ওয়াইল্ডবিস্ট পরিচিতি: ওয়াইল্ডবিস্ট সম্পর্কে জানা অজানা বিভিন্ন তথ্য

ওয়াইল্ডবিস্ট একটি বড় অ্যান্টিলোপ বা হরিণসদৃশ প্রাণী। এরা Gnus (উচ্চারণ: নিউজ বা গ্নুস) নামেও পরিচিত এবং গবাদি পশু, ছাগল ও ভেড়ার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এদেরকে দেখতে মনে হয় হালকা-পাতলা পেশীবহুল গরু জাতীয় প্রাণী। ওয়াইল্ডবিস্ট একটি আফ্রিকান নাম যার মানে “বন্য পশু (Wild Beast)“। আর Gnu নামের উৎপত্তি স্থানীয় আফ্রিকানদের থেকে।

ওয়াইল্ডবিস্টের আকার ও আকৃতি

ধূসর বা কালো রঙের ব্ল্যাক ওয়াইল্ডবিস্ট এবং নীল রঙের ব্লু ওয়াইল্ডবিস্ট

ধূসর বা কালো রঙের ব্ল্যাক ওয়াইল্ডবিস্ট এবং নীল রঙের ব্লু ওয়াইল্ডবিস্ট

অ্যান্টিলোপ বা হরিণসদৃশ প্রাণীদের মধ্যে ওয়াইল্ডবিস্টরাই সবচেয়ে বড়। এদের দুটি প্রজাতিদেখা যায় যার মধ্যে ধূসর বা কালো রঙের ব্ল্যাক ওয়াইল্ডবিস্ট এবং নীল রঙের ব্লু ওয়াইল্ডবিস্ট। এদের মধ্যে নীল রঙের ব্লু ওয়াইল্ডবিস্টরাই সবচেয়ে পরিচিত। ব্লু ওয়াইল্ডবিস্টরা ওজনে ২৬০ থেকে ৫৯৫ পাউন্ড (১১৮ থেকে ২৭০ কিলোগ্রাম) হয়ে থাকে এবং দৈর্ঘ্যে হয় প্রায় ৪ ফুট (১২৩ সেন্টিমিটার) – Animal Diversity Web (University of Michigan)। এদের কাঁধ এবং পিঠে কালো খাঁড়া দাগ আছে।

অপরদিকে কালো রঙের ব্ল্যাক ওয়াইল্ডবিস্টরা ওজনে ২৪২ থেকে ২৪৬ পাউন্ড (১১০ থেকে ১৫৭ কিলোগ্রাম) হয়ে থাকে। এরা দৈর্ঘ্যে হয় প্রায় ৬.৫ ফুট বা ২ মিটার এবং লম্বায় ৩.৬ থেকে ৪ মিটার। আর নাম দেখেই নিশ্চই বুঝা যায় যে, ব্ল্যাক বা কালো ওয়াইল্ডবিস্টরা হয় গাঢ় কালো বা গাঢ় বাদামী রঙের।

সকল ওয়াইল্ডবিস্টেরই (পুরুষ এবং স্ত্রী) শিং হয় যা সাধারণত ১৮ থেকে ৩১ (৪৫ থেকে ৭৮ সেমি) দীর্ঘ এবং বাঁকানো – National Geographic। এছাড়া এদের বেশ খানিকটা দাঁড়ি বা কেশর রয়েছে।

আরো পড়ুন:  জিরাফ পরিচিতি: জিরাফ সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য

ওয়াইল্ডবিস্টের বাসস্থান

ওয়াইল্ডবিস্টের বাসস্থান

ওয়াইল্ডবিস্টের বাসস্থান

ওয়াইল্ডবিস্ট পৃথিবীর এক বিশেষ স্থানে পাওয়া যায়; কেনিয়া থেকে নামিবিয়া পর্যন্ত দক্ষিণ ও পূর্ব আফ্রিকায় – Animal Diversity Web (University of Michigan)। তারা আফ্রিকান সাভানা এবং সমতলভূমিই পছন্দ করে, কিন্তু এদেরকে অন্যান্য বিভিন্ন আবাস্থলেও পাওয়া যায়। তবে তানজানিয়া এবং কেনিয়াতে সেরেনগেতি ইকোসিস্টেমেই এদেরকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় পাওয়া যায়। এরা তৃণভূমিতে একসঙ্গে পালে চলাফেরা করে থাকে।

ওয়াইল্ডবিস্টের স্বভাব

আফ্রিকাতে ওয়াইল্ডবিস্টরা সবসময়ই খাদ্যে অনুসন্ধানে ঘুরে বেড়ায় এবং একাজে তারা দিনের পাশাপাশি রাতেও সক্রিয় থাকে। এরা সাধারণত দৃষ্টিশক্তি এবং গন্ধের মাধ্যমে যোগাযোগ করলেও, এরা মুখ দিয়ে খুবই বেশি শব্দ করে।  Animal Diversity Web (University of Michigan) এর মতে পুরুষ ব্লু ওয়াইল্ডবিস্টরা এতো জোড়ে গর্জন করে যে তা প্রায় ১.২৪ মাইল (২ কিমি.) দূর থেকেও শুনা যায়। এরা খুব প্রতিরক্ষামূলক। শিকারীদের সম্মুখীন হলে পালের সদস্যরা একসঙ্গে থাকে, শব্দ করে এবং এমনকি শিকারীদেরকে তাড়াও করে।

ওয়াইল্ডবিস্ট মাইগ্রেশন

ওয়াইল্ডবিস্ট মাইগ্রেশন

আঞ্চলিক প্রাণী হিসাবে, একটি ওয়াইল্ডবিস্ট পালের একটি নির্দিষ্ট নিজস্ব এলাকা থাকে। এরকম একটি এলাকার আয়তন প্রায় ১ বর্গ মাইল (১.৫ বর্গ কিলোমিটার)। যখন সমভূমিতে বর্ষাকাল শেষ হয়, তখন ওয়াইল্ডবিস্ট পাল রওনা দেয় সাভানার উদ্দেশ্যে যেখানে আছে প্রচুর পরিমাণে পানি এবং খাদ্য। তাদের এই মাইগ্রেশন সাধারণত মে বা জুন মাসে হয়। এসময় প্রায় ১.২ মিলিয়ন ওয়াইল্ডবিস্ট, জেব্রা এবং গেজেল সহ শতাধিক অন্যান্য প্রাণীদের সাথে যোগ দেয়। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্থলজ মাইগ্রেশন – National Geographic

আরো পড়ুন:  গণ্ডার পরিচিতি: গণ্ডার সম্পর্কে জানা অজানা বিভিন্ন তথ্য

ওয়াইল্ডবিস্টের খাদ্যাভ্যাস

ওয়াইল্ডবিস্টের খাদ্যাভ্যাস

ওয়াইল্ডবিস্টের খাদ্যাভ্যাস

ওয়াইল্ডবিস্টরা তৃণভোজী প্রাণী এবং শুধুমাত্র উদ্ভিদই খায়। তারা ঘাস খেতেই পছন্দ করে, কিন্তু যখন ঘাস খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায় তখন গাছের পাতাও খায়। প্রজনন মৌসুমে মিলিত হওয়ার সময়ে যখন যৌন সক্রিয় স্ত্রী ওয়াইল্ডবিস্ট কাছাকাছি থাকে, তখন পুরুষ ওয়াইল্ডবিস্টরা ঘুমায় না বা খায় না। সাভানার এসব প্রাণীদের পালগুলো খাবারের খোঁজে শত শত মাইল ভ্রমণ করতে পারে।

ওয়াইল্ডবিস্টের প্রজনন

ওয়াইল্ডবিস্টের প্রজনন

ওয়াইল্ডবিস্টের প্রজনন

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারী-মার্চে (বর্ষা মৌসুমের শুরুরদিকে) ওয়াইল্ডবিস্টেরা প্রজনন করে। প্রায় ৮ থেকে সাড়ে ৮ মাস গর্ভধারণের পর বাচ্চা প্রসব করে। প্রতিটি বাচ্চার ওজন হয় সাধারণত ৪৪ থেকে ৪৯ পাউন্ড (২০ থেকে ২২ কেজি)। প্রতিবার এরা সাধারণত একটি করে বাচ্চা প্রসব করে থাকে। এক সপ্তাহ পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘাস খেতে চেষ্টা করে। ছয় মাস থেকে নয় মাস পর্যন্ত বাচ্চা মায়ের সঙ্গে থাকে ও দুধ পান করে। পরে বাচ্চাগুলো স্বাধীনভাবে বিচরণ করে থাকে। বাচ্চাগুলো ১৬ মাস থেকে ৭৬ মাসের মধ্যে প্রজননক্ষম হয়। এক মৌসুমেই পুরো আফ্রিকা জুড়ে প্রায় ৫০০,০০০ বাচ্চা ওয়াইল্ডবিস্টের জন্ম হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক পরিবেশে এরা ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।

আরো পড়ুন:  বাইসন পরিচিতি: বাইসন সম্পর্কে জানা অজানা বিভিন্ন তথ্য

ওয়াইল্ডবিস্টের সংরক্ষণ অবস্থা

ওয়াইল্ডবিস্টের সংরক্ষণ অবস্থা

ওয়াইল্ডবিস্টের সংরক্ষণ অবস্থা

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) অনুসারে, ধূসর বা কালো রঙের ব্ল্যাক ওয়াইল্ডবিস্ট কিংবা নীল রঙের ব্লু ওয়াইল্ডবিস্ট কোনটিই বিপন্ন নয়। এর মধ্যে ধূসর বা কালো রঙের ব্ল্যাক ওয়াইল্ডবিস্ট এর জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নীল রঙের ব্লু ওয়াইল্ডবিস্ট এর জনসংখ্যা স্থিতিশীল।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

2 Responses

  1. NITYANANDA KUNDU says:

    Nice…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *