টপ ৫: বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষধর সাপ

বাংলাদেশে প্রায় ৯৪ প্রজাতির সাপ আছে। তবে এসব সাপের মধ্যে বেশিরভাগ সাপের প্রজাতি বিষাক্ত না হলেও ২৬টি প্রজাতির সাপ মারাত্মক বিষাক্ত। এই বিষাক্তদের মধ্যে আবার বেশিরভাগ প্রজাতির বাস সমুদ্রে। তবে বিষধর সাপ যে বাংলাদেশের মাটিতে একেবারেই নেই তেমন নয়। এখানে যেমন নির্বিষ দাড়াশ কিংবা ঘরগিন্নি সাপ দেখা যায় তেমনি দেখা যায় গোখরা কিংবা চন্দ্রবোড়ার মত ভয়াবহ বিষধর সাপ। আজ আমরা এমনি ৫ টি বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষধর সাপ সম্পর্কে জানব যাদের ছোবলে মৃত্যও হতে পারে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষধর সাপ

৫ . রাসেল ভাইপার

রাসেল ভাইপার
রাসেল ভাইপার

বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষাক্ত সাপ গুলোর মধ্যে ৫ম স্থানে রয়েছে রাসেল ভাইপার (Russell’s Viper)। এরা বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়া নামে পরিচিত। তবে অনেকে উলুবোড়া নামেও ডাকে। এই সাপ পৃথিবীর সবচেয়ে আক্রমনাত্মক সাপের মধ্যে একটি। সাপের ধর্ম যেখানে মানুষ দেখলে পালিয়ে যাওয়া সেখানে রাসেল ভাইপার খুব তুচ্ছ কারনে বা কোন কারণ ছাড়াই মানুষকে আক্রমণ করে বসে। এদের দেহ মোটাসোটা, লেজ ছোট ও সরু। এই সাপের কামড়ে রক্তজমাট বেধে যায় এবং বেশ দীর্ঘ যন্ত্রনায় আক্রান্তের মৃত্যু হয়। এরা নিশাচর এবং নিচু জমির ঘাসযুক্ত উন্মুক্ত এবং কিছুটা শুষ্ক পরিবেশে বাস করে। এদের খাবারের তালিকায় রয়েছে ইঁদুর, ছোট পাখি, টিকটিকি, ব্যাঙসহ অন্যান্য ছোট প্রাণী।

৪. কালাচ

কালাচ
কালাচ

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় কালাচ (Common krait) সাপের কামড়ে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল কালাচের কামড়। এর কামড় এতোই সুক্ষ্ম যে, বোঝাই যায় না যে সাপ কামড়েছে। কালাচ সাপ অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাতেই কামড়ায়। মশারি টানিয়ে না ঘুমোলে বিছানায় উঠে এসে ছোবল দিয়ে চলে যায়। কিন্তু বোঝার উপায় থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে সকালে উঠে গলা ব্যথা বা পেটে ব্যাথা, শরীর ঝিমঝিম করার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কালোর মাঝে হালকা সাদা ছোপ ছোপ দাগ থাকা এই সাপের প্রধান খাদ্য ইদুর।

৩. গোখড়া

গোখড়া
গোখড়া

বাংলাদেশে সাপের কামড়ে প্রতিবছর যত মানুষ মারা যায় তার মধ্যে বেশ বড় অংশ মারা যায় গোখরার (Indian cobra) কামড়ে। এর ইংরেজী নাম মনোক্লেড কোবরা এবং বৈজ্ঞানিক নাম কোবরা নাজা নাজা। এই সাপ ফণা তুলতে পারে এবং ফনায় একধরণের বিশেষ চিহ্ন পাওয়া যায়। এরা নিশাচর। মানুষের বসতবাড়ির আশেপাশে, চাষের জমি, বনাঞ্চল বা ধানক্ষেতের আশেপাশের ইদুরের গর্তে থাকতে ভালবাসে। কিন্তু যদি তার কাছে কাউকে প্রাণ সংশয়কারী মনে হয় তাহলে ফণা তুলে জোরে হিস হিস শব্দ করে। আত্মরক্ষার্থে কামড়ও দিতে পারে। এই সাপের প্রধান খাবার ইদুর। ইদুর খেয়ে প্রতিবছর এরা বেশ ভালোপরিমানে ধান নষ্ট হওয়া থেকে বাচায়।

২. শঙ্খিনী

শঙ্খিনী
শঙ্খিনী

বিষের ভয়াবহতার দিক দিয়ে গোখরার উপরেই আছে শঙ্খিনী (Banded krait) সাপের নাম। কালো এবং হলুদ ছোপ ছোপ দাগের সাপটিকে বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই দেখা যায়। ছোপ ছোপ দাগ হওয়ায় একে অনেকে ডোরা কাল কেউটে বলে ডাকে। এদের নিউরোটক্সিন বিষ মানুষের মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট। তবে আশ্চর্যজনক মনে হলেও এই সাপের কামড়ে বাংলাদেশে মৃত্যুর কেস নগণ্য বা একেবারেই নেই। কেননা মানুষ দেখলেই পালিয়ে যায় ভীতু প্রকৃতির এই সাপটি।

১. শঙ্খচূড়

শঙ্খচূড় বা কিং কোবরা
শঙ্খচূড় বা কিং কোবরা

বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষধর সাপ হল শঙ্খচূড় (King cobra)। এদেরকে বলা হয় সাপেদের রাজা। তবে শঙ্খচূড় নামটি আপনার কাছে অপরিচিত হলেও কিং কোবরা নামটি অবশ্য অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। হ্যা এই শঙ্খচূড় সাপই হল কিং কোবরা। অনেকে একে রাজ গোখরা কিংবা পদ্ম গোখরাও বলে থাকে। ভয়াবহ বিষধর এই শঙ্খচূড় অন্যান্য গোখরার তুলনায় আকৃতিতে বেশ লম্বা। ভারতবর্ষে ১৮ ফুট লম্বা কিং কোবরাও পাওয়ারও তথ্য রয়েছে। এদের একটি সাধারণ দংশন একজন সাধারণ মানুষকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ঠ। এই সাপের দংশনে মৃত্যুর হার শতকরা ৭৫%। বাংলাদেশ ছাড়া শঙ্খচূড় সাপ ভুটান, বার্মা, কম্বোডিয়া, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ডেও দেখা যায়।

সাপ যতই বিষাক্ত হোক না কেন পৃথিবীতে কোনকিছুর সৃষ্টি অহেতুক হয়নি। সাপ নানাভাবে আমাদের উপকার করে থাকে। এদের বিষ থেকে যেমন তৈরি হয় জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তেমনি এরা ব্যাঙ, ইঁদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষা করে। সাপের উপদ্রব বেশি হয় বর্ষাকালে, বিশেষ করে গ্রামগঞ্জে। কারন এই সময় বৃষ্টিতে সাপের গর্ত পানিতে ডুবে যাওয়ায় সাপ শুকনো জায়গার খোঁজে মানুষের বাড়িতে আসে। তাই এই সময় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত।



error: