টপ ৫: বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত খাবার

 

আমরা খাবার খাই বেঁচে থাকার জন্য। তবে পৃথিবীতে এমন অনেক বিষাক্ত খাবার আছে যেসব খেলে আপনার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। হতে পারে তা কোন প্রাণি কিংবা উদ্ভিদের বিশেষ অংশ। আর এরকই ৫টি বিষাক্ত খাবার নিয়ে সবচেয়ে বিষাক্ত খাবারের লিস্ট। তো চলুন জেনে নেই এই সবচেয়ে বিষাক্ত খাবার গুলো সম্পর্কে:

টপ ৫: বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত খাবার

কাসু_মারুজু_চিজ_বা_পনির

কাসু মারুজু চিজ বা পনির

৫) কাসু মারুজু চিজ বা পনির: কাসু মারুজু পনির বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক পনির। ইতালির এই পনিরটি পচা পনির নামেও পরিচিত। কাসু মারজু তৈরি হয় সার্ডিনিয়ান ভেড়ার দুধে থেকে। পনির তৈরির অন্যান্য প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলে কাসু মারজু পনির কে রাখা হয় খোলা স্থানে যাতে করে চিজ মাছি এসে পনিরের মধ্যে ডিম পারতে পারে। আর এই ডিম গুলোই ফার্মেন্টেশনের জন্য দায়ী। ডিম ফুটে লার্ভা বের হয় এবং লার্ভা পনিরের কিছুটা অংশ খেয়ে ফেলে। আর এভাবেই ফারমেন্টেশন হয়। অনেকসময় পনিরের সাথে খাওয়া লার্ভা মানুষের পেটেও কিছুক্ষনের জন্য জীবিত থেকে যায়। এতে করে বিভিন্ন সমস্যা হয় যেমন: রক্তপড়া সহ ডায়রিয়া কিংবা খুব বেশি বমি হওয়া। আবার লার্ভাগুলো লাফিয়ে প্রায় ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত উঠতে পারে তাই খাওয়ার সময় সাবধান থাকতে হয়। এই কাজু চিজ এখন তৈরি করা নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। তবুও কিছু লোক এটা অগোচরে বিক্রি করে এবং খায়।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভাইরাস সমূহ
কাসাভা_রুট_বা_কাসাভার মূল

কাসাভা রুট বা কাসাভার মূল

৪) কাসাভা রুট বা কাসাভার মূল: কাসাভা মূল সাধারনত টাপিওকা তৈরিতে ব্যবহার হয় এবং সবজি হিসেবেও অনেকের ডায়েট কন্ট্রোলে ব্যবহৃত হয়। কেননা চাল এবং ভুট্টার পর কাসাভার মূলেই সবচেয়ে বেশি কার্বোহাইড্রেট আছে। খাবার হিসেবে কাসাভা মুল চূর্ন করে, ভাপে সিদ্ধ করে, পুডিং হিসেবে এবং জুস তৈরি করে খাওয়া হয়। এই গাছ কেবল আফ্রিকা এবং দক্ষিন আমেরিকাতেই দেখা যায়। কাসাভার পাতায় এবং মূলে রয়েছে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সায়ানাইড। ভালোভাবে রান্না করা না হলে এই খাবার খেয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন হু এর মতে কাসাভা বিষে আক্রান্ত প্রতি ৫ জনের একজন বিষক্রিয়ায় মারা যায়। তবে কাসাভা মুল ভালোভাবে চাষ করে, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রান্না করলে খাওয়া যায়।

আকি_বা_আকি_আপেল

আকি বা আকি আপেল

৩) আকি বা আকি আপেল: আকি বা আকি আপেল খুবই বিষাক্ত একটি ফল। এটি জ্যামাইকার জাতীয় ফল। একে ব্লাঘিয়া সাপিডা নামেও ডাকা হয়। আফ্রিকায় আকি খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। একে ফল হিসেবে কিংবা অন্যান্য ট্রেডিশনাল বিভিন্ন খাবারের সাথেও মিশিয়ে খাওয়া হয়। তবে ঝামেলা বাধে যখন ফলটি কাচা থাকে। কারন কাচা ফলের মধ্যে থাকে হাইপোগ্লাইসিন নামক এক প্রকার বিষ। তবে ফল পাকার পর যখন তা লাল হয়ে যায় এবং ফলের বাইরের আবরন স্বাভাবিক ভাবেই খুলে যায় তখন তা নিরাপদেই খাওয়া যায়। তবে পাকা ফলের মধ্যে থাকা বড় কালো বীজের মধ্যে তখনও হাইপোগ্লাইসিন থাকে। হাইপোগ্লাইসিন বিষ গ্রহনের ফলে যে বিষক্রিয়া হয় তাতে বমি হয় এবং পরিনতিতে মৃত্যুও হতে পারে। চিকিৎসা প্রনালী আবিষ্কারের আগে এই বিষে মৃত্যুহার ছিলো ৮০% তবে এখন অনেকাংশেই কমে গেছে।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী (মানুষ ব্যতীত)
জায়ান্ট_বুলফ্রগ

জায়ান্ট বুলফ্রগ

২) জায়ান্ট বুলফ্রগ: নামিবিয়ার জনগনের কাছে জায়ান্ট বুলফ্রগ একটি রুচিকর এবং সুখাদ্য হিসেবেই পরিচিত। বিশেষত ওভ্যাম্বো মানুষেরা এটা তাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে মনে করে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশন করে। নামিবিয়ার সবচেয়ে বড় এই বুলফ্রগ লম্বায় প্রায় ১০ ইঞ্চি হয় এবং ইদুর থেকে শুরু করে অন্যান্য সরীসৃপও খায় এমনকি অন্যান্য ব্যাঙও খায়। এই ব্যাঙের সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো যখন কোন অপিরিনত ব্যাঙকে খাওয়া হয় যা এখনো বংশবৃদ্ধি করে নি। এই ধরনের ব্যাঙে অশিকেটাকাটা নামক এক ধরনের বিষ থাকে। এই বিষের কারনে সাময়িক কিডনি ফেইলিয়ার হয় কিংবা মৃত্যুও হতে পারে। এবং একটা ব্যাঙ খাওয়ার জন্য নিশ্চই কেউ এই রিস্ক নিতে চাইবে না!

ফুগু_বা_পাফার_ফিস_বা_পোটকা_মাছ

ফুগু বা পাফার ফিস বা পোটকা মাছ

১) ফুগু বা পাফার ফিস বা পোটকা মাছ: সবচেয়ে ভয়ংকর খাদ্যের এক নম্বরে আছে পাফার ফিস বা পোটকা মাছ যা জাপানে ফুগু নামে পরিচিত। ফুগু একটি অত্যন্ত দামী এবং উপাদেয় খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফুগু মাছ দেখতে অনেকটা বাংলাদেশি পোটকা মাছের মত। তবে জাপানী বিষাক্তকর এই ফুগু সাইজে বাংলাদেশি পোটকা মাছের চাইতে অনেক বড়। যখন মাছটি খাবার জন্য উপযুক্তভাবে তৈরি করা হয় তখন এতে ভয়ের কিছু থাকে না। তবে যখন মাছটি খাবারের জন্য ভালোভাবে তৈরি করা হয় না তখন এটিই আপনার শেষ খাবার হতে পারে। কেননা এই মাছে রয়েছে টেট্রোডোটক্সিন নামক এক প্রকার প্রাণঘাতী বিষ যা থাকে মাছের লিভারে।তবে জাপানের আইনে, সকল রেস্টুরেন্ট এই খাবার তৈরি করা হয় না। শুধুমাত্র অভিজ্ঞ শেফ দ্বারাই এই খাবার তৈরি করা হয়। যাদের কমপক্ষে তিন বছরের একটি ট্রেনিং করতে হয়। অনেক গন্যমান্য ফুগু শেফরা খাবারের মধ্যে খুব সামান্য পরিমান টেট্রোডোটক্সিন রেখে দেন খাবার খাওয়ার সময় কিছুটা শিহরন জাগে। সাধারনত বছরে প্রায় ১০০ জন মানুষের মৃত্যু হয় এই ভয়ঙ্কর ফুগু পাফার ফিস বা পোটকা মাছে খেয়ে।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *