টপ ৫: মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা সেরা ৫ টি বই

শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবি, কলামিস্ট, গল্পকার, ঔপনাসিক, বিজ্ঞান লেখক স্যার মুহম্মদ জাফর ইকবাল বাংলাদেশের ছোট বড় প্রায় সব বয়সি মানুষের কাছে এক জনপ্রিয় নাম। তিনি শিশু-কিশোরদের জন্য প্রতি বছরই নতুন নতুন গল্প নিয়ে হাজির হন। যার মাঝে বেশি গল্পই থাকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নিয়ে। গল্পগুলো সত্যিই কল্পনা জগত কে প্রসস্থ করে দিতে টনিকের মতো কাজ করে। সাথে নতুন জ্ঞান মস্তিষ্ককে উৎজীবিত করে। এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধ, গনিত অলিম্পিয়াড নিয় বই লিখে থাকেন। এই পর্বে আমরা মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের লেখা সেরা ৫ টি বই নিয়ে আলোচনা করব।

মুহম্মদ জাফর ইকবালের সেরা ৫ টি বই

সেরিনা

সেরিনা

সেরিনা

সেরিনা, স্যার মুহম্মদ জাফর ইকবালের অন্যতম জনপ্রিয় সাইন্স ফিকশন উপন্যাস। এই উপনাসের প্রধান চরিত্রের নাম সেরিনা। উপন্যাস অনুসারে সেরিনা ছোট বেলা থেকে পিতার স্নেহে বড় হয় ডাক্টার শামীমের কাছে। সেরিনার বিশেষ সুপার পাওয়ারের অধিকারী। সে ঘন্টার পর ঘন্টা পানির নিচে থাকতে পারে। এক সময় বিদেশী একদল স্বার্থলোভীর চোখে পরে যায় এই ক্ষমতা। সেরিনা কে জানতে ও তাকে খুঁজে পেতে তার শরীরে ডুকিয়ে দেয় শক্তিশালী ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস ‘ট্রাকিওশান’! এই ডিভাইসটি ন্যনো প্রযুক্তিতে তৈরি করে সিরিঞ্জের মাধ্যমে রক্তে ইনজেক্ট করে দেয়া হয়। যার ফলে তার দেহের রক্তের সাথে এই ডিভাইসটি মিশে যায় এবং অজ্ঞাত স্থান থেকেও এক ঘন্টা পর পর স্যাটেলাইটে সিগনাল পাঠাতে থাকে।

বিদেশিদের হাত থেকে বাঁচতে কি এবার তাকে পানির নিচে আত্মগোপন করতে হবে? পানির নিচেই বা সিগনাল কতটুকু কাজ করবে? এই সব রহস্য নিয়েই স্যার জাফর ইকবাল এই উপন্যাসটির ঘটনা প্রবাহিত করতে থাকে। তিনি আরো তুলে ধরেন পানির নিচে থাকলে সেরিনার কি কি সমস্যা হতে পারে। শেষ অবধি সেরিনার কি হয় সেই রহস্য জানতে হলে উপন্যাসটি এখনি পড়ে দেখুন।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেরা ৫ বই

জলজ

জলজ

জলজ

জলজ, স্যার মুহম্মদ জাফর ইকবালের অন্যতম সেরা বিজ্ঞান ফিকশন সংকলন। পাঁচটি গল্পে পুরো বইটিকে এক মলাটে নিয়ে আসা হয়েছে। গল্পগুলো যথা: ডক্টর ট্রিপল এ, দ্বিতীয় মানব, সোলায়মান আহমেদ ও মহাজাগতিক প্রাণী, মহাজাগতিক কিউরেটর ও জলজ। গল্প পাঁচটি তে কল্পনার আশ্রয় নিয়ে লেখক ফুটিয়ে তুলার চেষ্টা করেছেন রহস্য, ভিনগ্রহের প্রাণীর চিন্তা, ভবিষৎ পৃথিবী, প্যরালাল ইউনিভার্সের মতো বিষয় গুলো। নিচে ডক্টর ট্রিপল এ এবং জলজ গল্পের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:

ডক্টর ট্রিপল এ: ডক্টর ট্রিপল এ গল্পে দেখা যায় এক ছোট বাচ্চা কুকুর ছানা পালার শখ জাগে। তার বাবা কুকুর ছানা খুঁজার সময় রহস্যময় এক ব্যক্তি ট্রিপল এ এর সাথে দেখা হয়। রহস্যময় ব্যক্তিটি তার ফার্ম থেকে একটি কুকুর ছানা দেয়। পরবর্তীতে নীলা বুঝতে পারে এটি কোনো সাধারণ কুকুর ছানা নয়। এই নিয়েই গল্পের রহস্য সৃষ্টি হতে থাকে।

জলজ: জলজ গল্পের পটভূমি ধ্বংস হয়ে যাওয়া পৃথিবীতে। তখন মানুষ অন্য গ্রহে বসবাস করে। এই সময় পৃথিবীতে মানুষের সন্ধানে এক মহাকাশচারী আসে। কিন্তু সে জানতে পারে পৃথিবীর অক্সিজেন মানুষের জন্য উপযোগী নয়। তারপরেও সে পৃথিবীতে নামে এবং মৃত্যু মুখোমুখি হয়। কিন্তু কেউ একজন তাকে বাঁচিয়ে দেয়। তবে সে কি মানুষ? মানুষ হলে কি করে এই পরিবেশে বেঁচে আছে? এই নিয়েই মূলত জলজ গল্প।

হাতকাটা রবিন

হাতকাটা রবিন

হাতকাটা রবিন

স্যার জাফর ইকবালের হাতকাটা রবিন একটি কিশোর গোয়ান্দাধর্মী উপন্যাস। ১৯৭৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হলে উপন্যাসটি জনপ্রিয় হতে থাকে এবং ২০০৬ সালে দ্বিতীয় বার প্রকাশিত হয়। উপন্যাসে অন্যতম চরিত্র টোপন। টোপনের মাধ্যমেই গল্পে জানা যায় ওদের পাড়ায় থাকতে আসে ওরি বয়সি এক ছেলে নাম রবিন। টোপন ও তার সব বন্ধুরা অবাক হয়ে রবিনকে দেখতে থাকে। কারণ রবিনের বাম হাত কনুইয়ের কাছ থেকে কাটা। রবিনের সাথে ওর বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে সময় লাগে না। প্রাইভেট ডিটেকটিভ এজেন্সি নামে টোপনদের একটি গোয়েন্দা গ্রুপ ছিল। কিছু দিনের মধ্যেই রবিন এর অন্যতম সদস্য হয়ে যান। রবিন এমনি তে কিছুটা জেদী স্বভাবের। যেমন ফুটবলের মালিক ও নিজে হওয়ায় খেলার সময় ওর টিমের ক্যপ্টেন ও নিজেই হয়ে যায়।

হঠাৎ করেই টোপন, রবিন একদিন রাতের বেলা এক ডাকাত দলকে দেখে ফেলে ও তাদের দলে একজন আহত তা জানতে পারে। সেই দিন থেকেই এই দলটি কে ধরতে চেষ্টা করতে থাকে। কোনোভাবেই ডাকাত দলটির কোনো খবর বের করা সম্ভব হচ্ছিল না। যদিও এক সময় তারা খুঁজে পায় এবং ওরা ওদের পরবর্তী ডাকাতি করার পরিকল্পনা জেনে যায়। বন্ধুদের নিয়ে রবিন ঠিক করে এই দলটিকে ধরিয়ে দিবে। কিন্তু সফল হবে কি? লেখক জাফর ইকবাল এই উপন্যাসটিতেও তুলে ধরেছেন কিশোর বয়সের দুরন্তপনা ও দুঃসাহসিকতার গল্প।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সেরা ৫ বই

আমার বন্ধু রাশেদ

আমার বন্ধু রাশেদ

আমার বন্ধু রাশেদ

মুহম্মদ জাফর ইকবালের শিশুতোষ উপন্যাস আমার বন্ধু রাশেদ অন্যতম জনপ্রিয় একটি উপন্যাস। এই উপন্যাস অবলম্বনে ২০১১ সালে “আমার বন্ধু রাশেদ” নামে একটি চলচিত্রও নির্মিত হয়েছে। উপন্যাসের পটভূমি ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধের সময় নেওয়া। দেশের স্বাধীনতার স্বার্থে কিশোর মনও কিভাবে আন্দোলিত হয় সেই চিত্রই মূলত তুলে ধরেছেন উপন্যাসে। উপন্যাসে রাশেদ একদিন স্কুলে হাজির হয়। তার আসল নাম রাশেদ না। স্কুলের শিক্ষক তার সহপাঠিদের নিয়ে এই নামটি দিয়েছেন। একাত্তোরের উত্তাল দিন গুলো যখন ছোট ছোট ছেলেরা বুঝতে পারছে না, রাজনৈতিক সচেতন রাশেদ তখন তার নিজের ভাষায় সহজে সবাইকে বুঝিয়ে দেয়।

ঘটনাক্রমে একসময় পাকিস্থানি বাহিনী পূর্ব পাকিস্থানে ঝাঁপিয়ে পরে ও রাশেদের ছোট্ট শহরে তারা এসে হাজির হয়। ভয়ানক ধ্বংসলীলার সাক্ষী হতে থাকে রাশেদ। রাশেদ ও তার কয়েকজন বন্ধু মিলে স্বাধানতাকামী মুক্তিবাহিনীকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। যু্দ্ধে বন্ধি হয়ে যায় মুক্তিবাহিনীর এক সহযোদ্ধা। রাশেদ ও তার বন্ধুরা কৌশলে তাকে মুক্ত করে নিয়ে আসে মৃত্যু হাত থেকে। যুদ্ধের কারণে একসময় রাশেদ ও তার বন্ধুরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর রাশেদ আরো গভীর ভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পরে। দেশ স্বাধীন হলে তার বন্ধুরা যখন ছোট্ট শহরটিতে আবার ফিরে আসে তখন আবিষ্কার করেন রাশেদ নামের সেই তেজি ছেলেটি আর নেই। রাশেদের স্মৃতি গুলো বন্ধুদের হৃদয়ে বেঁচে থাকে চিরকাল। একাত্তোরের এক ত্যাগী কিশোরের গল্প নিয়েই জাফর ইকবাল উপন্যাসটি সাজিয়েছে। দেশ মাতার জন্য তার প্রাণ উৎসর্গ চোখে জল এনে দেয়!

আরো পড়ুন:  টপ ৫: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেরা ৫ বই

দীপু নাম্বার টু

দীপু নাম্বার টু

দীপু নাম্বার টু

প্রখ্যাত লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা দীপু নাম্বার টু অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিশোর উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৮৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হলে জনপ্রিয় হতে থাকে। এই উপন্যাস অবলম্বনে একটি চলচিত্রও নির্মাণ করা হয়েছে। উপন্যাসের কীহিনী অনুসারে দীপুর পরিবারের সদস্য সংখ্যা দুই জন। একজন সে আর আরেকজন তার বাবা। দীপু জানে ওর মা বেঁচে নেই! দীপুর বাবার স্বভাব খুব ভিন্ন! কোনো জায়গায় দীর্ঘ সময় তার থাকতে ভালো লাগে না। প্রতি বছরই দীপুর বাবা নতুন নতুন জায়গায় পোষ্টিং নিয়ে বদলি হয়ে যান। যার ফলে দীপুকেও তার বাবার সাথে যেতে হয়; ভর্তি হতে হয় নতুন স্কুলে। এরই ধারাবাহিকতা ধরে দীপু ক্লাস এইটে নতুন স্কুলে ভর্তি হয়। ভর্তির প্রথম দিনেই দীপুর স্কুলটি ভালো লেগে যায়। উপন্যাসের ঘটনা অনুসারে দীপু ও তার সহপাঠি তারিকের মাঝে গড়ে উঠে গভীর বন্ধুত্ব।

ঘটনাচক্রে এক পর্যায়ে দীপু তার মায়ের সন্ধান পায়। জানতে পারে তার বাবা মার সম্পর্কের ছিন্ন হওয়ার কথা। যার ফলে সব সম্পর্ক ছেড়ে বহু বছর আগে তার মা আমেরিকা চলে যান। এখন দেশে এসেছেন কয়েকদিনের জন্য। দীপুকে দেখতে চেয়ে তার বাবার কাছে চিঠি লিখেছেন মা। এরপর দীপু একা একাই তার মার সাথে দেখা করতে ঢাকা চলে আসে। মাকে পেয়ে দীপুর মাঝে এক অদ্ভুত অনুভূতি জেগে উঠে। তারপর সে আবার ফিরে আসে; মা চলে যান আমেরিকা। অন্যদিকে দীপু জানতে পারে তারিকের অসুস্থ মায়ের কথা। তারিকের স্বপ্ন টাকা আয় করে তার মায়ের চিকিৎসা করাবে। এরপর গল্পে শুরু হয় এক দুঃসাহসিক অভিযান। বুদ্ধি আর সাহসের জোরে ওরা দুজন ও বন্ধুরা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন মূর্তি পাচারকারী চক্রকে ধরিয়ে দেয়। পুরো উপন্যাসের ঘটনা এইভাবেই প্রবাহ হতে থাকে। লেখক জাফর ইকবাল উপন্যাসের শেষে টান টান উত্তেজনার সাথে কিশোর বয়সের দুঃসাহসিকতা তুলে ধরেছেন।

লেখক: ইমন বর্মণ

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *