প্রাণী পরিচিতি: আফ্রিকান হাতি: স্থলভাগের সবচেয়ে বড় প্রাণী

আফ্রিকান হাতি স্থলভাগের সবচেয়ে বড় প্রাণী। এদের ওজন ৭৫০০ কেজি বা সাড়ে ৮ টনের উপরে। লম্বায় প্রায় ২২ ফুট এবং উচ্চতায় বাড়ে প্রায় ৩.৩ মিটার বা ১০ ফিট পর্যন্ত। তারা ঘন্টায় প্রায় ৪০ কি.মি. বেগে দৌড়াতে পারে। এদেরকে সাহারা মরূভুমিতে, মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকা এবং মালির সাহেল মরূভুমিতে পাওয়া যায়। বড় ও চৌকস শুঁড়, দীর্ঘ বাকানো দাঁত এবং বৃহদায়তন কান দ্বারা খুব সহজেই এই আফ্রিকান হাতিদের চিহ্নিত করা যায়।

আফ্রিকান হাতিদের শুঁড়

আফ্রিকান হাতিদের শুঁড়
আফ্রিকান হাতিদের শুঁড়

আফ্রিকান হাতিদের শূড় বহুমুখী কর্মশক্তি সম্পন্ন। তারা তাদের শূড় ব্যবহার করে ঘ্রান ও শ্বাস গ্রহন করতে, কোন কম্পন ও শব্দ সনাক্ত করতে, অল্পবয়স্ক হাতিদের যত্ন নিতে, জল পান করতে এবং কোন কিছু আকরে ধরতে।

আফ্রিকান হাতিদের দাঁত

পুরুষ এবং স্ত্রী উভয় হাতিরই বড় বড় দাঁত আছে, যা কর্তনদাঁত এর পরিবর্তিত রূপ। জন্ম থেকেই হাতির দাঁত থাকে। এক বছর পর তা মানুষের দাঁতের মতো পড়ে যায় এবং স্থায়ী দাঁত উঠে। স্থায়ী দাঁতগুলো হাতি যতদিন বাঁচে ততদিন বড় হতে থাকে। এরা দাঁতগুলো ব্যবহার করে খনন করতে, কোন কিছু ছিন্নভিন্ন করতে এবং যুদ্ধ করতে।

আফ্রিকান হাতিদের কান

আফ্রিকান হাতিদের বড় বড় কানগুলোর জন্য খুবই সহজেই এশিয়ান হাতিদের থেকে পৃথক করা যায়। কানগুলো বড় হওয়ায় তা হাতির বাড়তি তাপ বিকিরনে সহায়তা করে। এছাড়া ভিজুয়্যলি যোগাযোগ করতেও হাতিরা কান ব্যবহার করে। কান ঝাপটা দেওয়া আনন্দ কিংবা আগ্রাসন বুঝায়। তারা পা, শূড় এবং কান ব্যবহার করে বহুদুর পর্যন্ত শুনতে পারে। উপযুক্ত পরিবেশে আফ্রিকান হাতিরা ১০ কি.মি. পর্যন্ত শুনতে পায়।

আফ্রিকান হাতিদের প্রজনন

আফ্রিকান হাতিদের প্রজনন
আফ্রিকান হাতিদের প্রজনন

আফ্রিকান হাতিরা ৫ বছর পর পর বাচ্চা দেয়। সফল মিলনের পর মা হাতি প্রায় ২২ মাসের গর্ভাধারনকালে থাকে। যখন বাচ্চা হাতি জন্ম নেয় তখন হাতি পরিবারের সবাই বাচ্চা হাতি কে যত্ন করে। এতে করে সবাই কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজও শিখে যায়। পুরুষ বাচ্চা হাতি প্রায় ১৪ বছর পর্যন্ত তার পরিবারের সাথেই থাকে। এরপর অন্যকোন পুরুষ ছিন্ন পালে যোগ দেয়।

আফ্রিকান হাতিদের স্বভাব

আফ্রিকান হাতি
আফ্রিকান হাতি

আফ্রিকান হাতিদের শেখার ক্ষমতা খুবই প্রখর। সাধারনত তারা দেখে এবং অনুকরন করে শিখে। তারা বিভিন্ন মানবিক গুনাবলির অধিকারী। তারা মৃত হাতির প্রতি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে। আবার আহত কোন হাতির দেখভালও করে। আফ্রিকান হাতিদের স্মৃতিশক্তি এতটাই বেশি যে তারা কখনো তাদের মৃত স্বজনদের ভুলে না। এমনি অসন্তোষ প্রকাশ করতে পারে এবং দীর্ঘদিনের হারানো বন্ধুকেও চিহ্নিত করতে পারে। বহুদিন পর কোন বন্ধুকে খুজে পেলে তারা আনন্দ পর্কাশ করে। এক্ষেত্রে তারা গোল হয়ে ঘুরে, কান ঝাপটায় অথবা শূড় ঝাপটায়।

আফ্রিকায় আফ্রিকান হাতিদের ভূমিকা

আফ্রিকান হাতি আফ্রিকার ইকো সিস্টেম এর গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। বিভিন্ন গাছের বীজ হাতিদের শরীরে লেগে থেকে মাইলের পর মাইল চলে যায়। এতে ঐসব গাছের বিস্তৃতি ঘটে। আসলে প্রায় ৯০ প্রজাতির গাছ এই আফ্রিকান হাতির উপর নির্ভর করে। তাদের মল মাটিতে জৈবসারের ভূমিকা পাল করে। এছাড়া তারা যেই ছোট ছোট গর্ত করে তা পানিপূর্ন হয়ে শুষ্ক মৌসুমে বিভিন্ন ছোট ছোট প্রানির খাবার জল সরবরাহ করে।



error: