রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮: বিশ্বকাপে ব্রাজিল: ৬ষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে

ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন

ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন

ফুটবল মানে জাদুকরি এক খেলা। তেমনি এই খেলায় ব্রাজিল আরেক জাদুকরি দল। শুধু তাই নয় ফুটবলের জাদুকরও বলা হয় ব্রাজিলেরই কিংবদন্তি খেলোয়াড় পেলে কে। আর ব্রাজিলই একমাত্র দল হিসেবে ৫ বার শিরোপা জয়ী। এবার নামবে ৬ষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: রাশিয়া বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের সবচেয়ে ফেবারিট ৫ দল

১৯২৩ সালে ব্রাজিল আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা, ফিফার সদস্য পদ লাভ করে। হলুদ জার্সি পরা এই দলটি সদস্য পদ লাভ করার পর এখন অবধি আয়োজিত ফিফার সব গুলো আন্তর্জাতিক বিশ্বকাপ আসরে অংশগ্রহণ করা একমাত্র দল। ব্রাজিল ১৯৩০ সালে প্রথম ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে। এর আগে ব্রাজিলের জাতীয় দল তাদের প্রথম খেলাটি খেলে ১৯১৪ সালে। ব্রাজিলের রিও দি জেনেরিও এবং সাও পাওলো দলের মধ্য থেকে নির্বাচিত একটি দল ইংল্যান্ডের সিটি ফুটবল ক্লাবের সাথে একটি খেলায় অংশ নেয় ও ব্রাজিল ২-০ গোলে জয়ী হয়। এরপর আরো বিভিন্ন ক্লাবের সাথে খেললেও বিশ্ববাসী ফিফা বিশ্বকাপের অর্জনের উপরই তাদের সাথে বেশি পরিচিতি।

বিশ্বকাপে ব্রাজিল

বিশ্বকাপে ব্রাজিল

১৯৫৮-১৯৭০ এই সময়কে ব্রাজিলের বিশ্বকাপে স্বর্ণ যুগ বলা হয়ে থাকে। ১৯৫৮ সালে ব্রাজিল প্রথম ফিফা বিশ্বকাপে জয় লাভ করে। ঐ বছর সুইডেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কোচ ছিলেন ভিসেন্তে ফিওলা। তিনি খেলোয়ারদের চল্লিশটি ব্যাপার না করার সিদ্ধান্ত নেন। যে সিদ্ধান্ত গুলো ব্রাজিল দলে অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসে ও চ্যাম্পিয়ান হতে সাহায্য করে। ফাইনালে সুইডেনের বিরুদ্ধে ৫-২ গোলে জয় লাভ করে ও ১৯৫০ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে ফাইনালে পরাজয়ের কষ্ট থেকে ঐ জয় অবসান এনে দেয়। এরপর ব্রাজিলের কাছে পরবর্তী আসরও ভাগ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসে। চিলিতে আয়োজিত ১৯৬২ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল ৩-১ গোলে চেকোস্লোভাকিয়াকে পরাজিত করে দ্বিতীয় বারের মতো শিরোপা জিতে নেয়।

আরো পড়ুন:  রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮: বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা: কাটবে কি শিরোপা খরা?

বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দল ব্রাজিল। শুধু তাই নয়! গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে এই দলটি। পরবর্তী ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে আয়োজিত বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পরা ব্রাজিল ১৯৭০ এর মেক্সিকো বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়ায়। ইতালির বিরুদ্ধে ব্রাজিল ৪-১ গোলে তৃতীয় বারের মতো জয় লাভ করে। তিনটি শিরোপার ফাইনাল খেলেছেন ব্রাজিলের তিন তারকা পেলে, কাফু ও রোনালদো। বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে কম বয়সি খেলোয়াড় ছিলেন পেলে। প্রথম অংশগ্রহণ করা ফাইনালে পেলের বয়স ছিল ১৭ বছর ২৪৯ দিন। ব্রাজিল ফুটবল ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত নাম পেলে! যার খেলা দেখে এক সময় ফুটবল বিশ্ব শুধু মুদ্ধ হতো না, প্রসংশাও করতে বাধ্য হতো। পেলের অবদান ব্রাজিলকে পরিচিত করেছে ভিন্ন মাত্রায়।

আরো পড়ুন:  রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ ফিক্সচার (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী)

১৯৯৪ সালে আমেরিকায় আয়োজিত বিশ্বকাপ ফুটবল ব্রাজিল ফুটবল ইতিহাসে আরেক অধ্যায় রচনা করে। ট্রাইবেকারে ৩-২ গোলে ইতালিকে হারিয়ে চতুর্থ শিরোপা জিতে দলটি। ব্রাজিল পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপা ২০০২ সালে জার্মানিকে হারিয়ে জিতে। ২-০ গোলে জিতে দলটি শেষ শিরোপা জেতার স্বাদ পায়। এরপর ব্রাজিল পরবর্তী তিনটি আসরে তুলনামূলক ভালো করতে না পারলেও নেইমার ও তার দলের প্রতি আস্থা হারায় নি ভক্তরা। পাঁচটি শিরোপা জেতা ব্রাজিল একমাত্র দল। যাদের উপর ভরসা রাখাই যায়। এই দলটি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা দল। এছাড়াও ছোট বড় অনেক রেকর্ডের অংশীদার।

বিশ্বকাপে ব্রাজিল ফুটবল দল

বিশ্বকাপে ব্রাজিল ফুটবল দল

ফুটবল বিশ্ব এইবার ২০১৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কাছে অনেক অর্জন ও রেকর্ড আশা করে। এবারের ৩২ দলের মধ্যে সবার আগে যে দলটি মূলপর্ব নিশ্চিত করেছিল সে দলটি হচ্ছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপ শুরু হতে ব্রাজিলের কোচ তিতে তার স্কোয়ার্ডে রেখেছেন দারুন প্রতিভাধর কিছু খেলোয়াড়। যেখানে রয়েছেন, অ্যালিসন, মার্সেলো, মিরান্ডা, মার্কুইনহোস, দানি আলভেজ, পাওলিনহো, রেনাতো আগুস্তো, কাসেমিরো, নেইমার, কুতিনহো ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস। রাশিয়া বিশ্বকাপে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যেই এবার বিশ্বকাপে লড়বে ব্রাজিল। টুর্নামেন্টে অংশ নিবে ৩২টি দল। নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ব্যর্থতাকে চাপা দিয়ে ও সফলতাকে আক্রে ধরে লড়ে যাবে দলটি।

আরো পড়ুন:  রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮: বিশ্বকাপে স্পেন: হবে কি ২০১০ বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি?
আরো পড়ুন:  রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮: বিশ্বকাপে জার্মানি: পারবে কি ব্রাজিলকে ছুতে?

এক নজরে বিশ্বকাপে ব্রাজিল

বছর অবস্থান
১৯৩০ গ্রুপ পর্ব
১৯৩৪ গ্রুপ পর্ব
১৯৩৮ সেমি ফাইনাল
১৯৫০ রানার্সআপ
১৯৫৪ কোয়ার্টার ফাইনাল
১৯৫৮ চ্যাম্পিয়ন
১৯৬২ চ্যাম্পিয়ন
১৯৬৬ গ্রুপ পর্ব
১৯৭০ চ্যাম্পিয়ন
১৯৭৪ সেমি ফাইনাল
১৯৭৮ সেমি ফাইনাল
১৯৮২ রাউন্ড ২ (রাউন্ড অব ১২)
১৯৮৬ কোয়ার্টার ফাইনাল
১৯৯০ রাউন্ড অব ১৬
১৯৯৪ চ্যাম্পিয়ন
১৯৯৮ রানার্সআপ
২০০২ চ্যাম্পিয়ন
২০০৬ কোয়ার্টার ফাইনাল
২০১০ কোয়ার্টার ফাইনাল
২০১৪ সেমি ফাইনাল
data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *