টপ ৫: টিকটক সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য

বর্তমান সময়ে টিকটক (TikTok) সম্পর্কে কে না জানে? এটি একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। তবে এটি ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অনেকটাই ভিন্ন ধরনের। টিকটক এমন একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যেখানে বিভিন্ন গান, বিখ্যাত সিনেমার সংলাপসহ নানা রকম অডিওর সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়ে বা অভিনয় করে ছোট ভিডিও তৈরি করে সবার সাথে শেয়ার করা যায়। চলুন আজকে এই ট্রেন্ডিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটক সম্পর্কে এমন কিছু জানা অজানা তথ্য জেনে নেই।

টিকটক সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য

অল্প বয়স্কদের কাছে টিকটক বেশি জনপ্রিয়

টিকটকের ৪১% ব্যবহারকারীদের বয়স ১৬-২৪ বছরের মধ্যে
টিকটকের ৪১% ব্যবহারকারীদের বয়স ১৬-২৪ বছরের মধ্যে

সারা বিশ্বের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে টিকটক ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। আর তাইতো গ্লোবালওয়েবইনডেক্স এর মতে টিকটকের ৪১% ব্যবহারকারীদের বয়স ১৬-২৪ বছরের মধ্যে। হবেই বা না কেন? এই বয়সের ছেলেমেয়েরা চায় নিজেকে মেলে ধরতে, সবার ভালবাসা পেতে, সবার কাছে জনপ্রিয় হতে। আর এই সুযোগটিই অল্প বয়সী তরুণ-তরুণীদেরকে করে দিয়েছে টিকটক। কেননা টিকটকে অভিনয় করে, গান বা নাচ করে কিংবা কৌতুক করেই সৃজনশীল উপায়ে নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ পায় তারা।

তবে টিকটক বড়দের কাছে যে একেবারেই জনপ্রিয় নয় তা ঠিক নয়। কেননা টিকটকের ত্রিশোর্ধ ব্যবহারকারীদের সংখ্যাও প্রায় ৩৪%।

টিকটকের ডাউনলোড রেকর্ড

২০১৯ সালের ১ম কোয়ারটারে টিকটকই ছিল অ্যাপ স্টোরের সর্বাধিক ডাউনলোডকৃত অ্যাপ
২০১৯ সালের ১ম কোয়ারটারে টিকটকই ছিল অ্যাপ স্টোরের সর্বাধিক ডাউনলোডকৃত অ্যাপ

Sensor Tower এর মতে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে টিকটকের ডাউনলোড সংখ্যা ১.৫ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। আর ২০১৯ সালের প্রথম কোয়ারটারে ৩৩ মিলিয়ন ডাউনলোড নিয়ে এটিই ছিল অ্যাপল অ্যাপ স্টোরের সর্বাধিক ডাউনলোডকৃত অ্যাপ। যার ফলে অ্যাপটি সেরা ৫ এ থাকা ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারকে খুব ভালভাবেই পিছনে ফেলে।

নন-গেম অ্যাপগুলোর মধ্যে ২০১৮ সালে ডাউনলোডের দিক দিয়ে এটি ছিল ৪র্থ স্থানে। আর ২০১৯ সালে এটি ৩য় স্থানে থেকে বছর শেষ করে। ঐ বছর ৬১৪ মিলিয়নের বেশি ডাউনলোড হয় যা ২০১৮ সালের তুলনায় প্রায় ৬% বেশি। টিকটকের ১.৫ বিলিয়ন ডাউনলোডের মধ্যে ৪৬৬ মিলিয়ন ডাউনলোড হয় ভারত থেকে, ১৭৩ মিলিয়ন চীন থেকে এবং ১২৩ মিলিয়ন আমেরিকা থেকে।

টিকটকের সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী ভারতে

২০১৯ পর্যন্ত, টিকটক ১৫৫ টি দেশে এবং ৭৫ টি ভাষায় ব্যবহার করা যায়। টিকটক কীভাবে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিশাল ব্যবহারকারী সংগ্রহ করতে পেরেছে, তা সত্যিই আশ্চর্যের। তবে এই বিশাল সংখ্যক ব্যবহারকারীদের মধ্যে অধিকাংশই এশিয়া মহাদেশের, বিশেষ করে ভারতের। ভারতের মার্কেটে আসার পরেই টিকটকের ব্যবহারকারী হূহূ করে বাড়তে থাকে। বর্তমানে ভারতে টিকটকের ২০ কোটিরও বেশি অ্যাকাউন্ট রয়েছে যারা বলিউড বা হলিউডের বিভিন্ন নাচ, গান, সংলাপ এবং কৌতুককে অনুকরণ করে ছোট ভিডিও তৈরি করছে। আর এরফলে ভারত টিকটকের বৃহত্তম বৈশ্বিক বাজার হিসেবে তৈরি হয়েছে।

টিকটকের ব্যবহারকারীরা গড়ে প্রতিদিন ৫২ মিনিট ব্যয় করে

টিকটকের ব্যবহারকারীরা টিকটকে গড়ে প্রতিদিন ৫২ মিনিট সময় ব্যয় করে
টিকটকের ব্যবহারকারীরা টিকটকে গড়ে প্রতিদিন ৫২ মিনিট সময় ব্যয় করে

টিকটকের ব্যবহারকারীরা টিকটকে গড়ে প্রতিদিন ৫২ মিনিট সময় ব্যয় করে, যা একে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে বেশ ভাল অবস্থানেই রেখেছে। কারন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা প্রায় সমান সময়ই ব্যয় করে (৫৩ মিনিট), স্ন্যাপচ্যাটে কমে যা হয়েছে ৪৯.৫ মিনিট। তবে সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে আপাতত টিকটক কিছুটা পিছিয়ে আছে। কারন ফেসবুকের ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে গড়ে প্রতিদিন ৫৮ মিনিট সময় ব্যয় করে।

বাইটডান্স (Bytedance) এর মতে, মার্কিন ব্যবহারকারীরা দিনে অ্যাপটি গড়ে ৮ বার ওপেন করেন এবং প্রতিটি সেশন প্রায় ৪.৯ মিনিটের। আর এখানে টিকটক, ফেসবুক (৪.৭ মিনিট), ইনস্টাগ্রাম (৩.১ মিনিট) এবং স্ন্যাপচ্যাট (১.৬ মিনিট) কে পেছনে ফেলে দেয়।

টিকটক এবং মিউজিক্যাল.লি (Musical.ly) এর একীভূত হওয়া

টিকটক এবং মিউজিক্যাল.লি (Musical.ly) এর একীভূত হওয়া
টিকটক এবং মিউজিক্যাল.লি (Musical.ly) এর একীভূত হওয়া

২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর, টিকটকের মূল সংস্থা, বাইটড্যান্স ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে মিউজিক্যাল.লি (Musical.ly) কিনে নেয়। মিউজিক্যাল.লি (Musical.ly) ছিল চীনের সাংহাই এর একটি স্টার্টআপ যা আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অফিস থেকে নিয়ন্ত্রন করা হত। বাইটড্যান্স মিউজিক্যাল.লি (Musical.ly) এর সাথে একীভূত হয় আমেরিকা তথা পশ্চিমা বিশ্বের তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করে। অ্যাপে দুটি একীভূত হওয়ার পরে টিকটককে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। চীনের বাজারের পর তারা ভারতের বাজারও দখল করে।

টিকটক এখন আমেরিকাতেও রাজত্ব করতে চায়। তবে আমেরিকায় টিকটকের এ যাত্রা সহজ হবে না কেননা চীনের সাথে আমেরিকার অনেকদিন ধরেই মিলছে না। কারন একাধিক মার্কিন সেনেটরের সন্দেহ, টিকটক জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক, এবং তাঁরা চান, চীনা সরকারের সঙ্গে টিকটকের সম্পর্কের গভীরতা খতিয়ে দেখুক মার্কিন নিয়ন্ত্রক এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। এর আগে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের একটি হাইকোর্ট পর্ণোগ্রাফি ছড়ানো, এবং শিশুদের শিকারের মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে টিকটকের ওপর ৩ সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা বসায়। তবে এতো কিছুর পরেও তারা ভারতের বাজার ঠিকই দখল করেছে, তাই সব বাধা উপেক্ষা করে তারা যে আমেরিকার বাজারও দখল করবে, তা বলাই যায়।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

2 Responses

  1. Larryopire says:

    Our adept staff of bargain faculty writers, scientists and students manufacture.

  2. W Zaman says:

    সর্বকালের সেরা ১০ গণিতবিদ http://bit.ly/best10m

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

21 Shares
Share via
Copy link