টপ ৫: বিশ্বের সবচেয়ে ঐতিহাসিক স্থান

প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান এবং স্থাপনাগুলো আমাদের সবাইকেই কম বেশি আকর্ষন করে। আর তা কেবল ঐ ঐতিহাসিক স্থান এবং স্থাপনাগুলোর সৌন্দর্যের জন্যই নয়, তাদের নির্মাণকৌশল এর জন্যও। অবাক হতে হয় প্রাচীন কালের সেই ইন্জিনিয়ারদের দক্ষতা কল্পনা করে। সীমিত জনশক্তি ও প্রযুক্তি দিয়েও তারা গড়ে তুলেছিলো এসব ঐতিহাসিক স্থানগুলো। আর সেই ঐতিহাসিক স্থানগুলো থেকেই নির্বাচন করা বিশ্বের সবচেয়ে ঐতিহাসিক স্থান থাকছে আমাদের আজকের এই পোস্টে।

বিশ্বের সবচেয়ে ঐতিহাসিক স্থান

কলোসিয়াম

কলোসিয়াম
কলোসিয়াম

বিশ্বের সবচেয়ে ঐতিহাসিক স্থান গুলোর লিস্টে শুরুতেই আছে ইতালির কলোসিয়াম

বিশ্বের ‘ল্যান্ড অব মার্বেল‘ নামে পরিচিত দেশ হচ্ছে ইতালি। আর কলোসিয়াম রোমের সবচেয়ে নান্দনিক এবং ঐতিহ্যবাহী একটি স্থান। খুব সম্ভবত যীশু খ্রিষ্টের জন্মের আগে অর্থাৎ অ্যান্নো ডমিনি (AD) এর প্রথম শতাব্দীতে এই রণক্ষেত্র তৈরি করা হয়। এটি নির্মাণ করেছেন সম্রাট ভেসপেসিয়ান ও সম্রাট টাইটাস। কলসিয়ামের ইতালীয় নাম ফ্ল্যাভিরান অ্যাস্কি থিয়েটার। রোমান এই রণক্ষেত্রটির ধারনক্ষমতা ছিলো প্রায় ৪৫০০০ এবং এটিই ছিলো সবচেয়ে বড় রোমান গ্যালারি বা রণক্ষেত্র। এখানে প্রাচীন রোমের মল্ল যোদ্ধাদের মধ্যে যুদ্ধ আর বিভিন্ন বন্য প্রাণির প্রদর্শনী হতো। এখানে মল্লযোদ্ধাদের যুদ্ধ চলতো আমৃত্যু পর্যন্ত। মধ্যযুগ থেকেই এই রণক্ষেত্রটিকে সবাই শহীদের কবরস্থান হিসেবে জানে। আর কলোসিয়ামকে তাই তখন থেকেই ভয়ংকর স্থান হিসেবে চিনে। প্রাচীন রোমের ঐতিহ্যবাহী এই রণক্ষেত্রটির অনেকটা অংশ কালের আবর্তে ক্ষয়ে গেছে এবং অনেকটা অংশেই এখন দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্টোনহেঞ্জ

স্টোনহেঞ্জ
স্টোনহেঞ্জ

বিশ্বের সবচেয়ে ঐতিহাসিক স্থান গুলোর লিস্টে ৪র্থ স্থানে আছে স্টোনহেঞ্জ

স্টোনহেঞ্জ বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত, ঐতিহাসিক এবং রহস্যময় স্থান। স্টোনহেঞ্জ ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ার (উইলশায়ার না কিন্তু) এর কাছাকাছি অবস্থিত। স্টোনহেঞ্জ আসলে এমন একটি স্থান যেখানে অনেকগুলো বিরাট পাথর দাঁড় করে রাখা হয়েছে এবং কতগুলো ঐ দাড়া করানো পাথরের উপরে রাখা আছে। পাথর গুলো আনা হয়েছিলো ওয়েলস থেকে, প্রায় ৩০০০ বছর আগে। বিশেষজ্ঞরা এখনো নিশ্চিত নয় যে কিভাবে এই পাথর গুলো ওয়েলস থেকে আনা হয়েছে, কেনই বা এই স্টোনহেঞ্জ তৈরি করা হয়েছে আর কিভাবেই এর নির্মাতারা যন্ত্র ছাড়াই এই প্রকান্ড পাথরগুলো দাঁড় করিয়েছে এবং এতো উপরে রেখেছে। ১৯৮৬ সালে স্টোনহেঞ্জ এবং এর আশেপাশের কিছু অংশ ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এখন স্টোনহেঞ্জ সার্কেলের মধ্যে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।

গিজার পিরামিড

গিজার পিরামিড
গিজার পিরামিড

বিশ্বের সবচেয়ে ঐতিহাসিক স্থান গুলোর লিস্টে ৩য় স্থানে আছে গীজার পিরামিড।

ঐতিহাসিক স্থানের লিস্টে তিন নম্বরে রয়েছে প্রায় তিন হাজার পুরোনো গীজার পিরামিড। এটি একটি প্রাচীন বিস্ময় এবং বর্তমান কালের অন্যতম ট্যুরিস্ট আকর্ষন। এটা পরিষ্কার যে গীজার প্রাচীন এই পিরামিডে ফারাওদের সমাধিস্থ করা হয়েছে। তাদের ধারনা ছিলো মৃত্যুর পর সেখানে তাদের কষ্ট হবে তাই তারা সেই কবরের মধ্যেই অনেক, সুসজ্জিত ঘর, দামী গয়না, খাবার-দাবার রেখেছিলো। সেখানে তিনটি পিরামিড আছে। তবে এখনো পরিষ্কার না যে কিভাবে প্রাচীন মিশরীয়রা এই পিরামিড তৈরি করেছে। পিরামিডগুলোতে রয়েছে অগনিত কুঠুরি এবং সেগুলো এতই ছোট আর সরু যে কিভাবে তারা এই কুঠুরিগুলো তৈরি করেছে আজও বিস্ময়ের বিষয়। তিনটির মধ্যে সবচেয় বড় পিরামিডটি তৈরি করেছে ফারাও খুফু। সত্যিকার অর্থেই পিরামিডগুলো এখনকার ইন্জিনিয়ারদের জন্যও বিস্ময়কর।

মাচুপিচু

মাচুপিচু
মাচুপিচু

বিশ্বের সবচেয়ে ঐতিহাসিক স্থান গুলোর লিস্টে ২য় স্থানে আছে মাচুপিচু

মাচুপিচু পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর, বিভ্রান্তিকর এবং ঐতিহাসিক স্থান। এর অবস্থান পেরুর দক্ষিণাংশে। প্রাচীন ধ্বংশপ্রাপ্ত এই নগরীটি আন্দিজ নামক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। মাচুপিচু অর্থ বুড়ো পাহাড়ের চূড়া বা প্রাচীন চূড়া। ১৯১১ সালে নতুন করে মাচুপিচু আবিষ্কার করেন প্রত্নতাত্ত্বিক হিরাম বিংহাম যদিও এর নির্মানকাল চতুর্দশ শতকে। মাচুপিচু ছিলো প্রাচীন ইনকা সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু। স্প্যানিশরা ঐ এলাকা আক্রমন করার পর এটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। পূর্বে মাচুপিচুকে পবিত্র স্থান হিসেবে মানা হত। ১৯৮৩ সালে মাচুপিচু ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে ২০০৭ সালে ঘোষিত সপ্তাশ্চর্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

পেত্রা নগরী

পেত্রা নগরী
পেত্রা নগরী

বিশ্বের সবচেয়ে ঐতিহাসিক স্থান গুলোর লিস্টে ১ম স্থানে আছে পেত্রা নগরী

ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে এই পেত্রা নগরী বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষনীয়। এটি বিখ্যাত এর পাথুরে স্থাপত্য এবং সুন্দর পানি নিষ্কাশন সিস্টেমের জন্য। পেত্রা মানে পাথরের নগরী। আর এই পেত্রা নগরীর অবস্থান জর্ডানের ওয়াদি মুসা বারমুসা উপত্যকায়। সুইস পর্যটক জোহান লুইগ বার্ক হার্ডিট ১৮১২ সালে এটি আবিষ্কার করেন যদিও এর গোড়াপত্তন হয় খ্রিষ্ট জন্মের ৬০০ বছর পূর্বে রাজা এরিটাসের শাসনামলে। পেত্রা ছিলো নাবাতিয়ানদের রাজধানী। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতকে বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ শহরটির দখল নেয় পামিরা। তখন থেকেই এর গুরুত্ব কমতে থাকে। সপ্তম শতকে মুসলমানরা ও দ্বাদশ শতকে ক্রুসেডাররা পেত্রার দখল নেয়। মূলত এর পর থেকেই পেত্রা ধ্বংস হতে শুরু করে। এ ছাড়া ৩৬৩ সালে ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে এ শহরের ৫০ ভাগই ক্ষতি সাধিত হয়। অনেকেই আবার ধারণা করেন শহরটিতে হয়তো ভিনগ্রহের বাসিন্দরা হামলা করেছিল। এখনও এই শহরটি দর্শনার্থীদের আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু। এটাকে পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি ধরা হয়। তবে শহরটি কি কারণে পরিত্যাক্ত করা হয়েছিল এটি এখনও সবার কাছে এক অপার রহস্য।



error: