ডেড সি বা মৃত সাগর: বিস্ময়কর যে সাগরে কেউ ডুবে না

ডেড সি বা মৃত সাগর: বিস্ময়কর যে সাগরে কেউ ডুবে না

ডেড সি বা মৃত সাগর: বিস্ময়কর যে সাগরে কেউ ডুবে না

সমূদ্র! নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে বিশাল জলরাশি। যার চারিদিকে থৈ থৈ জল। কোন কূল কিরানা নেই কোথাও। বিশাল বিশাল ঠেউ এর নৃত্য জেনো সব সময় ই চোখে পরে। সমূদ্রের কাছে গেলে এর বিশাল জলরাশিতে নিজের তৃষ্ণা মিটে। আমরা আজ কথা বলবো সেই রকম একটি সমূদ্র সম্পর্কে (আসলে সমূদ্র না ঠিক, হৃদ বলা হয়ে থাকে) যা আমাদের প্রকৃতির নিয়মের কোন তোয়াক্কাই করে না। সব সমূদ্র থেকে যেনো আলাদা এক সমূদ্র। নাম তার বাংলায় “মৃত সাগর”, “লুত সাগর”, “লবন হৃদ” আর ইংরেজীতে “Dead Sea (ডেড সি)”।

ডেড সি বা মৃত সাগর

ডেড সি বা মৃত সাগরের অবস্থান

ডেড সি বা মৃত সাগরের অবস্থান

প্রাকৃতিক তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রায় দুই মিলিয়ন বছর পূর্বে উপত্যকা এবং ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী স্থলভাগ যথেষ্ট উচ্চতা লাভ করে। ফলে মহাসাগরের প্লাবনে এই অঞ্চলটি হৃদে পরিনত হয়। প্রায় ৭০,০০০ বছর থেকে ১২,০০০ বছর পূর্বের ডেড’সির পানির উচ্চতা বর্তমান থেকে ১০০ থেকে ২৫০ মিটার বেশী ছিলো। প্রায় ১০,০০০ বছর পূর্বে এর পানির উচ্চতা নাটকীয় ভাবে কমতে থাকে। যা সম্ভবত বর্তমান পৃষ্ঠ উচ্চতা থেকেও কম ছিলো। কয়েক হাজার বছর ধরে এর পৃষ্ঠ উচ্চতা প্রায় ৪০০ মিটার এর আশে-পাশে অবস্থান করছে।

ডেড সি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারনা

ডেড সির তীরে লবনের স্তর

ডেড সির তীরে লবনের স্তর

বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষনে দেখা গেছে, অন্যান্য মহাসাগরের তুলনায় ডেড সি’র পানিতে মিশে থাকা খনিজ উপাদানের অনেক পার্থক্য রয়েছে। মৃত সাগরে পানিতে মিশে থাকা লবনে ১৪% ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, ৪% পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ৫০% ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড এবং ৩০% সোডিয়াম ক্লোরাইড আছে। ডেড সি’র লবনাক্ততা প্রায় ৩০%। ফলে পানির ঘনত্ব ১.২৪ কেজি/লিটার। কিছু বিজ্ঞানের কথা বলি, কোন বস্তুকে পানির উপরে রাখলে তা ডুবে যাবে। অবশ্য সব জিনিস যে ডুবে যাবে তাও না। যেই বস্তুটিকে পানির উপরে রাখা হবে তার ঘনত্ব যদি পানির ঘনত্বের থেকে বেশী হয় তাহলে সেই বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। আর যদি কম হয়, তাহলে ভেসে থাকবে। ডেড’সির পানির ঘনত্ব উচ্চ প্লবতার কারনে অনেক বেশী, ফলে যে কেও এই মৃত সাগরে ভেসে থাকতে পারে। তাছাড়া, অনেক মানুষই বিশ্বাস করে যে, ডেড সি এর কাদা নাকি অনেক রোগ নিরাময় করতে পারে।

ধর্মগ্রন্থে ডেড সি বা মৃত সাগর

ডেড’সি সম্পর্কে সব থেকে বেশী বলা আছে ইসলাম ধর্মে। ইসলাম ধর্মে এই অঞ্চলে হযরত লুত(আঃ) এর অনুসারীদের আবাসস্থল ছিলো। লুত(আঃ) এর উম্মতগন এই এলাকার বসবাস করতো। তখন এই স্থানটি ছিলো স্বাভাবিক এবং মানুষের বসবাসের উপযোগী স্থান। কিন্তু তারা সব সময় বিভিন্ন জঘন্য কাজ এবং সমকামিতায় মতন নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত ছিলো। সমকামিতার মতন কঠিন পাপের কারনে আল্লাহ্ এই জাতিকে ধ্বংস করে দেয়। লুত(আঃ) তার অনুসারীদের বার বার বুঝাতে লাগলেন যে, তোমরা যা করছো তা ঠিক না। তিনি সবাইকে বলতে লাগলেন এইসব বাদ দিতে। কিন্তু কেও তার কথা শুনে নি। বরং তাকে নিয়ে সবাই ঠাট্টা উপহাস করতো। ফলে অবশেষে আল্লাহ্ র আদেশের ফেরেসতারা এসে এই জাতীকে ধ্বংস করে দিয়ে যায় এবং এই স্থানের ভূমিকে উল্টে দেন। ফলে সম্পূর্ন জাতি মাটি চাপা পরে ধ্বংস হয়ে যায়। এমনি লুত(আঃ) এর স্ত্রীও সাজা পেয়েছিলো। সেই থেকে এই মৃত সাগর তৈরি হয়।

পবিত্র বাইবেলে এই মৃত সাগরের লবনাক্ততা বিলুপ্ত হওয়ার ভবিষ্যৎ বানী করা আছে। যে এক সময় এর পানী আর এমন লবণাক্ত থাকবে না। অত্যন্ত সুস্বাদু হয়ে যাবে। এমনি এখানে বসবাসের উপযুক্ত হবে অনেক জলজ উদ্ভিদ বা প্রানীর। বিজ্ঞানীরাও এই কথাই বলছে, যে হয়তো এক সময় এর লবনের পরিমান কমে আসবে অনেকটাই।

আরো পড়ুন:  স্টোনহেঞ্জ - হাজারো বছরের রহস্যময় পাথুরে বৃত্ত

ডেড সি তে কি প্রাণ আছে?

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, এই “মৃত সাগর” নামক হৃদ এ কোন প্রানীর বসবাস নেই। কোথাও কোন প্রানের আস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নি । তবে, এই সাগরের যেই স্থান গুলোতে লবনের পরিমান অনেকটা কম সেখানে কিছুটা শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়া জাতীয় কিছু খুঁজে পেয়েছিলো বিজ্ঞানীরা। তাই, ধারনা করা হয় অতিরিক্ত লবনই এখানে প্রাণ না থাকার কারন।

পর্যটন হিসেবে ডেড সি

পর্যটন হিসেবে ডেড সি

পর্যটন হিসেবে ডেড সি

হৃদটি ইসরায়েল ও জর্ডানের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত। দিন দিন জায়গাটি পর্যটকদের কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেক দর্শনার্থী গরমের সময় এখানে পাড়ি জমায়। এখানকার আবহাওয়া যথেষ্ট উপযোগী স্বাস্থের জন্য। তাই, যদি কখনো সময় আর সুযোগ হয় তাহলে ঘুরেই আসুন না, এই ডেড সি বা মৃত-সাগর থেকে।

লেখক: Pritom Pallav

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

2 Responses

  1. April 30, 2018

    […] পান্ডুলিপি হারিয়ে যায়। একই সময়ে, ডেড সী পাদদেশে মধ্যে একটি প্রাচীন স্ক্রল […]

  2. June 6, 2018

    […] পান্ডুলিপি হারিয়ে যায়। একই সময়ে, ডেড সী পাদদেশে মধ্যে একটি প্রাচীন স্ক্রল […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *