সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া: প্রায় ২০০ বছর ধরে নির্মাণাধীন যে গির্জা

প্রায় ২০০ বছর ধরে নির্মাণাধীন সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া

প্রায় ২০০ বছর ধরে নির্মাণাধীন সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া

আমরা ফুটবলের আশীর্বাদে বার্সেলোনা নামটার সাথে কম বেশী পরিচিত। এই বার্সেলোনা হলো স্পেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং কাতালোনিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজধানী। কিছুদিন আগেই এখানে একটা স্বাধীনতা আন্দোলন হয়ে গেলো। সে যাই হোক, আজকের আলোচনার বিষয় হল এই স্থানে অবস্থিত ‘সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া’। এটি ফুটবলের জন্য বিখ্যাত হলেও লন্ডনের বিগ বেন (ঘড়ি), প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যাচু অব লিবার্টি, ভারতের তাজমহল এর মতো বার্সেলোনা শহরের প্রতীক। পর্যটকদের কাছে বার্সেলোনা শহরের মূল আকর্ষণ ‘সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া’ চত্বর। যেখানে স্থপতি অ্যান্টনি গাউদির অসমাপ্ত গির্জাটি দেখে দর্শকদের চোখেমুখে বিস্ময় ফুটে ওঠে, এবং ভাবে কিভাবে এত সুন্দর ইমারত নির্মাণ সম্ভব ৷ ৩০ লাখ মানুষ প্রতি বছর ‘সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া’ চত্বরে আসেন এর রূপ সুধা পান করতে। সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়ার অফিসিয়াল পেইজে লিখা আছে, “arquitectura, Gaudí va recórrer a la llum. Els raigs solars fan brillar els pinacles situats al capdamunt de totes les torres i dels finestrals. El sol de llevant il·lumina les portalades de la façana del Naixement, i accentua la joia de la vida que és el naixement de Jesús.” (Works of Antoni Gaudí, UNESCO World Heritage Centre, Retrieved 14 November 2010).

প্রায় ২০০ বছর ধরে নির্মাণাধীন সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া

অপূর্ব সুন্দর সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া

অপূর্ব সুন্দর সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া

১৮৮২ সালে ফ্রান্সিসকো পাওল ভিলারের অধীনে এই প্রকল্প শুরু হয়। ভিলারিয়ার কাজ শুরুর এক বছর যেতে না যেতেই তাকে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং কাজে যুক্ত হন গাউদি। তিনিও এই প্রকল্প শেষ করে যেতে পারেন নি বটে কিন্তু এই শেষ না করাটাই যেন এই মন্দির বা ক্যাথাডালের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। যেন উপন্যাসের শেষ পাতাই কিছু একটা থাকার কথা ছিল কিন্তু নেই। এই সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া প্রকল্পের কাজ শেষ না হলেও এর সৌন্দর্যের শেষ নেই। এর দুই পাশে আছে চারটি করে মিনার। মিনারের মাথায় আবার গোলাকার চাকতি বসানো। আপনারা যারা সুড়ঙ্গ কাটার মেশিন দেখেছেন, তারা বুঝতে পারবেন অনেকটা সেই রকম। দুই পাশে চারটি চারটি করে আটটি মিনার এবং মাঝের অংশটি উপবৃত্তাকার হীরক খন্ডের মত । এবং মিনারের শরীর আমাদের দেখা সাধারণ মিনারের মত মসৃণ নয়। খাজ কাটা খাজ কাটা। যেন বায়ু এবং আলো চলাচলের জন্য তৈরি। এটা বিখ্যাত স্থান তাই দিন দিন  পর্যটকদের ভিড়ে সাগরাদা ফামিলিয়া সংলগ্ন এলাকার চরিত্র বদলে আমূল  যাচ্ছে, স্থানীয় বাসিন্দারা পড়েছেন বিপদে। পর্যটকের চাপে এখান কার অধিবাসীদের জনজীবন সমস্যার মুখোমুখি।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: স্পেনের সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান
সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়ার ভিতরের দিক

সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়ার ভিতরের দিক

ফ্যার্নান্দো লাস্ত্রা ও ফ্রানসিস্কো বোয়েরা তাদের পরিবারসহ প্রায় ৪০ বছর  ধরে এখানে বসবাস করছেন। তাই বলাই যায়, এই সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়ার বিখ্যাত হবার পিছে এই পরিবার সংক্রান্ত ঘটনাও জড়িত ৷ এটাই তাঁদের বাড়ি ছিলো, যদিও আজ তা পর্যটন এলাকা। পরিবারের শিশুরা এখানেই বড় হয়েছে, কত হাসি কান্না এই প্রাসাদের প্রতিটা ইট, পাথরে লেগে আছে৷ এর আরেকটি কারিশমা হল এর খোলা চত্বর। কিন্তু জায়গাটিকে ঘিরে এত মাতামাতি এখান কার বাসিন্দারা  আর সহ্য করতে পারছেন না৷ এখানকার এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘‘আগে এই আবাসিক এলাকায় দিব্যি আরামে হাঁটাচলা করা যেত৷ এখন শুধু অস্থির পরিবেশ৷”এবং আরো অনেক  প্রতিবেশী মনে করেন, ‘‘এখন জায়গাটা অনন্দের স্থান এবং পার্কে পরিণত  হয়েছে”।

সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া

সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া

আর যেখানে পর্যটক সেখানে কার-বাস এবং প্রচুর  প্রতারক – পকেটমার, এখানে জড়ো হয়েছে। আসলে পৃথিবীর সকল পর্যটণ এলাকাই প্রতারক, পকেট মারদের স্বর্গ রাজ্য। তবুও স্পেন সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। যা আমাদের সরকার নিচ্ছে না। আমরা যদি আমাদের দেশের পর্যটন ক্ষাত কে উন্নত করি তবে তা আমাদের অন্যতম আয়ের উৎসে পরিণত হবে। এই বৃহৎ প্রকল্পকে রক্ষা করার জন্য স্পেন সরকার কিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে,যেমন এই এলাকাটাকে বিশেষ ভাবে সংরক্ষণ করা। আশেপাশে যাদের বাড়ি – ঘর আছে তাদেরকে যথাযথ মূল্য দিয়ে অন্য স্থানে বাড়ি বানিয়ে দেওয়া।

অনেকেই বলছে এই এলাকায় আমাদের অনেক স্মৃতি রয়েছে৷ কাছেই এখনকার মতো কোনো বিকল্প বাসা পাবো কিনা জানি না৷ না পাবারই কথা!  তবুও স্পেনের সাধারণ জনগণ তাদের স্থাপনা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।

Sources : Wikipedia, DW or Deutsche Welle.

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

1 Response

  1. September 14, 2018

    […] সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *