টপ ৫: টিন্ডার সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য

চিঠি লিখে প্রেমের দিন শেষ হয়েছে বহু আগেই। ফোনে কথা বলে মন দেওয়া–নেওয়ার যুগও সেকেলে হয়ে যাচ্ছে। সব কিছুই এখন অনলাইনে। আর অনলাইনের এই যুগে তাই ডেটিং বা মন দেওয়া–নেওয়াও হয় অনলাইনেই। আর এক্ষেত্রে মন দেওয়া–নেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপ হল টিন্ডার (Tinder)। টিন্ডারে মনের মতো কাউকে দেখলে ডানে সোয়াইপ (রাইট সোয়াইপ) করলেই হলো, অপরজনও যদি ডানে সোয়াইপ করে তহলেই মিলে গেল জুড়ি। চলুন আজকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপ, টিন্ডার সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য জেনে নেই।

টিন্ডার সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য

টিন্ডার কি?

টিন্ডার কি?
টিন্ডার কি?

টিন্ডার একটি ফ্রী মোবাইল অ্যাপ, যা আপনাকে সঙ্গী খুজে পেতে সাহায্য করে। এটি বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপ। তাই আপনি যদি একটি ছোট্ট শহরেও বাস করেন তাও আপনার আশেপাশের অন্যান্য লোকেরাও এটি ব্যবহার করার সম্ভাবনা ভাল।

টিন্ডারের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১২ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর। শীন র‌্যাড, জোনাথন বদিন, জাস্টিন মাটিন, জো মুনোজ, দীনেশ মুরজানি এবং হুইটনি ওল্ফ এর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যাত্রা শুরুর পর থেকেই টিন্ডার ডেটিং জগতকে বদলে দিয়েছে।

টিন্ডার অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীর লোকেশন এবং আরো কিছু ফ্যাক্টর নিয়ে ব্যবহারকারীকে অন্য ব্যবহারকারী সাজেস্ট করে। আর যদি দুইজন ব্যবহারকারীই একে-অপরকে রাইট সোয়াইপ (Right Swipe) করে তাহলে তাকে বলা হয় ম্যাচ এবং সেইজন একে অপরের সাথে ম্যাসেজিং করতে পারবেন (লেফ্ট সোয়াইপ মানে পছন্দ না করা )।

টিন্ডার ব্যবহারকারীরা তাদের অ্যাকাউন্টগুলোতে তাদের মোবাইল নম্বর, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং স্পটিফাই অ্যাকাউন্টগুলোও লিঙ্ক করতে পারবেন। এতে অন্য ব্যবহারকারীরা তাদের সম্পর্কে আরো বেশি বিস্তারিত জানতে পারবেন।

টিন্ডার নামকরণ

টিন্ডার নামকরণ
টিন্ডার নামকরণ

টিন্ডার যখন ডেভেলপমেন্ট পর্যায়ে ছিল, তখন এর নাম ছিল ম্যাচবক্স (Matchbox) এবং ফেসবুকের মত এটি শুধুমাত্র ক্যাম্পাসেই গণ্ডিবদ্ধ ছিল। তবে পরবর্তীতে ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে সবার কাছে জনপ্রিয় হতে শুরু করলে এটি তাদের নাম ম্যাচবক্স থেকে টিন্ডারে পরিবর্তন করে।

টিন্ডারের ডাউনলোড এবং ব্যবহারকারী সংখ্যা

যাত্রা শুরুর পরে প্রথমেই টিন্ডার কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে টিন্ডারের আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড এবং ওয়েব ভার্শন থাকলেও টিন্ডার প্রথমে আসে আইওএস প্লাটফর্মে এবং পরে অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্মে। আর ২০১৭ সালে তারা ওয়েব ভার্শনও চালু করে।

শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্মেই এটি ১০০ মিলিয়নের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। আর আইওএসের অ্যাপল স্টোরেও ৭.৮ লাখের বেশি রেটিং রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৬০ মিলিয়নের বেশি টিন্ডার ব্যবহারকারী রয়েছে।

টিন্ডার কিভাবে আয় করে?

যাত্রা শুরুর সময় টিন্ডার অ্যাপ সম্পূর্ণ ফ্রীতেই ব্যবহার করা যেত। তবে ২০১৫ সাল থেকে টিন্ডার তাদের বিজনেস মডেলে পরিবর্তন আনে যা ফ্রীমিয়াম মডেল নামে পরিচিত। এতে টিন্ডারের বেশিরভাগ ফিচার ফ্রীতে ব্যবহার করা গেলেও কিছু ফিচার ব্যবহার করতে টাকা খরচ করতে হত। পরে ২০১৭ সালে, তারা তাদের বিজনেস মডেলে ব্যাপক পরিবর্তন আনে। টিন্ডার যেভাবে আয় করে (নতুন মডেল অনুযায়ী):

  • টিন্ডার প্লাস এবং টিন্ডার গোল্ড: এটি টিন্ডারের ইন-অ্যাপ মেম্বারশিপ। এর মাধ্যমে টিন্ডার ব্যবহারকারীরা সাবস্ক্রিপশনের বিনিময়ে কিছু এক্সট্রা সুবিধা লাভ করে থাকে। যেমন: আনলিমিটেড লাইক, বিশ্বের যে প্রান্তের যেকোনো সিঙ্গেলের সাথে চ্যাট করা, দুর্ঘটনামূলক সোয়াইপ রিওয়াইন্ড করা, বুস্ট, সুপার লাইক ইত্যাদি।
  • প্রিমিয়াম ফিচার: টিন্ডারে বুস্ট এবং সুপার লাইক বহুল ব্যবহৃত এবং খুবই জনপ্রিয়। আর কিছু টাকার বিনিময়ে এসব প্রিমিয়াম ফিচার ব্যভারের সুযোগ দিয়েও টিন্ডার আয় করে থাকে।
  • বিজ্ঞাপন এবং স্পনসর প্রোফাইল: বিভিন্ন কর্পোরেশন তাদের স্পনসর করা সামগ্রীটিকে প্রোফাইল হিসাবে দেখানোর জন্য টিন্ডারের সাথে অংশীদারিত্ব করেছে।

সংখ্যায় সংখ্যায় টিন্ডার

  • ১৯০ টিরও বেশি দেশে টিন্ডার ব্যবহার করা যায়।
  • টিন্ডারের ৭৫% এর বেশি ব্যবহারকারী পুরুষ।
  • যাদের ছবিতে উষ্ণ হাসি রয়েছে তাদের সঙ্গী পাওয়ার সম্ভাবনা ১৪% বেশি।
  • গড়ে একজন ব্যবহারকারী একদিনে ১১ বার টিন্ডারে লগইন করে এবং প্রতিটি সেশনে প্রায় ৩৫ মিনিট সময় ব্যয় করে।
  • টিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল এবং যুক্তরাজ্যে।
  • গড়ে ১৩.৬% টিন্ডার রিলেশনশীপ বিয়েতে গড়ায়।
  • ৩০% টিন্ডার ব্যবহারকারী বিবাহিত।
  • নন-গেমিং অ্যাপগুলোর মধ্যে এটি টপ গ্রোসিং মোবাইল অ্যাপ।
  • প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন ব্যবহারকারী টিন্ডারের পেইড ভার্শন ব্যবহার করে।
  • টিন্ডারে ৭৫+ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের সংখ্যা ৪%।
  • টিন্ডারে প্রতিদিন ১.৬ বিলিয়নের বেশি সোয়াইপ করা হয়।
  • বেশিরভাগ টিন্ডার ব্যবহারকারীরা গান পছন্দ করে।
  • টিন্ডারে বেশ কিছু টিন্ডারবট (রোবট ব্যবহারকারীরা) আছে।
  • টিন্ডার ব্যবহারকারীদের গর বয়স ২০-২৫ বছর।
  • টিন্ডারের বিকল্প ডেটিং অ্যাপসমূহ:
    • বাম্বল (Bumble)
    • ওকেকিউপিড (OkCupid)
    • ম্যাচ (Match)
    • বাদু (Badoo)
    • জুস্ক (Zoosk)
    • হিলী (Hily)
data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

2 Responses

  1. May 11, 2020

    […] আরো পড়ুন: টিন্ডার সম্পর্কে জানা অজানা … […]

  2. May 11, 2020

    […] আরো পড়ুন: টিন্ডার সম্পর্কে জানা অজানা … […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 Shares
Share via
Copy link