টপ ৫: চেতন ভগতের সেরা ৫ টি বই

ঔপন্যাসিক, নিবন্ধকার, বক্তা ও চিত্রনাট্যকার চেতন ভগত ভারতীয়দের কাছে এক জনপ্রিয় নাম। শুধু তাই নয় টাইম ম্যগাজিনের ১০০ ক্ষমতাধর ব্যক্তির মাঝে লিখিয়েছেন নিজের নাম। তার উপন্যাস অবলম্বনে বলিউড থেকে মুক্তি পেয়েছে জনপ্রিয় অনেক গুলো মুভি। তিনি তার অনেক উপন্যাসে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন কলেজ জীবনের এদিক সেদিকের কথা। এছাড়াও তার উপন্যাসে রোমান্টিকতা, প্রেম, সমাজ ও বাস্তবতার দর্শন পাওয়া যায়। এই পর্বে চেতন ভগতের সেরা ৫ টি বই নিয়ে আলোচনা করব।

চেতন ভগতের সেরা ৫ টি বই

ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান

ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান

ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান

চেতন ভগতের লেখা ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান (Five Point Someone) বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৪ সলের ৫ জানুয়ারি। যার অবলম্বনে পরবর্তীতে ‘থ্রি ইডিয়ট’ মুভিটি বলিউড থেকে মুক্তি পায়। এই বইটির কাহিনী তিন বন্ধুর আইআইটি তে পড়া নিয়ে লেখা। যেখানে তারা একেবারেই মানিয়ে নিতে পারছিল না। তিন হোস্টেলমেট- অলোক, হারি আর রায়ান তিনজন নিজের চেনা জগৎ ছেড়ে আসে আইআইটি তে। যখনই তারা সব ভুলে এই নতুন ভুবনে নিজেদের মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে তখনই তা আরও খারাপের দিকে যায়। আইআইটির ব্যাপারটা ছিল এরকম যে, যদি তুমি আইআইটির সিস্টেম কে পরোয়া না করে একে বুড়ো আঙ্গুল দেখাও সেই সিস্টেমই তোমার দিকে দ্বিগুণ গতিতে তেড়ে আসবে। এই তিনজনের সিজিপিএ ছিল ক্লাসে সবচেয়ে কম, ১০ পয়েন্টের মধ্যে অর্ধেক! আর এই পয়েন্ট ওদের জীবনে সিল হিসেবে লেগে যায়। ওরা যেখানেই যায়, যাই করে এটা ওদের পিছু ছাড়ে না। যখন গোটা দুনিয়া আইআইটিয়ানদের কাছে প্রত্যাশা করে যে তারা একদিন বিশ্ব পরিচালনা করবে সেখানে এই তিন বন্ধু শুধু বাঁচার সংগ্রাম করে। তাদের বাঁচার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হতে থাকে উপন্যাসের শেষ অংশ।

হাফ গার্লফ্রেন্ড

হাফ গার্লফ্রেন্ড

হাফ গার্লফ্রেন্ড

হাফ গার্লফ্রেন্ড (Half Girlfriend) চেতন ভগতের লেখা আরেকটি জনপ্রিয় উপন্যাস। এই উপন্যাস অবলম্বনেও একি নামে একটি চলচিত্র বলিউড থেকে মুক্তি পায়। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র এক বিহারী যুবক। সে পড়ালেখায় তেমন একটা ভালো না, কিন্তু স্পোর্টস কোটায় একটা ইংলিশ মিডিয়াম কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ হয় তার। ছেলেটি সেই কলেজের এক সুন্দরী, মডার্ণ মেয়ের প্রেমে পড়ে। সে মেয়েটিকে প্রপোজ করে। মেয়েটি রাজি হয় না। অনেক চেষ্টা পর রাজি হয়, পুরো গার্লফ্রেন্ড নয়, হাফ গার্লফ্রেন্ড হওয়ার। এইভাবেই এগুতে থাকে তাদের সম্পর্ক। উপন্যাসের পরবর্তী অংশ তাদের এই সম্পর্কের মধ্যের বোঝাপড়া নিয়ে এগুতে থাকে।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: আহমদ ছফার লেখা সেরা ৫ টি বই

থ্রি মিস্টেক অব মাই লাইফ

থ্রি মিস্টেক অব মাই লাইফ

থ্রি মিস্টেক অব মাই লাইফ

থ্রি মিস্টেক অব মাই লাইফ (The 3 Mistakes Of My Life) চেতন ভগতের লেখা আরেকটি বিখ্যাত আত্মজীবনিমূলক উপন্যাস। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গোবিন্দ নামের একজন সাধারণ মানুষ। যিনি চুপচাপ থাকতে পছন্দ করে। কিন্তু সাধারণ মানুষ হলেও তার লক্ষ্য সাধারণ নয়। তার স্বপ্ন অনেক বড় ব্যবসায়ী হওয়া। তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু অমি আর ইশান। গোবিন্দ তার দুই বন্ধুর সাথে মিলে ক্রিকেট সরঞ্জামের ব্যবসা শুরু করে। এর পাশাপাশি সে ইশানের বোন বিদ্যাকে অংক ও শেখাতো। একপর্যায়ে সে আর বিদ্যা প্রেমে পড়ে যায়। তাদের আরেকজন বন্ধু হল অমি। অমিদের পরিবার কঠিন ব্রাহ্মণ পরিবার। জাত-পাত ইত্যাদি মেনে চলে তারা। সে অনেকটা ভোঁতা ধরণের মানুষ। তার মাঝে বৈচিত্র্য ও স্বপ্ন কোনটাই নেই। সে তার উগ্র বিশ্বাস নিয়ে প্রায় সময় দ্বিধায় ভোগে। উপন্যাসের আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র আলি। ইশান তাকে ক্রিকেটের ট্রেনিং দেয়। ভালো ব্যাটিং করার ক্ষমতা নিয়েই জন্মেছে সে। গুজরাটের দাঙ্গায় আলিকে রক্ষার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করে ইশান আর গোবিন্দ। অমির উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিট্টু মামার সাথে সরাসরি লড়াইয়ে চলে যায় তিন বন্ধু। দাঙ্গায় আলি হাতে মারাত্নক আঘাত পায়। আলিকে সুস্থ করার নিমিত্তে বিদ্যার কারণে ইশান গোবিন্দের মাঝে কেটে যাওয়া সুর আবার ফিরে আসে।

রেভুল্যুশন-২০২০

রেভুল্যুশন ২০২০

রেভুল্যুশন ২০২০

রেভুল্যুশন ২০২০ (Revolution 2020) চেতন ভগতের লেখা ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস হলেও এটি শুধু ত্রিভুজ প্রেমের গণ্ডির মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে নি। অসাধারণ কাহিনী সম্পন্ন বইটির কাহিনী আবর্তিত হয় তিন বন্ধু কে ঘিরে। তারা হলো গোপাল, আরতি আর রাঘব সেই ছেলেবেলা থেকেই ভালো বন্ধু! তাদের বন্ধুত্বের এক পর্যায়ে গোপাল একটা সময় আরতির প্রেমে পড়ে যায়। আরতিকে নানা ভাবে সেটা বোঝানোরও চেষ্টা করলে আরতি জানিয়ে দেয় বন্ধুত্ব ছাড়া আর কিছু ভাবা সম্ভব নয় তার। তিন বন্ধুর মধ্যে গোপালের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। হাইস্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে যখন রাঘব ইঞ্জিনিয়ারিং এ এবং আরতি ট্যুরিজম ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হল দুর্ভাগ্যক্রমে গোপাল অল্প কিছু মার্কের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হতে পারলো না। পরবর্তী বছরের ভর্তি পরীক্ষার জন্য গোপালের বাবা ঋণ করে ছেলেকে সেই টাকা দিয়ে ভালো কোচিং-এ ভর্তি করায়।যার ফলে এই এক বছরের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আরতি আর রাঘবের থেকে দূরে অন্য প্রদেশে চলে যায় গোপাল। আর এদিকে এই এক বছরে আরতি আর রাঘবের মাঝে তৈরি হয় সম্পর্ক। পরবর্তী বছরেও গোপাল ব্যর্থ হয় ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হতে। যার ফলে ছেলের ব্যর্থতার শোকে মারা যায় তার বাবা। গোপালের মনে জেদ চাপে। দুর্নীতি করে নিজেই খুলে বসে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, যেখানে তার নিজেরই কোন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী নেই। অন্যদিকে রাঘব ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া ছাত্র হলেও তার ঝোঁক সাংবাদিকতার দিকে। নিজের প্রদেশের উন্নয়ন ঘটাতে এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সোচ্চার সে। গোপাল আর রাঘবের মাঝে থেকে দ্বিধায় ভোগে আরতি। কার কাছে যাবে সে? এইসব হিসেব নিকেষ নিয়েই এগুতে থাকে উপন্যাসের পরবর্তী অংশ। আরতির শেষ ভাগ্যে শেষে কার নাম লেখা থাকে তা জানতে অবশ্যই উপন্যাসটি পড়ে দেখতে হবে।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: পাওলো কোয়েলহোর সেরা ৫ বই

ওয়ান নাইট @ দ্য কল সেন্টার

ওয়ান নাইট @ দ্য কল সেন্টার

ওয়ান নাইট @ দ্য কল সেন্টার

এই উপন্যাসের গল্প মূলত লেখকের এক শীতের রাতে ট্রেনে সফর করার সময় পাওয়া। সফর কালে লেখকের সাথে দেখা হলো এক অদ্ভুত তরুণীর। তরুণী তাকে একটি গল্প বলতে চাইলো, এবং এই গল্পই মূলত ‘ওয়ান নাইট অ্যাট দ্য কল সেন্টার’ এর মূল কাহিনী। ছয়টি অতৃপ্ত জীবন, আর একটি অদ্ভুত রাত, একটি ফোনকল যা এসেছে সরাসরি ঈশ্বরের কাছ থেকে! তারা সবাই একটি কল সেন্টারে কাজ করেন। যদিও কেউই নিজের ইচ্ছায় আসেননি এখানে। তাদের সবার শেষ পছন্দ ছিলো এই চাকরিটি। ভাগ্যই হোক, সাহসের অভাবই হোক, জীবনকে নিজের ইচ্ছেমতো বয়ে যেতে দিতে পারেননি তারা। কিন্তু একরাতে, ঐ একটি ফোনকল কি সত্যিই বদলে দিতে পেরেছিলো তাদের জীবনকে, কিছুটা হলেও কি প্রাপ্তি যোগ করতে পেরেছিলো? সেই সব রহস্য ঘেরা কথার সমাধান খুঁজতে এখুনি পড়ে ফেলতে পারেন চেতন ভগতের ‘ওয়ান নাইট @ দ্য কল সেন্টার (One Night @ the Call Center)’।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *