টপ ৫: প্রাকৃতিক উপায়ে ছারপোকা দমন

বাংলাদেশে ছারপোকা চেনেন না বা নাম শুনেন নি এমন মানুষ বোধহয় কমই আছে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীরা বা মেসে থাকে এমন কেউই বোধহয় নেই যে ছারপোকার জালায় অতিষ্ঠ হয়নি। তবে শুধমাত্র বাংলাদেশেই না এই ছারপোকা দেখা যায় এশিয়া তথা বিশ্বের গ্রীষ্মপ্রধান আরো অনেক দেশেই। ইংরেজিতে এদেরকে বলা হয় বেড বাগ (Bed Bugs)। তবে বাংলাদেশে অনেক স্থানে ওরস নামেও পরিচিত। ছোট এই প্রাণীটি যে কারো রাতের ঘুম হারাম করে দিতে পারে। এদের সাধারণত দেখা যায় বিছানায়, তোষকে, বালিশে, সোফাতে, লেপ-কম্বলে, জামাকাপড়ে – আরো বিভিন্ন স্থানে। আর বাড়িতে একবার ছারপোকা দেখা গেলে ছারপোকা দমন এর উপায় খুঁজতে মাথার ঘাম পায়ে এসে যায়। অনেকে হয়তো বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যাদিও ব্যবহার করেন। কিন্তু তবুও অনেক সময় দেখা যায় ছারপোকা থেকে মুক্তি মেলেনি। এছাড়া ঘরে বাচ্চা ছেলেমেয়ে থাকলে অনেকেই রাসায়নিক এসব দ্রব্যাদি ব্যবহার করতে চান না। কিন্তু করবোই বা কি? প্রাকৃতিক উপায়ে ছারপোকা দমন কি সম্ভব? চলুন জেনে নেই।

প্রাকৃতিক উপায়ে ছারপোকা দমন

হ্যাঁ, প্রাকৃতিক উপায়ে ছারপোকা দমন সম্ভব। এজন্য আপনাকে নিচের কোন একটি বা কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। তো চলুন দেখে নেই প্রাকৃতিক উপায়ে ছারপোকা দমনের উপায় গুলো সম্পর্কে:

গরম পানি দিয়ে ছারপোকা দমন

গরম পানি দিয়ে ছারপোকা দমন
গরম পানি দিয়ে ছারপোকা দমন

প্রাকৃতিক উপায়ে ছারপোকা দমনের খুব কার্যকরী উপায় হল গরম পানি। গরম পানিতে শুধুমাত্র ছারপোকাই না সাথে ব্যাকটেরিয়া সহ আরো অনেক অণুজীবই মারা যায়। এজন্য আপনাকে আপনার পরিধেয় জামাকাপর গুলো গরম পানি দিয়ে ধৌত করতে হবে। এরপর আপনার রুমটিকেও গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ছারপোকা মুক্ত করতে হবে। ধোওয়ার পর ভালভাবে জামাকাপর ও রুম শুকাতে হবে। ছারপোকা মারার জন্য যদিও ৩০-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাই যথেষ্ট তবুও ফুটন্ত পানি কিছুটা ঠাণ্ডা করেই রুম ধোয়া উচিত।

রোদের মাধ্যমে ছারপোকা দমন

প্রাকৃতিক উপায়ে ছারপোকা দমনের আরেকটি পদ্ধতি হল রোদ এর ব্যবহার। ছারপোকা দমনে রোদ একটি অত্যন্ত কার্যকরী উপায়। সেই প্রাচীন কাল থেকেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। গ্রামেগঞ্জে এখনো এই পদ্ধতির প্রয়োগ দেখা যায়। এক্ষেত্রে যেসব জিনিস গরম পানি দিয়ে ধোয়া যাবে না বা ধোয়া অনেক কষ্টসাধ্য সেগুলো সকালে রোদে দিতে হয়। শক্তিশালী রোধের তাপমাত্রায় ছারপোকাগুলো মারা যায় এবং সাথে তাদের ডিমও।

ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করে ছারপোকা দমন

ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করে ছারপোকা দমন
ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করে ছারপোকা দমন

যদিও এই পদ্ধতিটি বাংলাদেশিদের কাছে অতটা জনপ্রিয় নয় তবুও এটি ছারপোকা দমনের অন্যতম কার্যকরী উপায়। এজন্য যেসব স্থানে ছারপোকা রয়েছে সেসব স্থানে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দ্বারা পরিষ্কার করুন। এক্ষেত্রে একাধিক বার ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করে পরিষ্কার করা উচিত। এতে করে ছারপোকার ডিমসহ ছারপোকা ভ্যাকুয়াম ক্লিনারে চলে যাবে। তবে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটি বাড়ির বাইরে নিয়ে পরিষ্কার করুন এবং গরম পানি দিয়ে ছারপোকা মেরে ফেলুন ও ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটি ধুয়ে নিন।

প্রাকৃতিক কীটনাশকের ব্যবহার করে ছারপোকা দমন

ডায়াটোমেসিয়াস আর্থ
ডায়াটোমেসিয়াস আর্থ

ছারপোকা দমন এর আরেকটি কার্যকরী এবং বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হল প্রাকৃতিক কীটনাশকের ব্যবহার। এক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত কীটনাশকটি হল ডায়াটোমেসিয়াস আর্থ (Diatomaceous Earth)। বহু ছারপোকা দমনকারী সংস্থাও এটি ব্যবহার করে। এজন্য যেসব স্থানে ছারপোকা থাকে যেমন বিছানা, ঘরের কোণা, সোফা ইত্যাদিতে খুব পাতলা করে ডায়াটোমেসিয়াস আর্থ (Diatomaceous Earth) ছিটিয়ে রাখুন। টেক্সাস এ এন্ড এম ইউনিভার্সিটি অনুযায়ী, ছারপোকারা যখন ডায়াটোমেসিয়াস আর্থ এর সংস্পর্শে আসে তখন এর রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে ছারপোকা শুকিয়ে মারা যায়।

পুদিনাপাতা দিয়ে ছারপোকা দমন

পুদিনাপাতা দিয়ে ছারপোকা দমন
পুদিনাপাতা দিয়ে ছারপোকা দমন

অনেকেই হয়তো জানেন না যে, ছারপোকা পুদিনাপাতার গন্ধ সহ্য করতে পারে না। তাই বিছানা থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে ছারপোকা তাড়ানোর জন্য বিছানার নিচে পুদিনা পাতা রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে শুঁকনো পুদিনা পাতাতেও কাজ হবে। এছাড়া আপনি আপনার সোফার পাশে, বাড়ির প্রতিটি কোণে কোণেও পুদিনা পাতা রাখতে পারেন। আর এজন্যই অভিজ্ঞরা ভ্রমণের সময় বা ট্যুর এর বিছানা গুলোতে শুঁকনো পুদিনাপাতা রাখতে পরামর্শ দেন।

আরো মনে রাখুন: ছারপোকা থেকে পুরোপুরি মুক্তির পেতে ছারপোকা চলে গেলেও ঘরের বিছানা, তোষক ইত্যাদি নিয়মিত রোদে শুকোতে দিন। এতে করে নতুন করে ছারপোকা হওয়ার সম্ভবনা থাকবে না। আর আপনার বিছানাটি দেয়াল থেকে দূরে রাখুন এবং শোয়ার আগে ও পরে বিছানা ভাল করে ঝেড়ে ফেলুন।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

2 Responses

  1. Arif says:

    ছাড়পোকার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি। পুদিনা পাতার পদ্ধতিটা আপকেই প্রয়োগ করতে হবে। রং চা খাওয়ার জন্য পুদিনা পাতা আনা হয়েছিলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

26 Shares
Share via
Copy link