ওয়াল্টন এর ইতিহাস: ইলেক্ট্রনিক্সে বাংলাদেশের গর্ব

ওয়াল্টন (WALTON) হচ্ছে একটি বাংলাদেশী ব্র্যান্ড; যার সদর দপ্তর ঢাকায় অবস্থিত। এর মূল কারখানাটি গাজীপুর জেলার চন্দ্রাতে অবস্থিত। ওয়াল্টন গ্রুপ এর প্রায় সকল পণ্য ওয়াল্টন নামে বাজারজাত করা হয়। ওয়াল্টন মটর্স, ওয়াল্টন মোবাইল ও ওয়াল্টন ইলেক্ট্রনিক্স হচ্ছে এই গ্রুপের অধীনস্থ তিনটি শাখা। ওয়াল্টন ইলেক্ট্রনিক পণ্য, যানবাহন ও টেলিযোগাযোগের পণ্য গুলো উৎপাদন করে থাকে।

ওয়াল্টন বাংলাদেশ এর ইতিহাস

(History of Walton Bangladesh)

ওয়াল্টন এর ইতিহাস
ওয়াল্টন এর ইতিহাস

ওয়াল্টন গ্রুপ ১৯৭৭ সালে এস. এম নুরুল আলম রিজভির হাত ধরে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্বরূপ যাত্রা শুরু করে। তবে এর মূল প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন এস এম নজরুল ইসলাম। যিনি বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম নুরুল ইসলাম রিজভির পিতা। ১৯৭০-এর দশকে ওয়াল্টন ইস্পাত শিল্পে প্রবেশ করেছিল এবং ২০০০ এর দশকে এসে ইলেক্ট্রনিক্স ও অটোমোবাইল ব্যবসায় প্রবেশ করে।

কোম্পানিটির রয়েছে তিনটি পলি ইউরেথ্রিন ফোমিং প্ল্যান্ট, তিনটি থার্মো ফোমিং ইউনিট, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন পাওডার কোটিংসহ মেটাল ফোমিং, নিকেল-ক্রোম প্ল্যান্ট এবং কস্টিং ডাই সেকশন, রোবট চালিত প্লাস্টিক মোল্ডিং প্লান্ত, উচ্চমানের পরীক্ষাগার, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং বিভাগ ইত্যাদি। নির্ভুলতা ও সৃষ্টিশীল ডিজাইনই ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রি লিঃ এর লক্ষ্য। ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রি লিঃ এর কর্মী সংখ্যা বর্তমানে ১০০০ এর কিছু বেশী। একদল প্রশিক্ষিত কর্মী দ্বারা ওয়ালটনের ফ্রিজ ও মোটরসাইকেল তৈরীর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়। ৪০-৫০ জন কর্মী নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ ও ৫০ জনের বেশী গুনাগুণ নিশ্চিতকারী কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন উন্নত মানের অনন্য সুবিধা সম্পন্ন মোটরসাইকেল ও ফ্রিজ তৈরী করতে।

এই কর্মীরা অত্যন্ত দক্ষ, যে কারণে মোটরসাইকেল ও ফ্রিজের সর্বাধিক গুনাগুণ ও গ্যারান্টি নিশ্চিত হয়। যখন দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা স্টেট অব দা আর্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে তখন এর মাধ্যমে তাদের ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও মোটরসাইকেলের সর্বাধিক মান নিশ্চিত হয়। ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রি লিঃ এর প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথেও সমানভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ওয়ালটন এখন বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা করছে এবং ডিজাইনের অগ্রদূত হিসেবে তার ফ্রিজ,রেফ্রিজারেটর ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে উৎপাদনের দুনিয়ায় অন্যদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিশ্বে ব্যাপক চাহিদার কারণে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রি লিঃ মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপে তাদের বাজার সম্প্রসারিত করছে।

ওয়াল্টন এর বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এবং ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য

ওয়াল্টন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড: এটি ওয়াল্টন গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। ২০০২সালে গাজীপুরের চন্দ্রায় এর ভবনের কাজ শুরু হয় এবং ২০০৬ সালে কাজ শেষ হয়। এখানে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, মটর সাইকেল, এ.সি তৈরি করা হয়।

ওয়াল্টন মাইক্রো-টেক কর্পোরেশন: কর্পোরেশন ওয়াল্টন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রির পাশেই অবস্থিত। এখানে টিভি (এলসিডি, সিআরটি), হোম এপ্লায়েএন্স (ব্লেন্ডার, রাইস কুকার, ইন্ডাকশন কুকার, এয়ার ফ্রায়ার, রিচার্জেবল ফ্যান, হেয়ার ড্রায়ার, ডিভিডি প্লেয়ার ইত্যাদি), এলইডি লাইট, ব্যাটারি, ইলেক্ট্রিক মটর ইত্যাদি।

ওয়াল্টন মোবাইল
ওয়াল্টন মোবাইল

ওয়াল্টন মোবাইল: ওয়াল্টন মোবাইল হচ্ছে অন্যতম সর্বোচ্চ বিক্রিত পণ্য। বাংলাদেশে বিক্রি হয়েছে ওয়াল্টনের এন্ড্রয়েড মোবাইল। বর্তমানে তরুণদের পছন্দ ওয়াল্টনের স্মার্টফোন।

ওয়াল্টন মোটর সাইকেল
ওয়াল্টন মোটর সাইকেল

ওয়াল্টন মোটর সাইকেল: ওয়াল্টন মোটর সাইকেল ওয়াল্টন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃক উৎপাদিত হয়। অন্যতম বিক্রিত মোটর সাইকেল বাংলাদেশের। এগুলো তৈরি করতে জাপানি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

ওয়াল্টন ল্যাপটপ
ওয়াল্টন ল্যাপটপ

ওয়াল্টন ল্যাপটপ: অল্প কিছুদিন ধরে ওয়াল্টন ল্যাপটপ তৈরি করছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের শীর্ষ মান নিশ্চিত করতে তারা ইন্টেল এবং মাইক্রোসফটের সাথে যৌথ উদ্যোগে কাজ করছে। ওয়াল্টন ল্যাপটপে ষষ্ঠ প্রজন্মের কোরআই-৩, ৫ ও ৭ প্রসেসর সরবরাহ করছে ইন্টেল। বাংলাদেশে লোকাল ব্র্যান্ড হিসেবে ওয়াল্টনকেই এ ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে তারা।

যদিও তার আগে থেকেই ওয়ালটন পূর্ব ইউরোপ ,আফ্রিকা, ওশেনিয়া অঞ্চলে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে কোম্পানিটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চমানের পণ্য যেমন বিভিন্ন ধরনের টিভি (সি.আর.টি,এল.সি.ডি, প্লাসমা), এইচডি ডি.ভি.ডি প্লেয়ার , বাসা ও কারখানার জন্য জেনারেটর, মোটরসাইকেল, ট্রাক্টর, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, স্টিম ওভেন, হাতঘড়ি, ব্যাটারি, ফ্রিজ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাতি, এয়ারকন্ডিশনার ও বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালির পণ্য তৈরী করছে। এছারাও উন্নতমানের ফ্রিজ মোটরসাইকেল উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয় লোকদের চাকরি দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়াচ্ছে।

ওয়ালটন একই সাথে পণ্য উৎপাদন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন উভয়ই করে যাচ্ছে। এছাড়াও কোম্পানিটি স্থানীয় নাগরিকদের সাশ্রয়ী, দীর্ঘস্থায়ী ও প্রকৃতিবান্ধব পণ্য সরবরাহ করছে। অটোমোবাইল ও ইলেক্ট্রনিক্স ব্যবসায় এটি সর্বাধিক আয় করে। ওয়াল্টন দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ২০১৫ সালের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় সাতবারের মত সর্বোচ্চ রাজস্ব দাতার পুরস্কার জিতে নেয় ওয়াল্টন।

এটি বিশ্বমানের পণ্য তৈরীর পথ সুগম করবে ফলে বাংলাদেশ সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তাদের এমনকি কর্মীদের কাছেও এটি তুলে ধরতে পারবে । কোম্পানিটির প্রকৃতির প্রতি ভালবাসা তাদের তৈরী ইঞ্জিনগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায় যেগুলো কোন পরিবেশ দূষণকারী উপাদান সৃষ্টি করে না। যদিও তারা শুরু থেকেই ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর, মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন তৈরীর জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। ওয়ালটন বাংলাদেশ, তার বর্তমান উচ্চতায় উপনীত হয়েছে স্টেট অব দা আর্ট সুবিধা, উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি, দক্ষ কর্মীবাহিনী, দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং প্রকৃতি মাতার প্রতির ভালবাসার কারনে। ওয়ালটন হল এমন একটি ব্রান্ড যা উপরের সবকিছু নিশ্চিত করে।



error: