টপ ৫: আমাজন বনের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও হিংস্র প্রাণী

আমাজন রেইনফরেস্ট, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বন। মাইলের পর মাইল জুড়ে ঘন গহীন এই বনভূমি এতটাই গভীর যে এখনও আমাজন বনের বহু অঞ্চলে পড়েনি সভ্যজগতের পায়ের ছোয়া। শুধু সভ্যজগত বললেও ভুল হবে, বিজ্ঞানীদের মতে আমাজন বনে এখনও এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে কখনো কোন মানুষের পাড়াও পড়েনি। রহস্যঘেরা এসব অঞ্চল এখনও মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। হয়ত সেসব অঞ্চলে এখন এমন কিছু প্রাণীর অস্তিত্ব আছে যেসব প্রাণী সম্পর্কে মানুষের কোন ধারনাই নেই অথবা প্রাগৈতিহাসিক কোন প্রাণীর অস্তিত্ব থাকাটাও একেবারে অসম্ভব কিছুনা। যাই হোক, ধারনার কথা না হয় বাদই দিলাম। আমাজন বনের নিতান্ত পরিচিত প্রাণী সম্পর্কেই বা আমরা কতটা জানি? কতটা জানি তাদের ভয়ংকরতা সম্পর্কে? তাই চলুন আজকে জানি, আমাজন বনের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও হিংস্র প্রাণী সম্পর্কে।

আমাজন বনের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও হিংস্র প্রাণী

৫. জাগুয়ার

জাগুয়ার
জাগুয়ার

আমাজন বনের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও হিংস্র প্রাণী দের মধ্যে ৫ম স্থানে আছে জাগুয়ার। বিড়াল প্রজাতির মধ্যে সিংহ এবং বাঘ এর পরে সবচেয়ে বড় প্রাণী হল এই জাগুয়ার। এরা মাংসাশী প্রাণী। আর শিকার করার জন্যও এরা সিদ্ধহস্ত। এদের খাদ্য তালিকা খুবই বিস্তৃত। এরা প্রায় ৮৭ প্রজাতির প্রাণী খায়। যদিও এর মধ্যে মানুষ নেই। যদিও জাগুয়ারেরা সহজেই একটি পূর্ণ বয়স্ক মানুষকে মেরে ফেলতে পারে। এরা ব্লাক কেইমেন থেকে শুরু করে তাপির, হরিণ, ক্যাপিবেরাসহ আমাজনে প্রাপ্ত সম্ভাব্য প্রায় সব প্রাণীই খায়। আমাজনের পরিধি প্রতিনিয়ত কমে যাওয়ায় দিনে দিনে জাগুয়ারদের খাবার কমে যাচ্ছে। তাই, বর্তমানে জাগুয়ারেরা মানুষ না খেলেও, নিকট ভবিষ্যতে খাওয়ার সম্ভাবনা বেড়েই যাচ্ছে।

৪. ব্লাক কেইমেন কুমির

ব্লাক কেইমেন কুমির
ব্লাক কেইমেন কুমির

আমাজন বনের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও হিংস্র প্রাণী দের মধ্যে ৪র্থ স্থানে আছে ব্লাক কেইমেন কুমির। কুমিরের বড় প্রজাতির মধ্যে অন্যতম হল এই ব্লাক কেইমেন। বৃহদায়তন এই শিকারীদের হ্রদে, ধীর প্রবাহিত হয় এমন নদীগুলোতে এবং আমাজন বেসিনের ঋতুভিত্তিক বন্যায় ভেসে থাকতে দেখা যায়। ব্লাক কেইমেনরা আমাজন বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শিকারী হিসাবে পরিচিত। আর এদের গায়ে ছোপ ছোপ কালো রং থাকায় খুব সহজে ক্যামোফ্লেজ বা ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে। সাধারণত এরা বিভিন্ন পাখি, সরীসৃপ, মাছ এবং স্তন্যপায়ী প্রাণী খায়। একসময় আমাজন বনে  বৃহদায়তন এই  ব্লাক কেইমেন রা বিলুপ্ত হয়ে যেতে বসেছিল। তবে ব্লাক কেইমেন শিকার করার উপর কড়াকড়ি আইন করায় তারা রক্ষা পায়।

৩. অ্যানাকোন্ডা

অ্যানাকোন্ডা
অ্যানাকোন্ডা

মনে আছে “অ্যানাকোন্ডা” মুভির সেই ভয়ঙ্কর দৈত্যাকার সাপের কথা? যে সাপ আস্ত একটা মানুষকে অনায়েসে গিলে ফেলতে পারে। সেই অ্যানাকোন্ডাই আমাজন বনের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও হিংস্র প্রাণী দের মধ্যে ৩য় স্থানে আছে। তবে সত্যিকারের অ্যানাকোন্ডা অত বড় না হলেও এরা অনেক্তাই বড়। এরাও মানুষ গিলে ফেলতে পারে। লম্বায় অ্যানাকোন্ডা বাড়ে প্রায় ২১ ফুট পর্যন্ত। এরা যতদিন বাঁচে ততদিনই বড় হয়।

তবে ভাল দিক হল এদের দাঁতে বিষ নেই। আর খারাপ এবং ভয়ের দিক হল এরা অন্য উপায়ে শিকারকে মেরে ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হল শিকারকে এর শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলা। আর শ্বাসরোধ করার জন্য এরা শিকারকে কামড়ে ধরে পুরো শরীর দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে এবং শ্বাসরোধ হওয়া পর্যন্ত পিষতে থাকে। শিকার মরে গেলে চিবানো ছাড়াই শিকারকে গিলে ফেলে। একবার পেট পুড়ে খাওয়ার পর তা হজম হতে প্রায় ৭ দিন সময় লাগে। এই সময়কালে অ্যানাকোন্ডা সাধারণত শিকার করে না। তবে যখন ক্ষুধার্ত থাকে তখন কার রেহাই নেই—এমনকি মানুষেরও।

২. পিরানহা

পিরানহা
পিরানহা মাছ

আমাজন বনের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও হিংস্র প্রাণী দের মধ্যে ২য় স্থানে আছে পিরানহা মাছ। অধিকাংশ পিরানহা মাছ দেখতে খুব সুন্দর হলেও এরা খুব আক্রমণাত্মক একটি মাছ। মিঠা পানির মাছ। পিরানহারা কুখ্যাত এদের তাদের শক্তিশালী চোয়াল এবং ক্ষুর-তীক্ষ্ণ দাঁতগুলোর জন্য। মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে পিরানহার কামড় অন্যতম শক্তিশালী। এতটাই শক্তিশালী যে মাংস ছিঁড়ে এসে পরে – এমনকি মানুষেরও। তবে এরা কি নরখাদক? হ্যাঁ, খায়। তবে যখন ক্ষুধার্ত থাকে আর শিকার (মানুষ) তার এলাকার মধ্যে থাকে। কিন্তু সাধারণত এরা মরা প্রাণীর মাংসই বেশি খায়। এরা এককভাবে বা দলবদ্ধভাবে আক্রমণ করে। আর জীবন্ত প্রাণী শিকারের ক্ষেত্রে অন্যান্য মাংশাসী প্রাণীদের মতো এরা শিকারকে হত্যা করে খায় না। বরং খেতে খেতে শিকারকে হত্যা করে। আর এইজন্যই এরা আর ভয়ঙ্কর।

১. মশা

মশা
মশা

খুব শক্তিশালী আর বড় বড় দাঁতওয়ালা প্রাণীদের টপকে আমাজন বনের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও হিংস্র প্রাণী দের লিস্টে ১ নাম্বারে রয়েছে এমন এক প্রাণী যাকে আপনি নিমিষেই খুব সহজে দুই আঙ্গুল দিয়েই মেরে ফেলতে পারবেন। হ্যাঁ, আপনি হয়তো ঠিকই অনুমান করেছেন। এটা হচ্ছে “মশা”। মশারা উষ্ণ এবং আর্দ্র গ্রীষ্মমন্ডলীয় পরিবেশে বংশবৃদ্ধি করে এবং থাকেত। আর তাই আমাজন রেনফরেস্ট মশাদের জন্য আদর্শ বাসস্থান। আর এসব মশারা নিজেদের সাথে মালেরিয়া এবং ডেঙ্গুর মত বিভিন্ন মারাত্তক জীবাণু বহন করে। এটি যদি আপনাকে কামড়ায় তবে তা সরাসরি আপনার রক্তের মধ্যে রোগের জীবাণু ছড়িয়ে দিতে পারে। আর আপনি যদি পরে টিকা বা প্রতিষেধক না নিয়ে থাকেন, তাহলে এতে আপনার মৃত্যুও পারে। তাই আমাজন পর্যটকদের মশার কামড় এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এছাড়া আর আছে বিষাক্ত ডার্ট ফ্রগ, বুলেট অ্যান্ট, ইলেক্ট্রিক ঈল, বিষাক্ত মাকড়শা, দৈত্যাকার শতপদী ইত্যাদি।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 Shares
Share via
Copy link