টপ ৫: বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী (মানুষ ব্যতীত)

 

মাঝে মাঝেই আমরা কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোন প্রাণীর বুদ্ধিমত্তার কারনে অবাক হয়ে যাই। যদিও এরা মানুষের মত বুদ্ধিমান না তবুও এদের কিছু আশ্চর্যজনক বুদ্ধিমত্তা লক্ষ করা যায়। তো চলুন জেনে নেই প্রাণীজগতের এসব বুদ্ধিমান প্রাণীদের থেকে বাছাই করা সবচেয়ে বুদ্ধিমান পাঁচটি প্রাণী সম্পর্কে।

বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী (মানুষ ব্যতীত)

৫) কুকুর: লিস্টের ৫ম স্থানে রয়েছে কুকুর। এরা প্রাণীদের মধ্যে মানুষের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হিসেবেই পরিচিত। এরা খুবই সামাজিক এবং চতুর প্রাণী। আর এই চতুরতা এবং বন্ধুসুলভ হওয়ার কারনেই বিশ্বব্যাপী পোষা প্রাণী হিসেবে কুকুর এতো জনপ্রিয়। একটি বয়স্ক কুকুর দুই বছর বয়সী একটি মানুষের বাচ্চার প্রায় সমান বুদ্ধিমান। তাদের রয়েছে অনেক অ্যাডভান্সড দক্ষতা এবং তারা মানুষের হাতের ইশারা ও মুখের নির্দেশনা বুঝতে পারে আর সেই অনুযায়ী কাজ করতে পারে। এরা খুবই স্নেহাসক্ত এবং রক্ষনশীল। কুকুরের বুদ্ধিমত্তার কারনেই এদের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ব্যবহার করা হয় যেখানে এরা বোম্ব, পিস্তল, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইত্যাদি খুজতে ব্যবহার করা হয়।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: পৃথিবীর সবচেয়ে ঐতিহাসিক স্থান সমূহ

৪) হাতি: সবচেয়ে চালাক প্রাণীদের লিস্টে ৪ নম্বরে রয়েছে হাতি। অন্যান্য প্রাণীদের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় হাতিদর অনেক বড় ব্রেইন রয়েছে। তাছাড়া এর খুবই সামাজিক, স্নেহশীল এবং বুদ্ধিমান। এর মানুষের ইশারা বুঝতে পারে, গলার স্বর কিংবা বিভিন্ন মানচিত্রও মনে রাখতে পারে। হাতিরা আত্মসচেতন। এরা তাদের মৃতপ্রায় স্বজাতির যত্ন নেয় এবং মৃত হাতির জন্য শোক প্রকাশ করে। এমনে জঙ্গলে এরা নিজেদের খাবার নিজেরাই পরিষ্কার করে এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারে।

৩) আফ্রিকান গ্রে প্যারট: লিস্টের ৩য় স্থানে রয়েছে আফ্রিকান গ্রে প্যারট। এদের পাখি জগতের আইনস্টাইন বলা হয়। এরা অত্যন্ত চালাক একটি পাখি। গবেষনায় দেখা গেছে এরা বিমুর্ত এবং সিদ্ধান্তলব্ধ যুক্তি ক্ষমতার অধিকারী। এরা মানুষের কন্ঠ নকল করতে পারে এবং মানুষের নির্দশনা বুঝে বিভিন্ন কাজ করতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, এদের বুদ্ধিমত্তা ৪ থেকে ৬ বছর বয়সী মানুষ বাচ্চাদের বুদ্ধির সমমান। আর এদের বুদ্ধিমত্তা, মানুষের মত কথা বলা ইত্যাদি কারনেই সমগ্র পৃথিবীতে এরা জনপ্রিয় পোষা পাখি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে।

২) বটলনোজ ডলফিন: লিস্টের ২য় স্থানে রয়েছে বটলনোজ ডলফিন। এদের রয়েছে পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম জটিল মস্তিষ্ক। আর শরীরের ওজনের সাথে ব্রেইনের অনুপাতে সমগ্র প্রাণীকুলের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্রেইনের অধিকারী এরাই। তারা প্রশিক্ষকের নির্দেশনা মত বিভিন্ন কলাকুশলী করতে পারে। তারা আয়নায় নিজেদের চিনতে পারে। এরা পর্যবেক্ষণ করেও শিখে। আর এই ডলফিনেরা পরিবেশের গঠন বুঝতে পারে এবং সমস্যা সমধানে নতুন কিছু করতে পারে। তাছাড়া বটলনোজ ডলফিনেরা বাচ্চা এবং বয়স্কদের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে। আর সেই অনুযায়ী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে একটু বেশিই যত্নশীল হয়।

১) শিম্পাঞ্জি: সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রানীদের লিস্টের ১ নম্বরে রয়েছে শিম্পাঞ্জি। তাদের আশ্চর্যজনক বুদ্ধিমত্তা বহুকাল যাবতই মানুষকে মুগ্ধ করে আসছে। এরা বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারে, একসাথে শিকার করতে পারে এবং বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারে। শিম্পাঞ্জিরা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে মানুষ এবং অন্য শিম্পাঞ্জিদের সাথেও যোগাযোগ করতে পারে। এমনকি সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে অনেক বছর দেখেনি এমন অন্য কারো নামও মনে রাখতে পারে। আর শিম্পাঞ্জি সম্পর্কে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এরা কোন বস্তুর জন্য প্রতীক ব্যবহার করতে পারে এবং সেই প্রতীক গুলো ক্রমানুসারে সাজিয়ে একটি বাক্যও তৈরি করতে পারে। আর এমন বুদ্ধিমত্তার কারনেই হয়তো এরা মানুষের মত সামাজিক দল বা পরিবার গঠন কররতে পারে যেখানে তারা শক্তিশালী একটি বন্ধন গঠন করে এবং একে অপরের খেয়াল রাখে।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *