টপ ৫: পৃথিবী সম্পর্কে জানা-অজানা তথ্য

পৃথিবী, আমাদের বাসভূমি। পৃথিবী সূর্য থেকে দূরত্ব অনুযায়ী তৃতীয় এবং সৌরজগতের ৫ম বৃহত্তম গ্রহ। তবে ঘনত্বের দিক থেকে সবচেয়ে ঘন গ্রহটিই হলো আমাদের এই পৃথিবী। তবে আমরা পৃথিবীতে বসবাস করলেও পৃথিবী সম্পর্কে অনেক কিছুই আমাদের অজানা। প্রায় প্রতিদিনই বিজ্ঞানীরা পৃথিবী সম্পর্কে নতুন কিছু আবিষ্কার করে যাচ্ছেন। আবার কিছু জিনিস আছে যা আমরা ভেবেছিলাম সঠিক কিন্তু তাও মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে। আর বিস্ময়কর ও রহস্যময় এই পৃথিবী সম্পর্কে এমনই জানা-অজানা বিভিন্ন তথ্য নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন টপ ৫: পৃথিবী সম্পর্কে জানা-অজানা তথ্য।

পৃথিবী সম্পর্কে জানা-অজানা তথ্য

পৃথিবী চ্যাপ্টা বা সমতল?

পৃথিবী-চ্যাপ্টা-বা-সমতল?
পৃথিবী চ্যাপ্টা বা সমতল?

প্রাচীন পৃথিবীর লোকেরা মনে করতো পৃথিবী চ্যাপ্টা বা সমতল। আর কেউ যদি জাহাজে করে বা কোন ভাবে পৃথিবীর কিনারা বা শেষ প্রান্তে যেতে পারে তবে সে বা ঐ জাহাজটি পড়ে যাবে। আর এমনটা মনে করার কারন হলো পৃথিবী খুব বড় একটি গোলক। এর কোন নির্দিষ্ট স্থানে দাড়িয়ে চারপাশে তাকালে পৃথিবীকে সমতলই মনে হয়। তবে খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে গ্রিকরা পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে সঠিক ধারনা পেতে শুরু করে। ক্রমেই পুরো পৃথিবী জুড়েই সমতল পৃথিবীর ধারনা পরিত্যক্ত হতে শুরু করে। কিন্তু বর্তমানেও ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি নামে একটি সংগঠন আছে যার সদস্যরা সমতল পৃথিবীতে বিশ্বাস করে এবং এ বিশ্বাসের প্রসারে কাজ করে।

পৃথিবীই সোরজগত এবং মহাবিশ্বের কেন্দ্র

জিওসেন্ট্রিক-মডেল-বা-ভূকেন্দ্রিক-মডেল
জিওসেন্ট্রিক মডেল বা ভূকেন্দ্রিক মডেল

সমতল পৃথিবী মতে বিশ্বাস না করলেও অনেকটা সময় জুড়েই মানুষ বিশ্বাস করতো পৃথিবীই সোরজগত এবং মহাবিশ্বের কেন্দ্র। একে বলা হয় জিওসেন্ট্রিক মডেল বা ভূকেন্দ্রিক মডেল। খোলা চোখে অবশ্য এমনই মনে হয়। আমাদের দৃষ্টিকোন থেকে দেখা যায়, চাঁদ, সূর্য, তারা আরো অন্যান্য গ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদি পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই ঘুরছে। আর ১৬শ শতকের আগে পর্যন্তও মানুষ এমনটাই বিশ্বাস করতো। তবে এরপরই একটি যুক্তিযুক্ত ও সঠিক মডেল উপস্থাপন করেন নিকোলাস কোপার্নিকাস। যার কেন্দ্র হলো সূর্য এবং নাম হেলিওসেন্ট্রিজম বা সৌরকেন্দ্রিক মতবাদ। পরে মডেলটির আরো উন্নতি সাধন করেন জ্যোতির্বিদ ইওহান কেপলার এবং দুরবিন ব্যবহার করে শক্ত পর্যবেক্ষনমূলক প্রমান হাজির করেন ইতালীয় বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলে।

পৃথিবীর নাম কোন দেব দেবীর নামে হয়নি

পৃথিবীর ইংরেজি হলো Earth. আর Earth ই একমাত্র গ্রহ যার নাম কোন গ্রীক বা রোমান দেব দেবীর নামে হয়নি। বিভিন্ন দেশে পৃথিবী বা Earth এর ভিন্ন ভিন্ন নাম থাকলেও সবগুলো নামের সাথেই এসেছে মাটি বা ভূমি সম্পর্কিত কোন শব্দ থেকে বা তা মাটি কিংবা ভূমির সমার্থক শব্দ। যেমন: বাংলাদেশ বা বাংলা ভাষাভাষীরা একে পৃথিবী নামে ডাকে যার সমার্থক শব্দ ভূমি, বসুন্ধরা ইত্যাদি। সুইডেনে পৃথিবীকে ডাকা হয় ইউডান (Jorden) নামে আর সেখান মাটিকে বলা হয় ইউড। আবার পৃথিবীর ল্যাটিন নাম হলো টেরা এসেছে টেলুস থেকে যা মাটির সমার্থক।

১ দিন = কত ঘন্টা?

আমরা সবাই জানি পৃথিবীতে একদিন হলো ২৪ ঘন্টা। যার মানে হলো সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে ঘুরে আসতে পৃথিবীর ২৪ ঘন্টা সময় লাগে। পৃথিবীর এ গতিকে বলা হয় আহ্নিক গতি। তবে এই হিসাবে কিছুটা ভুল রয়েছে। কারন বাস্তবে দেখা যায়, সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে ঘুরতে পৃথিবীর সময় লাগে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ০৪ সেকেন্ড

প্রানের অস্তিত্ব

পৃথিবীর বাইরে অন্য কোন গ্রহে প্রাণ থাকুক বা না থাকুক পৃথিবীর সকল পরিবেশেই কোন না কোন প্রাণী দেখা যায়ই। আর এই প্রানের অস্তিত্ব এমন অনেক স্থানে দেখা যায় যেখানে কল্পনাও করা যায় না কোন প্রাণী থাকতে পারে। অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে কিংবা তপ্ত মরুভূমিতে সবখানেই দেখা যায় প্রাণের অস্তিত্ব। আর পানির নিচের প্রাণীদের সম্পর্কে বলতে গোলে আমরা কিছুই জানিনা।



error: