টপ ৫: মালয়েশিয়ার সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান

এক ঋতুর দেশ মালয়েশিয়া। এখানে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হয়। দেশের অনেকটা অংশ জুড়েই দেখা যায় পাহাড় আর জঙ্গল। দেশটিতে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থানের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বার বারই মনে হবে দেশটির রাস্তা থেকে শুরু করে প্রতিটি স্থাপনা যেন পর্যটক আকর্ষণের জন্যই তৈরী করা হয়েছে। ভ্রমণ খরচ কম হওয়ায় এমনিতেও অনেক ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে মালয়েশিয়াই প্রথম পছন্দ। আর বাংলাদেশিদের বিদেশ ভ্রমনের আগে যে কয়টা দেশের নাম উঠে আসে সেগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়াও অন্যতম। তাই প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক মালয়েশিয়া ভ্রমন করতে যায়। তাই চলুন মালয়েশিয়া ভ্রমণে যাওয়ার আগে জেনে নেই মালয়েশিয়ার সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় ৫ টি স্থান সম্পর্কে:

মালয়েশিয়ার সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান

(Top Tourist Attractions in Malaysia)

বাটু কেভস (Batu Caves)

বাটু কেভস (Batu Caves)

৫. বাটু কেভস: মালয়েশিয়ার সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থানের লিস্টের ৫ম স্থানে রয়েছে বাটু কেভস (Batu Caves)। এটি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এখানে ৩ টি বৃহদাকার এবং বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্রাকার গুহা রয়েছে এবং সবচেয়ে বড় গুহাটির নাম হল মন্দির গুহা। এর সিলিং প্রায় ১২২ মিটার উঁচু। এখানেই রয়েছে বাটু কেভস (Batu Caves)। বাটু কেভস অর্থাৎ শ্রী শুব্রমানিয়ার মন্দির হল প্রভু মুরুগান (হিন্দু দেবতা)-এর প্রতি উৎসর্গীকৃত হিন্দু মঠ। এর বয়স আনুমানিক ৪০ কোটি বছর। পূণ্যার্থীদের সে মন্দিরে পৌঁছাতে ২৭২ ধাপ সিড়ি বেয়ে উঠতে হয়।

তামান নেগারা (Taman Negara)

তামান নেগারা (Taman Negara)

৪. তামান নেগারা: লিস্টের ৪র্থ স্থানে রয়েছে তামান নেগারা (Taman Negara)। তামান নেগারা, আক্ষরিকভাবে এই মালয় শব্দটির অর্থ হল “জাতীয় উদ্যান”। এটি বিশ্বের প্রাচীনতম ট্রপিক্যাল রেইনফরেস্ট এর মধ্যে একটি। এখানে বৃহদায়তন গাছের পাশাপাশি রয়েছে অনেক ঝরনা, জলপ্রপাত। রয়েছে জঙ্গলের মনোরম পরিবেশে ট্রেকিংয়ের সুব্যবস্থা। আরও রয়েছে চাঁদের আলোয় ঢাকা পৃথিবীর দীর্ঘতম পায়ে হাঁটার উপযোগী পথ। এশিয়ার বুক থেকে বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীদের জন্য তামান নেগারাকে (Taman Negara) বলা হয় স্বর্গ। এদের মধ্যে এশিয়ান হাতি, বাঘ, চিতা এবং গন্ডার উল্লেখযোগ্য। কিন্তু সংখ্যায় কম হওয়ায় এদের সচরাচর তেমন একটা দেখা যায় না। তবে এই বিষয়ে নিশ্চিত থাকুন যে আপনি বহু প্রজাতীর পাখি ও ছোট প্রাণী দেখতে পাবেন সেখানে।

মাউন্ট কিনাবালু (Mount Kinabalu)

মাউন্ট কিনাবালু (Mount Kinabalu)

৩. মাউন্ট কিনাবালু: মালয়েশিয়ার সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থানের লিস্টের ৩য় স্থানে রয়েছে মাউন্ট কিনাবালু (Mount Kinabalu)। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে অবস্থিত সর্বোচ্চ পর্বত। এর উচ্চতা ৪,০৯৫ মিটার। এটি মালয়েশিয়ায়ও সর্বোচ্চ পর্বত। এই পর্বত ও এর আশপাশের অনেকটা এলাকা নিয়ে সংরক্ষিত কিনাবালু পার্কটি মালয়েশিয়ার প্রথম বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (World Heritage Site)। রহস্যময় এই মাউন্ট কিনাবালু (Mount Kinabalu) সাধারণত মেঘের মধ্যেই আবৃত থাকে। তবে যে মৌসুমই হোক না কেন, পর্বতশৃঙ্গটি সারাবছর ধরেই শান্তি ও নির্মলতাকে আহ্বান জানায়। এর তাজা, শীতল বায়ু ভ্রমণার্থীদের যেন পুর্ননবীন ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান
পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার (Petronas Twin Towers)

পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার (Petronas Twin Towers)

২. পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার: লিস্টের পরবর্তী স্থানে আছে পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার (Petronas Twin Towers)। ২০০৪ সালে “তাইপে ১০১” নির্মাণের আগে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত এই পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন (উচ্চতা ৪৫২ মিটার )। যদিও এখনও এরাই বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা টুইন বিল্ডিং। ৮৮ তলা বিশিষ্ট এই পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার (Petronas Twin Towers) এর নির্মাণ কৌশলে মালয়েশিয়ার মুসলিম সংস্কৃতির প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের ৪১ তম ও ৪২ তম ফ্লোর থেকে দুটি টাওয়ারের মধ্যে একটি সংযোগ সেতু রয়েছে যার নাম স্কাইব্রিজ। ৫০ রিঙ্গিত বা ১২শ টাকার বিনিময়ে যেকোনো দর্শনার্থী উঠতে পারবেন পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের এই স্কাইব্রিজে।

মুলু কেভস (Mulu Caves)

মুলু কেভস (Mulu Caves)

১. মুলু কেভস: মালয়েশিয়ার পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান হল মুলু কেভস (Mulu Caves)। এটি একটি গুহা (কেভ>Cave>গুহা)। গুহাটি মালয়েশীয় বোর্নিও এর গুনুং মুলু ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত। পার্কটি অবিশ্বাস্যভাবে অনেকগুলো গুহা দ্বারা ঘেরা। এই ভূগর্ভস্থ গুহাগুলির একটিতে পাওয়া সরওয়াক (Sarawak) গুহাপ্রকোষ্ঠটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গুহা গুহাপ্রকোষ্ঠ। বলা হয়ে থাকে যে, এর প্রকোষ্ঠের আকার এতই বড় যে, এর ভেতরে অনায়াসে ৪০টি বোইং-৭৪৭ উড়োজাহাজ এটে যেতে পারে এবং তাও কোন পাখা ওভারল্যাপিং না করে। দর্শনার্থীদের ভ্রমণ মূলত শেষ হয় ‘গার্ডেন অব ইডেন’ নামক এক জায়গায় যেয়ে। তবে কপাল ভালো হলে, আর আবহাওয়া ভালো থাকলে বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দর্শনার্থীরা চাইলে মুলু কেভসের (Mulu Caves) অন্যতম এক আকর্ষণ উপভোগ করতে পারবেন আর তা হল লাখো বাদুড়ের একসঙ্গে সান্ধ্যভ্রমণের দৃশ্য।

মালয়েশিয়ার আরো কিছু দর্শনীয় স্থান: লেগোল্যান্ড থিম পার্ক, মালাক্কা সিটি (Malacca City), ইশতানা বুদায়া, বুকিত বিনতাঙ্গ (Bukit Bintang), ক্যামেরুন পার্বত্য অঞ্চল (Cameron Highlands), অ্যাকোয়ারিয়া কে.এল.সি.সি, আ’ফ্যামোসা রিসোর্ট (A’Famosa Resort), কুয়ালালামপুর টাওয়ার, পুলাউ তিওমান (Pulau Tioman), পারহেন্টিয়ান আইল্যান্ড (Perhentian Islands), পেনাং (Penang), লংকাউই (Langkawi), গেনটিং পার্বত্য অঞ্চল ইত্যাদি।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: ভারতের সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান

আরো পড়ুন:  টপ ৫: ফ্রান্সের সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান
আরো পড়ুন:  টপ ৫: সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *