টপ ৫: লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির সবচেয়ে বিখ্যাত ৫টি চিত্রকর্ম

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী শিল্পীদের একজন বলে বিবেচনা করা হয়। ইতালীয় রেনেসাঁসের কালজয়ী এই চিত্রশিল্পী ছিলেন একাধারে স্থপতি, সংগীতজ্ঞ, বিজ্ঞানী, গণিতবিদ, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক, শারীরবিদ্যাবিজ্ঞানী, ভূতত্ত্ববিদ,মানচিত্রকার, উদ্ভিদবিদ। তার শিল্পকর্মগুলি শুধুমাত্র প্রাণবন্ত, সুন্দর এবং কৌশলী ছিল না, সেই শিল্পকর্মগুলিতে লুকানো থাকতো অনেক কোড যেগুলো খুবই অর্থবহ। কিন্তু এইসব কোডের লুকানো অর্থের অনেকটাই আমরা এখনো বের করতে পারিনি। বড় বড় শিল্পীদের ঘাম বের হয়ে যায় এসব শিল্পের অর্থ বের করতে। আর লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির এমনই ৫টি সেরা চিত্রকর্ম নিয়ে আজকের আয়োজন।

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির সবচেয়ে সেরা ৫টি চিত্রকর্ম

লেডি উইথ অ্যান আরমিন

লেডি উইথ অ্যান আরমিন

লেডি উইথ অ্যান আরমিন

এটি (Lady with an Ermine) ১৪৮৯–১৪৯০ সময়কালের মাঝে আঁকা একটি তৈলচিত্র। ছবিটির বিষয় ছিল একজন নারী যাকে সিসিলিয়া গালেরানি (Cecilia Gallerani) বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি ছিলেন মিলানের ডিউক লুডোভিকো স্ফরযার (Ludovico Sforza) প্রিয় স্ত্রী। লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এই সময় ডিউকের হয়েই কাজ করতেন। এটি লিওনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা মাত্র চারটি নারী প্রতিকৃতির একটি। বর্তমানে এটি পোল্যান্ডের চারতরস্কি মিউজিয়ামে (Czartoryski Museum) প্রদর্শিত হচ্ছে ।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: দ্য দা ভিঞ্চি কোড এর মতো আরো ৫ টি বই

ভার্জিন অব দ্য রকস্

ভার্জিন অব দ্য রকস্

ভার্জিন অব দ্য রকস্

ভিঞ্চির বিখ্যাত আরেকটি ভার্জিন অব দ্য রকস্ (Virgin of the Rocks)। ছবিটি ম্যাডোনা অব দ্য রকস্ (Madonna of the Rocks) নামেও পরিচিত। তবে এই ছবিটির দুটি ভার্শন দেখা যায়। যার একটি রয়েছে প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়ামে আরেকটি লন্ডনের ন্যাশনাল গ্যালারীতে। যদিও দুটো ছবিটির বিষয়বস্তুই প্রায় এক তবুও কিছুটা পার্থক্য রয়েছে (ফেরেশতার হাত লক্ষ্য করুন)।

ছবিতে দেখা যায় শিশু যীশু খ্রিষ্ট, তার মা ম্যাডোনা, শিশু সেন্ট জন (যিনি যীশু খ্রিষ্টের ব্যাপ্টিজম করেছেন) এবং একজন ফেরেশতা। যেখানে তারা অবস্থান করছেন কোনো এক পাথুরে গুহায়। দেখা যায় শিশু যীশু খ্রিষ্ট দুহাত জোড় করে শিশু জনের কাছে প্রার্থনা সদৃশ কিছু করছে এবং জন যেন আশীর্বাদ করছে। এখানে যীশু খ্রিষ্টের পাশের জন হচ্ছেন মাতা ম্যাডোনা এবং অপরজন ফেরেশতা।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: শিল্পগুরু মাইকেলেঞ্জেলোর বিখ্যাত ৫টি শিল্পকর্ম

দ্য ভিট্রুভিয়ান ম্যান

দ্য ভিট্রুভিয়ান ম্যান

দ্য ভিট্রুভিয়ান ম্যান

লিওনার্দো শুধু একজন চিত্রকরই ছিলেন না, একাধারে গণিত, স্থাপত্যবিদ্যা, জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমান পারদর্শী তিনি। আর গণিতের প্রতি অসিম ভালোবাসা থেকেই হয়তো মানবদেহ নিয়ে আগ্রহ জন্মায় ভিঞ্চির মনে, যার ফলাফল ‘দ্য ভিট্রুভিয়ান ম্যান (Vitruvian Man)’।

লিওনার্দো সবসময় তার গবেষণালব্ধ জ্ঞান নোটবুক লিখে রাখতেন। আর লিখতেনও বেশ অদ্ভুত ভঙ্গিতে। ইতালীয় ভাষায়, তবে লেখা থাকত উল্টো দিকে ঘুরানো, যার পাঠোদ্ধার করতে দরকার হতো আয়নার। এমনি এক নোটবুকের পাতায় ছবিটি এঁকেছিলেন লিওনার্দো। ছবিটি তিনি জনসাধারণের জন্য আঁকেননি, এঁকেছিলেন মানবদেহ এবং গনিতের প্রতি নিজের অদম্য কৌতূহল থেকে। সাধারণ কাগজে সাধারণ কালিতে আঁকা ছবিটিতে মানুষকে দুটি পৃথক বিন্যাসে দেখানো হয়েছে। প্রথমক্ষেত্রে একটি বর্গের মাঝে এবং দ্বিতীয়ক্ষেত্রে একটি বৃত্তের মাঝে। ছবিটিতে বেশ কিছু অনুপাতও লিপিবদ্ধ করা ছিলো। আর এই অনুপাতগুলোকেই বলা হয় ‘মানবদেহের ঐশ্বরিক অনুপাত’ (Divine Proportion)।

দ্য লাস্ট সাপার

দ্য লাস্ট সাপার

দ্য লাস্ট সাপার

এটি (The Last Supper) লিওনার্দোর বিখ্যাত দেয়াল চিত্রকর্ম অর্থাৎ এটি একটি ফ্রেস্কো। এর অবস্থান ইতালীর মিলান শহরের সান্তা মারিয়া ডেলা গ্রেইজি চার্চের ডায়নিং হলের পেছনের দেয়ালে। ছবিটি বিখ্যাত হয়ে আছে এর পেছনের গল্পের জন্য। যদিও যীশু খ্রিষ্টের লাস্ট সাপার বিষয়ে আরও অনেক চিত্র আছে, তবু চিত্রশিল্পবোদ্ধাদের দুনিয়ায় এই ছবিটিই সবচেয়ে বিখ্যাত এবং আলোচিত। ছবিটিতে আমরা দেখতে পাই, খ্রিস্টান ধর্মমতে, যীশু শেষবারের মতো বসেছেন তার শিষ্যদের নিয়ে নৈশভোজে। খাওয়ার পর তিনি তার শিষ্যদের বলেন, পরদিন তোমাদের মধ্য থেকে কেউ একজন আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। যীশুর সে ভবিষ্যদ্বাণী শোনার পর তার শিষ্যরা নিজেদের মধ্যে “কে সেই বিশ্বাসঘাতক?” এই বিষয়ে আলোচনা করছে।

যীশুর খুব নিকটে ডান দিকে বসে থাকা কালো বর্ণের শিষ্যটি হলো সেই জুডাস। সে-ই রোমানদের কাছ থেকে মাত্র ৩০টি রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে এ বিশ্বাসঘাতকতা করে। ছবিতে দেখা যায়, ডান হাতে জুডাস সেই রৌপ্যমুদ্রার থলি ধরে আছে।

মোনা লিসা

মোনা লিসা

মোনা লিসা

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ছবি নিয়ে আলোচনা হবে আর মোনা লিসার কথা আসবে না এতো অসম্ভব। তবে মোনা লিসা (Mona Lisa) সম্পর্কে নতুন করে বলবার মতো কিছু হয়তো বাকি নেই। শুধুমাত্র যেসব রহস্যের জাল এখনও শিল্প গবেষকরা ভেদ করতে পারেননি, সেসব ছাড়া। তার এই চিত্রকর্মের নাম শোনেননি এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি সবচেয়ে আলোচিত ছবি। ধারণা করা হয় ১৫০৩ থেকে ১৫০৬ সালের মধ্যে তিনি এ ছবিটি এঁকেছিলেন।

কিন্তু কে এই মোনা লিসা? অনেক শিল্প গবেষক পোর্ট্রেটের এই বিখ্যাত নারীকে ফ্লোরেন্টাইনের বণিক ফ্রান্সিসকো দ্য গিওকন্ডোর (Gioconda) স্ত্রী লিসা গেরাদিনি বলে সনাক্ত করেছেন। আবার অনেকে প্রায় লোমহীন মুখটায় অনেকে দাড়ি লাগিয়ে স্বয়ং লিওনার্দোকেই আবিষ্কার করে ফেলেন, অর্থাৎ তারা দাবি করেন, মোনা লিসা চরিত্রটি লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির নারীসত্ত্বা (এক্ষেত্রে ড্যান ব্রাউন এর দ্য ভিঞ্চি কোড বইটিতেও কিছুটা বলা হয়েছে)!

আরো আছে: লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির নিজের প্রতিকৃতি, দ্য ভার্জিন অ্যান্ড চাইল্ড উইথ সেন্ট অ্যান, ম্যাডোনা অব দ্য কারনেশন, ড্রেফাস ম্যাডোনা, ব্যাপ্টিজম অব খ্রিস্ট, বেনোইস ম্যাডোনা, দ্য অ্যাডোরেশন অব দ্য মেজাই, দ্য ব্যাটল অব আনসিয়ারি ইত্যাদি।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

2 Responses

  1. Atkiya Tajriyan Nira (Barren Saat) says:

    I love his picture.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *