টপ ৫: বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৫ বন

অক্সিজেন উৎপাদন থেকে শুরু করে বন্য প্রাণীদের অভয়ারণ্য প্রদান করে বনজঙ্গল আমাদের পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য করে রেখেছে। তবে মানব সভ্যতার প্রসারের সাথে সাথে লক্ষ লক্ষ হেক্টর বন অদৃশ্য হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবুও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এখনো আছে ছোট বড় বিভিন্ন আয়তনের বন। চলুন আজকে এসব ছোট বড় অনেক বন থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৫ বন সম্পর্কে জেনে নেই।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৫ বন

সুন্দরবন

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৫ বনের ৫ম স্থানে আছে সুন্দরবন। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে প্রায় ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার (৩৯০০ বর্গ মাইল) জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে এবং বাকি অংশ রয়েছে ভারতের মধ্যে, যার পরিমাণ প্রায় ৪,২৬০ বর্গ কিলোমিটার (১,৬৪০ বর্গ মাইল)। সুন্দরবন সবচেয়ে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার এর জন্য। তবে বনটি বাঘ ছাড়াও নানান ধরনের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। আর সুন্দরবনের প্রধান বনজ বৈচিত্রের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সুন্দরী,গেওয়া, ঝামটি গরান এবং কেওড়া।

টঙ্গাস ন্যাশনাল ফরেস্ট

টঙ্গাস ন্যাশনাল ফরেস্ট
টঙ্গাস ন্যাশনাল ফরেস্ট

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৫ বন এর পরবর্তী স্থানে আছে টঙ্গাস ন্যাশনাল ফরেস্ট (Tongass National Forest)। আলাস্কার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই বন আমেরিকার সবচেয়ে বড় জাতীয় উদ্যান। এটি প্রায় ১৬.৭ মিলিয়ন একর বা ৬৮,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। টঙ্গাস খুব দুর্গম এলাকা বলে পরিচিত। আর তাই এটি বিভিন্ন প্রজাতির বিপন্ন এবং বিরল উদ্ভিদ এবং প্রাণীদের অভয়ারণ্য। এই বনের উল্লেখযোগ্য প্রাণীগুলো হল অর্কা, বাদামী এবং কালো ভাল্লুক, পালকহীন ঈগল, নেকড়ে, বিভার, হ্যাম্পব্যাক তিমি এবং সী লায়ন।

ভালদিভিয়ান টেম্পারেট রেইনফরেস্ট

ভালদিভিয়ান টেম্পারেট রেইনফরেস্ট
ভালদিভিয়ান টেম্পারেট রেইনফরেস্ট

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৫ বনের ৩য় স্থানে আছে ভালদিভিয়ান টেম্পারেট রেইনফরেস্ট (Valdivian Temperate Rainforest)। এই ভালদিভিয়ান টেম্পারেট রেইনফরেস্ট দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত, যা চিলি থেকে একেবারে আর্জেন্টিনা পর্যন্ত বিস্তৃত। আর চিলির ভালদিভিয়া শহরের নামেই এই বনের নামকরণ করা হয়েছে। এর আয়তন প্রায় ২৪৮,১০০ বর্গ কিলোমিটার (৯৫,৮০০ বর্গ মাইল)। বনটিতে প্রচুর পরিমাণে বাঁশ, ফার্ন এবং চিরসবুজ অ্যানজিওস্পার্ম বা আবৃতবীজী উদ্ভিদ দেখা যায়। এখানে দেখা যায় বিশ্বের সবচেয়ে ছোট হরিন সাউদার্ন পুডু (Southern Pudú) এবং উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে ছোট বিড়াল কডকড (Kodkod)। এছাড়া আরো আছে ক্যাঙ্গারু জাতীয় কিছু প্রাণী, বন্য শূকর এবং বিশ্বের সবচেয়ে ছোট পাখি হামিংবার্ড।

কঙ্গো রেইনফরেস্ট

কঙ্গো রেইনফরেস্ট
কঙ্গো রেইনফরেস্ট

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৫ বন এর ২য় স্থানে আছে কঙ্গো রেইনফরেস্ট (Congo rainforests)। আফ্রিকা মহাদেশের কেন্দ্রে অবস্থিত এই বন। এই বনের মধ্য দিয়েই প্রবাহিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ নদী – কঙ্গো নদী। এই কঙ্গো রেইনফরেস্ট অবস্থিত দক্ষিণ-পূর্ব ক্যামেরুন, গ্যাবন, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, বিষুবীয় গিনি এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র জুড়ে। এখানে যেসব প্রাণীদের দেখা যায় তাদের মধ্যে অন্যতম হল লোল্যান্ড গরিলা, ওকাপি, বন্য হাতি, শিম্পাঞ্জি, চিতা এবং জলহস্তী।

অ্যামাজন রেইনফরেস্ট

অ্যামাজন রেইনফরেস্ট
অ্যামাজন রেইনফরেস্ট

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বন অ্যামাজন রেইনফরেস্ট (Amazon Rainforest)। এই অ্যামাজন বন পৃথিবীর বৈশ্বিক জলবায়ুর জন্যও এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন। এই বনের বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহের কারনে একে পৃথিবীর ফুসফুস নামেও ডাকা হয়। দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের প্রায় ৫৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই অ্যামাজন বন। প্রায় ৯টি দেশ জুড়ে এর বিস্তৃতি। অ্যামাজন বনের প্রায় ৬০% পড়েছে ব্রাজিলে, প্রায় ১৩% পেরুতে এবং বাকি অংশ রয়েছে কলোম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা , ইকুয়েডর , বলিভিয়া , গায়ানা, সুরিনাম এবং ফরাসি গায়ানা জুড়ে। পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী অ্যামাজন নদীও এই বনের বুক চিরেই প্রবাহিত হয়।

বন মানেই নানা জীব-জন্তুর আবাস আর অবাধ বিচরন হলেও, আমাজনে প্রায় ৩০০’র বেশী উপজাতি বা নৃ গোষ্ঠী বাস করে। এরমধ্যে কিছু নৃগোষ্ঠী যাযাবর প্রকৃতির, বাহিরের পৃথিবীর সাথে এদের যোগাযোগ তেমন একটা নেই বললেই চলে।

উষ্ণ ভূগোলিক আবহাওয়ার কারনে, অ্যামাজন বন পৃথিবীর সবচেয়ে জীববৈচিত্র্যময় অঞ্চল। এই বিশাল অরণ্য প্রায় ২.৫ মিলিয়ন কীটপতঙ্গ, প্রায় ১৬ হাজার প্রজাতির গাছ, ৩৭০০ প্রজাতির বিভিন্ন মাছ, ২ হাজারের মত পাখি আর স্তন্যপায়ী নিজের মধ্যে ধারণ করে আছে। অ্যামাজনে পাওয়া যায় এমন প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম হল জাগুয়ার, অ্যানাকোন্ডা, ম্যাকাও, তাপির, পিগমি মারমোসেট, ইলেকট্রিক ঈল, পয়জন ডার্ট ফ্রগ, গোলাপি ডলফিন ইত্যাদি।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap