বামন গ্রহ: ৫ টি বামন গ্রহ এবং জানা অজানা তথ্য

আমাদের মহাশূন্যে অবস্থিত বস্তুসমূহকেই জ্যোতিষ্ক বলা হয়ে থাকে। গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, তারা ইত্যাদির মতো বামন গ্রহও একটি জ্যোতিষ্ক। সম্প্রতি সময়ে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন কতৃক এই জ্যোতিষ্ক সঙ্গায়িত হয়েছে। প্লুটো নামের এক গ্রহকে নিয়ে বিতর্ক উঠার পর এই আন্তজাতিক প্রতিষ্ঠানটি বামন গ্রহের সঙ্গা প্রদান করেন।

প্লুটোর কক্ষপথ অন্য গ্রহগুলোর কক্ষপথের একই সমতলে নয়, বরং ১৭ ডিগ্রি তীর্যক
প্লুটোর কক্ষপথ অন্য গ্রহগুলোর কক্ষপথের একই সমতলে নয়, বরং ১৭ ডিগ্রি তীর্যক

আন্তর্জাতিক মহাকাশবিজ্ঞান সমিতি অনুযায়ী বামন গ্রহ হল যাদের:

  • ভর গ্রহের সমান কিন্তু গ্রহও নয়, উপগ্রহও নয়
  • সূর্যকে সরাসরি প্রদক্ষিণ করে; নিজস্ব আকৃতি পাবার মত অভিকর্ষের মালিক
  • কিন্তু কক্ষপথকে অন্যান্য বস্তু থেকে আলাদা বা স্বতন্ত্র করতে পারেনি

বিশাল মহাকাশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত বামন গ্রহের সংখ্যা হলো ৫টি। এগুলো হলো প্লুটো, সেরেস, এরিস,হাউমেয়া, মেইকমেইক। আমরা গ্রহ ৫ টি সম্পর্কে জানব।

বামন গ্রহ সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য

বামন গ্রহ
বামন গ্রহ

প্লুটো: বিজ্ঞানী ক্লাইড ডব্লিউ টমবাউ এটি ১৯৩০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আবিষ্কার করেন। পৃথিবীর হিসেবে সূর্যকে প্রদক্ষিন করতে এর ২৪৮ দিন সময় লাগে। প্লুটোর ৫ টি উপগ্রহ রয়েছে। সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ৬০০ কোটি কিলোমিটার ও কক্ষপথে গতি মাত্র ৪.৭ কিলোমিটার। এই গ্রহে প্রচুর পরিমানে মিথেন গ্যাস রয়েছে। ২০০৯ সালের আগ অবধি এটাকে সাধারণ গ্রহ হিসেবে ধরা হতো। এরপর এর কিছু ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে একে বামন গ্রহের তালিকাভুক্ত করা হয়। প্লুটোর ভর (১.৩০৫±০.০০৭)×১০২২কেজি ও পৃষ্ঠের চাপ সর্বোচ্চ ০.৩০ প্যাসকেল।

সেরেস“সেরেস ফেরদিনানদিয়া” যাকে সংক্ষেপে “সেরেস” বলা হয়ে থাকে। ইতালিয়ান জ্যোতিবিজ্ঞানী জিওসেপ্পে পিয়াজ্জি ১লা জানুয়ারি ১৮০১ সালে এই বামন গ্রহটি আবিষ্কার করেন। এই বামন গ্রহটি সৌর জগতের সবচেয়ে ক্ষুদ্র ও গ্রহাণু বলয়ের একমাত্র গ্রহ। “সেরেস” নামের উৎস হচ্ছেন রোমান দেবী সেরেস ও “ফেরদিনানদিয়া” এসেছে নেপলস ও সিসিলি’র রাজা ৪র্থ ফার্দিনান্দ-এর নামানুকরণে। গ্রহানুর মোট ভরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভর ও ৯৫০ কিলোমিটার ব্যাসের অধিকারী সেরেস গ্রহাণুপুঞ্জের সবচেয়ে বড় জ্যোতিষ্ক। সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণসমূহ থেকে জানা যায়, সেরেসের পৃষ্ঠ সম্ভবত পানি, বরফ ও পানিতে দ্রবীভূত বিভিন্ন খনিজ পদার্থের মিশ্রণ দিয়ে তৈরি। ধারনা করা হয় এর কেন্দ্র পাথুরে এবং চারপাশ ঘিরে তরল পানির মহাসাগর রয়েছে।

এরিস: এরিস মহাকাশের আরেক বামন গ্রহ। এটি সৌর জগতের সবচেয়ে দূরবর্তী বামন গ্রহ। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে মাইক ব্রাউন ও তার পালোমার অবাজারভেটরি দল সর্বপ্রথম এর অস্তিত্ব আবিষ্কার করে। এরিসের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা নূন্যতম ৩০ কেলভিন থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ কেলভিন। এর নিজ অক্ষে ঘূর্ণন কাল ৮ ঘন্টা। এরিসের গড় ব্যসার্ধ ১১৬৩±৬ কিমি ও ভর (1.৬৬±0.০২)×১০২২কেজি। এর একটি উপগ্রহ আছে!

হাউমেয়া: ২০০৩ ইএল৬১ নামে পরিচিত কাইপার বেস্টনির একটি বামন গ্রহ যার ভর প্লোটোর প্রায় এক তৃতীয়াংশ। স্পেনিস গ্রুপ জোসে লুইস অর্টিজ মরেনো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাইক ই ব্রাউম গ্রুপ এই গ্রহটি আবিষ্কার করেন। মোরেনো গ্রুপ স্পেনের সিয়েরা নেভাদা অবজারভেটিতে কাজ করার সময় আবিষ্কারটি করেছে আর ব্রাউন গ্রুপের আবিষ্কারটি সম্পন্ন হয়েছে ক্যলটেকে। এমপিসি মোরেনোর গ্রুপকে আবিষ্কারের স্বীকৃত দিয়েছে। কারণ তারাই আগে ঘোষণা দিয়েছিল। গ্রহটির তাপমাত্রা ৫০ কেলভিনের নিচে। এর দুইটি উপগ্রহ আছে।হাউমেয়ার গড় ব্যসার্ধ প্রায় ৬৫০ কিমি ও ভর (৪.০০৬±০.০৪০)×১০২১কেজি।

মেইকমেইকমেইকমেইক হলো কাইপার বেষ্টনীর চিরায়াত সদস্য গুলোর মাঝে সম্ভাব্য বৃহত্তম বলে গণ্য করা হয়। এর ব্যাস প্লুটো গ্রহের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এর কোনো নির্দিষ্ট উপগ্রহ নেই। এক গড় তাপমাত্রা অত্যন্ত কম! ৩০ কেলভিন হওয়ার কারনে ধারণা করা হয় এর পৃষ্ঠে মিথেন, ইথেন ও সম্ভাব্য নাইট্রোজেনের বরফ দ্বারা আবৃত। এটি ২০০৫ সালের ৩১ মার্চ মাইকেল ই ব্রাউন আবিষ্কার করেন। এর কক্ষীয় পর্যায়কাল ৩০৯.০৯ বছর ও এর গড় ব্যাসার্ধ ৭১৫ ± ৭ কিমি।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 Shares
Share via
Copy link