নুশোয়ানসেই দুর্গ: সত্যিকারের “স্লিপিং বিউটি” রাজপ্রাসাদ

ডিজনিল্যান্ডের বিখ্যাত স্লিপিং বিউটি প্রাসাদটির কথা মনে আছে? খুবই দৃষ্টিনন্দন, তাই না? কিন্তু আপনি কি জানেন, ডিজনিল্যান্ডের বিখ্যাত সেই স্লিপিং বিউটি প্রাসাদটি সত্যিকারের একটি দূর্গ অনুকরণ করা হয়েছে। এই রাজপ্রাসাদটি অবস্থিত জার্মানির বেভারিয়া অঞ্চলের শোয়াংগুতে। আর নাম? নুশোয়ানসেই দুর্গ (Neuschwanstein Castle)

সত্যিকারের “স্লিপিং বিউটি” – নুশোয়ানসেই দুর্গ

সত্যিকারের "স্লিপিং বিউটি" - নুশোয়ানসেই দুর্গ
সত্যিকারের “স্লিপিং বিউটি” – নুশোয়ানসেই দুর্গ

নুশোয়ানসেই দুর্গের আরেক নাম হলো পরী রাজার দুর্গ! এই স্বপ্ন দুর্গ, পরীদের রাজার দুর্গ বা জাদুর দুর্গ বা যা বলেই একে সম্বোধন করা হোক এই দুর্গের নামের সাথে এর সামঞ্জস্যতা মিলে যায় এবং তা খুব ভাল ভাবেই। এই দুর্গের সাথে জড়িত বেভারিয়া (এটা সেই বেভারিয়া যেই বেভারিয়া হিটলার, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ইত্যাদি ঘটনার সাথে সম্পর্কিত), প্রুশিয়া, অস্ট্রিয়া। রাজা দ্বিতীয় লুডউইগ (King Ludwig II) এই দুর্গ বানানোর জন্য নির্দেশ দেন, কিন্তু তিনি এর পরিপূর্ণতা দেখে যেতে পারেন নি! অনেকটা প্রাচীন ইতিহাসের কানুনের মত যে তার প্রজাদের নির্দেশ দিয়েছিলো স্বর্গ বানানোর জন্য। সেই স্বর্গ যখন বানানো হলো তখন কানুন কে খবর দেওয়া হলো।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো কানুন যখন ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে স্বর্গের দরজায় এক পা দিলো ঠিক তখন সে মারা গেলো! কিন্তু বেভারিয়ার এই রাজার ভাগ্য ঠিক কানুনের মতো খারাপ ছিলো কিনা তা নিয়ে ঐতিহাকরা বিতর্ক করুক। আমরা আসি দ্বিতীয় লুডউইগ এর কথায়। তিনি এই দুর্গ বানানো শুরু করেন অস্ট্রো-প্রুশিয়া যুদ্ধের ২ বছর পরে। এই যুদ্ধে তিনি পরাজিত হন এবং এই দুর্গে এসে আশ্রয় নেন। যদিও তখন দুর্গটি নির্মাণাধীন ছিলো। তিনি এই দুর্গে নিজের শেষ রাজত্ব টিকিয়ে রেখেছিলেন এবং তার মৃত্যুর ৬ বছর পর এই দুর্গের কাজ সম্পূর্ণ হয় এবং যা পরে জনগণের আকর্ষণের পরিণত হয়। যা আজ সাড়ে পনেরো লক্ষে পৌছিয়েছে। এই দুর্গের প্রধান বৈশিষ্ট্য গুলো হল এর ইতিহাস, অবস্থান, নির্মাণ শৈলী এবং উপযোগিতা।

ইতিহাসের ক্ষেত্রে বলা যায় এই দুর্গের পিছে আছে বেভারিয়ার উত্থান – পতন, দ্বিতীয় লুডুইগের ভালবাসা এবং অস্ট্রো-প্রুশিয়া যুদ্ধ। রাজা দ্বিতীয় লুডউইগ চেয়েছিলেন এটাকে ইতিহাসের অংশ করতে এবং তিনি যে পুরোমাত্রায় সফল হয়েছিলেন তা আমরা দেখতে পায় আজকের নিউশোস্টেইন দুর্গের অবস্থান দেখে। এই দুর্গ আজ নিজেই ইতিহাস! যা সময় কে যেন থামিয়ে দিয়েছে।

আর অবস্থানগত ভাবে ব্যাখ্যা করতে গেলে,  এটাকে দেখে  প্রথমেই মনে হবে এটা পাহাড় ফুঁড়ে আকাশের দিকে দোর্দণ্ডপ্রতাপে ভ্রুক্ষেপ করছে। যারা দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস বা এই শ্রেণীর মুভি দেখেছেন তারা সহযেই বুঝতে পারবেন এর সৌন্দর্যের কথা। যেনো সবুজ জঙ্গল ঘেরা পাহাড় বেষ্টিত কোনো রূপকথার দুর্গ!

উপর থেকে নুশোয়ানসেই দুর্গ
উপর থেকে নুশোয়ানসেই দুর্গ

এই দুর্গের নির্মাণশৈলীতার ক্ষেত্রে কিছু উল্লেখ করতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে এর শৈল্পিক পিলারের কথা যা কিনা মূল কাঠামো ভেদ করে আকাশের দিকে ধাবিত হয়েছে। এর অবকাঠামোগত দৃঢ়তা যা এক অপার বিশ্বময়! আর উপযোগিতার ক্ষেত্রে তেমন কিছুই বলার নেই। এর মূল উদ্দেশ্য ছিলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কারন অবশেষে এটা ছিলো একটি সামরিক দুর্গ।

জার্মানির বেভারিয়ার এই  ২১৩ ফুট টাওয়ারের নীচে দ্বিতীয় লুডউইগ অবকাশ যাপন করত। এই সৌন্দর্য প্রেমি শাসক এখানেই দুর্গ বানাতে চেয়েছিলেন কারণ এখানে তার শৈশব কাটিয়েছিলেন।এই দ্বিতীয় লুডুইগ হলেন কিছুটা হেঁয়ালি এবং খামখেয়ালি, আর তাইত তার খামখেয়ালি থেকে সৃষ্টি হয়েছে এই অপার বিশ্বময় যা আজ জার্মানের আয়ের উৎস। গ্ৰীষ্মকাল বা শীত, সব ঋতুতেই এই দুর্গ আলাদা রূপ ধারণ করে। বিশেষ করে শীতে যখন বরফ পরে তখন এই দুর্গ আরো সুন্দর লাগে।

আর তাইতো প্রতিদিন ৬০০০ পর্যটক ভিড় করে এই দুর্গের রূপ সুধা পান করতে। প্রতিটি দেশের প্রাচীন নিদর্শন সেই দেশের পর্যটক ক্ষাত কে সমৃদ্ধ করে। আর তা যদি হয় এই নিউশোস্টেইন দুর্গের মত, তবে তো তা দেশের আর্থিক আয়ের পাশাপাশি জাতীয় মর্যাদা বর্ধন করে।আমাদেরো উচিত বাংলাদেশের পর্যটন ক্ষাতকে আরো সমৃদ্ধ করা যেমন জার্মান সরকার করেছে। তাহলে আমরা আমাদের জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতিগত মর্যাদা বৃদ্ধি করতে পারব।

লেখক: রকিব হাসান

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 Shares
Share via
Copy link