পিগমি মারমোসেট পরিচিতি: আঙ্গুল সাইজের সবচেয়ে ছোট বানর

প্রাণী পরিচিতি: পিগমি মারমোসেট: আঙ্গুল সাইজের সবচেয়ে ছোট বানর

প্রাণী পরিচিতি: পিগমি মারমোসেট: আঙ্গুল সাইজের সবচেয়ে ছোট বানর

পিগমি মারমোসেট সবচেয়ে ছোট প্রজাতির বানর। এদদেরকে দেখা যায় দক্ষিণ আমেরিকার রেইনফরেস্টে। পিগমি মারমোসেট এরও ২০ টি প্রজাতি আছে। আর যারমধ্যে বেশিরভাগই আপনার হাতের মুঠো এটে যাবে। আর আকারে ছোট, দেখতে সুন্দর আর খুব অ্যাকটিভ হওয়ায় কিছু দেশে এ বানর পোষা প্রাণী হিসেবেও রাখা হয়।

পিগমি মারমোসেট এর আকার ও বিবরন

মারমোসেট অন্যান্য বানরের মতোই নরম ও সিল্কি পশমে আবৃত। আর অনেকের মাথার দুই পাশেই অনেকটা বড় ও ঘন পশম থাকে যা দেখতে অনেকটা গোছা সদৃশ। মারমোসেটদের গায়ের রঙ্গেও দেখা যায় বিচিত্রতা। তবে সাধারণত কালো, বাদামী, রূপালি, কমলা ইত্যাদি রঙের মারমোসেটই বেশি দেখা যায়। মারমোসেটরা সাধারণত উঁচু ডালে থাকতেই পছন্দ করে। তাদের লেজ খুব লম্বা – এমনকি তাদের দেহের চাইতেও বড়। তবে বানর প্রজাতির অন্যান্য বানরের মত এরা লেজ দিয়ে আঁকড়ে ধরতে পারে না। কিন্তু ডালপালা দিয়ে লাফালাফি করার সময় তারা লেজকে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য ব্যবহার করে।

পিগমি মারমোসেট

পিগমি মারমোসেট

মারমোসেটদের শারীরিক গঠন অনেকটা কাঠবিড়ালির মত তবে বড় পায়ের আঙ্গুল ছাড়া, যারমধ্যে নখ আছে এবং তীক্ষ্ন ফালা আছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সান মারকোসের পালমার কলেজের আচরণগত বিজ্ঞানের অধ্যাপক ডেনিস ওনিলের অনুযায়ী, মারমোসেটদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য এদেরকে সবচেয়ে আদিম বানর বলে বিবেচনা করা হয়। পিগমি মারমোসেট সবচেয়ে ছোট মারমোসেট এবং সবচেয়ে ছোট বানর। এরা লম্বায় ৪.৬ থেকে ৬.২ ইঞ্চি (১২ থেকে ১৬ সেন্টিমিটার) এবং ওজনে ৩ থেকে ৫ আউন্স(৮৫ থেকে ১৪০ গ্রাম)।

আরো পড়ুন:  তাসমানিয়ান ডেভিল পরিচিতি: তাসমানিয়ান ডেভিল সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য

পিগমি মারমোসেট এর আবাস্থল

পিগমি মারমোসেট এর আবাস্থল

পিগমি মারমোসেট এর আবাস্থল

ছোট এই বানরদের দেখা মেলে দক্ষিণ আমেরিকার ঘন বনাঞ্চলে – অ্যামাজন এর ঘন জঙ্গলে। জঙ্গলের নদী ঘেঁসে বেড়ে উঠা বড় গাছের উঁচু ডাল গুলোতেই এদের বেশি দেখা যায়।

স্বভাব

মারমোসেটরা দিনের বেলাতেই সক্রিয় এবং এ সময়কালের বেশিরভাগই কাটে অন্যের থেকে খাবার চুরি ও লুণ্ঠন করতে। তারা সামাজিক প্রাণী যারা ছোট ছোট গ্রুপ করে বসবাস করে। সাধারণত গ্রুপে ৪-১৫ জন বানর থাকে। আর তাদের চলাফেরা বা ক্ষেত্র প্রায় ৫০০০-৬৫০০০ বর্গ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তবে তাদের চালচলন অনেকটা কাঠবিড়ালির মতই। বনের মধ্যে মারমোসেটরা প্রায় ৫-১৬ বছর বাঁচে।

আরো পড়ুন:  প্রাণী পরিচিতি: আফ্রিকান হাতি: স্থলভাগের সবচেয়ে বড় প্রাণী

খাদ্যাভ্যাস

খাদ্যাভ্যাস

খাদ্যাভ্যাস

পিগমি মারমোসেট সর্বভুক প্রাণী। অর্থাৎ এরা বিভিন্ন খাবার খায়। তবে তাদের প্রধান খাদ্য হল কীটপতঙ্গ, ফল, গাছ রস এবং অন্যান্য ছোট প্রাণী। মারমোসেটরা গাছ রস সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে। তারা এই রসের জন্য দাঁত দিয়ে গাছে গর্ত করে এবং গাছের একটি ছোট জায়গাও হাজার হাজার গর্ত করতে পারে।

পিগমি মারমোসেট এর বংশবৃদ্ধি

মারমোসেটরা সাধারণত যমজ সন্তান জন্ম দেয়। এটা খুবই বিরল কেননা অন্যান্য সকল স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সাধারণত ১ টি বাচ্চাই দেয়। মারমোসেটরা কখনও কখনও ১টি বা ৩টি বাচ্চাও জন্ম দেয়। গর্ভাবস্থার সময় চার থেকে ছয় মাস। প্রধানত পুরুষ মারমোসেটই সন্তানদের প্রতি যত্নশীল হয় এবং তারা পরিবারের প্রতিও অনুগত থাকে। তরুণরাও শিশুদের যত্নে সাহায্য করে।

 

পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। পোস্টটি আপনাদের ভালো লাগলে কমেন্ট এবং শেয়ার করতে কার্পণ্য করবেন না। আপনাদের কমেন্ট এবং শেয়ার আমাদেরকে আরো বেশি লিখতে অনুপ্রেরণা যোগায়?।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *