টপ ৫: দেশি লেখকদের জনপ্রিয় ৫টি ফ্যান্টাসি বই

আচ্ছা আপনার কখনও মনে হয়েছে, ইশ আমার যদি আলাদিনের প্রদীপ টা থাকত!!! ইশ আমি যদি উড়তে পারতাম বা অদৃশ্য হতে পারতাম!!! কতই না ভাল হত। জ্বী, এগুলাকেই মূলত ফ্যান্টাসি বলা হয় যা আসলে বাস্তবিক নয়। আর মজার ব্যাপার হচ্ছে আমরা কেউ ই এসব ফ্যান্টাসির বাইরে নই। কখনও না কখনও সামান্য হলেও এসব ফ্যান্টাসির জগতে ছিলাম আমরা। আর মানুষের এসব ফ্যান্টাসি নিয়েই তৈরী হয়েছে ফ্যান্টাসি বই৷ এরমধ্যে অনেক তো বিশ্বখ্যাত। যেমন: হ্যারি পটার, দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস, দ্য ক্রনিকলস অফ নার্নিয়া ইত্যাদি। বই হোক বা মুভি, ফ্যান্টাসি বলতেই আমরা বাইরের লেখকদের বুঝি। এটা নিয়ে কিছুটা আফসোসও ছিল আমাদের মত বইপড়ুয়াদের। আর এই আফসোস কাটানোর জন্যই আমাদের দেশের লেখকরাও এখন ফ্যান্টাসি টাইপ বই লেখা শুরু করেছে!!! অবাক হবার কিছু নেই, আমাদের আজকের আয়োজন দেশি লেখকদের জনপ্রিয় ৫টি ফ্যান্টাসি বই নিয়ে। চলুন লেখকরা কোন কোন ফ্যান্টাসি জগত বানিয়ে রেখেছেন তাই কিছুটা দেখে আসি আজকের এই রিভিউতে।

দেশি লেখকদের জনপ্রিয় ৫টি ফ্যান্টাসি বই

সাম্ভালা ট্রিলোজি

সাম্ভালা ট্রিলোজি

সাম্ভালা ট্রিলোজি

তালিকার শুরুতেই যেই বইয়ের কথা বলতে যাচ্ছি তা হল শরীফুল হাসানের লেখা ”সাম্ভালা” যা ”সাম্ভালা ট্রিলোজি” নামে পরিচিত। আমার ব্যক্তিগত মতামত এই যে দেশি লেখক দের মধ্যে শরীফুল হাসানই প্রথম ফ্যান্টাসি বই লিখেন এবং তা বেশ জনপ্রিয় বটে তো কথা না বাড়িয়ে চলুন দেখে নেয়া যাক এই বইয়ে কি চমক রেখেছেন লেখক।

সাম্ভালা

সাম্ভালা

সাম্ভালা

একটি রহস্য–এর খোঁজে হন্যে হয়ে উঠেছে কিছু মানুষ। সত্যি কি এর অস্তিত্ব আছে? কেউ কি এর খোঁজ পেয়েছে শেষ পর্যন্ত?ছোট্ট একটি গ্রামে কাহিনীর সুত্রপাত। ইতিহাস এবং বর্তমান হাত ধরাধরি করে এগিয়ে গেছে সহস্রাব্দ প্রাচীন এক রহস্যময় পরিব্রাজকের সঙ্গি হয়ে। ইউরোপ, মিশর থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ হয়ে সুদূর তিব্বতে বিস্তৃত এর প্লট। অবশেষে রহস্যময় অভিযাত্রীর সাথে যোগ হয় বর্তমানকালের এক যুবকের ছুটে চলা, যার পেছনে ধাওয়া করছে তার বন্ধুর হত্যাকারী শয়তান-উপাসকের দল। প্রাচীন সেই পথিক কি দেখা পেয়েছে সাম্ভালা’র? জানতে হলে পড়তে হবে এই বইয়ের শুরু থেকে শেষ অবধি!!!

সাম্ভালা দ্বিতীয় যাত্রা

সাম্ভালা দ্বিতীয় যাত্রা

সাম্ভালা দ্বিতীয় যাত্রা

সাম্ভালার খোজে ড: কারসন চলে এসেছেন দিল্লিতে, তার সাথে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ থেকে ড: আরেফিন এবং দুই ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক। দিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করেছে দলটা, ম্যাকলডগঞ্জ হয়ে নেপাল পাড়ি দিয়ে যাত্রা করেছে তিব্বতের উদ্দেশ্যে। তাদের পিছু নিয়েছে এক অ্যান্টিক শিকারী। সাম্ভালার আসল ম্যাপ নিয়ে আব্দুল মজিদ ব্যাপারী ওরফে লখানিয়া সিংও চলেছে তিব্বতের উদ্দেশ্যে। তার চিরশত্রু অমরত্বের আরেক দাবিদার মিচনারও চলেছে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে। অন্যদিকে রাশেদ জড়িয়ে পড়েছে আরেক অ্যাডভেঞ্চারে। বন্ধুকে বাঁচানোর জন্য পর্তুগীজ জলদস্যু তিবাওয়ের গুপ্তধন উদ্ধারে নেমেছে। সাথে আছে পর্তুগীজ জলদস্যুর বংশধর লরেন্স। পাহাড়ের ত্রাস সঞ্জয় সিংও আছে পেছনে। সাম্ভালার খোঁজ কি পাওয়া যাবে? কি হবে তিবাওয়ের বিশাল গুপ্তধনের? জানতে হলে পড়ুন “সাম্ভালা দ্বিতীয় যাত্রা”।

সাম্ভালা শেষ যাত্রা

সাম্ভালা শেষ যাত্রা

সাম্ভালা শেষ যাত্রা

সাম্ভালার খোঁজে ড: কারসন দলবল নিয়ে চলে এসেছেন তিব্বতে, তার সত্যিকার উদ্দেশ্য কি কেউ জানে না। ওদিকে অপহৃত হলেন ড: আরেফিন, সুদূর ঢাকা থেকে রাশেদ তার বন্ধুকে নিয়ে ড: আরেফিনকে উদ্ধার করতে চলে এল তিব্বতে কিন্তু তাদের পেছনে লাগল একদল লোক।

লখানিয়া সিং ওরফে মজিদ ব্যাপারীও আছেন সাম্ভালার পথে, সঙ্গী যজ্ঞেশ্বর আর বিনোদ চোপড়া, তাদের দুজনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ আলাদা, মিচনার ও পিছিয়ে নেই , প্রতিপক্ষ লখানিয়া সিং থেকে সে কেবল এক পা দূরে। অন্যদিকে পিশাচ সাধক আকবর আলী মৃধা আছে পেছনে, তার উদ্দেশ্য একটাই, প্রতিশোধ। দুই চিরশত্রু কি মুখোমুখি হবে একে অপরের? অবশেষে সাম্ভালার সন্ধান কি তারা করতে পেরেছিলো – যেতে পেরেছিল কেউ ওখানে? এরকম আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে সাম্ভালা ট্রিলজির শেষপর্ব সাম্ভালা: শেষ যাত্রা’য় বাকি দুটি পর্বের মতই টানটান উত্তেজনায় আপনাকে ধরে রাখবে একদম শেষ পর্যন্ত।


আরো পড়ুন:  টপ ৫: আহমদ ছফার লেখা সেরা ৫ টি বই

অক্টারিন

অক্টারিন

অক্টারিন

সাম্ভালা পর্ব শেষ হল। যারা পড়েছেন তারা নিসঃন্দেহে ধাক্কা খেয়েছেন এটা ভেবে যে এত ভাল ফ্যান্টাসি বই আমাদের দেশি লেখক লিখেছে!!! জ্বী পাঠক, আমাদের দেশি লেখকই লিখেছেন। তো চলুন দেখে নেয়া যাক পরবর্তী বইটি। ফ্যান্টাসি বলতে আমরা যা বুঝি ঠিক তেমনই প্লট পাবেন তালিকার ২য় বই অক্টারিন নামক বইটিতে।

মার্ডার মিস্ট্রি হয়তো পড়েছেন আগে, কিন্তু পজেশন মিস্ট্রি? কোন অশুভ শক্তির ছায়া পড়েছে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী পরিবারের একমাত্র মেয়ের ওপর– সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নিয়োগ করা হলো অদ্ভুত এক মানুষকে; অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার সাথে যার আছে নিবিড়, তিক্ত অভিজ্ঞতা । কিন্তু তদন্তে ডুব দেবার পরই বুঝতে পারলো চোরাবালি আসলে কতোটা গভীর। একা একা সমস্যার জট খোলা সম্ভব নয়, অন্য এক ধরনের বিশেষজ্ঞের সাহায্যের দরকার। দরকার একজন রিচুয়াল ম্যাজিশিয়ানের। ওরা দু-জন মিলেও কি এই মারাত্মক রহস্যের জাল ভেদ করতে পারবে? প্রতি পদে অপেক্ষা করছে বিপদ–ছায়ার আড়ালে গা ঢাকা দিয়ে আছে অকল্পনীয় ক্ষমতাধর এক আততায়ী। আর্কন-খ্যাত তানজীম রহমানের হরর থৃলার অক্টারিন-এর পাতায় লুকিয়ে আছে খুন, জাদু, কিংবদন্তি আর চক্রান্তের আশ্চর্য এক উপন্যাস যা চুম্বকের মতো আপনার মনোযোগকে আকর্ষণ করবে।

আর আমি হব ধ্বংসতারা

আর আমি হব ধ্বংসতারা

আর আমি হব ধ্বংসতারা

সাই-ফাই ফ্যান্টাসি আমরা বলতেই বাইরের লেখকদের বই। আমাদের দেশীয় লেখকেরা ফ্যান্টাসি যদিও কোনমতে লিখতে পারলেও সাই-ফাই ফ্যান্টাসি কি লিখতে পারবে? এরকম দ্বিধা আমাদের সমস্ত ফ্যান্টাসি প্রিয় পাঠকদের মাঝেই ছিল। আর এই দ্বিধা দূর করতেই “আর্কন” খ্যাত তানজিম রহমান লিখেছেন আমাদের পরবর্তী বই “আর আমি হব ধ্বংসতারা“। চলুন দেখে আসি কি আছে এই বইয়ে…

আরো পড়ুন:  টপ ৫: চেতন ভগতের সেরা ৫ টি বই

পৃথিবীকে দেখার আপনার একটা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি আছে…সবারই থাকে । এখন কল্পনা করুন এমন এক ভবিষ্যৎ, যেখানে যে কেউ চাইলেই আপনার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে পৃথিবী দেখতে পারবে । ভাববে আপনার সব চিন্তা, অনুভব করবে আপনার সব অনুভূতি । এ জগতে দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে সবচেয়ে দামি সম্পদ, সবচেয়ে ভয়ংকর মাদক । আর অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি চুরি করার জন্য জন্ম নিয়েছে একদল দুর্ধর্ষ, দক্ষ চোর। এমন এক চোরের সবচেয়ে বিপজ্জনক মিশন থেকে এ গল্পের শুরু।

আর্কন, অক্টারিন দিয়ে পাঠকপ্রিয়তা লাভ করার পর কেটজালকোয়াটল এবং সৃষ্টিবিনাশ রহস্য-এর মতো নিরীক্ষাধর্মি নভেলা উপহার দিয়েছিলেন এ সময়ের আলোচিত লেখক তানজীম রহমান। এবার তিনি পাঠকের সামনে হাজির হয়েছেন আর আমি হবো ধ্বংসতারা’র মতো কাব্যিক নামের এক মহাকাব্যিক কল্পবিজ্ঞান উপাখ্যান নিয়ে। আর সেটা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা গৎবাধা কোনো সাই-ফাই গল্প নয় মোটেও। এখানে আপনি রুদ্ধশ্বাস অ্যাকশনে পূর্ণ অসাধারণ এক রোমাঞ্চযাত্রা উপভোগ করবেন। ভ্রমণ করবেন সম্পূর্ণ নতুন এক পৃথিবীতে, খুলবেন অপ্রত্যাশিত রহস্যের জাল। কে জানে, হয়তো বইয়ের শেষে বদলে যাবে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি।

তমিস্রা

তমিস্রা

তমিস্রা

আগের বইগুলো পড়ে নিশ্চই একটা ঘোর লাগা অবস্থা তৈরী হয়েছে তাইনা। চলুন সেই ঘোর টাকে আরেকটু ঘনীভূত করা যাক আমাদের তালিকার ৪র্থ বই দিয়ে। শুভপুর গ্রামে অদ্ভুতভাবে খুন হল এক লোক। গ্রামের চেয়ারম্যানের মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল অস্বাভাবিকভাবে। তার চিকিৎসার জন্য ঢাকা থেকে আসলো একজন তরুণ ডাক্তার। প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে শুরু হল চিকিৎসা। এর মাঝে গ্রাম থেকে কিছুদিনের জন্য নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেন এক ব্যক্তি। তার অন্তর্ধানের মাঝেই খুন হল আরও একজন । খুন হয়ে যাওয়া মানুষদের শরীরে মিলল বিশেষ এক চিহ্ন, আর তা তদন্ত করতেই শুভপুর এল ডিবি’র অফিসার। নিরুদ্দেশ হওয়া ব্যাক্তি গ্রামে ফিরে এলেন নতুন এক কাজের দায়িত্ব নিয়ে, যা শেষ করতে পারলেই তিনি লাভ করবেন অসীম ক্ষমতা।

সময়ের সাথে উন্মোচিত হতে লাগলো, চেয়ারম্যানের মেয়ের অসুস্থ হওয়া এবং খুনগুলোর সাথে রয়েছে হারিয়ে যাওয়া এক মেয়ের সম্পর্ক। আর এই সম্পর্কের সূচনা আরও গভীরে, এক অন্ধকারময় জগতে। তমিস্রা’র ভয়াল ভুবনে আপনাদেরকে নিমন্ত্রণ।

বিস্তৃত আধার

বিস্তৃত আধার

বিস্তৃত আধার

অবশেষে শেষ হতে যাচ্ছে আমাদের আজকের এই ফ্যান্টাসি বই নিয়ে কথা বলার ক্ষুদ্র চেষ্টা। আমাদের তালিকার সর্বশেষ বই তমিস্রা ট্রিলোজির শেষ বই বিস্তৃত আধার। চলুন কি দেখে নেয়া যাক কি আছে আমাদের জন্য এই বইয়ে। মনে আছে, ময়মনসিংহের শুভপুর গ্রামের সেই ভয়াল অন্ধকার রাতের কথা?

সেই আশ্চর্য রহস্যজনক চরিত্র আসগর মাহতাবের কথা? কিংবা ডিবির পুলিশ অফিসার সোহেল আরমান, তার কথা? মেয়ে হারানো জিন ইফ্রিতের কথাও মনে আছে কি? আর, সেই সৌম্য সুদর্শন তরুণ ডাক্তার ইরফান আহমাদ? কোথায় আছে তারা? কেমন আছে? জাতীয় সংসদের স্পীকারের একমাত্র ছেলের এমন রহস্যজনক মৃত্যুর পেছনের রহস্যই বা কী? অন্ধকারে জ্বলজ্বলে চোখে চেয়ে থাকা লোকটিই বা কে? ঘড়ঘড় আওয়াজ করা জন্তুটিরই বা জন্ম কোন ভুবনে? ইফ্রিতেরই বা কী হল? মারিদদের সাথে তার সেই যুদ্ধের অবস্থা কেমন এখন? সোলায়মানের আংটির কথা কি মনে আছে তার? এক জটিল পরিস্থিতিতে আবার একসাথে ইরফান ও সোহেল, কিন্তু কী সেই জটিল পরিস্থিতি? তমিস্রায় যে অন্ধকারের সূচনা হয়েছিলো, সেই অন্ধকার ভুবনের অন্ধকারতম জগতের দরজায় আপনাদের নিমন্ত্রণ, বিস্তৃত আঁধারে!!!

আর এরই সাথে শেষ হল আমাদের এই ছোট্ট চেষ্টা। যদি আপনাদের ভাল লাগে তাহলেই এটা সার্থক। ভুল থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল। বইয়ের আলোয় আলোকিত হই যেন সবাই।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *