টপ ৫: নেটফ্লিক্সের সেরা ৫ টি শর্ট ফিল্ম

নেটফ্লিক্স, বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক। এতে সাধারণত মুভি, টিভি শো এবং ডকুমেন্টারিই বেশি দেখা হয়। তবে আপনি হয়তো জানেন না যে নেটফ্লিক্সে চাইলে আপনি শর্ট ফিল্মও দেখতে পারবেন! এদেরকে শর্ট ফিল্ম বলার কারন হল এরা দৈর্ঘ্যে মুভি, টিভি শো কিংবা ডকুমেন্টারির চাইতে ছোট হয়। তবে ছোট হলেও এদের মধ্যে কিছু কিছু শর্ট ফিল্ম খুবই অর্থবহ, অনুপ্রেরণীয়, মজার এবং অবিশ্বাস্য। তাই, আপনি যদি কম সময়ে চমৎকার কিছু দেখার মুডে থাকেন তবে নেটফ্লিক্সের এই সেরা ৫ টি শর্ট ফিল্ম আপনার জন্য।

নেটফ্লিক্সের সেরা ৫ টি শর্ট ফিল্ম

লং শট

লং শট (Long Shot)

লং শট (Long Shot); Credit: Colourful Rebel

জ্যাকব লামেন্ডোলার পরিচালনায় নির্মিত ‘লং শট (Long Shot)‘ শর্ট ফিল্মটি ২০১৭ সালে মুক্তি পায়। ৪০ মিনিটের এই শর্ট ফিল্মটি এমি অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পায়। এই শর্ট ফিল্মটি একই সাথে অনুপ্রেরণীয় এবং অবিশ্বাস্য যার কাহিনী হুয়ান কাতালান নামক এক ব্যক্তিকে ঘিরে। কাহিনিতে দেখা যায়, হুয়ানকে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর হত্যায় ভুলক্রমে অভিযুক্ত করা হয় এবং মৃত্যুদন্ড থেকে বাঁচতে তাকে তার নির্দোষিতা প্রমাণ করতে হবে। আর তার পরিপ্রেক্ষিতেই হুয়ান এবং তার আইনজীবী তার নির্দোষিতা প্রমাণ করতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত উৎসের সাহায্য নেয়। তারা যায় এলএ ডজারস নামক একটি বেসবল দলের কাছে। সেখানে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেখে কিছু একটা পাওয়ার উদ্দেশ্যে। হুয়ান কি পারবে তার নির্দোষিতা প্রমাণ করতে নাকি মৃত্যুদন্ডই হবে শেষ পরিণতি? জানতে হলে দেখুন নেটফ্লিক্সের লং শট

হেরোইন

হেরোইন - Heroin(e)

হেরোইন – Heroin(e); Credit: West Virginia Public Broadcasting

হেরোইন – Heroin(e) শর্ট ফিল্মটি এমন একটি গল্প যেখানে ফুটে উঠেছে বর্তমান আমেরিকান সমাজের বিশেষ একটি সমস্যা। এটি এমন একটি সমস্যা যা ভবিষ্যতে আমেরিকান সমাজের গায়ে কালি লাগিয়ে দিতে পারে। এই সমস্যাটি হল আমেরিকায় আফিম বা নেশা জাতীয় মহামারী। আমেরিকায় আফিম বা নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণের হার এতো দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে যে তা কিছু সম্প্রদায়ের জন্য জীবনকে কঠিন করেছে। বিশেষ করে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া এবং হান্টিংটন এ এই হার পুরো আমেরিকার হারের থেকেও ১০ গুন বেশি। আর শর্ট ফিল্ম এর এই টাইটেল দেওয়া হয়েছে তিন সাহসী নারীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে, যারা তাদের সবকিছু দিয়ে এই ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ৩৯ মিনিটের এই শর্ট ফিল্মটি মুক্তি পায় ২০১৭ সালে এবং ৯০তম একাডেমী অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পায়।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: সর্বকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল হলিউড মুভি

দ্য হোয়াইট হেলমেটস

দ্য হোয়াইট হেলমেটস (The White Helmets)

দ্য হোয়াইট হেলমেটস (The White Helmets); Credit: Youtube

বিশ্ব মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের জাদুতে বিশ্বজুড়ে প্রায় সবাই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সিরিয়া এবং নাগরিকদের ‘নরকের মত অস্তিত্বের সম্পর্কে জানে। আমরা যখন একদিকে মানুষকে ধ্বংস করার ব্যাপকতা দেখি তখন অন্যদিকে আমরা দেখতে পাই, কিভাবে সাধারণ নাগরিকেরা মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছেন। আর হোয়াইট হেলমেটস হল সেই সাহসী যোদ্ধারা, যারা সিরিয়ায় আলেপ্পোতে ভাঙাচোরা বাড়িগুলোর নীচ থেকে মানুষকে বাঁচাতে নিরলসভাবে কাজ করেছিল। আর এখান থেকেই এসেছে এর নাম – দ্য হোয়াইট হেলমেটস (The White Helmets)। এটি আসলে মানবতার উপর ধ্বংসের বিজয় এবং যুদ্ধের কেন্দ্রস্থলে আটকে থাকা মানব-হিতৈষীদের দাতব্য কাজের একটি বাস্তব জীবনের তথ্যচিত্র। ৪১ মিনিটের এই শর্ট ফিল্মটি মুক্তি পায় ২০১৬ সালে এবং ৮৯তম একাডেমী অ্যাওয়ার্ডে স্বল্পদৈর্ঘ্যের সেরা ডকুমেন্টারি হিসেবে পুরষ্কার জিতে নেয়।

প্যারিস ইজ বার্নিং

প্যারিস ইজ বার্নিং (Paris Is Burning)

প্যারিস ইজ বার্নিং (Paris Is Burning); Credit: MoMA

প্যারিস ইজ বার্নিং (Paris is Burning) সম্ভবত এই তালিকার অন্যতম প্রভাবশালী এবং বিখ্যাত একটি শর্ট ফিল্ম। এটি একেবারেই ভিন্ন ঘরনার একটি শর্ট ফিল্ম। এটি আপনাকে পুরো ঝাঁকিয়ে দেবে, আপনার সামনে চারপাশে যা ঘটছে তাকে ভিন্ন আঙ্গিকে দেখতে বাধ্য করবে এবং এই বাস্তবতা হয়তো আপনাকে ঘৃণা বা বিরক্তি উদ্রেকও করতে পারে। এটি নিউইয়র্ক সিটির ড্র্যাগ কুইনদের একটি ডকুমেন্টারি। ড্র্যাগ কুইন (Drag Queen) বলতে এমন সব পুরুষদেরকে বুঝায় যারা মেয়েদের মত পোশাক ও মেক-আপ করে থাকে এবং প্রায়ই বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড নিযুক্ত এবং বিনোদন দিয়ে থাকে – Wikipedia। এই একঘরে “ড্র্যাগ” সংস্কৃতিটি নাইটক্লাব এবং বারগুলির মধ্যে লক্ষণীয়ভাবে বিদ্যমান, যেখানে গে পুরুষ এবং ট্রান্সজেন্ডাররা তাদের যৌনতা এবং আত্ম পরিচয় নিজস্ব ভঙ্গিতে প্রকাশ করতে পারে। প্যারিস ইজ বার্নিং কেবল এই সম্প্রদায়ের আশেপাশের সঙ্গীত এবং বিনোদন শিল্পকেই প্রকাশ করে না, এটি এইডস, সমকামীতা, সহিংসতা, বর্ণবাদ এবং অবশ্যই দারিদ্র্যেরও জানান দেয়। ৭৮ মিনিটের এই শর্ট ফিল্মটি মুক্তি পায় ১৯৯০ সালে এবং বেশ কিছু পুরষ্কার জিতে নেয়।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: সবচেয়ে সেরা ৫টি অ্যানিমেশন মুভি

ওয়ার্ল্ড অব টুমোরো

ওয়ার্ল্ড অব টুমোরো (World of Tomorrow)

ওয়ার্ল্ড অব টুমোরো (World of Tomorrow); Credit: Youtube

ওয়ার্ল্ড অব টুমোরো (World of Tomorrow) শর্ট ফিল্মটি একটি এনিমেটেড সায়েন্স ফিকশন ঘরনার শর্ট ফিল্ম। এতে দেখা যায়, এমিলি নামে একটি ছোট্ট মেয়ে ভবিষ্যতে তার তৃতীয় প্রজন্মের ক্লোনের সাহায্যে একটি আধ্যাত্মিক ভবিষ্যতের যাত্রা শুরু করে। ছোট্ট মেয়েটিকে ভবিষ্যতের অনেক জটিল ধারণার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। যার মধ্যে ‘আউটারনেট‘ নামক একটি ধারনাও রয়েছে। শর্ট ফিল্মটি অত্যন্ত সুন্দর, উচ্চাভিলাষী এবং ভবিষ্যতে জীবনের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ। ১৭ মিনিটের এই শর্ট ফিল্মটি মুক্তি পায় ২০১৫ সালে এবং ৮৭তম একাডেমী অ্যাওয়ার্ডে সেরা এনিমেটেড শর্ট ফিল্মের জন্য মনোনয়ন পায়।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *