনে নেই সর্বকালের সেরা ৫ জন ক্রিকেট ক্যাপ্টেন সম্পর্কে:

সর্বকালের সেরা ৫ ক্রিকেট ক্যাপ্টেন

(Greatest Cricket Captains of All Time)

ইমরান খান

ইমরান খান

৫) ইমরান খান: লিস্টের ৫ম স্থানে আছেন ইমরান খান (Imran Khan)। পাকিস্তান সব সময়ই একটি আনপ্রেডিক্টেবল একটি দল। ৭০ এর দশকে পাকিস্তান দলে মজীদ খান, জহির আব্বাস, জাভেদ মিয়াঁদাদ ও সলিম জাফ্ফরের মত মহান খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও দলটি জয়ী হওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারেনি। তখন দলের জয়ের পরিবর্তে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই সময় সবকিছু ঠিক করার জন্য এমন একজন নেতা প্রয়োজন ছিল যিনি দলের মধ্যে জয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারে। আর ঠিক এই কাজটি হয় যখন ইমরান খান ১৯৮২ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের দায়িত্ব নেন। তিনি দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের মধ্যে বিশ্বাস আনেন যে পাকিস্তান যেকোনো দলকে যেকোনো সময় হারাতে পারে। আর দলের মধ্যে থাকা জটিলতাও দূর করেন। তার সময়ে পাকিস্তান কোন টেস্ট ম্যাচে ড্র করার লক্ষ্যে মাঠে নামেনি। তিনি ছিলেন ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক যিনি হোম সিরিজে নিরপেক্ষ আম্পায়ার দাবি করেছিলেন এবং সেটিও তৎকালীন শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। তিনিই প্রথম পাকিস্তানি অধিনায়ক যিনি ভারতকে ভারতের মাটিতেই পরাজিত করেন। তবে তার অধিনায়কত্বের প্রকৃত উজ্জ্বলতা দেখা যায় ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে। সেই বিশ্বকাপে পাকিস্তান ইংল্যান্ডকে ২২ রানে হারিয়ে তাদের একমাত্র বিশ্বকাপ জয় করে।

মহেন্দ্র সিং ধোনি

মহেন্দ্র সিং ধোনি

৪) মহেন্দ্র সিং ধোনি: সর্বকালের সেরা ক্রিকেট ক্যাপ্টেন এর লিস্টে ৪র্থ স্থানে আছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni)। ২০০৭ সালে ভারত যখন বাংলাদেশের কাছে হেরে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পরে যায় তখন ভারত ক্রিকেট দলে জ আমূল পরিবর্তন আসবে তা জানাই ছিল। আর অধিনায়ক হিসেবে রাহুল দ্রাবিড় যে পদত্যাগ করবেন তা মোটামুটি সবাই ই ধারণা করেছিল। কিন্তু প্রশ্ন ছিল রাহুলের শূন্যস্থানে আসবে কে? এই পরিস্থিতিতে বিসিসিআই অধিনায়ক করে দেন মহেন্দ্র সিং ধোনিকে যা নিয়ে তখনকার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) খুবই সমালোচিত হয়। কিন্তু এই সমালোচিত সিদ্ধান্তই পরে ভারতীয় ক্রিকেটের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেয়। তার ঠাণ্ডা মাথা ও বিভিন্ন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম যেন প্রাণ ফিরে পায়। চেন্নাই এর ৪০ ডিগ্রী তাপমাত্রাও যেন তার মাথা গরম করতে পারে না। তিনি পরিচিত হয়ে উঠেন “ক্যাপ্টেন কুল” নামে। ধোনিকে ক্যাপ্টেন করার ফল হাতেনাতেই পায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। তার নেতৃত্বেই ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘরে তুলে ভারত। এরপর ধোনির নেতৃত্বেই ভারত ঘরে তুলে এশিয়া কাপ ২০১০, আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১১ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৩ এর ট্রফি। তার নেতৃত্বেই বিভিন্ন সিরিজ জয়ের পাশাপাশি ভারত ২০০৯ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রথম বারের মত টেস্ট রেঙ্কিং এ ১ নাম্বারে উঠে আসে।

আরো পড়ুন:  টপ ৫ : সর্বকালের সেরা ৫ উইকেট কিপার-ব্যাটসম্যান
রিকি পন্টিং

রিকি পন্টিং

৩) রিকি পন্টিং: লিস্টের পরবর্তী স্থানে আছেন রিকি পন্টিং (Ricky Ponting)। ২০০২ সালে ওডিআই থেকে স্টিভ ওয়াহের পদত্যাগের পর ক্রিকেট বিশ্বের সেরা পুল শট খেলোয়াড় রিকি পন্টিং হন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। তিনি শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার জয়রথ চালু রাখেন আর প্রায় এক দশক। টপ ক্লাস ব্যাটসম্যান, অ্যাথলেটিক ফিল্ডার এবং বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে ক্যাপ্টেন রিকি পন্টিংয়ের অধীনে অস্ট্রেলিয়ানরা শাসন করে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। রিকি পন্টিংয়ের অধীনে অস্ট্রেলিয়া জয় করে ২০০৬ ও ২০০৭ সালের আইসিসি বিশ্ব কাপ, ২০০৬ ও ২০০৯ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি এবং ২০০৬-০৭ মৌসুমে ইংল্যান্ডকে ৫-০ তে হারিয়ে অ্যাশেজ শিরোপা। তার অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রায় সকল ক্রিকেট প্লায়িং দেশগুলোতেই (ভারত উপমহাদেশেও) টেস্ট ম্যাচ এবং একদিনের আন্তর্জাতিক উভয় ফরমেটেই জয়লাভ করে। তিনি ২০১১ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া দলের নেতৃত্বে ছিলেন।

স্টিভ ওয়াহ

স্টিভ ওয়াহ

২) স্টিভ ওয়াহ: সর্বকালের সেরা ক্রিকেট ক্যাপ্টেন এর ২য় স্থানে আছেন স্টিভ ওয়াহ (Steve Waugh)। ক্রিকেট বিশ্বে অস্ট্রেলিয়া সবসময়ই খুব শক্তিশালী দল কিন্তু এই শক্তিশালী দলকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নে রূপান্তরিত করেছিলেন স্টিভ ওয়াহ। যদিও ১৯৯৯ সালের আগেই অস্ট্রেলিয়া প্রথম বিশ্বকাপ ঘরে তুলে ১৯৮৭ সালে তবুও তা স্টিভ ওয়াহের ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ জয়ের মত অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে সাড়া ফেলতে পারেনি। এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়া হয়ে উঠে ৭০ ও ৮০ দশকের ওয়েস্ট ইন্ডিজের মত যে দল ছিল অজেয় ও নির্মম। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে প্রথম দিকে অস্ট্রেলিয়ার শুরু ভালো না হওয়ায় চাপের মুখে পরে অস্ট্রেলিয়া। এ বিশ্বকাপ ছিল স্টিভ ওয়াহর অধিনায়কত্বের পরীক্ষা। আর সে পরীক্ষায় তিনি সকল বাধা-বিপত্তির বিরুদ্ধে দাড়িয়ে ফাইনালে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে জয় করেন বিশ্বকাপ। তিনি ১৯৯৭-২০০২ পর্যন্ত ওডিআই এবং ২০০৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কত্ব পালন করেন। তার অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলিয়া ৫৭ টেস্টের মধ্যে ৪১ টি টেস্টে জয় লাভ করে!

আরো পড়ুন:  টপ ৫ : সর্বকালের সেরা ৫ ফুটবল অধিনায়ক
ক্লাইভ লয়েড

ক্লাইভ লয়েড

১) ক্লাইভ লয়েড: লিস্টে সর্বকালের সেরা ক্রিকেট ক্যাপ্টেন হল ক্লাইভ লয়েড (Clive Lloyd)। তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার দলীয় শক্তি। দলের এক থেকে এগার সবাই ছিলো নিজ নিজ পজিশনে সেরা। সলিড ব্যাটিং লাইন আপ এবং ছাড় না দেওয়া নির্মম বোলিং লাইন আপ। এমন দলকে অধিনায়কত্ব করা সহজই ছিলো কিন্তু সমস্যা হলো তাদের পারফর্মেন্স ধরে রাখা। আর এই খ্যাতি ধরে রাখার জন্য চাপও ছিলো বেশি। তাই লয়েডের উপরই এই অধিনায়কত্বের চাপ টা বেশি ছিল। তবুও তিনি এই চাপ ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রন করেছেন। আর এই জন্যই ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম দুই আসরেরই চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর তা অধিনায়কত্বেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ হ্যাট্রিক শিরোপার কাছে চলে গেছিলো যেখানে ফাইনালে তারা ভারতের কাছে হেরে যায়। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তার ৭৭% জয়ের রেকর্ড ছিলো। তার অধিনায়কত্বেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ টানা ২৭ টি টেস্ট ম্যাচ অপরাজিত ছিলো আর যার মধ্যে ছিলো টানা ১১ টি জয়। সর্বোপরি ক্রিকেটে তার সাফল্য এবং খেলোয়াড় হিসেবে তার অসামান্য কৃতিত্বর জন্যই তিনি ইতিহাসের সেরা ক্রিকেট ক্যাপ্টেন।

স্পেশাল সম্মাননা: মাইকেল ভন, মিসবাহ উল হক, সৌরভ গাঙ্গুলি, গ্রায়েম স্মিথ, হ্যান্সি ক্রোন্জে, স্টিফেন ফ্লেমিং, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, মাশরাফি।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *