আঙ্গুল ফোটালে হাড়ে শব্দ হয় কেন?

আমাদের অনেকেরই অভ্যাস আছে, কাজের ফাঁকে, প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে, আঙ্গুল ফোটানোর। এটি একটি বদ অভ্যাস। আড্ডায় ‘পট-পটাং’ শব্দটা কানে যেতেই আড্ডায় বসা অন্য কেউ একজন হয়তো বলেন, ‘এ অভ্যাস বাদ দে। পরে বাত হয়ে যাবে।’ আবার কেউ হয়তো আঙুল ফোটানোর উপকারিতার লম্বা লিস্ট দিয়ে বসবে। কিন্তু, আঙ্গুল ফোটালে হাড়ে শব্দ হয় কেন? আর আঙুল ফোটালে কি হাড়ের কোন ক্ষতি হয়? চলুন জেনে নেই।

আঙ্গুল ফোটালে হাড়ে শব্দ হয় কেন?

সাইনোভিয়াল ফ্লুইড (Synovial fluid)
সাইনোভিয়াল ফ্লুইড (Synovial fluid)

আমরা অনেকেই মনে করি আঙ্গুল ফোটালে দুটি হাড়ের সংযোগস্থলে যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয় তাতেই এই অদ্ভুত ‘পট-পটাং’ শব্দটা হয়। কিন্তু ব্যাপারটি মোটেই তা নয়। আমাদের শরীরের ২০৬ টি হাড়ের ৩৬০ টি সংযোগস্থলে “সাইনোভিয়াল ফ্লুইড (Synovial fluid)” নামক একপ্রকার তরল অস্থিমজ্জা দিয়ে ভর্তি থাকে। যা অনেকটা ডিমের সাদা অংশের মত। এই ফ্লুইডটি দুটি হাড়ের নড়াচড়ার সময় তাদের মধ্যে ঘর্ষণ তথা ক্ষয় রোধ করে। আঙুল ফোটানোর সময় অস্থির মাঝে দূরত্ব কিছুটা বেড়ে যায়।

এর ফলে সাইনোভিয়াল ফ্লুইডে বড় বড় কিছু বুদ্‌বুদ সৃষ্টি হয় এবং এই বুদবুদগুলো ফেটে যেতে থাকে। আর এ কারনেই শব্দটা সৃষ্টি হয়। কিন্তু এই বুদবুদ সাধারণত একইসাথে পরপর দুইবার সৃষ্টি হয় না। তাই আমরা পরপর দুইবার আঙ্গুল মোচড়ালেও ২য় বার আর শব্দ শুনতে পাই না। সাধারণত ২০ মিনিট পরপর সিনোভিয়াল ফ্লুইডে বড় বড় কিছু বুদ্‌বুদ সৃষ্টি হয় এবং শব্দ শুনা যায়।

তবে নতুন একটি তত্ত্বে ফিলাডেলফিয়ার রথম্যান ইনস্টিটিউটের হাত ও কবজির চিফ অব সার্জারি ডা. পেদ্রো বেরেজিকলিয়ান বলেন, “যখন আপনি আঙুল ফোটান কিংবা টানেন, তখন দুই হাড়ের মাঝে কিছু ফাঁকা জায়গা বের হয়। এতে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় এবং সেখানে হাড়ের মজ্জা ঢুকে যায়। হঠাৎ করে এভাবে তরল ঢোকার ফলেই সে শব্দ সৃষ্টি হয়।”

আঙুল ফোটালে কি হাড়ের কোন ক্ষতি হয়?

আঙুল ফোটালে কি হাড়ের কোন ক্ষতি হয়?
আঙুল ফোটালে কি হাড়ের কোন ক্ষতি হয়?

আনগার নামের ক্যালিফোর্নিয়ার এক চিকিৎসক আঙুল ফোটালে হাড়ের কোন ক্ষতি হয় কিনা জানতে ৬০ বছর ধরে নিজের ওপর একটি পরীক্ষা চালিয়েছেন। তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে বাঁ হাতের আঙুল ফুটিয়েছেন কিন্তু ডান হাত ধরেননি। এত দীর্ঘ পরীক্ষার ফল? দুই হাতের মাঝে কোনো পার্থক্যই খুঁজে পাননি ডক্টর আনগার 😒। এত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য ২০০৯ সালে ‘আইজি নোবেল’ বা ইগনোবেল পুরস্কারও জুটেছে তাঁর।

ফলে সারা দিন মোবাইল টিপে টুপে হাতের আঙুল যদি কড়কড়ে অনুভূতি এনে দেয়, পটাস-মটাস করে আঙুলগুলো একটু ফুটিয়ে নিতেই পারেন।

সুতরাং আঙুল টানাটানি কিংবা ফোটানোর সঙ্গে শরীরের হাতের ক্ষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে পদার্থবিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুযায়ী সকল বস্তুরই বলের একটি সহনশীল মাত্রা আছে। যার বাইরে যে কোন বলই বস্তুকে স্থায়ীভাবে বিকৃত করে দিতে পারে। অর্থাৎ সহ্যসীমার ঊর্ধ্বে ফোটানোর চেষ্টা করলে আঙ্গুল ভেঙ্গে যেতে পারে। আর হ্যাঁ, আরেকটি উপায়ে আঙ্গুল ফুটানো আপনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সেটা হচ্ছে যদি কেউ আঙ্গুল ফোটানোর শব্দে বিরক্ত হয়ে দু’ঘা বসিয়ে দেয় 😋! হা হা হা……



error: