তাসমানিয়ান ডেভিল পরিচিতি: তাসমানিয়ান ডেভিল সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য

তাসমানিয়ান ডেভিল এক প্রকার ছোট শাবকবাহী জীব। এদের আছে ইদুরের মত তীক্ষ্ণ দাঁত এবং কালো বা বাদামী মোটা পশম। তবে আকারে ছোট বলে বোকা বনে যাবেন না কিন্তু; এই তাসমানিয়ান ডেভিলদের এক ইউনিক যুদ্ধের কৌশলের জন্য খুবই ভয়ঙ্কর প্রাণী হিসেবে খ্যাতি আছে।

তাসমানিয়ান ডেভিলদের আকার

সত্যিকারের তাসমানিয়ান ডেভিল ওয়ার্নার ব্রোস এর “লোনলি টুনস” অ্যানিমেশন সিরিজের “তাজ” এর মত নয়। আর এটা মানুষের সমান বড়ও নয় বা তাজ এর মত টর্নেডো আকারে ঘুরতেও পারে না। তাসমানিয়ান ডেভিল আসলে মাত্র ২০ থেকে ৩১ ইঞ্চি লম্বা এবং ওজনে মাত্র ৪ থেকে ১২ কেজি (৯-২৬ পাউন্ড)। এরা ৫ থেকে ৮ বছর বাঁচে।

তাসমানিয়ান ডেভিলদের বাসস্থান

তাসমানিয়ান ডেভিলদের বসবাস অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া দ্বীপে যার আয়তন প্রায় ৩৫ হাজার বর্গমাইল। যদিও তাসমানিয়ান ডেভিলরা দ্বীপের যেকোন অংশেই বেচে থাকতে পারে তবুও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এর মতে এরা ছোট ঝোপঝাড় এলাকা এবং বনে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। তবে যেখানেই বসবাস করুক না কেন, এরা ঘুমায় পাথরের নিচে বা গুহায়, গাছের গুড়ি বা নিজেরাই গর্ত করে।

তাসমানিয়ান ডেভিলদের স্বভাব

তাসমানিয়ান ডেভিলদের স্বভাব
তাসমানিয়ান ডেভিলদের স্বভাব

লোনলি টুনস” এর তাসমানিয়ান ডেভিল এবং সত্যিকারের তাসমানিয়ান ডেভিলের মধ্যে একটা ক্ষেত্রে মিল রয়েছে আর তা হলো রগচটা স্বভাব মানে এরা অল্পতেই রেগে যায়। বিপদের লক্ষণ দেখলে এরা রাগে গোঁ গোঁ শব্দ করে। মাঝে মাঝে এরা শয়তান এর মত করে শব্দও করে। আর এজন্যই হয়তোবা এদের নাম তাসমানিয়ান ডেভিল বা তাসমানিয়ার শয়তান। তবে এরা একাকী বা নির্জনে বসবাস করার কারনেই হয়তোবা এরা এমন শব্দ করে। তাসমানিয়ান ডেভিলরা নিশাচর প্রাণী। মানে এরা দিনে ঘুমায় রাতে জেগে থাকে, ঘুড়ে বেড়ায়, শিকার করে। শিকার করার জন্য এরা ররাতে ১৬ কি.মি. পর্যন্ত দুরত্ব অতিক্রম করে।

তাসমানিয়ান ডেভিলদের খাদ্য

তাসমানিয়ান ডেভিলদের খাদ্য
তাসমানিয়ান ডেভিলদের খাদ্য

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এর মতে, শাবক বহনকারীদের মধ্যে তাসমানিয়ান ডেভিলরাই সবচেয়ে বড় মাংসাশী প্রাণী। বেশিরভাগ সময় এরা পাখি, সাপ, মাছ এবং পোকামাকর খায়। প্রায়ই এরা মৃতদেহের কাছেই খাবার খেয়ে নেয়। অনেক সময় অনেকগুলো ডেভিল একস্থানে মিলিত হয় এবং খাবারের জন্য যুদ্ধ করে। শিকার করতে পারলে তারা খাবারের বিন্দুমাত্র অংশ নষ্ট করে না এমনকি শিকারের হাড় ও চুল পর্যন্ত খেয়ে ফেলে।

তাসমানিয়ান ডেভিলদের বংশবৃদ্ধি

তাসমানিয়ান ডেভিলদের বংশবৃদ্ধি
তাসমানিয়ান ডেভিলদের বংশবৃদ্ধি

সাধারণত তাসমানিয়ান ডেভিলরা বছরে একবার মিলন করে, মার্চ মাসে। মিলনের পর মা ডেভিল প্রায় তিন সপ্তাহের মত গর্ভাবস্থায় থ্কে এরপর বাচ্চা হয়। আর একবারেই ২০-৩০ টা পর্যন্ত বাচ্চা দেয়। বাচ্চা গুলো গোলাপী রং এর হয় এবং কোন পশম থাকে না। সান ডিয়েগো জু এর মতে বাচ্চাগুলো একেকাটা আকারে একটি শষ্যদানার সমান হয়।

জন্মের পর বাচ্চাগুলো মায়ের থলিতে স্থান নেয়। তবে মাত্র ৪ টি বাট থাকায় চারটি বাচ্চাই দুধ খেতে পারে এবং বড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বাকি গুলো অপুষ্টিতে ভুগে মারা যায়। বাচ্চাগুলো মায়ের থলেতে চার মাস পর্যন্ত থাকে। এরপর এর নিজেরাই খেতে পারে। তবে তখনো মা ডেভিল তার পিঠে করে সন্তানদের বহন করে। আর প্রায় ৮-৯ মাস পরেই এরা পূর্ণ বয়স্ক হয়ে যায়।

পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। পোস্টটি আপনাদের ভালো লাগলে কমেন্ট এবং শেয়ার করতে কার্পণ্য করবেন না। আপনাদের কমেন্ট এবং শেয়ার আমাদেরকে আরো বেশি লিখতে অনুপ্রেরণা যোগায়।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap