টপ ৫: ইন্টেল সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য

সেমিকন্ডাক্টর এবং প্রযুক্তি দুনিয়ায় ইন্টেল এক চিরপরিচিত নাম। ইন্টেলের উদ্ভাবনীয় আবিষ্কার মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। তাদের হাত ধরে আজকের কম্পিউটিং প্রযুক্তি এত দূর পৌঁছে গেছে। ইন্টেলই “x86” প্রসেসর সিরিজের উদ্ভাবক, যা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত বেশিরভাগ ব্যক্তিগত কম্পিউটারেই দেখা যায়। চলুন আজকে এই ব্যক্তিগত কম্পিউটারের রেভ্যুলেশনারি পরিবর্তন আনা ইন্টেল সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য জেনে নেই:

ইন্টেল সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য

ইন্টেলের শুরু

অ্যান্ডি গ্রুভ, রবার্ট নয়েস এবং গর্ডন মুর (বাম পাশ থেকে)
অ্যান্ডি গ্রুভ, রবার্ট নয়েস এবং গর্ডন মুর (বাম পাশ থেকে)

পদার্থবিজ্ঞানী রবার্ট নয়েস এবং রসায়নবিদ গর্ডন মুর, ১৯৬৮ সালে মাউন্টেন ভিউ, ক্যালিফোর্নিয়ায় ইন্টেলের প্রতিষ্ঠা করেন। তারা পরিচিত হয়েছিল “ফেয়ারচাইল্ড সেমিকন্ডাক্টর” ল্যাব্রটরিতে (পূর্বে নাম ছিল শকলে সেমিকন্ডাক্টর), যেখানে তারা একসাথে কাজ করত। পরে তারা একটি সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি শুরু করার জন্য হাত মিলিয়েছিল।

ইন্টেলের নামকরণ

ইন্টেলের নামকরণ
ইন্টেলের নামকরণ

প্রথমদিকে ইন্টেলের নাম ছিল “মুর নয়েস (Moore Noyce)“। কে এই নাম দেওয়া হয়েছিল আশাকরি সহজেই বুঝতে পেরেছেন। তবে নামটিতে একটি সমস্যা হয়ে গেছে। কেননা নামটি শুনতে অনেকটা মনে হয় “মোর নয়েজ (More Noise), যার মানে হল “আরো হৈচৈ”। তাই ১৯৬৮ সালের ১৮ জুলাই তারা এর নাম পরিবর্তন করে রাখে “এনএম ইলেকট্রনিক্স (NM Electronics)“।

কিন্তু নাম পরিবর্তনের কিছুদিন পরেই, তারা একে “ইনটেল (Intel)” নাম দিয়ে প্রতিস্থাপন করেন। ইন্টেল হল “ইন্টিগ্রেটেড ইলেকট্রনিক্স (Integrated Electronics)” এর সংক্ষিপ্ত রূপ। তবে এই নামের এক্সক্লুসিভ ব্যবহারের জন্য ইন্টেলকো নামের তৎকালীন একটি চেইন হোটেলকে ১৫,০০০ ডলার দিতে হয়েছিল।

ইন্টেল ঘরিও বিক্রি করত

মাইক্রোমা ঘড়ি হাতে গর্ডন মুর
মাইক্রোমা ঘড়ি হাতে গর্ডন মুর

১৯৭২ সালে, মাইক্রোমা (Microma) অধিগ্রহণের মাধ্যমে ডিজিটাল ঘড়ির বাজারে প্রবেশ করে ইনটেল। সেই সময় মাইক্রোমা ছিল একটি বিখ্যাত ঘড়ি উৎপাদনকারী কোম্পানি। আর প্রাথমিকভাবে ইনটেল এই কোম্পানিটির কাছ থেকে কিছু লাভও দেখেছিল। কিন্তু ১৯৭৮ সালে যখন মাইক্রোমা ঘড়ির দাম ১০ ডলারে নেমে যায়, তখন তারা মাইক্রোমা বিক্রি করে দেয় এবং ইন্টেলের মূল পণ্যগুলিতে ফোকাস করে থাকে। তবে মজার ব্যাপার হল, ইন্টেলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা গর্ডন মুর এখনও তার মাইক্রোমা ঘড়ি পরেন।

ইন্টেলের ক্লিনরুম একটি জীবাণুমুক্ত অপারেশন থিয়েটারের চেয়েও ১,০০০ গুণ পরিষ্কার

ইন্টেলের ক্লিনরুম
ইন্টেলের ক্লিনরুম

“ক্লিনরুম” নামে একটি বিশেষ জায়গায় ইন্টেল তাদের সিলিকন চিপগুলি তৈরি করে। ক্লিনরুমে প্রবেশের জন্য প্রযুক্তিবিদদের একটি বিশেষ ধরণের ‘বানি স্যুট’ পরতে হয়। এই বানি স্যুট সম্ভাব্য দূষক পদার্থ যেমন মানুষের চুল, ক্লিনরুম থেকে দূরে রাখে। আর ক্লিনরুমের বাতাসে ০.৫ মাইক্রনের উপরে কোন কণা নেই, যেখানে একজন মানুষের চুলই প্রায় ৭৫ মাইক্রন। এছাড়া আয়তনের দিক দিয়ে এই ক্লিনরুম এতই বড় যে এর ভিতরে তিনটিরও বেশি ফুটবল মাঠ ফিট করা যাবে। ইন্টেলের মতে, ক্লিনরুমটি একটি জীবাণুমুক্ত অপারেশন থিয়েটারের চেয়েও ১,০০০ গুণ বেশি পরিষ্কার [সোর্স: ইন্টেল নিউজরুম]।

ইন্টেলের জাদুঘর

ইন্টেলের জাদুঘর
ইন্টেলের জাদুঘর

ইন্টেলের একটি জাদুঘর আছে যাতে ইন্টেল সম্পর্কে বিভিন্ন নিদর্শন এবং আকর্ষণীয় তথ্য সংগ্রহ রাখা রয়েছে। এই যাদুঘরটির কাজ ১৯৮০ দশকের গোড়ার দিকে শুরু হয়েছিল এবং এটি ১৯৯২ সালে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ৪০ বছর বয়সী এই জাদুঘরে গেলে আপনি ইন্টেলের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি যে কতটা পরিবর্তিত হয়েছে সে সম্পর্কে বিভিন্ন আকর্ষণীয় তথ্য জানতে ও দেখতে পারবেন। প্রতিবছর ৮,০০০ জনেরও বেশি দর্শনার্থী এই জাদুঘরটি পরিদর্শন করে।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 Shares
Share via
Copy link