সিডনি অপেরা হাউজ: সিডনির বিখ্যাত অপেরা হাউজ এর বৃত্তান্ত

অস্ট্রেলিয়া দেশটি হলো একটি দ্বীপ-মহাদেশ। এটি মূলত এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে ওশেনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত। কাছাকাছি দ্বীপ তাসমানিয়া নিয়ে এটি কমনওয়েল্‌থ অফ অস্ট্রেলিয়া গঠন করেছে। দেশটির উত্তরে তিমুর সাগর, আরাফুরা সাগর, ও টরেস প্রণালী, পূর্বে প্রবাল সাগর এবং তাসমান সাগর, দক্ষিণে ব্যাস প্রণালী ও পশ্চিমে ভারত মহাসাগর। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মহাদেশ হিসেবে বিবেচিত হলেও, এটি কিন্তু ৬ষ্ঠ বৃহত্তম দেশ। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর হলো ক্যানবেরা। সিডনী এর বৃহত্তম শহর। সিডনি অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত দেশটির সবচেয়ে জনবহুল শহর। সিডনিতে প্রায় ৪৩ লক্ষ লোক বাস করে। সিডনি শহরটি নিউ সাউথ ওয়েল্‌স অঙ্গরাজ্যের রাজধানী। আর এখানেই রয়েছে সিডনির বিখ্যাত অপেরা হাউজ (Sydney Opera House)।

সিডনি অপেরা হাউজ

সিডনি অপেরা হাউজ

সিডনি অপেরা হাউজ

সিডনি বন্দরের বেনেলং পয়েন্টে এর অবস্থান। এটি দেখতে সাধারণত নৌকার পাল আকৃতির ন্যায়। বর্তমান সময়ে বিশ্বের কোটি কোটি পর্যটকদের আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে এই সিডনি অপেরা হাউজ। আর এই অপেরা হাউজটি মহাসাগরের এক প্রান্তে তৈরী করা হয়েছে যা দেখতে অনেকটা উপত্যকার মতো।

১৯৫৬ সালে অপেরা হাউজটি  নির্মাণের  জন্য  নকশা  আহ্বান  করা  হয়। আর ১৯৫৭ সালে অপেরা হাউজের নকশা  অনুমোদন  পায়। সারা বিশ্ব থেকে ২৩৩ টি নকশা জমা পড়ে। এ নকশাগুলোর মধ্যে থেকে সুইডেনের স্থপতি জর্ন অটজানের ডিজাইনটি চূড়ান্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আর তিনি এ নকশার জন্য ৫ হাজার পাউন্ড পুরস্কার পান। অপেরা হাউজটি নির্মাণের পরিকল্পনা চার বছর সময় ধরা হয়। কিন্তু এটি নির্মাণে ১৪ বছর লেগে গিয়েছিলো। ১৯৫৯ সাল থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় ১০ হাজার কর্মী অপেরা হাউজটি নির্মাণ করেন। ১.৬২ হেক্টর জায়গাজুড়ে নির্মিত অপেরা হাউজের ছাদ তৈরিতে প্রায় ১০ লাখ টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে। এই টাইলসগুলো বানানো হয়েছে সুইডেনে।

স্থাপনাটির ভেতরে রয়েছে ২,৬৭৯ সিটের কনসার্ট হল, ১৫০৭ সিটের আপেরা থিয়েটার, ৫৪৪ সিটের ড্রামা থিয়েটার, ৩৯৮ সিটের প্লে হাউস এবং ৪০০ লোক একসাথে কাজ করার মতো স্টুডিও। কনফিগারেশন পরিবর্তন করে এইসব হলের আয়তন ও সিট ক্যাপাসিটি বাড়ানো বা কমানো যায়। বছরে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ এই অপেরা হাউজ পরিদর্শনে আসেন।

সিডনি অপেরা হাউজের ভিতরের অংশ

সিডনি অপেরা হাউজের ভিতরের অংশ

থিয়েটার বা স্টেজ শো-এর পাশাপাশি অপেরা হাউজটি ঘুরে দেখার ব্যবস্থাও রয়েছে। ছোট ছোট দল বা ব্যক্তি টিকিটের বিনিময়ে অপেরা হাউজ ঘুরে দেখতে পারেন। নবাগত পরিদর্শকদের অপেরা হাউজ দেখানোর জন্য বেশ কয়েকজন গাইড রয়েছেন। পরিদর্শনের সময় গাইডরা দর্শনার্থীদের এই স্থাপনা নির্মাণের ইতিহাসের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেন।

আরো পড়ুন:  আইফেল টাওয়ার: ইতিহাস এবং জানা-অজানা কিছু তথ্য

অপেরা হাউজে প্রথম অনুষ্ঠান করেন পল রবিনসন। ২০০৭ সালে ইউনেস্কো এ স্থাপনাকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ লিস্ট‘ – এ তালিকাভুক্ত করে। এর নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছিল ৭০ লাখ ডলার। কিন্তু নির্মাণ শেষে দেখা যায় এতে ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার খরচ হয়েছে। এই খরচের বড় অংশই বহন করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

সিডনি অপেরা হাউজ

সিডনি অপেরা হাউজ

অক্টোবরের ১৯৭৩ সালে এটি খোলা হয়। অবস্থিত সিডনি হারবারে। এর নকশা একটা জাহাজের মত, এই আকৃতি তাকে অনন্য করেছে স্থাপত্যের ইতিহাসে। ১০০০ জন মানুষের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন দালানটি প্রতি বছর ৭ মিলিয়ন পর্যটককে আকর্ষণ করে।

অস্ট্রেলিয়ার রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ২০ অক্টোবর, ১৯৭৩ সালে আধুনিক স্থাপত্যকলার অন্যতম পদচিহ্ন সিডনি অপেরা হাউজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। বিপুলসংখ্যক আগ্রহী জনতা এতে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সিডনি অপেরা হাউজের নকশাকার জর্ন অটজানকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি কোথাও তাঁর নাম পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সরাসরি টেলিভিশনের পর্দায় দেখানো হয়। এতে আতশবাজি ফোটানো হয় এবং বিথোভেনের ৯নং সিম্ফনী পরিবেশন করা হয়।

প্রিয় পাঠকগণ, দুর্গাপূজার সময় অস্ট্রেলিয়ায় বেড়াতে এলে সিডনিতেও খুব ভালো পূজা দেখতে পাবেন। বিদেশের দুর্গাপূজা সম্বন্ধে আমাদের ধারনা কাগজে অথবা বইতে পড়ে। বিদেশে বসবাসকারী বন্ধুবান্ধব আর আত্মীয়দের কাছ থেকেও শোনা যায়। এখানে শনি আর রবিবারে পূজা হয়, তার কারণ এই দুদিন স্কুল ছুটি থাকে আর উইক এন্ডে পূজা হয় বলে অনেক লোকজন যোগদান করতে পারেন। ষষ্ঠী থেকে দশমীর মধ্যে, আগের বা পরের উইকএন্ডে কোনও স্কুলে পূজার আয়োজন করা হয়।

লেখক: Imran Hossain Emu

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *