টপ ৫: সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভাইরাস সমূহ

 

মানুষ সৃষ্টির সেই আদিকাল থেকেই মানুষ ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছে এবং কিছু কিছু ভাইরাসের কারনে দেশে মহাদেশে মহামারীও দেখা গেছে। বর্তমানেও ইবোলা, HIV এর মতো বিভিন্ন প্রাণঘাতী ভাইরাস দেখা যায়। আর অতীত ও বর্তমানের সকল মারাত্মক ভাইরাস থেকেই বাছাই করা হয়েছে ৫টি সবচেয়ে মারাত্মক ভাইরাস। তো চলুন জেনে নেই সবচেয়ে বিষাক্ত এই ভাইরাসগুলো সম্পর্কে:

টপ ৫: সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভাইরাস সমূহ

৫) ইনফ্লুয়েন্জা: লিস্টের পাঁচ নাম্বারে আছে ইনফ্লুয়েন্জা ভাইরাস। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস প্রথম আবিষ্কার হয় এবং মহামারী আকার ধারন করে ১৯১৮ সালে, স্পেন এ। তখন এই ভাইরাসের নাম ছিলো স্প্যানিশ ফ্লু। কারন ঐ বছর স্পেনে প্রায় ৮ লাখ মানুষ মারা যায় এই ইনফ্লুয়েন্জা ভাইরাসের কারনে। ইনফ্লুয়েন্জা ভাইরাস একটি বায়ুবাহিত H1N1 টাইপ ভাইরাস। ১৯১৮ সালে এই ইনফ্লুয়েন্জা ভাইরাসের কারনে পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মানুষ প্রান হারায়। আমেরিকায় ইনফ্লুয়েন্জা ভাইরাস এতটাই প্রকট ছিলো যে তা আমেরিকার মানুষের গড় বয়স ১০ বছর কমিয়ে এনেছিলো। এখনো প্রতি বছর ইনফুয়েন্জার প্রভাবে অনেকে মারা যায় যার হার ০.১ – ২.৫ পর্যন্ত। এখন ইনফ্লুয়েন্জা অতটা মারাত্মক না হলেও বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর প্রায় ৫ লাখ মানুষ ইনফ্লুয়েন্জার কারনে মারা যায়।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত খাবার

৪) র‍্যাবিস ভাইরাস: প্রাণঘাতী ভাইরাস লিস্টের ৪র্থ স্থানে আছে র‍্যাবিস ভাইরাস বা জ্বলাতঙ্ক। র্যাবিস ভাইরাসের কারনে সৃষ্ট রোগের নাম র‍্যাবিস। এই ভাইরাস ছড়ায় বিড়াল, বাদুর, কুকুর, বানর এবং বেজির কামড়ের ফলে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে এই র‍্যাবিস ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারনে বহু লোক মারা গেছে। র‍্যাবিস ভাইরাসের কারনে প্রতি বছর প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ মারা যায়। ২০০৯ সালে র‍্যাবিসের কারনে অ্যাঙ্গোলায় ৯৩ জন শিশু মারা যায়। ২০১০ সালে ইন্দোনেশিয়ায় মারা যায় ৭৮ জন। তবে র‍্যাবিস ভাইরাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো এর মৃত্যুহার। রোগের লক্ষন দেখার পর র‍্যাবিস ভাইরাস এর প্রভাবে মৃত্যুহার ১০০%। আর এর কারন হলো, র‍্যাবিস ভাইরাস সরাসরি মানুষের ব্রেইন এবং স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমন করে। তাই রোগের লক্ষন হিসেবে জ্বলাতঙ্ক কিংবা বিকলাঙ্গ পর্যন্ত হতে দেখা যায়।

৩) মারবার্গ ভাইরাস: ১৯৬৭ সালে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং মারবার্গ এর কিছু ল্যাবরোটরি তে হঠাৎ করেই একটি নতুন ভাইরাসের পাদুর্ভাব হয়। যা এসেছিলো উগান্ডা থেকে আসা বানরের কাছ থেকে। পরে ১৯৬৭ সালেই বিজ্ঞানীরা ঐ ভাইরাসটি শনাক্ত করেন এবং নাম দেন মারবার্গ ভাইরাস। মারবার্গ ভাইরাস খুবই মারাত্মক ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে সাধারনত হেমোরেজিক জ্বর দেখা যায়। যার ফলে প্রচন্ড জ্বর এবং পুরো শরীর থেকেই রক্তপাত হয়। এতে রোগী পক্ষাঘাতগ্রস্ত কিংবা কোন অঙ্গের কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যায়। পরিনামে ক্রান্ত ব্যাক্তির মৃত্যু হয়। ১৯৬৭ সালের ঐ সময় এর মৃত্যু হার ছিলো ২৫%। তবে ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন, হু এর মতে, ১৯৯৮-২০০০ সালে আঙ্গোলা এবং ২০০৫ সালে অ্যাঙ্গোলা তে মারবার্গ ভাইরাসের পাদুর্ভাবে মৃত্যু হার ছিলো প্রায় ৮০%। মারবার্গ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখনো পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৩৭৭ জন।

২) HIV ভাইরাস: বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বিপদজনক এবং প্রাণঘাতী ভাইরাস এই HIV ভাইরাস। এর পুরো নাম হিউম্যান ইমুওনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস। HIV ভাইরাস এর কারনে মানবদেহে নানা ধরনের জটিল রোগ দেখা যেতে পারে। যার মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক এবং পরিচিত রোগের নাম হলো AIDS (এইডস) যার পূর্ণ রূপ Acquired Immunodeficiency Syndrome. এই রোগের কারনে মানবদেহে রোগের বিরুদ্ধে কাজ করার ক্ষমতা লোপ পায়। আর আক্রান্ত ব্যক্তির দেহটি নানা রোগ জীবানুর চারণ-ভুমিতে পরিনত হয়। একারনে আক্রান্ত ব্যক্তির কোন না কোন রোগ সবসময় লেগেই থাকে। এর ফলে রোগী ধীরে ধীরে মৃত্যু মুখে পতিত হয়। তবে ডায়াবেটিস কিংবা হাঁপানি রোগ আছে এমন ব্যক্তিরা আরো দ্রুত মৃত্যু মুখে পতিত হয়। এই ভাইরাস ছোয়াচে না হলেও বিভিন্ন কারনে HIV ভাইরাস ছড়াতে পারে। যেমন: অবাধ ও অবৈধ যৌন মিলন, সমকামিতা, HIV Positive অন্য করো রক্ত গ্রহন, একই সিরিঞ্জ বহুজনে ব্যবহার, মাড়ির ক্ষত হতে রক্ত নিঃসৃত লালা ইত্যাদি সহ শিশু কালে HIV ভাইরাস আক্রান্ত মায়ের মাতৃদুগ্ধ পান করার ফলেও এ ভাইরাস ছড়াতে পারে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের কারনে এখনো পর্যন্ত ৩৬ মিলিয়ন মানুষ মারা গেছে।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী (মানুষ ব্যতীত)

১) ইবোলা ভাইরাস: লিস্টের এক নম্বরে থাকা এবং সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভাইরাসের নাম হলো ইবোলা ভাইরাস। ইবোলা ভাইাসের প্রভাব সর্বপ্রথম দেখা যায় ১৯৭৬ সালে, মধ্য আফ্রিকার জায়ার এ। তাই পূর্বে এই ভািরাসের নাম ছিলো জায়ার ভাইরাস এবং রোগের নাম ছিলো ইবোলা হেমারজিক জ্বর। তবে বর্তমানে ইবোলায় আক্রান্ত রোগের নাম ইবোলা ভাইরাস রোগ বা ইভিডি। রক্ত কিংবা অন্যান্য শরীরবৃত্বীয় তরল এবং ইবোলায় আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণির টিশ্যু থেকে অথবা বাদুর ও অন্যান্য প্রাইমেটের কারনে ইবোলা ভাইরাস ছড়ায়। ইবোলা ভাইরাসের কারনে মৃত্যুহার প্রায় ৯০% এবং কিছু স্থানে প্রায় ৫৩%। রোগের লক্ষন হলো গলায় ফোড়া, জ্বর, মাংসপেশির ব্যাথা, মাথাব্যথা ইত্যাদি। আর পরবর্তী লক্ষন সমূহে বমি হওয়া, ডায়রিয়া, মলের সাথে রক্ত পরা, র্যাসেস, কিডনি এবং লিভারের ক্ষতি ইত্যাদি দেখা যায়। বর্তমানেও এর পাদুর্ভাব দেখা যায় যার সূত্রপাত হয় ২০১৪ সালে আফ্রিকার পশ্চিম অংশে। রোগের প্রাথমিক পর্যায়েই রোগীকে চিকিৎসা না করালে রোগীর মৃত্যু অবধারিত।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

1 Response

  1. February 5, 2018

    […] ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়া এই দুধরণের জীবাণু দিয়ে চোখ উঠা রোগ হতে পারে। কিছু কিছু অ্যামিবা দিয়েও এই রোগ হতে পারে। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে হওয়া কনজাংটিভাইটিসে চোখে ময়লা কম হয় এবং নিজে নিজে সেরে যেতে পারে আবার কপ্লিকেশন ও হতে পারে। ব্যাকটেরিয়ার প্রাদুর্ভাবে হওয়া এই রোগে চোখে প্রচুর ময়লা হয়ে থাকে এবং চোখে মেমব্রেন বা এক ধরণের ঝিল্লী তৈরি পর্যন্ত হতে পারে যা থেকে রক্তপাত হতে পারে (সাধারণত শিশুদের বেশি হয়)। […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *