টপ ৫: ভারতের সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান

ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা এবং আধুনিকতার মিলনে ভারত এক অনন্য দেশ। আয়নতের দিক থেকে দেশটি বিশ্বে ৭ম এবং জনসংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম। আর তাই দেশটিতে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থানেরও অভাব নেই। প্রতিটি দর্শনীয় স্থান এবং স্থাপনাতেই পাওয়া যায় ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া। আর এই ছোঁয়া হিমালয় পর্বতমালা (Himalayas) থেকে কেরালার (Kerala) গ্রীষ্মমন্ডলীয় শ্যামশোভা এবং পবিত্র গঙ্গা থেকে থর মরুভূমি (Thar desert বা Great Indian Desert) পর্যন্ত বিস্তৃত। তাই চলুন আর দেরি না করে দেখে নেই সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক এই ভারতের সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় ৫ টি স্থান সম্পর্কে:

ভারতের সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান

(Top Tourist Attractions in India)

অজান্তা ও ইলোরা গুহা

অজান্তা ও ইলোরা গুহা

৫. অজান্তা ও ইলোরা গুহা: ভারতের সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থানের লিস্টের ৫ম স্থানে রয়েছে অজান্তা ও ইলোরা গুহা (Ajanta and Ellora Caves)। মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গবাদ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে হায়দ্রাবাদ জেলায় অবস্থিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম এই নিদর্শন। পাথর কেটে তৈরি করা এই অজান্তা ও ইলোরা গুহায় রয়েছে চোখ ধাঁধানো বিভিন্ন স্থাপনা! যার মধ্যে হিন্দু ধর্মের ১৭টি, বৌদ্ধ ধর্মের ১২টি এবং জৈন ধর্মের ৫টি প্রাচীন মন্দির রয়েছে। রাষ্ট্রকুট রাজবংশের সময়কালে নির্মাণ করা করেছিল এই স্থাপনাগুলো। সব ধর্মের উপাসনালয়ের এই সহাবস্থান সে যুগে ভারতবর্ষের ধর্মীয় সম্প্রীতির নিদর্শন বহন করে। এই স্থাপত্য শিল্পগুলো নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই। প্রাচীন ভারতবর্ষের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য্যের এই নিদর্শন দেখতে দেশ-বিদেশের বহু মানুষ ভিড় করেন সেখানে।

রাজস্থানের জয়সালমের

রাজস্থানের জয়সালমের

৪. রাজস্থানের জয়সালমের: লিস্টের ৪র্থ স্থানে রয়েছে রাজস্থানের জয়সালমের (The Golden City Jaisalmer)। পাকিস্তানে সীমান্তবর্তী রাজস্থানের প্রত্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এই জয়সালমের। এটি আসলে রাজস্থানের একটি মরুভুমি অঞ্চল। শহরের বেশিরভাগ পুরানো স্থাপত্য হলুদ বেলেপাথর দ্বারা নির্মিত বলেই এর নামকরন হয় জয়সালমের গোল্ডেন সিটি। শহরের বিভিন্ন দর্শনীও স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হল জয়সালমের ফোর্ট বা জয়সালমের দুর্গ (Jaisalmer Fort), পুরাতন বিভিন্ন আশ্রয়স্থল এবং বড় বড় প্রবেশদ্বার। জয়সালমের ফোর্ট – গোল্ডেন ফোর্ট বা স্বর্ণ দুর্গ নামেও পরিচিত। দুর্গটির প্রধান প্রবেশপথের জন্য বিশাল একটি গেট সহ আরো ৯৯ টি গেট রয়েছে। আর গেট পার হলেই দেখতে পাবেন মহারাজার প্রাসাদ (Maharaja’s Palace)। যার অনেকটা অংশ ইতালি ও চীন থেকে আনা টাইলস দিয়ে তৈরি। তবে সম্পূর্ণ প্রাসাদ দর্শনার্থীদের দেখার জন্য উন্মুক্ত নয়। আর জয়সালমের থেকে আসার আগে অবশ্যই দেখতে ভুলবেন না হাজার বছরের প্রাচীন গ্রন্থাগার, জ্ঞান ভাণ্ডার, যেখানে আছে ১৬ শতকের বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি এবং পুরাকীর্তি।

অম্রতসার এর সোনার মন্দির

অম্রতসার এর সোনার মন্দির

৩. অম্রতসার এর সোনার মন্দির: লিস্টের ৩য় স্থানে রয়েছে অম্রতসার এর সোনার মন্দির (The Golden Temple of Amritsar)। স্বর্ণ মন্দির নামে পরিচিত হলেও এর আসল নাম শ্রী হরমন্দির সাহিব (যার অর্থ ঈশ্বরের মন্দির)। এটি শিখদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান (যদিও অন্যান্য ধর্মের মানুষও এখানে আসে)। মন্দিরটি শিখদের ৫ম গুরু, গুরু অর্জন দেব দ্বারা নির্মিত হয়েছিল যার নির্মাণকাল ১৫৭৭ থেকে ১৬০৪ খ্রীষ্টাব্দ। হিন্দু ও ইসলামী শৈলীর মিশ্রণে নির্মিত এই মন্দিরটির নিচের অংশ মার্বেল দ্বারা নির্মিত যাতে আছে বিভিন্ন ফুল ও পশু-পাখির অবয়ব এবং উপরের বড় সুবর্ণ গম্বুজে রয়েছে একটি পদ্ম ফুল যা শিখদের জন্য বিশুদ্ধতার প্রতীক। তবে ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আফগান আক্রমণে মন্দিরটির কিছুটা অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, যা ১৭৬৪ সালে পুর্নস্থাপিত হয়। আর ১৯ শতকের প্রথম দিকে, রাজা রঞ্জিত সিং মন্দিরটিকে স্বর্ণ দ্বারা সজ্জিত এবং আবৃত করেছিলেন, যার থেকে মন্দিরটি “স্বর্ণ মন্দির” নামে পরিচিত পায়।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: আমেরিকার সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান
বারাণসীর পবিত্র নগরী

বারাণসীর পবিত্র নগরী

২. বারাণসীর পবিত্র নগরী: লিস্টের পরবর্তী স্থানে আছে বারাণসীর পবিত্র নগরী (The Holy City of Varanasi)। গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এই পবিত্র বারাণসী নগরী হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের লোকদের জন্য খুবই পবিত্র এক স্থান এবং এটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন শহরগুলির মধ্যে একটি। এই শহরের ইতিহাস ৪,০০০ বছরের চেয়েও প্রাচীন। আর এজন্যই মার্কিন লেখক, সাহিত্যিক ও প্রভাষক মার্ক টোয়েন একে “ইতিহাসের চেয়েও প্রাচীন” বলে উল্লেখ করেছেন। এখানে দেখার অনেক কিছুই রয়েছে। এখানে আছে ১৭৮০ সালে নির্মিত কাশী বিশ্বনাথ মন্দির (Kashi Vishwanath Temple), কাল ভৈরব মন্দির, সঙ্কটমোচন হনুমান মন্দির, দূর্গা মন্দির এবং অন্নপূর্ণা মন্দির সহ আরো বিভিন্ন মন্দির। আর গঙ্গা নদী ছাড়া তো বারাণসীকে কল্পনা করাই অসম্ভব। পৃথিবীর এই একমাত্র নদী যার মধ্যে জৈব বর্জ্য পদার্থকে ভেঙে নিজেকে শুদ্ধ রাখার ক্ষমতা আছে। গঙ্গা (Holy Ganges River) হিন্দুদের কাছে পবিত্র নদী। তাঁরা এই নদীকে দেবীজ্ঞানে পূজা করেন। তবে ধর্মীয় দিক ছাড়াও আর বিভিন্ন কারনে মানুষ বারাণসী ভ্রমণ করে। আর তাই প্রতি বছর বারাণসী বহু পর্যটকদের এখানে টেনে আনে।

তাজ মহল (Taj Mahal)

তাজ মহল (Taj Mahal)

১. তাজ মহল: আরে!!! এটা তো সবাই জানি? নাকি? হ্যাঁ, এটি বিশ্ববিখ্যাত আগ্রার তাজ মহল (Taj Mahal)। সম্ভবত এটিই ভারতের সবচেয়ে স্বীকৃত ভবন এবং বিশ্বব্যাপী ভালবাসার শক্তির বিখ্যাত সাক্ষী। এর নির্মাণকাল ১৬৩২-১৬৫৩ সাল এবং নির্মাণ করেন তৎকালীন মুঘল সম্রাট শাহ জাহান। তিনি তার মৃত স্ত্রী মুমতাজ মহলের স্মৃতিরক্ষার্থে এই তাজমহলের নির্মাণ করেছিলেন। ফরাসি প্রভাব ও রুচিময় নকশার ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুঘল সাম্রাজ্য শৈলীর নকশা সমগ্র ভবনটিতে রয়েছে। তাজ মহলে দেখা যায় ইসলামিক নকশার অনেক উপাদান যেমন- খিলান, মিনার, পেঁয়াজসদৃশ গম্বুজ, কালো সুতা ইত্যাদি। এর বেশিরভাগ অংশই সাদা মার্বেল পাথরের তৈরি, সূক্ষ্ম পাতলা পুষ্পশোভিত সাজসজ্জা দিয়ে সজ্জিত এবং মূল্যবান এবং আধা-মূল্যবান পাথর যেমন জেড , ল্যাপিস লজুলি, হীরা এবং মুক্তা ইত্যাদি দ্বারা তৈরি। সাদা তাজমহলের পাশাপাশি এখানে বিভিন্ন সুন্দর সুন্দর প্রাসাদ, পুকুর এবং গাছপালা ও ঝোপঝাড়ের সাথে বিস্তৃত শোভাময় বাগানও রয়েছে। এটি বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যগুলির মধ্যে অন্যতম।

ভারতের আরো কিছু দর্শনীয় স্থান: কুতুব মিনার (Qutb Minar), দিল্লীর লাল কেল্লা (Red Fort), ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, লাদাখ, ভারতের প্রবেশদ্বার (Gateway of India), হাওড়া ব্রিজ, হাওয়া মহল (Hawa Mahal), গ্যাংটক, দার্জিলিং, ধর্মশালা (Dharamsala), হযরত বাল মসজিদ, চাঁদনীর চক, জয়পুরের জন্তর মন্তর ও আমের ফোর্ট বা আম্বের দূর্গ (Amer Fort), গোয়ার সমুদ্রসৈকত, দার্জিলিং (Darjeeling) ইত্যাদি।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: ফ্রান্সের সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান
data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *