বাংলাদেশের জেলা: কোন জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত (পর্ব ২)

আমাদের ৮ টি বিভাগের মধ্যে মোট ৬৪ টি জেলা রয়েছে এবং প্রত্যেকটি জেলা কোন না কোন কারণে বিখ্যাত। অথচ আমরা অনেকেই জানিনা আমাদের পাশের জেলাটিই কি কারনে বিখ্যাত। তাই আমরা আজকে দেখবো আমাদের কোন জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত। আর এসব জানার মাধ্যমে আমরা ঐসব জেলার ইতিহাস – ঐতিহ্য নিয়েও কিছুটা ধারণা পাবো৷ ৷ তাই চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক। আজকের এ পর্বে আমরা দেখবো কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, নোয়াখালী এবং ভোলা জেলাগুলো কিসের জন্য বিখ্যাত।

বাংলাদেশের কোন জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

কিশোরগঞ্জ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

কিশোরগঞ্জ জেলার বিখ্যাত বালিশ মিষ্টি

কিশোরগঞ্জ জেলার বিখ্যাত বালিশ মিষ্টি

কিশোরগঞ্জ জেলা বিখ্যাত বালিশ মিষ্টির জন্য। বালিশ মিষ্টি বাংলাদেশের একটি প্রসিদ্ধ মিষ্টি। তবে কিশোরগঞ্জ এবং নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি স্বাদে অতুলনীয়। এটি আকারে বালিশের মত বড় না হলেও দেখতে অনেকটা বালিশের মত, এবং এর উপরে ক্ষীরের প্রলেপ থাকাতে একটি আবরণীসমেত বালিশের মত দেখায়। জনক গোয়ানাথ ঘোষাল এর নামকরণে এই বালিশ মিষ্টি গয়ানাথের বালিশ নামেও পরিচিত।

আরো পড়ুন:  বাংলাদেশের জেলা: কোন জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত? (পর্ব ১)

মাদারীপুর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

মাদারীপুর জেলার বিখ্যাত খেজুরের গুড় এবং রসগোল্লা

মাদারীপুর জেলার বিখ্যাত খেজুরের গুড় এবং রসগোল্লা

মাদারীপুর জেলা বিখ্যাত খেজুরের গুড় এবং রসগোল্লার জন্য। বাংলাদেশের সবচাইতে সহজ সরল এবং সবচাইতে জনপ্রিয় মিষ্টিটি হলো রসগোল্লা। আর এক্ষেত্রে মাদারীপুর জেলার রসগোল্লা সবার উপরের দিকেই। স্বাদে অতুলনীয় এই বিখ্যাত রসগোল্লা। অন্যদিকে মাদারীপুরের খেজুর গুড়ের প্রচুর সুনাম। তবে মাদারীপুরে এখন খেজুর গাছের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার কারনে খেজুর রসের সংকটে খেজুর গুড়ের এর আসল স্বাদ ও মান ধরে রাখা অনেকটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

নরসিংদী জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

নরসিংদী জেলার বিখ্যাত সাগর কলা

নরসিংদী জেলার বিখ্যাত সাগর কলা

নরসিংদী জেলা বিখ্যাত সাগর কলার জন্য। নরসিংদী জেলার এই ‘অমৃত সাগর’ কলার খ্যাতি পুরো দেশজুড়ে। মূলত নদীবেষ্টিত হওয়ায় এ জেলার মাটি পলি ও দোআঁশ যুক্ত। আর অমৃত সাগর কলার ফলন এ ধরনের মাটিতেই বেশি হয়। তবে বর্তমানে এ অঞ্চলের মাটির গুণগত মান নষ্ট, বৈরী আবহাওয়া এবং ঝড় বৃষ্টির কারণে ‘অমৃত সাগর’ কলার চাষ কমে গেছে। বর্তমানে জেলার ৬টি উপজেলার কিছু অংশে সুস্বাদু ‘অমৃত সাগর’ কলা চাষ করা হলেও এক সময় মনোহরদী উপজেলা ছিল এ কলার জন্য খুবই বিখ্যাত।

মানিকগঞ্জ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

মানিকগঞ্জ জেলার বিখ্যাত হাজারী গুড়

মানিকগঞ্জ জেলার বিখ্যাত হাজারী গুড়

মানিকগঞ্জ জেলা বিখ্যাত হাজারী গুড়ের জন্য। এই গুড় দেখতে যেমনি সুন্দর খেতেও তেমনি সুস্বাদু। প্রায় দেড়শত বছর আগের হাজারী গুড়ের সুনাম আজো টিকিয়ে রেখেছে দেশের একমাত্র হাজারী গুড় উৎপাদনকারী জেলা মানিকগঞ্জ। এই হাজারী গুড়ের সুনাম এক সময় এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এই হাজারী গুড়ের স্বাদে মন মজেছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধিপতি রানি এলিজাবেথের। শত বছরের জনশ্রুতি মতে, মানিকগঞ্জ অঞ্চলের গুড়ের ঘ্রাণ ও স্বাদে গুণমুগ্ধতা প্রকাশ করতে তিনি নিজেই ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এ গুড়ের নাম। এই গুড় প্রথম আবিস্কার করেছেন মিনহাজউদ্দিন হাজারী। আর তার নামেই এই গুড়ের নামকরণ করা হয়েছে “হাজারী গুড়”।

নোয়াখালী জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

নোয়াখালী জেলার বিখ্যাত নারিকেল নাড়ু এবং ম্যাড়া পিঠা

নোয়াখালী জেলার বিখ্যাত নারিকেল নাড়ু এবং ম্যাড়া পিঠা

নোয়াখালী জেলা বিখ্যাত নারিকেল নাড়ু এবং ম্যাড়া পিঠার জন্য। নারিকেল নাড় আমাদের বাংলাদেশেরই একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। আধুনিককালের মিষ্টি আসার আগে সুপ্রাচীনকাল থেকে এ দেশের বাঙালি সমাজে বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে মুড়ি, মুড়কি, খই, নাড়– ইত্যাদি দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন ও জলপানের প্রথা ছিল। আর নোয়াখালী জেলার ম্যাড়া পিঠার উপকরণ চালের গুঁড়া, লবণ ও পানি। প্রথমেই চালের গুঁড়া সামান্য ভেজে নিতে হবে। এবার ভাজা চালের গুড়ার মধ্যে গরম পানি ও লবণ দিয়ে মিশিয়ে কাই তৈরি করতে হয়। এই পিঠার আকৃতি হয় গোল বা লম্বা।

শরীয়তপুর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

শরীয়তপুর জেলার বিখ্যাত বিবিখানা পিঠা

শরীয়তপুর জেলার বিখ্যাত বিবিখানা পিঠা

শরীয়তপুর জেলা বিখ্যাত বিবিখানা পিঠার জন্য। এ পিঠা অত্যন্ত সুস্বাদু। শরীয়তপুরের বিবিখানা পিঠা মূলত তৈরি করা হয় তালের জ্বাল দেয়া ঘন রস দিয়ে। এছাড়া অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে চালের গুড়া, ময়দা, ঘন তরল দুধ, গুঁড়াদুধ, চিনি, ডিম, তেল, এলাচগুঁড়া ইত্যাদি। চালের গুঁড়া, ময়দা, গুঁড়াদুধ, এলাচগুঁড়া সহ সকল উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করা হয়। আর এ মিশ্রণে চিনির রস গলে গেলে তাতে তালের রস মেশানো হয়। এরপর মিশ্রণটি কোন পাত্রে নিয়ে চুলায় মাঝারি আঁচে রাখলে ৪০-৬০ মিনিটেই পিঠা খাওয়ার জন্য তৈরি।

রাজবাড়ী জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

রাজবাড়ী জেলার বিখ্যাত চমচম এবং খেজুরের গুড়

রাজবাড়ী জেলার বিখ্যাত চমচম এবং খেজুরের গুড়

রাজবাড়ী জেলা বিখ্যাত চমচম এবং খেজুরের গুড়ের জন্য। রাজবাড়ির মিষ্টি বিশেষ করে চমচম বাংলাদেশর অন্যতম সেরা মিষ্টি। টাঙ্গাইলের মতোই স্বাদের জন্য বিখ্যাত এই রাজবাড়ীর চমচম। তবে এই চমচম স্বাদে অনন্য। এছাড়া রাজবাড়ীর শংকরের ক্ষীরের চমচমের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। রাজবাড়ীর খেজুরের গুড়েরও দেশজুড়ে সুখ্যাতি আছে।

ভোলা জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

ভোলা জেলার বিখ্যাত মহিষের দুধের দই এবং নারিকেল

ভোলা জেলার বিখ্যাত মহিষের দুধের দই এবং নারিকেল

ভোলা জেলা বিখ্যাত মহিষের দুধের দই এবং নারিকেল এর জন্য। মহিষের কাঁচা দুধের দই গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক রেওয়াজ। আর দিনের পর দিন এই ঐতিহ্যের গুরুত্ব যেন বাড়ছে। মহিষের দুধের দই জমাতে কোনো বীজের (পুরনো দই) প্রয়োজন হয় না। এমনকি দুধ জ্বালও দিতে হয় না। সরাসরি কাঁচা দুধই জমে যায় দই হিসেবে। তবে ফ্যাট অনেক বেশি হওয়ার কারনে মহিষের দইয়ে মিষ্টি হয় না। এছাড়া জেলার ভৌগলিক অবস্থা নারিকেল উৎপাদনের অনুকূলে থাকায় এই জেলায় প্রচুর নারিকেল উৎপাদিত হয়।

প্রিয় পাঠক! আমাদের দেশের বিভিন্ন জেলায় রয়েছে অনেক ধরনের পণ্য যা একেবারেই আমাদের নিজস্ব। যেমন বগুড়ার দই, কুমিল্লার রসমালাই, টাঙ্গাইলের চমচম, নাটোরের কাঁচাগোল্লা, রাজশাহীর রেশম, চাঁদপুরের ইলিশ ইত্যাদি। আশা করি এই পণ্যগুলোকে ব্র্যান্ডের মর্যাদা দিয়ে আমরা সকল জেলা তথা বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে তুলে ধরতে পারবো।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *