টপ ৫: বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিমান বা উড়োজাহাজ

আজকাল দ্রুত ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী মাধ্যম হল বিমান বা উড়োজাহাজ। কিন্তু সবগুলো বিমান কিন্তু এক রকম না। কিছু কিছু বিমান যেন উড়ন্ত হোটেল। সেগুলো বাইরে থেকে যেমন ফিটফাট তেমনি ভিতরেও জাঁকজমকপূর্ণ। আর টেকনোলজি? এসব বিমানে ব্যবহার করা হয় বিমান বা উড়োজাহাজের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি। আর এই ব্যয়বহুল বিমানগুলো যে খুবই নিরাপদ আর যুগোপযোগী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখানে বিমানগুলো কোন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে (বিলাসবহুল প্রাইভেট জেট বা শক্তিশালী সামরিক বিমান বা যাত্রীবাহী বিমান) তা ধরা হয়নি, শুধুমাত্র তাদের দাম দেখেই এই রাঙ্কিং করা হয়েছে। তো আর দেরি কেন? চলুন দেখে নেই বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিমান বা উড়োজাহাজ গুলো সম্পর্কে:

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিমান

(Most Expensive Planes in the World)

সি – ১৭এ গ্লোবমাস্টার ৩

সি - ১৭এ গ্লোবমাস্টার ৩ (C-17A Globemaster III)

সি – ১৭এ গ্লোবমাস্টার ৩ (C-17A Globemaster III)

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিমানের ৫ম স্থানে রয়েছে সি – ১৭এ গ্লোবমাস্টার ৩ (C-17A Globemaster III)। এই বোয়িং প্লেনটি মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য নির্মিত হয়েছিল এবং এটিই মার্কিন সামরিক পরিবহনের সবচেয়ে বড় বিমান। এটি আমেরিকার বিভিন্ন কৌশলগত মিশনে, সৈন্য এবং মাল পরিবহনে, চিকিৎসা নিরস্ত্রীকরণে ব্যবহার করা হয়। চারটি অতিকায় টার্বোফ্যান ক্রমাগত প্রপেল করে চলে এই গ্লোবমাস্টারকে। বোয়িং ৭৫৭ তে যে ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছিলো ঠিক সেই ধরনের  ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে এতে। প্রতিবারে ১০২ জন প্যারাট্রুপার ড্রপ করতে পারে এই সি – ১৭এ গ্লোবমাস্টার ৩। এর সাহায্যে ইরাক এবং আফগানিস্তানে জরুরী ত্রান এবং সাহায্য পাঠানো হয়েছে। এই সি – ১৭এ গ্লোবমাস্টার ৩ এর দাম প্রায় ৩২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এফ-২২ রেপটর

এফ-২২ রেপটর (F-22 Raptor)

এফ-২২ রেপটর (F-22 Raptor)

লিস্টের ৪র্থ স্থানে আছে এফ-২২ রেপটর (F-22 Raptor)। এটি বিশ্বের অন্যতম দামী যুদ্ধবিমান। এবং আমেরিকান এই স্টিলথ ফাইটার এফ-২২ রেপটর যে বর্তমান সময়ের সেরা ফাইটার এ বিষয়েও কোনো সন্দেহ নেই। স্টিলথ টেকনোলজি, অসাধারন ম্যানুভারিটি ও গতি, অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক সেন্সর ব্যবস্থা – সব মিলিয়ে এফ-২২ রেপটর সত্যিই অসাধারন। লকহীড মার্টিন দ্বারা মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য নির্মিত এই বিমানটিতে রয়েছে ২টি ইঞ্জিন, ১ টি আসন এবং সমস্ত আবহাওয়ায় স্টিলথ টেকনোলজির (গোপন থাকা) সক্ষমতা। এই এফ-২২ রেপটর বিমানটি দূরবর্তী মিশাইলকে ধ্বংস করতে পারে, সুপারসনিক গতিতে উড়তে পারে এবং প্রায় সব ধরনের রাডার সনাক্তকরণ এড়াতে পারে। এই এফ-২২ রেপটর এর দাম প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: মালয়েশিয়ার সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান

এয়ারবাস এ৩৪০-৩০০ কাস্টম

এয়ারবাস এ৩৪০-৩০০ কাস্টম (Airbus A340-300 Custom)

এয়ারবাস এ৩৪০-৩০০ কাস্টম (Airbus A340-300 Custom)

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিমানের পরবর্তী স্থানে আছে কাস্টমাইজড এয়ারবাস এ৩৪০-৩০০ (Airbus A340-300 Custom)। এই এয়ারবাসটি রাশিয়ার সর্ববৃহৎ বিমান। এটি ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এয়ারবাস দ্বারা নির্মিত একটি লং-রেঞ্জ, প্রশস্থ বডি এবং ৪ ইঞ্জিনবিশিষ্ট বাণিজ্যিক প্যাসেঞ্জার জেট বিমান। তবে শুধুমাত্র বিমানটির মূল্য ছিল ২৩৪ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু বিমানটিকে বিলাসবহুলভাবে রি-মডেলিং (ইন্টেরিয়র ডিজাইন এবং উন্নত প্রযুক্তি সংযোগ) করার পর এর মূল্যমান ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি ৩৭৫ জন যাত্রী বহন করতে পারে এবং ৯,০০০ মাইল বেগে উড়তে পারে।

এয়ারবাস এ৩৮০ কাস্টম

এয়ারবাস এ৩৮০ কাস্টম (Airbus A380 Custom)

এয়ারবাস এ৩৮০ কাস্টম (Airbus A380 Custom)

লিস্টের ২য় স্থানে আছে কাস্টমাইজড এয়ারবাস এ৩৮০ (Airbus A380 Custom)। এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাইভেট জেট (Private Jet)। এতে রয়েছে দুইটি গাড়ির গ্যারেজ, প্রিন্সের সাথীদের জন্য একটি রুম, একাধিক বেডরুম, একটি আস্তাবল, শাওয়ারসহ বাথরুম ইত্যাদি। এছাড়া ‘ওয়েলনেস এরিয়া’ নামে একটি স্থান রয়েছে যেখানে সুইমিং পুল, জিম সহ বিনোদন আর ভালো সময় কাটানোর কিছু সামগ্রী রয়েছে। ডাবল ডেকার এর এই এয়ারবাস এ৩৮০ বিমানটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি এবং সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক বিমান। এই কাস্টমাইজড এয়ারবাস এ৩৮০ এর দাম প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোম্বার

বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোম্বার (B-2 Spirit Stealth Bomber)

বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোম্বার (B-2 Spirit Stealth Bomber)

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিমান বা উড়োজাহাজ হলো বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোম্বার (B-2 Spirit Stealth Bomber)। এটি শুধুমাত্র স্টিলথ বোম্বার নামেও পরিচিত। এটি আসলে আমেরিকার একটি ভারী বোমারু বিমান যা তৈরি করেছে নর্থরোপ গ্রুমম্যান। বিমানটিকে রাডারে সহজে শনাক্ত করা যায় না। একে খুব বড় ধরনের আকাশ পথের যুদ্ধের উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে। আমেরিকান এই বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোম্বারটি প্রচলিত বোমার সাথে সাথে নিউক্লীয়ও বোমাও বহন ও বর্ষণ করতে পারে। বি-২ স্পিরিট-ই একমাত্র বিমান যা দূর আকাশে থেকেও নিজের অবস্থান গোপন করে মাটিতে নির্দিষ্ট লক্ষমাত্রায় বোমা ছুড়তে পারে। এটি ৮০ টি ৫০০ পাউন্ড (২৩০ কেজি) এর জেডিএএম জিপিএস নিয়ন্ত্রিত বোমা কিংবা ১৬ টি ২,৪০০ পাউন্ড (১,১০০ কেজি) এর বি৮৩ নিউক্লিয়ার বোমা অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থানেও ফেলতে পারে। বর্তমানে আমেরিকান বিমান বাহিনী মোট ২০টি বি-২ স্পিরিট পরিচালনা করছে। তবে এই বিমানগুলো স্নায়ু যুদ্ধকে সামনে রেখে নির্মাণ হলেও পরবর্তীকালে এগুলো ১৯৯৯ সালের কসোভো যুদ্ধে, ইরাক যুদ্ধ ও ২০০১-এর আফগানিস্তান যুদ্ধেও ব্যবহার করা হয়েছে। আমেরিকান এই বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোম্বার এর মূল্যমান প্রায় ২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *