মাউন্ট ফুজি: এশিয়ার ও জাপানের অকৃত্রিম গৌরব

৩,৭৭৬ মিটার উঁচু মাউন্ট ফুজি কখনো স্থানীয়ের কাছে উপাসনার আরাধ্য, কখনো শিল্পীর চোখে ক্যানভাসের বিষয়ভাবনা, কখনো-বা পর্যটকের প্রশ্নাতীত গন্তব্য। আগ্নেয়গিরি সদৃশ এই সুউচ্চ জাপানি পর্বতটি যার চোখে যেমনই হোকনা কেন, পৃথিবীর বুকে প্রকৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি নিঃসন্দেহে। কারো কারো মতে, হিমালয়ের পরে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর পর্বত এই মাউন্ট ফুজিই।

জাপানের অকৃত্রিম গৌরব মাউন্ট ফুজি

মাউন্ট ফুজি
মাউন্ট ফুজি

শুনলে আশ্চর্য হবেন, মাউন্ট ফুজি বাস্তবিকই একটি আগ্নেয়গিরি। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নিরীহ এই পর্বতটি থেকে সর্বশেষ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল তিন শতাব্দী আগে। তারপর থেকে আজ অব্দি এটি সৌন্দর্য্য বিলিয়ে গেছে অকাতরে। তাইতো প্রতি বছর অগণিত মানুষ জাপানে ভীর করে এর অনন্য সৌন্দর্য্য উপোভোগ করতে।

মাউন্ট ফুজি জাপানের শিজুকা আর ইয়ামানশি প্রদেশের সীমান্তে অবস্থিত। কিন্তু এটি উচ্চতায় এতই বিশাল যে রৌদ্রজ্জ্ব্যল দিনে টোকিও আর ইয়োকোহামা থেকেও একে দেখা যায়। মাউন্ট ফুজির অপার সৌন্দর্য্য উপভোগের আরো একটি চমৎকার উপায় হল ট্রেন। রেলের একাধিক পথে মাউন্ট ফুজি চোখে পড়লেও সবচেয়ে আকর্ষণীয় হল টোকিও-ওসাকা রুটটি। ৪০ মিনিটের এই যাত্রায় শিন-ফুজি রেলস্টেশনের অংশ থেকেই পর্বতটিকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় রূপে দেখা যায়।

নিরীহ আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ফুজি
নিরীহ আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ফুজি

তবে এই সবকিছুই নির্ভর করবে আবহাওয়ার মেজাজের ওপর। মেঘ বা কুয়াশায় ঢাকা দিন আপনাকে হতাশ করতে পারে। তাই মাউন্ট ফুজি দেখে আসতে চাইলে বর্ষা আর শীত মৌসুম এড়িয়ে যেতে হবে। অন্যদিকে খুব সকাল আর শেষ বিকেল হল সারা দিনের মধ্যে সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। আর আপনি যদি দূর থেকে দেখার চেয়ে স্বশরীরে আলিঙ্গন করে আসতে চান পর্বতটিকে, আছে সেই সুযোগও। তবে সবসময় নয়। কারনে চাইলেও সেই অনুমুতি নেই। বছরে শুধুমাত্র জুলাই আর অগাস্ট মাসেই মাউন্ট ফুজিতে পর্বোতারোহণের অনুমতি দেয় স্থানীয় কতৃপক্ষ।

দুই বাংলাদেশির জাপানের ফুজি পর্বত জয়

দুই বাংলাদেশির জাপানের ফুজি পর্বত জয়
দুই বাংলাদেশির জাপানের ফুজি পর্বত জয়

শিরোনামটা চমকে উঠার এবং একইসাথে গৌরবেরও বটে। ২০ আগষ্ট- জাপানের শিজুওকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি গবেষক নজরুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম ১৮ আগস্ট জাপানের মাউন্ট ফুজি জয় করেছেন।

এই দুই গবেষক জানান, মাউন্ট ফুজি (ফুজি-সান) জাপান তথা বিশ্বের সবচেয়ে সৌন্দর্যময় পর্বতশৃঙ্গ, যার উচ্চতা ৩,৭৭৬ মিটার (১২,৩৮৯ ফিট)। রাজধানী টোকিও থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে হনশু দ্বীপে জাপানের এই সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ও বিশ্বখ্যাত ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরিটি। আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে শেষ একবার এর ঘুম ভেঙেছিল। তারা জানান, ইউনেস্কো মাউন্ট ফুজিকে বিশ্ব প্রাকৃতিক হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

এশিয়ার শ্বেতশুভ্র মুকুট মাউন্ট ফুজি
এশিয়ার শ্বেতশুভ্র মুকুট মাউন্ট ফুজি

গবেষক নজরুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে গত ১৭ আগস্ট শিজুওকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জনের একটি দল জাপানের স্থানীয় সময় রাত ৮টায় পর্বতারোহন শুরু করেন। টানা ১০ ঘণ্টা পর সকাল ৬টায় (১৮ আগস্ট) সর্বপ্রথম সফল ফুজি জয় করেন নজরুল ইসলাম এবং এর ১৫ মিনিটের মাথায় জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও এক মঙ্গোলিয়ান নারী ও এক আলজেরিয়ান তরুণের সফল অভিযান সম্পন্ন হয়। জাপানের এই সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে একঘণ্টা অবস্থানের পর তারা সকাল ১১টায় নিরাপদে প্রত্যাবর্তন করেন।

এ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও আনুষঙ্গিক খরচ তারা ব্যক্তিগতভাবেই বহন করেছেন। পর্বতারোহনের সময় মাঝে মাঝে অক্সিজেন স্বল্পতা, ঠাণ্ডা বায়ুপ্রবাহ ও নুড়িপাথর কিছুটা প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে। তবে জাপানের সর্বোচ্চ তথা বিশ্বের সবচেয়ে সৌন্দর্যময় এই পর্বতশৃঙ্গে আরোহন করতে পেরে গবেষক নজরুল ইসলাম এবং জাহাঙ্গীর আলম গর্বিত ও আনন্দিত।

দৃঢ় মনোবল, ইচ্ছাশক্তি আর সাহস থাকলে পৃথিবীর যে কোনো কিছুই জয় করা সম্ভব বলে জানান দলনেতা নজরুল ইসলাম।

সোর্স: Wikipedia এবং Banglatey

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 Shares
Share via
Copy link