মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো: আফ্রিকার ছাদ নামে পরিচিত সুপ্ত আগ্নেয়গিরি

মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো, ওরফে “আফ্রিকার ছাদ” বা “দ্য রুফটপ অফ আফ্রিকা” হল একটি যৌগিক সুপ্ত আগ্নেয়গিরি, যা পূর্ব আফ্রিকার দেশ তাঞ্জানিয়ার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। তুষারময় শিখর সহ, পর্বতটি সাভানা (নিষ্পাদপ প্রান্তর)-কে আয়ত্ত করে আছে। এটি “আফ্রিকার সাতটি প্রাকৃতিক বিস্ময়”-এর এক অন্যতম হিসাবে গণ্য হয়। কিলিমাঞ্জারো জাতীয় উদ্যান, আগ্নেয়গিরি স্তূপপর্বতটির সংরক্ষণ ও প্রতিরক্ষা করে। পর্বতটি বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদকুল ও প্রাণিকুল সহ পরিপূর্ণ। অনেক বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী এই উদ্যানে রয়েছে।

আফ্রিকার ছাদ মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো

আফ্রিকার ছাদ মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো

আফ্রিকার ছাদ মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো

কিলিমাঞ্জারো নামটি রহস্যে মোড়া। নাম সম্পর্কে সন্দেহাতীত ধারণা বিবিধ জল্পনার জন্ম দিয়েছে; যেমন গরিমাময় পর্বত (মাউন্টেন অফ গ্রেটনেস), আলোর পর্বত (মাউন্টেন অফ লাইট) বা ক্যারাভেনের পর্বত (মাউন্টেন অফ ক্যারাভেন)। তবে, চাগা গোষ্ঠীর স্থানীয় মানুষেরা শৃঙ্গটির কোনও নাম রাখেনি।

কিলিমাঞ্জারো অঞ্চলটি ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো দ্বারা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়।কিলিমাঞ্জারো ন্যাশনাল পার্ক ৭৫.৫৭৫ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে। ৫,৮৯৫ মিটার উচ্চতায় উপনীত পর্বতের সর্বোচ্চ কেন্দ্রবিন্দুটি, কিলিমাঞ্জারো-কে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বত রূপে গড়ে তুলেছে।

একটা অনুপ্রেরণা, একটা রঙিন এবং অনেক আশার খবর

তারা সবাই স্কুলছাত্র। ক্লাস নাইন অথবা ক্লাস টেন। এর মধ্যেই তারা ছুঁয়ে ফেলল বিশ্বের অন্যতম খ্যতনামা পর্বতশৃঙ্গ। ভারতের বেঙ্গালুরুর ইন্ডাস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আট ছাত্র, সিদ্ধার্থ সিংহ, তারুশ হ্যারিস, মিহির কংসল, আর্যমান বর্মা, যশমেহের সিংহ, রাহুল রাও এবং উইলিয়াম যোসেফ আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোর শীর্ষে পা রাখল সম্প্রতি।

সুপ্ত আগ্নেয়গিরি মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো

সুপ্ত আগ্নেয়গিরি মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো

স্কুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দশ দিনের এই অভিযান শুরু হয়েছিল ২৪ সেপ্টেম্বর এবং তা শেষ হয়েছে ৩ অক্টোবর। ২৯ সেপ্টেম্বর দলটি কিলিমাঞ্জারোর চূড়ায় পৌঁছায়। তার আগে ৩৬ কিলোমিটার তারা ট্রেক করে।

১৯,৩৩৬ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোয় ভারতীয় কিশোরদের এই আরোহণকে স্বাগত জানিয়েছে পর্বতারোহী মহল।

আরেকটি খবর

সাতটি মহাদেশের সাতটি উচ্চতম শৃঙ্গ ছুঁয়ে রেকর্ড গড়লেন ভারতের দেরাদুনের দুই যমজ বোন। দুই বছর আগে আফ্রিকার মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো থেকে শুরু হয়েছিল তাশি ও নাঙ্গশি মালিকের অভিযান। এরপর পাহাড় জয়ের নেশায় বুঁদ হয়ে ওঠেন বছর তেইশের এই দুই তরুণী।

একে একে মাউন্ট এভারেস্ট (এশিয়া), মাউন্ট এলব্রুস (ইউরোপ), মাউন্ট অ্যাকনক্যাগুয়া (দক্ষিণ আমেরিকা), মাউন্ট কারস্টেনস পিরামিড (ওশেনিয়া) ও মাউন্ট ম্যাকিনলের (উত্তর আমেরিকা) শীর্ষ জয় তাঁদের সাফল্যের মুকুটে পালক জুড়তে থাকে। শেষ সংযোজনটি হয় এন্টার্কটিকার মাউন্ট ভিনসন ম্যাসিফ জয়ের পর। ১৬ ডিসেম্বরের এই সাফল্যের পরই রেকর্ডের খাতায় নাম ওঠে তাঁদের। সাতটি মহাদেশের সাতটি উচ্চতম শৃঙ্গে আরোহণকারী প্রথম যমজ বোনের স্বীকৃত পান তাঁরা।

আফ্রিকার মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো

আফ্রিকার মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো

দেরাদুনের জোহরি গ্রামে জন্ম দুই বোনের। মালিক পরিবারে তাঁরাই প্রথম পর্বতারোহী। তবে পাহাড়ের প্রতি এই ভালোবাসার ক্ষেত্রে তাঁদের বাবা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ভি এস মালিকের অবদান যে যথেষ্ট, তা এক কথায় স্বীকার করে নিচ্ছেন দুই বোন।

বাবার উৎসাহেই ২০০৯ সালে উত্তরকাশীর ‘নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং’ এর বেসিক মাউন্টেনিয়ারিং কোর্সে যোগ দেন দুই বোন। এরপর পাহাড়ের প্রেমে পড়ে যাওয়া, আর সেই ভালোবাসাকে সম্বল করেই অ্যাডভান্স, সার্চ, রেসকিউ ও মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্ট্রাকটরের কোর্সে যোগ দেওয়া। মেয়েদের এই সাফল্যে তাই সবচেয়ে খুশি তাঁদের বাবা।

গর্বিত বাবা জানান, ১৬ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা নাগাদ ভিনসন শৃঙ্গে পৌঁছান দুই বোন। এবার তাদের লক্ষ্য ‘এক্সপ্লোরার্স গ্র্যান্ড স্লাম‘।

সবশেষে বলে রাখি, বাঙালিরাও পিছিয়ে নেই। এভারেস্ট জয়ী ওয়াসফিয়া নাজরিনও এই পর্বত হেসে-খেলে জয় করেছেন। যার কারণে (সাতটি পর্বত জয়ের কারণে) তিনি পেয়েছেন ‘সেভেন সামিট‘ জয়ের খেতাব।

লেখক: ইমরান হোসাইন ইমু

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *