বিড়াল পালন: বাড়িতে বিড়াল পোষার সকল তথ্য

বিড়াল, খুব আদুরে স্বভাবের এবং খুব সহজে পোষ মানে বলে বিশ্বজুড়ে সব দেশেই বিড়াল পোষা প্রাণী হিসেবে জনপ্রিয়। এছাড়া বিড়াল আকারে ছোট হওয়ায় থাকার জায়গা বা খাবার উভয়ই পরিমাণে কম লাগে। এমন হাজারও সুবিধা পাওয়া যাবে বিড়াল পালনের। তবে সবথেকে বড় কথা শখ। আমরা বেশিরভাগ সময় শখের বসেই বিড়াল পুষে থাকি। তবে শখের বিষয় হলেও বিড়ালের যত্ন নেওয়া উচিৎ, তাকে বাড়ির একজন সদস্য হিসেবে গণ্য করা উচিত। আপনিও যদি বিড়াল পালনের কথা চিন্তা করে থাকেন তবে অবশ্যই এই আর্টিকেলটি পুরোটা পড়বেন। কেননা এখানে আপনি পাবেন বাড়িতে বিড়াল পালন এর আদি থেকে অন্ত সকল তথ্য।

বাড়িতে বিড়াল পালন

Table Of Contents
  1. বাড়িতে বিড়াল পালন
  2. বিড়াল কিনার আগে আগে যে বিষয়গুলো ঠিক করবেন
  3. বিড়ালের জাত নির্বাচন
  4. পোষা বিড়ালের দাম
  5. বিড়ালের খাবার
  6. পোষা বিড়ালের যত্ন
  7. বিড়ালের অন্যান্য আনুসাঙ্গিক এবং প্রশিক্ষণ বৃত্তান্ত
  8. বিড়াল পালনের উপকারিতা

বিড়াল কিনার আগে আগে যে বিষয়গুলো ঠিক করবেন

বিড়াল কিনার আগে আগে যে বিষয়গুলো ঠিক করবেন
বিড়াল কিনার আগে আগে যে বিষয়গুলো ঠিক করবেন

বিড়াল পালন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনাকে বাড়িতে কিছু কিছু বিষয়ে নিশ্চিত করতে হবে। আর সাথে বিড়াল সম্পর্কে কিছু বিষয় জেনে নিতে হবে। চলুন দেখে নেই সেই বিষয় গুলো।

  • প্রথমেই, নিশ্চিত করুন যে আপনার বাড়ি একটি নতুন বিড়াল থাকার জন্য প্রস্তুত কি না। নিজের ফ্ল্যাট হোক বা ভাড়া করা ফ্ল্যাট, নিশ্চিত করুন আপনি বিড়াল পুষলে আশাপাশের কারও সমস্যা হবে কি না। বিশেষকরে নিশ্চিত হোন যে বিড়াল যেন অন্য কারও বাসায় না চলে যায়। তার হয়তো সমস্যা থাকতে পারে। যদি সমস্যা হয় তবে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করুন কিংবা আপনার সিদ্ধান্ত আরেকবার ভেবে দেখুন।
  • বিড়াল কিনে আনার কিছু দিন পর থেকে দেখবেন আস্তে আস্তে সে আপনার উপর পুরোপুরিভাবে নির্ভর হয়ে গেছে। আর ঘরের পোষা বিড়াল রাস্তায় প্রতিকুল পরিবেশে টিকতে পারবে না। তাই ভবিষ্যতে তার পুরো দায়িত্ব নিতে পারবেন কিনা তা ভেবে চিনতে বিড়াল কিনুন বা দত্তক নিন।
  • বিড়াল স্বভাবত স্বাধীন প্রকৃতির হলেও তাদের যত্নের প্রয়োজন হয়। তাই আপনি কিংবা আপনার বাড়ির সবাই সারাদিন ব্যস্ত থাকলেও দিনের কিছুটা সময় বিড়ালের সাথে ব্যয় করতে হবে। বিশেষকরে যারা স্বামী স্ত্রী দুইজনেই চাকুরীজীবী, তারা নিশ্চিত হয়ে নিন অফিসের কাজের শেষে পোষা বিড়ালকে সময় দিতে পারবেন কিনা। আর তাছাড়া দুইজনেই অনেকটা সময় বাইরে থাকলে বিড়াল একা হয়ে পড়বে। তাই বিড়াল পোষার আগে আপনি নিশ্চিত হয়ে নিবেন যে আপনি তাদের সময় দিতে পারবেন কিনা।
  • আপনার কিংবা বাড়ির অন্য কারও বিড়ালে এলার্জি আছে কিনা তা অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখবেন।
  • এছাড়া উপরের তলাগুলোতে বিড়াল পোষার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন, বিড়াল যেন জানালা বা বারান্দার পাশে থেকে পড়ে না যায়। এক্ষেত্রে জানালা ও বারান্দায় জাল লাগিয়ে দিতে হবে যাতে বিড়াল নিচে পড়ে দুর্ঘটনা না ঘটে।

বিড়াল পালনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই এই বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়ে নিবেন।

বিড়ালের জাত নির্বাচন

বাড়িতে বিড়ালের পোষার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন জাতের বিড়াল পুষবেন আপনি। দ্যা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাট এসোসিয়েশন (TICA) এর তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীতে ৭৩টি বিড়ালের জাত রয়েছে। বিড়ালের এতোগুলো জাত থাকলেও অল্প কয়েকটি জাত খুবই জনপ্রিয়। চলুন নিচের থেকে দেখে নিন বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ৫টি বিড়ালের জাত।

বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ৫টি বিড়ালের জাত

বেঙ্গল ক্যাট (Bengal Cat)

উৎপত্তিস্থল: আমেরিকা

বেঙ্গল ক্যাট (Bengal Cat)
বেঙ্গল ক্যাট (Bengal Cat)

চিতাবাঘের মতো কালো ও সোনালি ছোপ যুক্ত বেঙ্গল ক্যাট (Bengal Cat) কে ছোট খাটো চিতা বাঘ বললেও ভুল হবে না। দেখতে বন্য ভাবটিই তাদের জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় কারন। খুবই বিখ্যাত এই বিড়ালগুলো এশিয়া এবং উত্তর আমেরিকায় খুবই জনপ্রিয়। এটি হলো এশিয়ান লেপার্ড ক্যাট (Asian Leopard Cat) ও আমেরিকান ডোমেস্টিক ক্যাট (American Domestic Cat) এর ক্রস ব্রিড।

বেঙ্গল ক্যাট দেখতে কিছুটা বড় আকৃতির এবং চকচকে। এদের দেহ মাংসল এবং লেজ তুলনামূলক মোটা। সাধারণত লেজের শেষ অংশটি কালো হয়ে থাকে এবং অধিকাংশ সময় লেজটি নিচু করে রাখে। এদের মাথা একটু বড় আকৃতির, তবে কান ছোট আকৃতির। পায়ে রয়েছে জুলফির মতো প্যাড, যার ফলে এরা নিশ্বব্দে চলাচল করতে পারে। এর চোখ বেশির ভাগ সময় কালো এবং নিলচে সবুজ হয়ে থাকে। আর শরীরজুড়ে ছোপ ছোপ দাগের কারনে এদেরকে দেখা যায় বন্য প্রাণীর মত (অনেকটা চিতা বাঘের মত)। চঞ্চলপ্রকৃতির এই বিড়াল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় বিড়ালের জাত।

পার্সিয়ান বিড়াল (Persian Cat)

উৎপত্তিস্থল: পারস্য (বর্তমান ইরান)

পার্সিয়ান বিড়াল (Persian Cat)
পার্সিয়ান বিড়াল (Persian Cat)

পারস্যে উৎপত্তি অনুসারে এই বিড়ালের নামকরণ হয় পার্সিয়ান ক্যাট (Persian Cat)। পারস্য মানে বর্তমান ইরান। বিড়ালদের সেলিব্রেটি হিসেবে পরিচিত এই বিড়াল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিড়ালদের মধ্যে একটি। বিংশ শতকের গোড়ার দিকে এই পার্সিয়ান বিড়াল আমেরিকায় এসে পৌঁছয়। পৌঁছেই রীতিমতো জনপ্রিয় হয়ে পড়ে এটি। বর্তমানে আমেরিকায় সবচেয়ে জনপ্রিয় বিড়াল এই পার্সিয়ান ক্যাট। এখন আমেরিকায় যত পোষ্য বিড়াল রয়েছে, তার মধ্যে সিংহভাগই পার্সিয়ান বিড়াল। এদের লম্বা ফ্লাফি লোম এবং চমৎকার চোখের রং দেখে যে কেও এর প্রতি মুগ্ধ হতে বাধ্য।

পার্সিয়ান বিড়ালদের কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন গোল মাথা, সমান মুখ, খুবই বোচা নাক, ছোট থুতনি এবং আরো আছে গোলগাল মাংসল গাল। এদের চোখ দেখতে গোল, আছে কিছুটা গোলাকার ছোট কান। এদের পাও কিছুটা ছোট আকৃতির। এদের চোখের রং এদের শরীরের রংয়ের সাথে মিলিয়ে হয়ে থাকে, যেমন সাদা রংয়ের পার্সিয়ান বিড়ালের চোখ গাড় নীল অথবা ধূসর, ছাই রং অথবা সোনালি রংয়ের গুলোর চোখ হয় সবুজাভ। পার্সিয়ান বিড়ালেরা তার গায়ের লম্বা নরম লোমের জন্য বিখ্যাত। এদের এই লম্বা লোমের জন্য এদের পার্সিয়ান লং হেয়ার (Persian Long Hair) ও বলা হয়ে থাকে। দেখতে নাদুস নুদুস এই পার্সিয়ান বিড়ালগুলো খুবই শান্ত ও অলস স্বভাবের হয়ে থাকে।

স্কটিশ ফোল্ড (Scottish Fold)

উৎপত্তিস্থল: স্কটল্যান্ড

স্কটিশ ফোল্ড (Scottish Fold)
স্কটিশ ফোল্ড (Scottish Fold)

স্কটিশ ফোল্ড দেখতে যেমন মিষ্টি, তেমনি স্বভাবেও খুবই শান্ত। এদের ভাঁজ হয়ে থাকা কানের জন্য সহজেই অন্যান্য বিড়ালদের থেকে আলাদা করা যায়। আর কান ভাঁজ হয়ে থাকার কারনে এদের মুখ অনেকটা প্যাচার মুখের মতো মনে হয়। খুবই বন্ধু সুলভ বিড়ালের এ জাতটি যে কোন পরিবারে খুব সহজের মিশে যায়। এরা আরও পরিচিত এদের মিষ্টি গলার স্বরের জন্য। তবে স্কটিশ ফোল্ড বিড়াল মূলত এদের ভাজ (Fold) করা কানের জন্যই তাদের এই নাম লাভ করেছে।

ভাজকৃত কানের ছাড়াও স্কটিশ ফোল্ড বিড়ালদের আরো কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এদের রয়েছে বড় গোলাকার চোখ, বোচা নাক এবং গোলাকার শারিরিক গঠন। এদের পা মাঝারি থেকে ছোট আকৃতির হয়ে থাকে। লোমের আকারের দিক থেকে এদের দুটি প্রকরণ রয়েছে; একটির লোম ছোট আরেকটির লোম বড় হয়। বড় লোমের বিড়ালটিকে বলা হয় “হাইল্যান্ড ফোল্ড”। এরা দেখতে ভিন্ন রংয়ের হয়ে থাকে যেমন সাদা, ধূসর, বাদামি ইত্যাদি। চোখের রং কমলা ও কালো। এরা স্কট ফোল্ড (Scott Fold) নামেও পরিচিত।

ব্রিটিশ শর্টহেয়ার (British Shorthair)

উৎপত্তিস্থল: গ্রেট ব্রিটেন

ব্রিটিশ শর্টহেয়ার (British Shorthair)
ব্রিটিশ শর্টহেয়ার (British Shorthair)

ব্রিটিশ শর্ট হেয়ার (British Shorthair) বিড়ালের সবচেয়ে পুরাতন এবং জনপ্রিয় জাতগুলোর একটি। এ জাতের বিড়ালগুলোর শান্ত স্বভাব ও আচরণের জন্য পরিচিত। এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ডসহ অনেক জনপ্রিয় মুভি ও টিভি শোতে এদের ব্যবহার করা হয়েছে। এদের নাম এসেছে মূলত এদের ঘন ও ছোট আকারের লোম (Shorthair) এর জন্য।

ঘন ও ছোট লোম ছাড়াও আরও কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এদের গোলাকার মুখ এবং শরীরের আকার। এছাড়া রয়েছে মাংসল নরম গাল। এদের পা অন্যান্য জাতের বিড়াল থেকে মোটা হয়ে থাকে। এরা বিভিন্ন রংয়ের হয়ে থাকলেও নীলচে রংটি সবচেয়ে পরিচিত এবং জনপ্রিয়। এছাড়া ব্রিটিশ শর্টহেয়ার ক্রিমি, সাদা, তামাটে, স্মোকি এবং কালো রংয়েরও হয়ে থাকে। এদের চোখে সাধারণত তামাটে, কমলা, নীল ও সবুজাভ হয়ে থাকে। এছাড়াও এরা বেশ বুদ্ধিমান, তাই প্রশিক্ষণের উপযুক্ত বিড়াল।

সাইমিজ ক্যাট (Siamese Cat)

উৎপত্তিস্থল: থাইল্যান্ড

সাইমিজ ক্যাট (Siamese Cat)
সাইমিজ ক্যাট (Siamese Cat)

সাইমিজ ক্যাট (Siamese Cat) কে এশিয়ান বা অরিয়েন্টাল রিজিওনের বিড়ালের অন্যতম পুরাতন জাত বলা হয়। আদি ইতিহাস থেকে জানা যায় থাইলেন্ডের এ বিড়ালের জাতটিকে “The Royal Cats of Siam” বলা হয়ে থাকে। কারন ঐ সময়ে এই বিড়াল জাতটি শুধু রাজা এবং অভিজাত শ্রেণী ব্যতিত কারো পালন করার অনুমতি ছিল না। সাইমিজ বিড়ালকে পৃথিবীর অন্য সকল বিড়াল থেকে খুব সহজেই একে আলাদা করা যায়। থাইল্যান্ড এর আদি নাম Siam (শ্যাম, সাইম, সাইয়াম, সিয়াম) থেকে বিড়ালটি এর নাম লাভ করেছে।

এরা সামাজিক এবং বুদ্ধিমান বিড়াল। তবে এদের বাচাল বিড়ালও বলা হয়ে থাকে কারন এরা প্রায় সময়েই ‘মেও’ ‘মেও’ শব্দ করতেই থাকে। কিছুটা লম্বা জাতের এ বিড়ালের মাথা, শরীর, লেজ, পা, গলা সবই লম্বা হয়ে থাকে। এছাড়া এদের মাথা কিছুটা ত্রিভুজাকৃতির হয়। এদের পা লম্বা ও চিকন হয়ে থাকে। এদের লোম খাটো হয়। এদের শরীরের চেয়ে পা, কান, লেজের শেষ অংশ মুখের উপরের অংশ অনেকটা গাঢ় রংয়ের হয়ে থাকে যা দেখে খুব সহজেই অন্য বিড়াল থেলে এদের আলাদা করা যায়। এদের শরীরের রং চকোলেট, বাদামি, সাদা, তামাটে, ধূসর, লাল, নীলচে হতে পারে। আর এদের চোখের রং নীল। গাঢ় রঙের মুখের মধ্যে নীল রঙের চোখের কারনে সাইমিজ বিড়ালদের চোখ খুব সুন্দর দেখায়।

এছাড়া আরও উল্লেখযোগ্য কিছু বিড়ালের জাত হল স্ফিংস বিড়াল, মেইন কুন বিড়াল, র‍্যাডডল বিড়াল, ম্যাঙ্কস বিড়াল, জাপানিজ ববটেইল বিড়াল, মেকং ববটেইল বিড়াল, তাই ডং বিড়াল, সোমালি বিড়াল ইত্যাদি।

পোষা বিড়ালের দাম

পোষা বিড়ালের দাম
পোষা বিড়ালের দাম

পোষা বিড়ালের দাম বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। জাত, রঙ, আকার, স্বভাব ইত্যাদির উপরেই মুলত নির্ভর করে বিড়ালের দাম। দেশি বিড়াল সাধারণত ৫০০ থেকে ১৫০০ এর মধ্যেই পেয়ে যাবেন। বিদেশি বিড়ালদের মধ্যে জাত, রঙ, আকার, স্বভাব, বয়স ইত্যাদির উপরে নির্ভর করে বিড়ালের দাম ১২০০০ থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

দামের ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে আমদানি করা বিড়ালদের দাম দেশে উৎপাদন করা বিড়ালদের থেকে তুলনামূলক বেশি। এছাড়া স্ত্রী বা মেয়ে বিড়ালের থেকে পুরুষ বিড়ালের দাম তুলনামূলক কম হয়। আবার বয়সের উপর নির্ভর করেও বিড়ালের দামে পার্থক্য দেখা যায়। বাচ্চা বিড়ালের থেকে বড় বিড়ালের দাম বেশি। তবে বিড়াল পোষার অভিজ্ঞতা থাকলে কম দামে বাচ্চা বিড়াল নেওয়াই ভালো। এতে করে বিড়াল পোষ মানানো সহজ হবে।

পার্সিয়ান বিড়ালদের দাম ১৫০০০ থেকে শুরু করে ৫০০০০+ পর্যন্ত। সাধারণত রঙ, আকার, লিঙ্গ, স্বভাব এবং বয়সের উপরে নির্ভর করে এদের দাম পরিবর্তিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, খাঁটি সাদা পার্সিয়ান বিড়ালের দাম, মিশ্র রঙের পার্সিয়ান বিড়ালের দামের চেয়ে বেশি পড়বে।

বিড়ালের খাবার

বিড়ালের খাবার
বিড়ালের খাবার

যারা নতুন নতুন বিড়াল পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের প্রথমেই প্রশ্ন হবে, বিড়ালকে কি খাওয়াবো? বিড়াল কোন খাবার বেশি পছন্দ করে? দেশি বিড়াল হলে এক্ষেত্রে আপনার চিন্তা একেবারেই নেই। এসব বিড়াল সাধারণত সব ধরনের খাবারই খায়। তবুও বিড়ালের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করার জন্য, বিড়ালের প্রতিদিনের খাদ্যে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন ও মিনারেল থাকা জরুরী। এছাড়া পরিপূর্ণ খাবারের পাশাপাশি বিড়ালকে পানি পান করানোও খুবই জরুরী। তাই আসুন জেনে নেই বিড়ালকে কি খাওয়াবেন আর বিড়াল কি ধরনের খাবার বেশি পছন্দ করে।

বিড়ালকে কি খাওয়াবেন

বিড়াল যেহেতু মাংসাশী প্রাণী, তাই বিড়ালের খাবারে প্রাণীজ প্রোটিন অর্থাৎ মাংস থাকা জরুরী। প্রাণীজ প্রোটিনের উৎস হিসেবে রয়েছে গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগির মাংস, ডিম, বিভিন্ন ধরনের মাছ ইত্যাদি। তবে এসব প্রাণীজ প্রোটিন অবশ্যই সেদ্ধ হতে হবে কারন কাঁচা মাছ, মাংসে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে যা হয়তো বিড়ালের অনেক রোগের কারন হতে পারে। এক্ষেত্রে বিড়ালের জন্য খাবার রান্না করার সময় মাংস কিংবা মাছ শুধুমাত্র লবণ দিয়ে সেদ্ধ করতে হবে, বিড়ালের খাবার তৈরি করতে হবে সম্পূর্ণ মসলা ছাড়া।

আজকাল প্রক্রিয়াজাত করা মাছ ও মাংস প্যাকেটে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যায় যা বাজারে ওয়েট ফুড (Wet Food) এবং ক্যানড ফুড (Canned Food) হিসেবে পরিচিত। এসব খাবারের সাথে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন: ভাত ১০ ভাগের বেশি মেশানো উচিৎ নয়। এছাড়া ক্যাট ফুড হিসেবে বাজারে যেসব Dry Food বা শুকনো খাবার কিনতে পাওয়া যায় তাতে মূলত প্রচুর পরিমানে প্রাণী প্রোটিন ও অল্প পরিমানে উদ্ভিদ প্রোটিন থাকে। এসব শুকনো খাবার বিড়ালের জন্য ক্ষতিকারক নয় যদি খাবারটি উচ্চ মানের হয় এবং সাথে প্রচুর পরিমানে পানি খাওয়ানো যায়। এই খাবারে শতকরা ৩৫-৪০ ভাগ কার্বোহাইড্রেট মেশানো থাকে। সুতরাং এসব খাবারগুলোর মধ্যে যে খাবারই খাওয়ান না কেন, নিশ্চিত করুন বিড়াল খাচ্ছে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করছে।

সেদ্ধ কলিজা, সেদ্ধ মাছ, ডিম, সবজি সেদ্ধ (কুমড়া, লাউ, শসা, মটর, গাজর, শিমের বিচি, ব্রকলি, মিষ্টিআলু), সেদ্ধ ভুট্টা, সেদ্ধ গম, কলা, বিচি ছাড়া তরমুজ, ব্লু-বেরি, হার্ড চিজ, কটেজ চিজ, দই দিতে পারেন। গরম পানিতে ১০-২০ মিনিট ওট ভিজিয়ে রেখে ডিম বা কুসুম মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে খাওয়াতে পারেন। শীতের সময় তেলযুক্ত মাছ দেওয়া ভালো। বাড়িতে ঘাস রাখুন। প্রয়োজন হলে ওরা ঘাস খেয়ে নেয়, বিষাক্ত পদার্থ ঘাসের সঙ্গে বমি করে উগরিয়েও দেয়।

বিড়াল যেসব খাবার বেশি পছন্দ করে

বিড়াল সাধারনত এক ধরনের খাবার অর্থাৎ শুধু মাছ অথবা শুধু মাংস খাওয়ানো হয়। কিন্তু কিছু খাবার খেতে বিড়াল খুবই পছন্দ করে। এই খাবারগুলো মাঝে মাঝে বিড়ালকে খুশি করতে ট্রীট হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। চলুন এখন দেখে নেই বিড়াল যেসব খাবার বেশি পছন্দ করে।

টুনা মাছ বিড়ালের খুবই পছন্দ
টুনা মাছ বিড়ালের খুবই পছন্দ

টুনা মাছ (Tuna Fish): টুনা মাছ বিড়াল খুবই পছন্দ করে। তবে খেতে পছন্দ করলেও বেশি পরিমানে খেতে দেওয়া যাবে না। কারন টুনা মাছ বেশি খেলে এটি বিড়ালের পাকস্থলীতে পাচক রস, ফ্যাটি এসিড এবং ম্যাগনেসিয়াম উৎপন্ন হতে বাধা দেয় এবং শরীরের ক্ষতি হয়।

কলিজা (Liver): বিড়াল প্রাণীর কলিজা খেতে পছন্দ করে এবং এটি ভিটামিন এ এর ভালো উৎস। তবে অতিরিক্ত পরিমানে খেলে বিষক্রিয়া হতে পারে যা বিড়ালের হাড়ের এবং মেরুদণ্ডের ক্ষতি করতে পারে।

ডিম (Egg): সিদ্ধ অথবা রান্না করা ডিম বিড়াল খেতে খুবই পছন্দ করে যদিও বিড়াল কাঁচা ডিম খায় না। এটা প্রাণী প্রোটিনের চমৎকার উৎস।

দুধ (Milk) এবং চীজ (Cheese): দুধ এবং চীজ প্রোটিনের ভালো একটি উৎস। আর বিড়াল দুধ এবং চীজ খেতেও খুব পছন্দ করে। কিন্তু অনেক বিড়ালের ল্যাক্টোজ সহ্য করার ক্ষমতা থাকে না বলে ডায়রিয়া হতে পারে। তাই মাঝে মধ্যে ট্রীট হিসেবে অল্প চীজ এবং পানি মেশানো দুধ খেতে দেওয়া যেতে পারে।

তরমুজ (Melon) অথবা কলা (Banana): কিছু কিছু বিড়ালের পছন্দের তালিকায় তরমুজ অথবা কলাও আছে। এগুলো বিড়ালকে বিষাক্ত ঘাস ও লতাপাতা খাওয়া থেকে দূরে রাখবে। অল্প পরিমানে তরমুজ (দানা ফেলে দিয়ে) অথবা কলা মাঝেমধ্যে খুব কম পরিমানে দেওয়া যেতে পারে। যেহেতু বিড়াল নিরামিষভোজী নয় তাই বেশি পরিমানে তরমুজ অথবা কলা তারা হজম করতে পারবে না।

ব্রকলি (Broccoli) অথবা পালংশাক (Spinach): যদিও বিড়াল মাংসাশী প্রাণী, তবে হজমের সুবিধার জন্য তারা অনেক সময় ঘাস, লতাপাতা খেয়ে থাকে। তাই অল্প পরিমানে ব্রকলি সেদ্ধ করে বিড়ালকে খাওয়ানো যেতে পারে যা তাদের খাদ্য হজমে সাহায্য করবে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করবে এবং বিষাক্ত গাছ খাওয়া থেকে দূরে রাখবে। এছাড়া পালংশাকও খাওয়ানো যায় তবে বিড়ালের কিডনির সমস্যা থাকলে পালংশাক খাওয়াবেন না।

বিড়ালকে কখন খাবার দিবেন

সাধারণত বিড়ালকে প্রতিদিন একই সময়ে খাবার খাওয়ানো ভালো। এখত্রে একটি প্রাপ্তবয়স্ক (১ বছরের বড় হলে) বিড়ালকে দিনে দুই বেলা খাবার দেয়া উচিৎ। বেশিরভাগ সময় সকালে এবং রাতে বিড়ালকে খাবার দেওয়া হয় অর্থাৎ ১০-১২ ঘণ্টা অন্তর অন্তর। তবে যদি বিড়াল কম করে খায় তাহলে ৬-৮ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে ৩ বার খাবার দেওয়া যেতে পারে। Dry Food বা শুকনো খাবার পরিমানে বেশি হলে বিড়াল পরে খেতে পারে কিন্তু Wet Food এবং Canned Food হলে পরিমান অনুযায়ী দিতে হবে। আর অবশিষ্ট খাবার অবশ্যই সরিয়ে ফেলতে হবে কারন দীর্ঘক্ষণ রেখে দেওয়া খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং তা খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বি.দ্র: অতিরিক্ত ওজনের বিড়ালকে Dry Food না খাওয়ানোই ভাল কারন এতে ওজন আরও বেড়ে যেতে পারে। Dry Food এর সাথে পর্যাপ্ত পরিমানে পরিষ্কার পানি খাওয়ানো জরুরী।

বয়স অনুযায়ী বিড়ালের খাবারের তালিকা

বিড়ালের খাবার নির্বাচন কিংবা কখন বা কতবার খাবার দিবেন তা বিড়ালের বয়সের উপর নির্ভর করে। এছাড়া এতে করে খাবার অপচয় হবে না আবার বিড়ালও পরিপূর্ণ এবং সুষম খাবার পাবে।

বেবী ফীডারে করে বাচ্চা বিড়ালকে দুধ খাওয়ানো
বেবী ফীডারে করে বাচ্চা বিড়ালকে দুধ খাওয়ানো

১ম সপ্তাহ থেকে ৪র্থ সপ্তাহ: মায়ের দুধ এসময় বিড়ালের জন্য আদর্শ খাদ্য। এসময় বিড়াল শুধুমাত্র লিকুইড/তরল খাবার খেতে পারে। কোন শক্ত খাবার খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই। বাচ্চাটি যদি মা হীন হয় সেক্ষেত্রে বেবী ফীডার, ড্রপার বা সিরিঞ্জে করে গরুর তরল দুধ অথবা পাউডার দুধ পানিতে গুলিয়ে খাওয়াতে হবে। দুধ ঘন হলে বাচ্চার ডায়রিয়া হয়ে যেতে পারে। তাই সমান পরিমান পানির সাথে দুধ তরল মিশিয়ে (১ কাপ তরল দুধ : ১ কাপ পানি এই অনুপাতে) অথবা পাউডার দুধ হলে খুব পাতলা করে গুলিয়ে তারপর বিড়ালের বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে। গরুর দুধে ল্যাক্টোজ বেশি থাকার কারনে তা বিড়ালের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এর বাইরে বিভিন্ন পোষা প্রাণীর দোকানে বিড়ালের বাচ্চাদের জন্য স্পেশাল খাবার (Kitten formula) কিনতে পাওয়া যায় যা মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বিড়ালের বাচ্চার বয়স চার সপ্তাহ হওয়া পর্যন্ত এভাবে প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পরপর খাওয়াতে হয়।

৪র্থ সপ্তাহ থেকে ১২তম সপ্তাহ: এসময় বিড়ালের বাচ্চা দুধের পাশাপাশি অন্যান্য শক্ত খাবারও খেতে পারে। শক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে কাঁটা ছাড়া সিদ্ধ মাছ, থেঁতলানো সেদ্ধ মাংস (মশলা ছাড়া) ইত্যাদি। ভাতও খাওয়াতে পারবেন তবে তা অল্প পরিমানে মিশিয়ে দিতে হবে। খাবারটি ভালভাবে থেঁতলিয়ে একটু পানি মিশিয়ে নরম করে দিতে হবে। দিনে ৩-৫ বার বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে এবং ধীরে ধীরে দুধ খাওয়ানো কমিয়ে আনতে হবে। আর ৮-১০ সপ্তাহ বয়সের পরে দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই।

১২তম সপ্তাহ বা ৩ মাসের পর থেকে: এসময় বিড়ালকে উপরে উল্লেখিত সব ধরনের খাবারই খাওয়ানো যাবে। যেমন- বিভিন্ন ধরনের মাছ এবং মাংস, ডিম, ওয়েট ফুড, ক্যানড ফুড এবং অন্যান্য শুকনো খাবার। সাথে প্রচুর পরিমানে বিশুদ্ধ পানি খেতে দিতে হবে। যেহেতু বিড়াল মাংসাশী প্রাণী তাই ভাত দিলেও অল্প ভাতের সাথে বেশি মাংস মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। তবে খাবারটি অবশ্যই তেল, মশলা, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন ছাড়া শুধু পানিতে সেদ্ধ করে দিতে হবে। কাঁচা মাছ মাংস না খাওয়ানো ভালো কারন এতে ব্যাকটেরিয়া থাকে ফলে বিড়াল রোগে আক্রান্ত হয়। এসময় তাকে দিনে ২-৩ বার খাওয়াতে হবে।

গর্ভবতী এবং মা বিড়ালের খাবার
গর্ভবতী এবং মা বিড়ালের খাবার

গর্ভবতী এবং মা বিড়ালের খাবার: বিড়ালের গর্ভাকাল এর সময় আনুমানিক ৯ সপ্তাহ। এসময় একটি গর্ভবতী বিড়ালের খাবারের চাহিদা অনেক গুন বেশি বেড়ে যেতে পারে। এসময় বেশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে এবং আলাদা ভাবে যত্ন নিতে হবে। তাই অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি বিড়ালের জন্য স্পেশাল খাবার (Kitten food) খেতে দেওয়া যায় কারন এতে আলাদা পুষ্টি থাকে। আবার বাচ্চা হওয়ার পর বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর সময়ও মা বিড়ালের আলাদা পুষ্টির প্রয়োজন হয়। বাচ্চা হওয়ার ৮-৯ সপ্তাহ পর মা বিড়ালের দুধ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তখন সে আস্তে আস্তে আগের খাবারের পরিমানে ফিরে আসে। তবে এসময় বিড়ালের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে গেলে বা অতিরিক্ত ওজন কমে গেলে পশু চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

বিড়ালকে কোন খাবার খাওয়ানো ঠিক হবে না

এতক্ষণ তো দেখলাম বিড়াল বিড়ালকে কি খাওয়াবেন? বিড়াল কি ধরনের খাবার বেশি পছন্দ করে? বিড়ালকে কখন খাবার দিবেন? বয়স অনুযায়ী বিড়ালের খাবার কেমন হবে ইত্যাদি। চলুন এখন দেখে নেই বিড়ালকে কোন কোন খাবার খাওয়ানো ঠিক হবে না।

আদা, রসুন ও পেঁয়াজযুক্ত খাবার বিড়ালকে খাওয়াবেন না
আদা, রসুন ও পেঁয়াজযুক্ত খাবার বিড়ালকে খাওয়াবেন না

মানুষের কিছু খাবার হতে পারে বিড়ালের জন্য বিষাক্ত। অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইট ‘ক্যাট ওয়ার্ল্ড’য়েল দেওয়া তথ্য অনুসারে, বিড়ালের জন্য নিষিদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে চকোলেট, কাঁচাডিম, আঙুর ফল, আদা-রসুন-পেঁয়াজ, এমনকি দুধ (অনেক বিড়ালের ল্যাক্টোজ সহ্য করার ক্ষমতা না থাকার ফলে ডায়রিয়া হতে পারে)। বিড়ালকে দুধ খাওয়ানোর প্রচলন অনেক পুরানো হলেও, গবেষণায় দেখা গেছে দুধের কিছু উপাদানের কারণে বিড়ালের ডায়রিয়া হতে পারে। [সোর্স]

এছাড়া বিড়ালকে অন্যান্য কাঁচা মাছ-মাংস বা প্রাণিজ খাবার, আঙুর, চা, কফি, চিনি, অ্যালকোহল দেবেন না। যদি চিংড়ি বা রেড মিটে অ্যালার্জি থাকে, সেক্ষেত্রে এসব খাবারও দেওয়া ঠিক হবে না। [সোর্স]

পোষা বিড়ালের যত্ন

পোষা বিড়ালের যত্ন
পোষা বিড়ালের যত্ন

শখের বিষয়ে বিড়াল পুষলেও নিশ্চিত করতে হবে বিড়াল সঠিক এবং নিয়মিত যত্ন পাচ্ছে। তাকে বাড়ির একজন সদস্য হিসেবে গণ্য করতে হবে। বাড়িতে পোষা বিড়ালের সঠিক যত্ন কিভাবে নিবেন দেখে নিন।

  • বিড়ালকে সময় দিতে হবে। ওর সঙ্গে খেলতে হবে। এক্ষেত্রে খেলনা কিনে দেওয়া যেতে পারে।
  • আঁচড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা দিতে পারেন। লুকানোর সুযোগ দিতে হবে, সম্ভব হলে দিন বেয়ে ওঠার মতো কিছুও।
  • প্রতিদিন ছাদে কিংবা বাইরে নিয়ে গেলে পোষা বিড়ালটির মন ভালো থাকবে, আর সাথে ব্যায়ামও হবে। এতে স্থূলতার আশঙ্কাও কমবে।
  • আবার বিড়াল ঘরে রেখে আপনি যদি বাইরে কাজে থাকেন এবং বাড়িতে অন্য কেউ না থাকে, তবে পর্যাপ্ত পানি ও খাবারের ব্যবস্থা রাখুন।
  • বাড়িতে তৈরি খাবার সাধারণত চার–পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় বাইরে রাখলে নষ্ট হয়ে যায়। তাই বিড়ালকে শুকনা খাবারের অভ্যাস করানো আবশ্যক।
  • বাসা ক্যাটপ্রুফ বা বিড়ালের উপযোগী করুন, বিশেষত বহুতল ভবন হলে। অর্থাৎ বিড়াল যেন বাইরে পড়ে না যায়, তার জন্য জাল দিয়ে দিন।
  • তেলাপোকা, মাছি, ছারপোকা, সাপ বা ইঁদুরের বিষ ব্যবহারে খুবই সাবধানে থাকবেন। পারতপক্ষে ব্যবহার না করাই ভালো। এখত্রে প্রাকৃতিক উপায়ে তেলাপোকা, মাছি, ছারপোকা, সাপ এবং ইঁদুর দমনের উপায়গুলো দেখতে পারেন।
  • বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। এক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের আশপাশে যেন পানি না থাকে, তার ছেঁড়া না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
  • আগুন থেকে সাবধান। চুলা অযথা জ্বালিয়ে রাখবেন না। বিশেষত যারা বিড়াল বাসায় রেখে বাইরে যান, তাঁদের এ বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি।
  • গাছের টবে ব্যাঙের ছাতা (মাশরুম) গজালে তা তুলে ফেলুন। এছাড়া বাড়িতে ফার্নগাছ রাখতে চাইলে অ্যাসপারাগাস বাদে অন্যান্য (যেমন বল, বোস্টম, ডালাস প্রভৃতি) ফার্ন রাখতে পারেন।
  • নিয়মিত পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। আর যেকোনো ধরনের ওষুধ দেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিড়ালের বয়স দুই সপ্তাহ হওয়ার পর থেকে নিয়মিত কৃমির ওষুধ দিতে হবে।
বিড়ালকে অবশ্যই ভ্যাকসিন দিতে হবে
বিড়ালকে অবশ্যই ভ্যাকসিন দিতে হবে
  • এমনিতে বছরে একবার বিড়ালকে ভ্যাকসিন দিতে হয়। তবে এক্ষেত্রেও বিড়ালের বয়স, গর্ভবতী কিনা এবং আশপাশের পরিবেশের উপর নির্ভর করে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। মরণঘাতী বেশ কয়েকটি রোগ থেকে বিড়ালকে বাঁচাতে ভ্যাকসিন দেওয়া জরুরি। এছাড়া ভ্যাকসিন না দেওয়া হলে বিড়ালের কিছু রোগ মানুষের মাঝেও ছড়াতে পারে। যেমন জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া থাকলে বিড়ালটি অন্য প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের শিকার হলেও নিরাপদ থাকবে। আবার টিকা দেওয়া থাকায় বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ে মানুষের জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকবে না।
  • পরিণত বয়সে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাচ্চা দেয় বিড়াল। তাই আপনি যদি চান বিড়াল যেন আর বাচ্চা না নেয় তাহলে বিড়ালের বন্ধ্যাকরণ জরুরি। যেকোনো পশু চিকিৎসকের চেম্বারে এই অস্ত্রোপচার করানো হয়। শুধু মেয়ে বিড়ালই নয়, আপনি চাইলে ছেলে বিড়ালকেও খোজা বা নিউটার করতে পারেন। ছোট্ট এই অস্ত্রোপচারের ফলে বিড়াল রোগমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি এর আয়ুও বেড়ে যাবে। বন্ধ্যা কিংবা খোজাকরণ করতে চাইলে তা বিড়ালের বয়স চার থেকে ছয় মাস হলেই করে ফেলা উচিত। এতে অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত সেরে উঠবে বিড়াল।
  • প্রতিদিন ভীতিকর পরিস্থিতি বা চাপের সম্মুখীন হওয়ার বিষয়টি বিড়ালের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। নিরাপদ ও কোলাহলমুক্ত একটু উঁচু জায়গায় বিড়ালের থাকার জায়গা করা হলে তা তাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো হয়।
  • বিড়ালের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি পরিষ্কার লিটার বক্স (বর্জ্য-বাক্স) অত্যন্ত জরুরী। তবে যদি বাক্সটি নিয়মিত পরিষ্কার করা না হয় তাহলে বিড়ালটি মলত্যাগের জন্য অন্য জায়গা খুজবে। আবার নিয়মিত পরিষ্কার না রাখলে এর থেকে বাড়িঘরেও দুর্গন্ধ ছড়ায়। লিটার বক্স রাখার সঠিক জায়গা নির্ধারণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অত্যন্ত নীরব ও নিরাপদ স্থানে প্রাকৃতিক কাজ সারতে পছন্দ করে বিড়াল।

মা বিড়াল এবং বাচ্চাদের যত্ন

মা বিড়াল এবং বাচ্চাদের যত্ন
মা বিড়াল এবং বাচ্চাদের যত্ন

একটি বিড়াল যখন ছোট ছোট সুন্দর বাচ্চা দেয়, তখন তারা চায় একটু নিরাপদস্থান, নিয়মিত খাবার এবং একটু ভালোবাসা। সৌভাগ্যবশত, মা বিড়ালের খুব একটা মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। তবে আপনার উচিৎ অবশ্যই তার পাশে থেকে তাকে একটু যত্ন করা।

এক্ষেত্রে মানুষের কোলাহল থেকে দূরে, ঘরের একপাশে একটি নিরাপদ জায়গায় মা ও বাচ্চাদের জন্য বিছানা করে দিতে হবে। একটি বাক্সে, ঝুড়িতে অথবা বড় আকারের খাঁচার ভিতর কিছু নরম কাপড় বিছিয়ে দিতে হবে। এসময় তারা মানুষের উপস্থিতি পছন্দ করে না এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। স্থান পছন্দ না হলে মা বিড়াল বাচ্চাদের মুখে করে নিয়ে অন্য স্থানে চলে যায়। শীতকাল হলে ঘরের ভিতরে উষ্ণ কোনস্থানে রাখতে হবে।এ সময় বাড়িতে অন্য বিড়াল থাকলে তাদেরকে আলাদা রুমে রাখা উচিৎ।

এসময় মা বিড়ালটি খুব সহজেই যাতায়াত করতে পারে এবং তার কাছাকাছি হয় এমন কোন স্থানে খাবার, পানি ও লিটারবক্স রাখতে হবে। এসময় ২-৩ দিনের মধ্যে তার খাবারের পরিমান কয়েকগুন বেড়ে যেতে পারে। তাই তাকে পর্যাপ্ত পরিমানে ওয়েট ফুড, ড্রাই ফুড, মাছ, মাংস এবং পানি খাওয়াতে হবে। পুষ্টিকর এবং পরিমানে বেশি খাবার খাওয়ালে বাচ্চারা স্বাস্থ্যবান এবং সুস্থ হয়।

এসময় খেয়াল রাখুন যে সব বাচ্চারা একইরকমভাবে বড় হচ্ছে কিনা। বিড়াল অপুষ্টিতে ভুগছে বুঝতে পারলে, তাদেরকে অবশ্যই পশু চিকিৎসক (Vet) এর কাছে যেতে নিয়ে হবে।

বিড়ালের অন্যান্য আনুসাঙ্গিক এবং প্রশিক্ষণ বৃত্তান্ত

বিড়ালকে লিটার বক্সের প্রশিক্ষন

স্বভাবতই বিড়াল বেশ পরিষ্কার প্রাণী। এরা সাধারনত খালি জায়গায় কম টয়লেট করে এবং টয়লেট করার পর তা ঢেকে ফেলার চেষ্টা করে। তাই ঘরে পোষা বিড়ালকে লিটার বক্স (Litter box) বানিয়ে দিতে হয়। কিন্তু প্রথম প্রথম বিড়ালকে এই লিটার বক্সের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে এবং প্রশিক্ষন দিতে হবে যেন সে ঐ লিটার বক্সেই টয়লেট করে। বিড়ালকে লিটার বক্সের প্রশিক্ষন দেওয়ার কিছু পদ্ধতি:

বিড়ালকে লিটার বক্সের প্রশিক্ষন
বিড়ালকে লিটার বক্সের প্রশিক্ষন
  • প্রথমেই বিড়ালকে লিটার বক্সের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।
  • প্রথম প্রথম অনেক বিড়াল লিটার বক্সে উঠতে চায় না, তাকে আগ্রহী করার জন্য সেখানে তার পছন্দের খেলনা রাখা যেতে পারে।
  • বিড়াল যেহেতু টয়লেটের পর তা ঢেকে দিতে চায় তাই বক্সে বালু, মাটি, বাজারে পাওয়া যায় যেসব লিটার তা দিতে হবে।
  • বিড়াল টয়লেট করার আগে পা দিয়ে মাটিতে আঁচড়ায়, তখন সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে লিটার বক্সে বসিয়ে দিতে হবে।

এভাবে ৫-৭ দিন নিয়মিত একই স্থানে / লিটার বক্সে তাকে টয়লেট করার জন্য বসিয়ে দিতে হবে। এতে তার অভ্যাস তৈরি হবে। এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে লিটার বক্স যেন শুকনা ও পরিষ্কার থাকে। আর ঘরের এমন জায়গায় বক্সটি রাখতে হবে যেখানে সে সহজে যাতায়াত করতে পারে। সাধারণত যতগুলো বিড়াল তার থেকে একটি বেশি লিটার বক্স রাখা উচিত।

বিড়ালকে গোসল করানোর কৌশল

বিড়ালকে গোসল করানোর কৌশল
বিড়ালকে গোসল করানোর কৌশল

বিড়াল যেহেতু পানিকে খুব ভয় পায় তাই গোসল করানোর অভ্যাস তৈরি করার জন্য প্রথমেই বিড়ালের এই পানিভীতি কাটাতে হবে। এজন্য প্রথম প্রথম আপনার বিড়ালকে সরাসরি গোসলখানায় না নিয়ে গিয়ে তাকে নরমাল তাপমাত্রার পানিতে ভেজা তোয়ালে দিয়ে মুছে দিতে পারেন। এতে সে ফ্রেস ফিল করবে আর তার ভালো অনুভূতি হবে। এর পরের সপ্তাহে আপনি দুইটা কাজ করতে পারেন। প্রথমত এবার ভেজা তোয়ালের সাথে একটা স্প্রে বোতলে নরমাল তাপমাত্রার পানি নিয়ে হালকা হালকা করে পানি দিয়ে বিড়ালের গায়ে ছিটিয়ে দিতে পারেন এবং সাথে ভেজা তোয়ালে দিয়ে তার গা মুছিয়ে দিতে পারেন। আর দ্বিতীয়ত পানি যে ভয়ংকর কিছু না তা বোঝানোর জন্য আপনি যখন গোসল করবেন তখন আপনার বিড়ালকে বাথরুমে নিয়ে যেতে পারেন। এভাবে আস্তে আস্তে তার পানি ভীতি দূর করুন।

ভেজা তোয়ালে আর স্প্রে কয়েক সপ্তাহ চলার পরে এবার সে পানিতে নামার জন্য মোটামুটি প্রস্তুত । তাকে পানিতে নামানোর জন্য আগে থেকে তাঁর সাথে খুব ভালো ব্যবহার করুন এবং তার প্রশংসা করুন। এবার তাকে গোসল করাতে পারবেন আশাকরি। তবে প্রথমদিন বিড়াল একটু নার্ভাস থাকতে পারে কিন্তু একই সময়ে যদি তাকে নিয়মিত (প্রতিদিন নয়) গোসল করানো হলে সে কয়েকদিন পর অভ্যস্থ হয়ে যাবে।

বিড়ালের নখ কাটার নিয়ম

বিভিন্ন কারনে বিড়ালের নখ কাটার প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিড়ালের নখ কাটার সময় খুব সতর্কতার সাথে কাটতে হবে। চলুন দেখে নেই কিভাবে বিড়ালের নখ কাটবেন।

বিড়ালের নখ কাটার নিয়ম
বিড়ালের নখ কাটার নিয়ম
  • প্রথমেই পোষা বিড়ালটিকে শান্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে বিড়ালকে শান্ত করার জন্য তার পছন্দের খাবার দিয়ে খুশি করতে পারেন।
  • এবার তাকে আদর করে কোলে তুলে নিয়ে একটি পা ধরুন এবং পায়ের তলার মাংসে হালকা করে চাপ দিন। এতে করে নখগুলো থাবা থেকে বের হয়ে আসবে।
  • এরপর বিড়ালের নেইল ক্লিপার (Nail Clipper) অথবা মানুষের নেইল কাটার (Nail Cutter) দিয়ে খুব সাবধানে নখের আগা অল্প করে কাটুন [ছবিতে দেখুন]। খেয়াল রাখুন যেন ভিতরের মাংস (Quick) কোনভাবেই কেটে না যায় [ছবিতে দেখুন]। অসতর্কতাবশত কেটে গেলে বিড়াল ব্যথা পাবে এবং রক্তক্ষরণ হবে।
  • অনেক পোষা বিড়াল পা ধরতে দিতে চায় না, সেক্ষেত্রে তার ঘাড়ের চামড়া ধরে অথবা মাথার উপর একটা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে দিয়ে বিড়ালকে চুপ করাতে হবে।

পোষা বিড়ালের কামড়ানো বন্ধ করা

অনেক সময় পোষা বিড়ালের ছোট বাচ্চা অযথাই আপনার হাতে কামড়াতে পারে বা নখ দিয়ে আঁচর দিতে পারে। তবে আপনার কোন ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে বিড়ালের বাচ্চা এমন করেনা বরং আপনাকে বন্ধু ভেবে আপনার হাত নিয়ে সে খেলতে চায়। তবে বাচ্চাটি বড় হওয়ার সাথে সাথে এ অভ্যাস চলে না কিভাবে কামড়ানো বন্ধ করবেন চলুন দেখে নেই।

পোষা বিড়ালের কামড়ানো বন্ধ করা
পোষা বিড়ালের কামড়ানো বন্ধ করা
  • খেলার সময় যখন কামড় দিবে তখন হাত সরিয়ে নিয়ে কিছুক্ষনের জন্য খেলা বন্ধ করে দিন। ওকে পেছনে রেখে বসে থাকুন বুঝতে দিন যে আপনি তার সাথে খেলতে আগ্রহী নন।
  • কামড় দেওয়ার সাথে সাথে হাত সরিয়ে নিয়ে মুখে “না” বলুন। তবে খুব জোরে না বলবেন না। এতে বিড়াল ভয় পেয়ে যেতে পারে।
  • বিড়ালকে আদর করার সময় কামড় দিলে আদর করা বন্ধ করে দিন এবং সরে যান।
  • আপনার বিড়াল নিউটার বা খোজা করা না থাকলে মাঝে মধ্যে সে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পরে। তখন বিড়াল হয়তো আপনাকে কামড়াতে ও খামচি দিতে চাইবে। তাই চার থেকে ছয় মাস বয়সের পর অবশ্যই নিউটার বা খোজা ফেলতে হবে।

সবথেকে বড় কথা বিড়ালকে ছোট বেলা থেকেই প্রশিক্ষণ দিতে হবে যাতে বড় হয়ে সে যেন অযথা মানুষকে কামড় অথবা আঁচড় না দেয়।

কিভাবে বিড়ালের মাত্রাতিরিক্ত চাটাচাটি বন্ধ করবেন

বিড়ালের তার শরীরের বিভিন্ন স্থান আচড়ায় বা চাটাচাটি করা একটি অতি সাধারন ঘটনা। কিন্তু অনেক সময় এটা বিড়ালের স্বাভাবিক আচরনের থেকেও অনেক বেশী বেড়ে যায়। আর তখনই এটা রোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। চলুন দেখে নেই কিভাবে বিড়ালের মাত্রাতিরিক্ত চাটাচাটি বন্ধ করবেন।

বিড়ালের মাত্রাতিরিক্ত চাটাচাটি বন্ধ করা
বিড়ালের মাত্রাতিরিক্ত চাটাচাটি বন্ধ করা
  • প্রথম কাজ হলো ভাল করে লক্ষ্য রেখে কি কারনে সমস্যা হচ্ছে তা খুঁজে বের করা। বিড়ালের শরীরে রক্ত চোষা পরজীবী থাকলে বিড়াল মাত্রাতিরিক্ত চাটাচাটি করতে পারে। তাই খেয়াল করুন বিড়ালের শরীরের কোন পরজীবী আছে কি না। থাকলে পরজীবী নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাজারে বিভিন্ন রকম ঔষধ পাওয়া যায় তা ব্যবহার করতে হবে।
  • যদি খাদ্যের এলার্জির জন্য হয় তাহলে ৬ সপ্তাহের জন্য সেই খাদ্যগুলো বর্জন করতে হবে এবং নতুন খাবার দিতে হবে। এই ৬ সপ্তাহে আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে কোন খাবারটি আপনার বিড়ালের জন্য উপযুক্ত।
  • আপনার বিড়াল যদি একঘেয়েমি বা উদ্বিগ্ন থাকে তাহলে তাকে বেশী করে সময় দিতে হবে। তার একঘেয়েমি বা উদ্বিগ্নতা দূর করার জন্য ধীরে ধীরে তাকে সাহায্য করতে হবে।

বিড়াল পালনের উপকারিতা

বিড়াল পালনের উপকারিতা
বিড়াল পালনের উপকারিতা

বিভিন্ন গবেষণায় বিড়াল পালনের বেশ কিছু উপকারিতা পাওয়া গেছে। এটা কেবল আপনাকে আনন্দই দেবে না, অনেক ক্ষেত্রে আপনার নিরাপত্তা দিবে এবং আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে সাহায্য করবে। চলুন বিড়াল পালনের উপকারিতা গুলো দেখে নেই।

  • বিড়াল খুবই আদুরে প্রাণী। আর তাই একটি বিড়াল থাকলে আপনি অন্যদের চেয়ে কম একাকিত্বে ভুগবেন। তাদের সঙ্গে বন্ধন নানাভাবে আপনাকে সাহায্য করবে। তাই যারা কোনো সম্পর্কে জড়াননি, একাকিত্ব বোধ করছেন – তারা বিড়াল পালন করতে পারেন। সঙ্গী হিসেবে বিড়াল চমৎকার।
  • কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যখন কেউ বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটায়, তখন তাদের দেহে প্রশান্তি ও আরামদায়ক রাসায়নিক পদার্থের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। এতে করে ব্যক্তির রাগ, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ থাকে। তাই দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে আপনি বিড়াল পোষতে পারেন।
  • যারা ইঁদুরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ, তারা বাসায় বিড়াল পোষতে পারেন। কারণ বিড়াল হচ্ছে ইঁদুরের যম। এরা খুব ভালো ইঁদুর শিকার করতে পারে, যা আপনাকে প্রাকৃতিক উপায়ে ইঁদুর দমনে সাহায্য করবে।
  • অটিস্টিক শিশুদের জন্য বিড়াল হতে পারে দারুণ কিছু। কেননা বিড়াল কেবল এই ধরণের শিশুদের সঙ্গই দিবে না, তাদের চিকিৎসা ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে।
  • উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা বিড়াল পালনের মাধ্যমে লাভবান হতে পারেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বিড়াল পালন করেন, তাদের উচ্চ রক্তচাপ নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের, এমনকি সাধারণ জীবনযাপন করা ব্যক্তিদের চেয়েও তুলনামূলক কম।
  • পোষা বিড়ালের সাথে খেলতে খেলতে আপনার নিজের অজান্তেই অনেক ব্যায়াম হয়ে যায়। তাছাড়া বিড়ালকে হাঁটানোর প্রয়োজন হয়, তার সাথে সাথে আপনার নিজেও হাঁটা হয়ে যায়। ব্যায়াম করা এবং নিয়মিত হাঁটা দুটোই আপনার স্বাস্থ্যর জন্য উপকারী।

এছাড়া আরও অনেক উপকার রয়েছে যা আপনি বিড়াল পালন করার পরে নিজেই বুঝতে পারবেন।

এই ছিল বাড়িতে বিড়াল পালনের আদ্যপান্ত্য। আশাকরি আপনি অনেক কিছু জেনেছেন এবং আপনার ভাল লেগেছে। পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে তবে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।



error: