টপ ৫: সত্যজিৎ রায়ের সেরা ৫ টি বই

বাংলা সাহিত্যে রহস্য রোমাঞ্চের সাথে চমৎকার রসবোধের সন্ধান করতে হলে সত্যজিৎ রায়ের সাহিত্যে চোখ ভুলাতেই হবে। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রিয় দুটো চরিত্র ফেলুদা ও প্রোফেসর শঙ্কু তারই অনন্য সৃষ্টি! এছাড়াও তিনি তার গল্পের মধ্যে সৃষ্টি করে গেছেন অসংখ্য চরিত্র! যা বাংলা সাহিত্যকে ভিন্ন দৃষ্টিতে ভরপুর করেছে। এই পর্বে সত্যজিৎ রায়ের সেরা ৫ টি বই নিয়ে আলোচনা করা হলো:

সত্যজিৎ রায়ের সেরা ৫ টি বই

সত্যজিৎ রায় ১০১

সত্যজিৎ রায় ১০১

সত্যজিৎ রায় ১০১

সত্যজিৎ রায় তার ফেলুদা, শঙ্কু সিরিজের গল্প গুলো ছাড়া বাকি যে গল্প গুলো লিখেছে তারই এক সংকলন ‘সত্যজিৎ রায় ১০১’! এই সংকলনের গল্প গুলোও অন্য সব গল্পের মতো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গল্প গুলোর কোনোটি ভৌতিক, কোনোটি কমেডি, কোনোটি সায়েন্স ফিকশন, আবার কোনোটি রূপকথা! তাড়িনীখুড়ো ও মোল্লা নাসীরদ্দীন সিরিজের কিছু গল্প এই সংকলনে অন্তভূক্ত করা হয়েছে। এই সংকলনে মানিক বাবু নামে এক চরিত্রের সাথে পরিচয় হবে। এছাড়াও ‘মাস্টার অংশুমান’ ও ‘ফটিকচাঁদ’ উপন্যাস দুটোও এই সংকলনে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সাইন্স ফিকশনের মধ্যে ‘টেরোড্যাকটিলের ডিম’, ‘সেপ্টোপাসের খিদে’ ইত্যাদি এই সংকলনে রাখা হয়েছে। অন্যান্য গল্পের মধ্যে এই সংকলনে ‘লোডশেডিং’, ‘ক্লাস ফ্রেন্ড’, ‘ভুতো’ ইত্যাদি বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য করা যায়।

মোল্লা নাসিরুদ্দিন সিরিজ

মোল্লা নাসিরুদ্দিন সিরিজ

মোল্লা নাসিরুদ্দিন সিরিজ

সত্যজিৎ রায় মধপ্রাচ্যের হাস্যরসাত্বক চরিত্র মোল্লা নাসীরুদ্দীনের অনেকগুলি গল্প সংগ্রহ করে ‘মোল্লা নাসিরুদ্দিনের গল্প’ নামে একটি সংকলন প্রকাশ করেন। মোল্লা নাসিরুদ্দিন মধ্যপ্রাচ্য সিরিজ হলেও বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে ব্যপক জনপ্রিয়। হাস্যরসাত্মক চরিত্র হিসেবে পরিচিত মোল্লা নাসিরুদ্দিনকে দেখা যায় একজন বিজ্ঞ মানুষ ও দার্শনিক হিসেবে। আবার কোনো গল্পে দেখা যায় খুব বুদ্ধিমান একজন লোক হিসেবে, কখনো আবার বোকার মতো আচরন করতে। তার রস বোধ তাকে বিশ্বে পরিচিত করে তুলেছেন। তার কথা বার্তা যেমন হাসায় তেমনি ভাবায়! সত্যজিৎ রায়ের মোল্লা নাসিরুদ্দিনের গল্পের সিরিজ অন্য সব সিরিজের মতোই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: ফেলুদা সিরিজের মতো আরো ৫ টি সিরিজ

তারিণী খুড়ো সিরিজ

তারিণী খুড়ো সিরিজ

তারিণী খুড়ো সিরিজ

সত্যজিৎ রায়ের তারিণী খুড়ো সিরিজ শিশু কিশোরদের কাছে এক জনপ্রিয় চরিত্র! তারিণী খুড়ো ষাটোর্ধ ব্যাক্তি, যিনি বাচ্চাদের গল্প শুনান। যুবক বয়স থেকে তিনি নানা ধরনের চাকরি করতে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন ও অর্জন করেছেন বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা। সেই সব অভিজ্ঞতার আলোকেই তারিণী খুড়ো তার গল্প গুলো কে সাজিয়ে থাকেন। ভূতের গল্প থেকে হাসির গল্প কি নেই তার ঝুলিতে! তার অধিকাংশ গল্পে দেখা যায় উপস্থিত বুদ্ধি তাকে আসন্ন বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দিতে। কখনো আবার তার ভাগ্য তার সহায় হয়! জীবনে অনেক রোজগার করলেও তিনি কখনো টাকার পিছনে দৌড়ান নি। কাজের প্রতি বিতৃষ্ণা লাগলে ঘুরে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন স্থানে। আর নিজেকে থুঁজে পেয়েছেন ভিন্ন স্বাদে। তার গল্পের খুদে শ্রোতাদের সাথে তার রক্তের কোনো সম্পর্ক না থাকলেও সবাই তারিণীকে খুড়ো বলেই চিনে।

প্রোফেসর শঙ্কু সিরিজ

প্রোফেসর শঙ্কু সিরিজ

প্রোফেসর শঙ্কু সিরিজ

সত্যজিৎ রায় প্রোফেসর শঙ্কু নামে চরিত্রটি ১৯৬১ সালে সৃষ্টি করেন।যা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় একটি চরিত্র।তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, নির্লোভ, সৎ একজন মানুষ হিসেবে যিনি জীবনের কোনো পরীক্ষায় দ্বিতীয় হন নি এমনি এক চরিত্র প্রোফেসর শঙ্কু।মোট ৩৮ টি সম্পূর্ণ ও ২ টি অসম্পূর্ণ গল্প নিয়ে লেখা শঙ্কু সমগ্র এক অনবধ্য সিরিজ।গল্পে প্রোফেসরকে দেখা যায় এক বিজ্ঞানী রূপে।যিনি নতুন নতুন অভিযানে অদ্ভুত কিছু আবিষ্কার করেন।তিনি পদার্থ বিজ্ঞানী হলেও বিজ্ঞানের সকল শাখায় তার অবাধ গতি।তিনি ৬৯ টি ভাষা জানেন ও হায়ারোগ্লিফিক পড়তে পারেন।এছাড়াও বিশ্বের সকল দেশের ভৌগলিক অবস্থান, ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি ও বিশ্বসাহিত্য সম্পর্কে তার ধারনা আছে।ভারতের সনাতন ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল শঙ্কু একি সাথে শ্রদ্ধা করেন সমগ্র বিশ্বের প্রাচীন সাহিত্য ও শিল্প কে।সিরিজের গল্প গুলো প্রোফেসরের নিজ জবানিতে লেখা।গল্পের পটভূমি ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।তার অভিযান কলকাতার বিভিন্ন স্থান থেকে শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, মিশর, জার্মানি, জাপান, স্পেন, নরওয়ে, সুইডেন, তিব্বত।এছাড়াও প্রোফেসর অভিযান চালিয়েছেন সাহারা মরুভূমি, সমুদ্রের তলদেশ, কয়েকটি অজানা দ্বীপ এবং মঙ্গল গ্রহে!পুরো সিরিজ জুড়ে প্রোফেসরের মোট ৭২ টি আবিষ্কার সম্পর্কে জানা যায়।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সেরা ৫ বই

ফেলুদা সিরিজ

ফেলুদা সিরিজ

ফেলুদা সিরিজ

সত্যজিৎ রায়ের লেখা সবচেয়ে বিখ্যাত সিরিজ ফেলুদা। একে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা সিরিজ বলা চলে। ১৯৬৫ সালে এই সিরিজের প্রথম গল্প পত্রিকায় প্রকাশিত হলে পাঠক মহলে ব্যপক সাড়া ফেলে। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এই সিরিজের মোট ৩৫ টি সম্পূর্ণ ও চারটি অসম্পূর্ণ গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হয়। ফেলুদার রহস্য খুব জটিল। সিরিজের বিভিন্ন গল্পে ফেলুদাকে দেখা যায় কোনো ঘটনাকে অসম্ভব ভালো বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণের ক্ষমতার উপরেই যেকোনো রহস্যের সমাধান করতে। ফেলুদার রহস্য অনেক সময়ই কলকাতর বাইরেও বিস্তার লাভ করে থাকে। কখনো দেশের গন্ডি পেরিয়ে, আবার কখনো পাড়া গাঁয়ে ফেলুদাকে সিগারেট হতে ভাবতে দেখা যায়। সত্যজিৎ রায় তার ছোটবেলায় পড়া শার্লক হোমসের গোয়েন্দা গল্পের দ্বারা প্রভাবিত হয়েই ফেলুদা চরিত্রের সৃষ্টি করেন। তাই ফেলুদা সিরিজের বিভিন্ন চরিত্রের সাথে অনেক জায়গায় আমরা শার্লক হোম সিরিজের কয়েকটি চরিত্রের মিল দেখতে পাই।

লেখক: ইমন বর্মণ

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *