টপ ৫: আনিসুল হকের সেরা ৫ টি বই

কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক একাধারে সাংবাদিক, লেখক, নাট্যকার ও কলামিস্ট। তিনি বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় প্রায় সকল বয়সি লেখকদের জন্য বই লিখে থাকেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবিকতা কেন্দ্রীক অনেক উপন্যাস লিখেছেন। ‘মা’ তার জনপ্রিয় একটি উপন্যাস। এছাড়াও তিনি রম্য ও ছোটদের জন্য শিশু সাহিত্য রচনা করে থাকেন। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশি পাঠকদের কাছে আনিসুল হক একটি জনপ্রিয় নাম। এই পর্বে লেখক আনিসুল হকের সেরা ৫ টি বই নিয়ে আলোচনা করা হলো।

আনিসুল হকের সেরা ৫ টি বই

জেনারেল ও নারীরা

জেনারেল ও নারীরা

জেনারেল ও নারীরা

কথা সাহিত্যিক আনিসুল হকের লেখা ইতিহাসের আশ্রয়ে গড়ে উঠা আরেকটি উপন্যাস  ‘জেনারেল ও নারীরা’। বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে পাকিস্তানী হানাদারদের কুৎসিত নৃশংসতার কোনটাই বাদ পড়েনি এই উপন্যাসে। ইয়াহিয়া খানের নোংরামীর ইতিহাস কম বেশি সবাই জানলেও অনেক অজানা তথ্যও নতুন করে চোখে ভাসিয়ে দিবে উপন্যাসটি। উপন্যাসের নামের আড়ালে এটি তাই হয়ে উঠছে সমৃদ্ধ ইতিহাস গ্রন্থ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময় অধ্যায়ের একটি দলিল। পাকিস্তানের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ছিল অসংখ্য প্রেমিকা। ওই সময় রাষ্ট্রপতি ভবনকে পাকিস্তানের পুলিশরাই অভিধা দিয়েছিল ‘পতিতালয়’। সরকারি রিপোর্টেই শত শত নারীর উল্লেখ পাওয়া যায়, যারা ইয়াহিয়ার কাছে গিয়েছিলেন। নারীলোভী এ প্রেসিডেন্টের এসব ঘটনা ও মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি নিয়ে লেখা হয়েছে এই উপন্যাসটি।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা সেরা ৫ টি বই

যারা ভোর এনেছিল

যারা ভোর এনেছিল

যারা ভোর এনেছিল

যারা ভোর এনেছিল আনিসুল হকের লেখা ইতিহাস আশ্রয়ী জনপ্রিয় একটি উপন্যাস। এটি একটি ইতিহাস নির্ভর উপন্যাস হলেও আমাদের মনে রাখতে হবে এটা সরাসরি কোন ইতিহাসের বই নয়। এই বইয়ের মূল চরিত্র শেখ মুজিবর রহমান। এখানে শেখ মুজিবর রহমানের জন্ম থেকে শুরু করে বেড়ে উঠা খুব কাছে থেকে দেখানো হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ সৃষ্টিতে তাঁর গৃহশিক্ষক আবদুল হামিদের অবদানের কথা বার বার এসেছে। তারপর শেখ সাহেব যখন কলকাতায় এসে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লেন তখন থেকেই মূলত উপন্যাসটির ইতিহাসের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে। দ্বি-জাতি তত্ত্ব নিয়ে বিতর্ক, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার দাবি আদায়ের আন্দোলন এবং সেই আন্দোলনে শেখ মুজিবর রহমানের পাশাপাশি তাজউদ্দীনের অংশগ্রহণ এই সব ঘটনাই ‘যারা ভোর এনেছিল’ উপন্যাসে ফুটে উঠেছে। শেষে বলা যায় উপন্যাসটি সে সব মানুষের গল্প যাদের হাত ধরেই এদেশে নতুন ভোর এসেছিল।

ঊষার দুয়ারে

ঊষার দুয়ারে

ঊষার দুয়ারে

‘যারা ভোর এনেছিল’ উপন্যাসের দ্বিতীয় পর্ব ঊষার দুয়ারে। এই উপন্যাসের টানাপোড়েন শুরু হয় সোহরাওয়ার্দীর মনোভাবকে কেন্দ্র করে তিনি বলেন বাঙালিদেরও উর্দু শিখতে হবে। এটা মুজিব মানতে পারেন নি। তাজউদ্দীন নতুন আদর্শের নতুন দল গঠনের কথা ভাবছেন তখন মওলানা ভাষাণী কারাগারে! শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়া নিয়ে বিরোধীতা ও ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করে বিজয়ী হওয়ার গল্প উঠে আসে উপন্যাসটিতে। তাজউদ্দীনের আওয়ামীতে যোগ দেওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে উপন্যাস এসে পড়ে এই খন্ডের মূল পর্বে, আর তা হচ্ছে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন। নির্বাচনি নমিনেশনে মুজিবের দৃঢ়তা ও দুরদর্শীতা ও নির্বাচনে তার পরিশ্রম তাকে অনন্য করে তুলে। এরপর এ কে ফজলুল হকের প্রধানমন্ত্রী হওয়া থেকে শুরু করে পাকিস্তানিদের মিথ্যা অজুহাতে নানা টালবাহানা ও রাজনৈতিক ডামাডোল আর মোহাম্মদ আলীর অপকর্মের চিত্র পাঠককে উপন্যাসের মধ্যে যেন ডুবিয়ে দেয়।এসবের মাঝে কমিউনিস্ট নিধনের নামে রাজনীতি নির্ধারণের চেষ্টা চলে ওয়াশিংটন থেকে।এসব নানা ঘটনার আবর্তে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে ভেঙ্গে দেন মোহাম্মদ আলী, আবার সোহরাওযার্দীকে মন্ত্রী করা হয় এবং মুজিবকে কারাগার থেকে মুক্তি দিলে মুজিব তার পরিবারে ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে উপন্যাসের সমাপ্তি হয়। দিনের আলো এখনো ফোটেনি। উষার দুয়ারে দাঁড়িয়ে মুজিবের মুখে কেবল একটুকরা রোদ এসে পড়েছে মাত্র। সেই আলোর কথাই বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: আহমদ ছফার লেখা সেরা ৫ টি বই

জিম্মি

জিম্মি

জিম্মি

আনিসুল হকের লেখা জিম্মি একটি বিখ্যাত উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০১ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বই মেলায়। উপন্যাসটিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। জিম্মি একটি বেকার যুবকের গল্প, যার নাম খোরশেদ আলম। সে মানিকপুর জেলা প্রশাসকের অফিস এলাকার সকল গূরুত্বপূর্ন মানুষকে জিম্মি করে রাখেন। তাদের কাছে  সে তার দাবি প্রকাশ করে। তার এই দাবি গুলোর মধ্যে  তুলে ধরেন সমাজের কিছু সমস্যা সমাধানের কথা। যার সমাধান অতি জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তার দাবির পক্ষে তিনি যুক্তি গুলো তুলে ধরেন। তিনি  রাষ্ট্র এবং প্রশাসনের দুর্নীতি এবং বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে অবদমিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করেন। অবিলম্বে যদি এর সমাধান না করা হয় তিনি এই জিম্মি দশা থেকে মুক্তি না দেওয়ার দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন। উপন্যাসের শেষ অংশে দেখা যায় খোরশেদ আলম তার সাথে থাকা অস্ত্র গুলো কে নকল দাবি করে এবং সাথে তিনি বলেন, তিনি এই জিম্মি দশার সৃষ্টি করেছেন দেশ ও সমাজকে একটু নাড়ানোর জন্য। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে উপন্যাসটি ইতি টানে।

মা

মা

মা

আনিসুল হকের লেখা মা ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত একটি উপন্যাস। ১৯৭১ এর উত্তাল স্বাধীনতা যুদ্ধ সময়ের ঘটনা কে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি লেখা। উপন্যাসে দেখা যায় সব বন্ধুদের সাথে আজাদও যুদ্ধে যেতে। দেশকে শত্রুদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্যে আজাদের মত ছেলেরা এগিয়ে না আসলে কে আসবে? এই কারণে আজাদ যখন যুদ্ধে গেল তখন তার মা তাকে না করতে পারেন নি। যুদ্ধ চলাকালীন সময় আজাদেরা মেলাঘর থেকে ট্রেনিং নিয়ে এসে ঢাকার ভিতরে অসাধারণ দুঃসাহসী সব অপারেশন করতে লাগলো। কিন্তু একদিন একটু অসতর্কতার কারণে হানাদার বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে গেল তারা। তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে থানায় রাখা হয়েছিলো। সেখানেই আজাদের সাথে তার মায়ের শেষ দেখা করেন। মা দেখেন, ছেলের কোন বিছানা নেই, মেঝেতে ঘুমায়। ভাল কোন খাবার নেই, খালি শুকনো রুটি খাওয়ায়। মা, ছেলের এ বেহাল দশা সহ্য করতে পারে না। ছেলেকে জিজ্ঞাসা করে সে কি খেতে চায়। ছেলে বলে। মা বাড়িতে ফিরে এসে সারা দিন, সারা রাত ছেলের পছন্দের খাবার রান্না করে। কিন্তু পরদিন গিয়ে দেখেন, তার ছেলে নেই। পাকিস্তানিরা তাকে অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলেছে। মা দিশেহারা হয়ে ছেলের খোঁজ করেন সারা দেশে। কিন্তু খোঁজ মেলে না। এরি মাঝে দেশ স্বাধীন হয়। কিন্তু আজাদকে খুঁজে পাওয়া যায় না গেলে সবাই তার মাকে বলে যুদ্ধে সে শহীদ হয়েছে। কিন্তু মা তা মানতে নারাজ। যতদিন বেঁচে ছিলেন, কখনো খাটে শোননি, মেঝেতে শুয়েছেন। শুকনো রুটি খেয়েছেন, ভাত মুখে দেন নি। কারন আজাদকে পাকিস্তানিরা এই অবস্থায় রেখেছিল। একসময় তিনি বুঝতে পারেন, আজাদ আসলেই শহীদ হয়েছে। মৃত্যুর পর তার কবরের পাশে তার নিজের নাম লেখা হয় নি। তার ইচ্ছানুযায়ী লেখা হয়েছিল ‘শহীদ আজাদের মা’।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *