টপ ৫: বছরের সেরা স্মার্টফোন (২০১৮)

শেষ হয়ে গেলো আরেকটি বছর। প্রতি বছরের মত এবছরও স্মার্টফোনের বাজার ছিলো সরগরম। প্রায় প্রতি মাসেই বের হয়েছে কোন না কোন কোম্পানির ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন। নতুন এই ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনগুলো ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে করেছে আরো বেশি সমৃদ্ধ। আর মোবাইল কোম্পানি গুলোও প্রতিযোগিতায় লাগে স্মার্টফোনগুলোতে নিত্যনতুন আকর্ষনীয় ফিচার জুড়ে দিতে। আর তাই, আপনি যদি নতুন স্মার্টফোন কিনার কথা ভেবে থাকেন তবে অবশ্যই দেখে নিবেন আমাদের মতে ২০১৮ সালের সেরা ৫ টি স্মার্টফোনগুলো।

সবচেয়ে সেরা স্মার্টফোন – ২০১৮

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৯

(Samsung Galaxy Note 9)

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৯

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৯

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৯ স্যামসাং এর নোট সিরিজের সর্বশেষ সংস্করণ। এতে রয়েছে চমৎকার ৬.৪-ইঞ্চি সুপার অ্যামোলেড (Super AMOLED) ডিসপ্লে, ৪০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার এর দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, ফেস রিকগনিশন এবং এস পেন এর আপগ্রেডেড ভার্সন (ব্লুটুথ এলই)। এই এস পেনের সাহায্যে আপনি খুব ভালভাবে নোট নিতে পারবেন এবং দূর থেকেও মোবাইলের ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়েড ৮.১ অপারেটিং সিস্টেমের গ্যালাক্সি নোট ৯’র রয়েছে ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা, সঙ্গে সেন্সর। ফ্রন্ট ক্যামেরায়ও রয়েছে সেন্সর, অটোফোকাস লেন্স। আর কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ প্রসেসর দেবে দ্রুত কর্মদক্ষতার অভিজ্ঞতা এবং ডিভাইসটি যাতে দ্রুত ঠাণ্ডা হয় তাই এতে যোগ হয়েছে ‘ওয়াটার কুলিং’ ফিচার। স্টোরেজ এবং র‍্যাম এর দিক দিয়ে এই স্মার্টফোনটি পাওয়া যাবে দুইটি ভিন্ন সংস্করণে – ৫১২ গিগাবাইট স্টোরেজ + ৮ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ১২৮ গিগাবাইট স্টোরেজ + ৬ গিগাবাইট র‍্যাম। এতে আরো রয়েছে ওয়ারলেস চার্জিং, পানিরোধী ব্যাবস্থা এবং হেডফোন জ্যাক! (😋)। আর হ্যাঁ, ফোনের সাথে আপনি একটি ফাস্ট চার্জারও পাবেন। দেশের বাজারে স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৯ এর দাম ৯৩০০০+ টাকা।

আইফোন এক্সএস ম্যাক্স / আইফোন এক্সএস

(Apple iPhone XS Max / Apple iPhone XS)

আইফোন এক্সএস ম্যাক্স / আইফোন এক্সএস

আইফোন এক্সএস ম্যাক্স / আইফোন এক্সএস

গতবারের মত এবারো অ্যাপল তিনটি নতুন আইফোন বের করেছে – আইফোন এক্সআর, আইফোন এক্সএস এবং আইফোন এক্সএস ম্যাক্স। এদের মধ্যে আইফোন এক্সএস এবং আইফোন এক্সএস ম্যাক্স আমাদের লিস্টে রয়েছে। এই ডিভাইস দুটিতে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৮ ও ৬ দশমিক ৫ ইঞ্চি ৪৫৮ পিপিআই ওএলইডি এইচডিআর ডিসপ্লে রয়েছে। এতে থাকছে স্টেইনলেস স্টিল বডি। এক্সএস ও এক্সএস ম্যাক্সের সিঙ্গেল রিয়েল ক্যামেরায় থাকবে একটি ১২ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি সেন্সর। ফোনের সামনে থাকবে একটি ট্রু ডেপথ ফ্রন্ট ক্যামেরা। এর সঙ্গে থাকবে একাধিক ফেস আনলক সেন্সর। আর ডিসপ্লের ওপরে থাকবে কালো নচ। এ নচের নিচে থাকবে ফ্রন্ট ক্যামেরা ও একাধিক সেন্সর। আইফোনগুলো চলবে আইওএস ১২ অপারেটিং সিস্টেমে। আইফোন এক্সের তুলনায় এতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত চার্জ বেশি থাকবে (৩১৭৪ / ২৬৫৮ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার)। দুটি ডিভাইসই আইপি-৬৮ রেটিংয়ের। অর্থাৎ এটি ধুলা ও পানিরোধী। দেশের বাজারে আইফোন এক্সএস এর দাম ১,২৫,০০০+ টাকা এবং আইফোন এক্সএস ম্যাক্স এর দাম ১,৪০,০০০+ টাকা।

আরো পড়ুন:  অ্যান্ড্রয়েড বনাম আইওএস: কোনটি সেরা অপারেটিং সিস্টেম?

হুয়াওয়ে মেট ২০ প্রো

(Huawei Mate 20 Pro)

হুয়াওয়ে মেট ২০ প্রো

হুয়াওয়ে মেট ২০ প্রো

হুয়াওয়ে মেট ২০ প্রো নিয়ে অনেক আগে থেকেই খুব আলোচনা হয়েছে। আর হবেই না বা কেনো? এতে যে রয়েছে চাহিদা মত প্রায় সকল ফিচার। ফোনটিতে রয়েছে হাইসিলিকন কিরিন ৯৮০ প্রসেসর। এটি ব্যবহারকারীকে আগের ৫১ শতাংশ বেশি গতিতে কাজ করার সুবিধা দেবে। এটি ৭ ন্যানোমিটার চিপসেট এর প্রথম অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন। এর আগে শুধুমাত্র অ্যাপলের এ১২ বায়োনিক এই ৭ ন্যানোমিটারের চিপসেট ছিলো (ব্যাবহার করা হয়েছে আইফোন এক্সএস ম্যাক্স / আইফোন এক্সএস এ)। রয়েছে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ওএসের সর্বশেষ সংস্করণ অ্যান্ড্রয়েড ৯ পাই। অপারেটিং সিস্টেমটি এর আগে শুধুমাত্র পিক্সেল এবং এসেনশিয়াল ফোনে ব্যাবহার করা হয়েছে। মোবাইলটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেইসের সাহায্যে আনলক করা যাবে। আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সুবিধা রয়েছে ফোনটির ডিসপ্লেতেই। ফোনটির সামনে রয়েছে ২৪ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। আর পিছনে রয়েছে ৪০ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা, ২০ মেগাপিক্সেল (আল্ট্রা ওয়াইড) ও ৮ মেগাপিক্সেল (টেলিফটো) এর ক্যামেরা (মোট ৩ টি)। মেট ২০ প্রোতে রয়েছে ৬.৩৯ ইঞ্চি ওএলইডি ডিসপ্লে (১৯.৫:৯)। এতে থাকছে ৪২০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি; তাই ব্যাটারি নিয়ে চিন্তা নেই। স্টোরেজ এবং র‍্যাম এর দিক দিয়ে এই স্মার্টফোনটি পাওয়া যাবে দুইটি ভিন্ন সংস্করণে – ৫১২ গিগাবাইট স্টোরেজ + ৮ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ১২৮ গিগাবাইট স্টোরেজ + ৬ গিগাবাইট র‍্যাম।

গুগল পিক্সেল ৩ এক্সএল / গুগল পিক্সেল ৩

(Google Pixel 3 XL / Google Pixel 3)

গুগল পিক্সেল ৩ এক্সএল / গুগল পিক্সেল ৩

গুগল পিক্সেল ৩ এক্সএল / গুগল পিক্সেল ৩

২০১৬ সালে স্মার্টফোন জগতে অ্যাপল ও স্যামসাংকে টেক্কা দিতে গুগল তাদের ফ্ল্যাগশিপ পিক্সেল স্মার্টফোন বাজারে ছাড়ে। এর সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে তারা আনে পিক্সেল ২। আর এরই ধারাবাহিকতায় এবছর তারা বাজারে এনেছে গুগল পিক্সেল ৩ এক্সএল / গুগল পিক্সেল ৩ নামের দুটি ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন। পিক্সেল ৩ স্মার্টফোনে ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চি মাপের ওএলইডি ডিসপ্লে (১৮:৯) এবং ৩ এক্সএলে ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চি মাপের ওএলইডি ডিসপ্লে (১৮.৫:৯) রয়েছে। বাজারে প্রচলিত দুই বা তিন ক্যামেরার ট্রেন্ডের দিকে যায়নি গুগল। তার বদলে ডিভাইসটিতে রয়েছে ১ টি রিয়ার ক্যামেরা এবং ২টি ফ্রন্ট বা সেলফি ক্যামেরা। পিক্সেল ৩ তে ২৯১৫ ও পিক্সেল ৩ এক্সএলে ৩৪৩০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি রয়েছে। রয়েছে ফার্স্ট চার্জিং সুবিধা। গুগলের মতে, ফোনটিতে ১৫ মিনিট চার্জ দিলেই ৭ ঘণ্টা ব্যবহার করা যাবে। ফোন দুটি আইপি ৬৮ রেটিংয়ের। অর্থাৎ তা পানি ও ধুলারোধী। ফোনে টাইটান এম নামে গুগলের তৈরি সিকিউরিটি চিপ রয়েছে, যা গুগলের তৈরি সবচেয়ে সুরক্ষিত স্মার্টফোন বলে দাবি করা হয়েছে। দুটি ফোনই অ্যান্ড্রয়েড ৯.০ পাই–চালিত প্রথম স্মার্টফোন। এতে কোয়ালকমের তৈরি স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ চিপসেট রয়েছে। এ ছাড়া এতে ৪ জিবি র‍্যাম ও ৬৪ জিবি স্টোরেজ থাকছে। এর ১২৮ জিবি স্টোরেজের আলাদা সংস্করণও পাওয়া যাবে।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: ২০১৭ সালের সেরা ৫ টি স্মার্টফোন

এলজি ভি৪০ থিনকিউ

(LG V40 ThinQ)

এলজি ভি৪০ থিনকিউ

এলজি ভি৪০ থিনকিউ

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান এলজি ইলেকট্রনিকস কয়েক বছর ধরেই খুব ভালো মানের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন আনছে। আর এরই ধারাবাহিকতায় এবছরের অক্টোবরে তারা বাজারে আনে এলজি ভি৪০ থিনকিউ নামের নতুন একটি ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন। ডিভাইসটিতে রয়েছে মোট ৫ টি ক্যামেরা – তিনটি রিয়ার ক্যামেরা (১২ মেগাপিক্সেলের দু’টি ও ১৬ মেগাপিক্সেলের একটি) ও ২টি সেলফি ক্যামেরা (৮ ও ৫ মেগাপিক্সেল)। স্মার্টফোনটিতে ৬ দশমিক ৪ ইঞ্চি মাপের পি-ওএলইডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে এবং ডিসপ্লে রেশিও ১৯.৫:৯ (~৫৩৭ পিপিআই)। ৬ গিগাবাইট র‌্যামের এ স্মার্টফোনে ৬৪ গিগাবাইট এর ইন্টারন্যাল মেমোরি রয়েছে। এ ছাড়া মাইক্রোএসডির মাধ্যমেও স্টোরেজ বাড়ানো যাবে (৫১২ জিবি পর্যন্ত)। ডিভাইসটিতে প্রসেসর হিসেবে রয়েছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ এবং অ্যান্ড্রয়েড ৮.১ অপারেটিং সিস্টেম। ডিভাইসটিতে ৩৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি থাকবে। সবদিক মিলিয়ে এই এলজি ভি৪০ থিনকিউ ই হতে পারে আপনার জন্য পারফেক্ট স্মার্টফোন।

পোস্টটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন। আর পরবর্তী আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকুন।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *