টপ ৫: শিল্পগুরু মাইকেলেঞ্জেলোর বিখ্যাত ৫টি শিল্পকর্ম

মাইকেলেঞ্জেলো বুনারোত্তি (Michelangelo) রেনেসাঁ যুগের শিল্পসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী। তার শিল্পকর্মগুলো ইতালি তথা পশ্চিমা শিল্পের উন্নয়নে অসাধারণ প্রভাব বিস্তার করে। এমনকি তার মৃত্যুর ৪৫০ বছর পরেও তাকে এবং তার শিল্পকর্ম নিয়ে আমাদের কৌতূহলের শেষ নেই। তিনি ছিলেন একাধারে একজন ভাস্কর, চিত্রকর, স্থপতি এবং কবি। তবে ভাস্কর এবং চিত্রকর হিসেবেই বেশি জনপ্রিয় ছিলেন। আর তাই মাইকেলেঞ্জেলোকেই সর্বকালের সেরা ভাস্কর হিসেবে বিবেচনা কর হয়। তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে দেখে নেই মহান এই শিল্পগুরু মাইকেলেঞ্জেলোর সেরা ৫টি শিল্পকর্ম।

মাইকেলেঞ্জেলোর সেরা ৫টি শিল্পকর্ম

সেন্ট পিটার’স ব্যাসিলিকা

সেন্ট পিটার'স ব্যাসিলিকা

সেন্ট পিটার’স ব্যাসিলিকা

ভ্যাটিকান সিটিতে অবস্থিত সেন্ট পিটার’স ব্যাসিলিকা (St. Peter’s Basilica) রেনেসাঁ কালের অন্যতম সুবিশাল কীর্তি এবং এখনো পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় গির্জা (Wikipedia)। আর সুবিশাল এই ব্যাসিলিকার অন্যতম কারিগর মাইকেলেঞ্জেলো বুনারোত্তি।

সেন্ট পিটার’স ব্যাসিলিকাকে পাপাল ব্যাসিলিকাও বলা হয়ে থাকে। ব্যাসিলিকাটির কাজ সম্পূর্ণ হতে লেগেছে ১০০ বছরেরও বেশি (১৫০৬-১৬২৬)। এই সময়ে কাজ করেছেন ডোনাতো ব্রামান্তে, জুলিয়ানো দ্য সাঙ্গালো, ফ্রা জিওকন্দো, রাফায়েল্লো সেনজিও দ্য আরবিনো (রাফায়েল), বাল্দাসারে পেরুজ্জি, আন্তনিও দ্য সাঙ্গালো এবং মাইকেলেঞ্জেলো। যার মধ্যে মাইকেলেঞ্জেলোর অবদানই সবচেয়ে বেশি। তিনিই ছিলেন ব্যাসিলিকাটির প্রধান স্থপতি। যদিও ব্যাসিলিকাটির কাজ শেষ হওয়ার আগেই তিনি মারা যান তবুও তিনিই মূলত একে এমন এক স্থানে পৌঁছে দেন যেখান থেকে সহজেই ব্যাসিলিকাটির কাজ শেষ করা গেছে।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির সবচেয়ে বিখ্যাত ৫টি চিত্রকর্ম

পিয়েতা

পিয়েতা

পিয়েতা

পিয়েতা (Pietà) হল ইউরোপীয় নবজাগরণ বা রেনেশাঁস যুগের মাইকেলেঞ্জেলোর সৃষ্ট এক অনবদ্য কীর্তি। কারারা-মার্বেলে তৈরি এই মূর্তিটি আসলে ফরাসি কার্ডিনাল জ্যঁ দ্য বিলেরে’র নির্দেশে গির্জায় তাঁর স্মৃতিরক্ষার্থে একটি আলঙ্কারিক ফলক হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু অষ্টাদশ শতাব্দীতে এই ভাস্কর্যটি তার বর্তমান অবস্থানে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়।

ভাস্কর্যটির মূল বিষয়বস্তু হল, মা মেরির কোলে শায়িত যিশুর মৃতদেহ। এখানে প্রতিটি চরিত্রই এতটাই জীবন্ত যা সত্যিই বিষ্ময়ের উদ্রেক করে। নবজাগরণের যুগের ইতালীয় ভাস্কর্যের অন্যতম মূল বৈশিষ্ট্যই হল ফুটে ওঠা প্রতিটি চরিত্রর এই প্রাণময়তা, যা তাদের বাস্তবের অত্যন্ত কাছাকাছি এনে ফেলে। পঞ্চদশ শতাব্দীর একেবারে শেষে নির্মিত এই অনুপম ভাস্কর্যটি বর্তমানে রোমে ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার’স ব্যাসিলিকায় সংরক্ষিত আছে।

দ্য ক্রিয়েশন অব অ্যাডাম

দ্য ক্রিয়েশন অব অ্যাডাম

দ্য ক্রিয়েশন অব অ্যাডাম

দ্য ক্রিয়েশন অব অ্যাডাম (The Creation of Adam) হল একটি ফ্রেস্কো (সদ্য প্লাস্টার করা ভিজে দেয়াল বা ছাদে জল মেশানো গুঁড়ো রঙ দিয়ে আঁকা ছবি); আঁকা হয়েছে রোমের ভ্যাটিকানের ছোট একটি গির্জায়। গির্জাটির নাম সিস্টিন চ্যাপেল (Sistine Chapel)। আর এই গির্জার সিলিং এই আঁকা হয়েছে ফ্রেস্কোটি।

মাইকেলেঞ্জেলো ছবি আঁকার চাইতে ভাস্কর্য গড়তে বেশি পছন্দ করতেন। তাই পোপ যখন সিস্টিন চ্যাপেলের ছাদে ছবি আঁকার জন্য মাইকেলেঞ্জেলোকে বলেছিলেন তখন তিনি রাজি হননি। আর তাতেই শত্রুরা রটিয়ে দিল তিনি ছবি আঁকতে পারেন না। ফলে তিনি অনেকটা রাগ করেই কাজটি হাতে নেন – শত্রুর মুখ বন্ধ করার জন্য।

পুরো ছাদ শেষ করতে তাঁর সাড়ে চার বছর সময় লেগেছিল। এই ফ্রেস্কোটিতে খ্রিস্টীয় ঈশ্বরকে অ্যাডাম (প্রথম মানব) সৃষ্টি করেতে দেখা যাচ্ছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে অ্যাডাম তার জীবন লাভ করছে ঈশ্বরের কাছ থেকে, আঙ্গুলের স্পর্শের মাধ্যমে। আর এই ফ্রেস্কোটির পাশেই আছে আরেকটি ফ্রেস্কো যার নাম দ্য ক্রিয়েশন অব ইভ

দ্য লাস্ট জাজমেন্ট

দ্য লাস্ট জাজমেন্ট

দ্য লাস্ট জাজমেন্ট

দ্য লাস্ট জাজমেন্ট (The Last Judgment) মাইকেলেঞ্জেলোর তৈরি একটি ফ্রেস্কো (সদ্য প্লাস্টার করা ভিজে দেয়াল বা ছাদে জল মেশানো গুঁড়ো রঙ দিয়ে আঁকা ছবি)। এটি তার এবং পশ্চিমা বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এক শিল্পকর্ম। এই ফ্রেস্কোটির অবস্থানও ভ্যাটিকান সিটির সিস্টিন চ্যাপেলে কিন্তু সিলিং এর পরিবর্তে বেদিতে বা দেয়ালে (অল্টারে)। এখানে চিত্রিত আছে ওল্ড টেস্টামেন্টের সৃষ্টিতত্ত্ব থেকে যিশু খ্রিস্টের ছোট-বড় ৩০০ টি চরিত্র। আর এই ফ্রেস্কোটি তিনি আঁকেন সিস্টিন চ্যাপেলের প্রায় ৫০০০ স্কোয়ার ফুট জুড়ে। ফ্রেস্কোটিতে ফুটে উঠেছে ঈশ্বরের শেষ হিসাব-নিকাশ। যেখানে দেখানো হয়েছে যিশু খ্রিস্টের পুনর্জীবন। তিনি অবস্থান করছেন ফ্রেস্কোর মাঝামাঝি। আর তার চারপাশে আছে আরো যিশুর বিশিষ্ট অনুগামীগণ। নিচের দিকে দেখানো হয়েছে মৃতের পুনরূজ্জীবন এবং পাপিদের নরকে প্রেরণের দৃশ্য। তবে নগ্নতা থাকার কারনে ১৫৬৪ সালে কাউন্সিল অব ট্রেন্ট, দ্য লাস্ট জাজমেন্ট ফ্রেস্কোটির নিন্দা করে এবং চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর ড্যানিয়েল দ্য ভোল্টেরা কর্তৃক কিছু অশ্লীল দৃশ্য নতুন করে চিত্রায়িত করে।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: দ্য দা ভিঞ্চি কোড এর মতো আরো ৫ টি বই

ডেভিড

ডেভিড

ডেভিড

মাইকেলেঞ্জেলোর সবচেয়ে বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় শিল্পকর্মটি হল ডেভিড (David) এর ভাস্কর্য। এই ভাস্কর্যটি প্রায় ৫.১৭ মিটার (১৭.0 ফুট) লম্বা। এটি আসলে একটি মার্বেলের তৈরি পুরুষ নগ্ন মূর্তি। আর মূর্তিটি প্রতিনিধিত্ব করছে বাইবেলের নায়ক ডেভিডকে। তার তৈরি ডেভিডের এই মূর্তিটি অন্য সবার মত ছিল না। যেখানে বেশিরভাগ শিল্পী এবং ভাস্কর গোলিয়াথ এর সাথে যুদ্ধের পর ডেভিডের জয়ী রূপ তুলে ধরেছেন সেখানে মাইকেলেঞ্জেলো তুলে ধরেছেন যুদ্ধে যাওয়ার আগে ডেভিডের চিন্তিত এবং সতর্ক অবস্থান। মাইকেলেঞ্জেলো ডেভিড এর কাজ শুরু করেন তার বয়স যখন মাত্র ২৬! এবং এই কাজ শেষ হতে সময় লাগে প্রায় ৩ বছর। তার এই কাজ দেখলে বিশ্বাসই হয় না যে তিনি এটি পাথর কেটে তৈরি করেছেন।

প্রথমদিকে ডেভিডকে পিয়াজ্জা দেলা সিনিওরিয়া তে রাখা হলেও মূর্তিটি বর্তমানে আছে ফ্লোরেন্স শহরের গ্যালারিয়া দেল’অ্যাকাদেমিয়া (অ্যাকাডেমিয়া গ্যালারি) তে, ছোটো একটি গম্বুজের নীচের কেন্দ্রস্থলে।

আরো আছে: ব্যাক্কাস, ম্যাডোনা অফ দ্য স্টেপস, দোনি তোন্ডো, তাদেও তোন্ডো, ম্যাডোনা এ্যান্ড চাইল্ড, ক্রুশিফিকেশন অফ সেন্ট পিটার, মোজেস ইত্যাদি।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *