টপ ৫: তিন গোয়েন্দার মতো আরো ৫ টি সিরিজ

রবার্ট আর্থারের ইংরেজি গোয়েন্দা সিরিজ “থ্রি ইনভেস্টিগেটর” অবলম্বনে রচিত বাংলাদেশী লেখক রকিব হাসান ও শামসুদ্দীল নওয়াবের লেখা তিন গোয়েন্দা সিরিজ কিশোরদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এই থ্রিলার সিরিজটিতে রহস্য এডভেঞ্চারের মাঝে অলৌকিক বা ভৌতিক স্বাদ পাওয়া যায়। পাশা, মুসা ও রবিন এই তিন চরিত্রে সাজানো সিরিজটি ১৯৮৫ সালে প্রথম প্রকাশ হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত অনেকটাই জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। এই পর্বে তিন গোয়েন্দার মতো আরও ৫ টি জনপ্রিয় সিরিজ নিয়ে আলোচনা করব।

তিন গোয়েন্দার মতো আরো ৫ টি সিরিজ

শার্লক হোমস সিরিজ

শার্লক হোমস সিরিজ প্রচ্ছদ

শার্লক হোমস সিরিজ প্রচ্ছদ

গোয়েন্দা সিরিজ পছন্দ করে কিন্তু শার্লক হোমসের নাম শুনে নি এমন লোক পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া যাবে না। শার্লক হোমস (Sherlock Holmes) মূলত স্কটিস লেখক ও চিকিৎসক স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের লেখা বিখ্যাত কাল্পনিক গেয়েন্দা সিরিজ। গল্পে দেখা যায় হোমস একজন উচ্চমেধাসম্পন্ন লন্ডন ভিত্তিক প্রোফেশনাল ডিটেক্টিভ। হোমস ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পর্যবেক্ষণ থেকে বিরাট বিরাট সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যে কোনো প্রকার ছদ্মবেশ ধারণ ও ফরেনসিক বিজ্ঞানে দক্ষতা থাকায় জটিল মামলার সমাধান বের করে দেওয়ার জন্য তার খ্যতি বিশ্বজুড়ে। হোমস কাহিনির পটভূমির সময়কাল ১৮৮০ থেকে ১৯০৭ সাল এবং শেষ ঘটনাটির সময়কাল ১৯১৪ সাল ছিল। ১৮৯১ সালে এই সিরিজের একটি গল্প পত্রিকায় প্রকাশ হলে জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। স্যার ডয়েল হোমসকে নিয়ে প্রথম উপন্যাস আকারে লিখেন ১৮৮৭ সালে। “আ ট্যাঙ্গলড স্কিন” উপন্যাসে জন্ম হয় ডিটেক্টিভ শার্লক হোমসের। এরপর “আ স্টাডি ইন স্কারলেট” আবার শার্লক হোমস কে বিশ্বে বিখ্যাত করে তুলে। বাংলাসহ বিশ্বের প্রায় ভাষায় এই সিরিজের অনুবাদ পাওয়া যায়। গোয়েন্দা হতে হলে এই সিরিজটি আপনাকে অবশ্যই পড়তে হবে।

ব্যোমকেশ সিরিজ

ব্যোমকেশ সিরিজ প্রচ্ছদ

ব্যোমকেশ সিরিজ প্রচ্ছদ

ব্যোমকেশ সিরিজ (Byomkesh Series) ভারতীয় লেখক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্ট গোয়েন্দা সিরিজ ও প্রধান চরিত্র। গল্পে ব্যোমকেশ বক্সীকে বেসরকারি ডিটেক্টিভ হিসেবে দেখা যায়। অতুল চন্দ্র মিত্র ছদ্মনামে কলকাতার চীনাবাজারের কাছে একটি মেসে বসবাস শুরু করে সে। নিজেকে গোয়েন্দা বা ডিটেক্টিভ নয়, সত্যান্বেষী পরিচয় দিতে পছন্দ করত। তার রুম মেটের কলমে লেখক শরবিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যোমকেশ চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছে। ব্যোমকেশ সিরিজের প্রথম গল্প পথের কাঁটা ও দ্বিতীয় গল্প সীমন্ত হীরা লেখার পর শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যোমকেশ সিরিজ লেখার পরিকল্পনা করেন। তিনি প্রথমে সত্যান্বেষী গল্প প্রকাশ করলে বেশ সাড়া পেতে থাকে। যার ফলে এটাকেই তার সিরিজের প্রথম গল্প হিসেবে ধরা হয়। এই সিরিজে তেত্রিশটি গল্প রয়েছে। প্রতিটি গল্পেই  টান টান উত্তেজনা দেখা যায়। চুরি থেকে ধরে খুনের রহস্য উদ্ভঘাটন করতে ব্যোমকেশের চিন্তাধারা সত্যিই অবাক করে। সিরিজটি ভারত ও বাংলাদেশে ব্যপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গোয়েন্দা গল্পপ্রেমী হলে বইটি অবশ্যই আপনার জন্য।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: দ্য দা ভিঞ্চি কোড এর মতো আরো ৫ টি বই

ফেলুদা সিরিজ

ফেলুদা সিরিজ প্রচ্ছদ

ফেলুদা সিরিজ প্রচ্ছদ

ভারতীয় লেখক ও চলচিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের লেখা বিখ্যাত গোয়েন্দা সিরিজ ফেলুদা (Feluda Series)। ১৯৬৫ সালে এই সিরিজের প্রথম গল্প পত্রিকায় প্রকাশিত হলে পাঠকদের কাছে সাড়া পরে। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এই সিরিজের মোট ৩৫ টি সম্পূর্ণ ও চারটি অসম্পূর্ণ গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হয়। ফেলুদার রহস্য খুব জটিল। সিরিজের বিভিন্ন গল্পে ফেলুদাকে দেখা যায় কোনো ঘটনাকে অসম্ভব ভালো বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণের ক্ষমতার উপরেই যেকোনো রহস্যের সমাধান করতে পছন্দ করে। ফেলুদার রহস্য অনেক সময়ই কলকাতর বাইরেও বিস্তার লাভ করে থাকে। কখনো দেশের গন্ডি পেরিয়ে, আবার কখনো পাড়া গাঁয়ে ফেলুদাকে সিগারেট হতে ভাবতে দেখা যায়। সত্যজিৎ রায় তার ছোটবেলায় পড়া শার্লক হোমসের গোয়েন্দা গল্পের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। তাই ফেলুদার চরিত্রের সাথে অনেক জায়গায় আমরা হোমসের আর ফেলুদার ভাই ও সহকারি তোপসের সাথে হোমসের সহকারি ওয়াটসনের মিল দেখতে পাই। এই সিরিজে আরেক শার্লক হোমসকে খুঁজে পাবেন সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা চরিত্রে। বইটি অবশ্যই পড়ে দেখবেন।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: ইনফার্নোর মতো আরো ৫ টি বই

পাণ্ডব গোয়েন্দা

পাণ্ডব গোয়েন্দা প্রচ্ছদ

পাণ্ডব গোয়েন্দা প্রচ্ছদ

পাণ্ডব গোয়েন্দা (Pandob Goyenda) হল ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় রচিত এক কাল্পনিক গোয়েন্দাবাহিনী। এই গোয়েন্দাবাহিনী পাঁচজন কিশোর-কিশোরী নিয়ে গঠিত। এই দলে আরো আছে একটি কুকুর। দুঃসাহসী পাঁচটি ছেলেমেয়ে ও একটি কুকুর নিয়ে গঠিত পান্ডব গোয়েন্দারা নানারকম রোমাঞ্চকর অভিযান করে। কখোনো কখোনো তারা নিজেরাই বিপজ্জনক ঘটনায় জড়িয়ে যায়, আবার কখোনো কখোনো অন্য কারো সাহায্যার্থে ঝাঁপিয়ে পড়ে আরো বড় বিপদের মুখে। ভারতের বিভিন্ন জায়গায় এই দল গোয়েন্দাগিরি চালিয়েছে। পান্ডব গোয়েন্দা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭০ সালে মাসিক শুকতারা পত্রিকায়। তারপর আনন্দমেলা পুজো সংখ্যাতেও পান্ডব গোয়েন্দার উপন্যাস বেরিয়েছে। পান্ডব গোয়েন্দার একাধিক ছোটগল্প ও উপন্যাস শিশু কিশোরদের কাছে সবিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। এখন এই গোয়েন্দা গল্প ভারতীয় আকাশ বাংলা চ্যানেলে দেখানো হয়। তাই, তিন গোয়েন্দা ভালো লাগলে আপনার এই সিরিজটিও ভালো লাগবে বলেই আশা করি।

জেমস বন্ড সিরিজ

জেমস বন্ড প্রচ্ছদ

জেমস বন্ড প্রচ্ছদ

ব্রিটিশ লেখক ইয়ান ফ্লেমিং-এর লেথা জেমস বন্ড (James Bond) বিশ্ব বিখ্যাত গুপ্তচর গোয়েন্দা সিরিজ। এই সিরিজের ১২ টি শ্বাসরুদ্ধকর উপন্যাস আপনার ভাবনাকে নিয়ে যাবে অন্য মাত্রায়। উপন্যাসে জেমস বন্ড কে একজন নেভি কমান্ডার হিসেবে দেখা যায়। পরবর্তীতে লন্ডনের সিক্রেট ইনটেলিজেন্স সার্ভিস এমআইসিক্স(MI6) এর প্রধান গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে। তার পেশাগত কোড নাম ছিল 007। ডাবল ও ডাবল জিরো (OO00) শব্দটি দ্বারা তার কর্মে যে কাওকে হত্যার অনুমতি প্রধান করা হয়েছে। তাকে কয়েকটি উপন্যাসে খুব ঠান্ডা মাথায় গুপ্তচর হত্যা করতে দেখা যায়। তার ডিটেক্টিভিটি তাকে সহজেই প্রতি পদক্ষেপে সহায়তা করত। গোয়েন্দাগিরির পাশাপাশি যে কাওকে হত্যা করা ছিল তার পেশার অংশ।জেমস বন্ডের জীবনদশায় পুরোপুরি লেখক ইয়ানের ছাপ পাওয়া যায়। ব্যক্তিগত জীবন থেকে তার কর্ম জীবনের সব স্থানে জেমস বন্ডকে বসিয়েছে। এক পর্যায়ে লেখকের মৃত্যু হলে; পরবর্তীতে এই সিরিজের আরো দুটি ছোট গল্প বের হয়। যা তার ভক্তরা সম্মানসহীত গ্রহণ করেন। লেখক ইয়ান ফ্লেমিং-এর এই অদ্বিতীয় সাহ্যিত কর্ম একবার না পড়লেই নয়!

আরো পড়ুন:  টপ ৫: দ্য আলকেমিস্ট এর মতো আরো ৫ টি বই
data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *