টপ ৫: দ্য আলকেমিস্ট এর মতো আরো ৫ টি বই

দ্য আলকেমিস্ট এর মতো আরো ৫ টি বই

দ্য আলকেমিস্ট এর মতো আরো ৫ টি বই

ব্রাজিলিয়ান লেখক পাওলো কোয়েলহো’র লেখা “দ্য আলকেমিস্ট” জীবন বদলে দেওয়ার মতো একটি উপন্যাস। পর্তুগিজ ভাষায় লেখা এই উপন্যাসটি ৬৭ টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। গল্পে সান্তিয়াগো নামের স্পেনে জন্ম গ্রহণ করা এক কিশোর স্বপ্নে পাওয়া গুপ্তধনের সন্ধানে দীর্ঘ পথ মেষ পালকের বেশে ও পায়ে হেঁটে পারি দিতে দেখা যায়। গল্পের এক পর্যায়ে সান্তিয়াগো মিশরে পৌছে! মিশরে পৌঁছানোর পর তার সাথে দেখা হয় এক আলকেমিস্টের।যার পথপদর্শনে এক সময় তার ভিতরে থাকা আধ্যাত্বিক ক্ষমতায় গুপ্তধনের সন্ধান পায়। এই রকম রূপকধর্মী উপন্যাস মানুষের জীবনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রভাব ফেলে। যারা দ্য আলকেমিস্ট পড়েছেন এই পাঁচটি বইও পড়ে দেখতে পারেন।

দ্য আলকেমিস্ট এর মতো ৫ টি বই

লাইফ অব পাই (Life of Pi)

লাইফ অব পাই

লাইফ অব পাই

কানাডিয়ান লেখক ইয়ান মার্টেল এর লেখা লাইফ অব পাই (Life of Pi) আলকেমিস্ট ক্যাটাগরির আরেকটি জনপ্রিয় উপন্যাস। এটি ২০০২ সালে বুকার পুরষ্কার লাভ করে। বইয়ের গল্প পাইসাইন মলিটর প্যাটেল বা পাই নামে এক কিশোরকে নিয়ে। পাইয়ের বাবা একটি চিড়িয়াখানার মালিক ছিলেন। ভারতের এক রাজ্যে বড় হওয়া পাইয়ের পরিবারে এক সময় খারাপ অবস্থা নেমে আসে। যার ফলে দেখা যায় পাইয়ের বাবাকে ব্যবসা ঘুটিয়ে কানাডা যাওয়ার চিন্তা করতে ও যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে। সিদ্ধান্ত অনুসারে কানাডা কিংবা আমেরিকাগামী কিছু জন্তু নিয়ে পাইয়ের পরিবার জাপানি এক জাহাজে করে যাত্রা শুরু করে। এক রাতে পাইয়ের পরিবারের সবাই যখন ঘুমে আচ্ছন্ন তখন এক বিস্ফোরণে জাহাজ ডুবি ঘটে। নাবিকেরা পাইকে একটি লাইফবোটে বেধে পানিতে ফেলে দেয় এবং পরে পাই অক্ষতভাবে লাইফবোটে উঠে। পাইয়ের সাথে সাথে লাফিয়ে পরেছিল এক জেব্রা। যে কিনা লাফ দিতে গিয়ে পা ভেঙ্গে ফেলে। পরবর্তীতে এক বাঘ যার নাম রিচার্ড লাইফবোটে উঠলে ভয়ে পাই লাইফবোটের বৈঠা আর এর সাথে বাঁধা ছোট নৌকার সহায়তায় ভেসে থাকে। পরের দিন সকালে পাই লাইফবোটে হায়না ও ওড়াং ওটাং দেখতে পায়। কিন্তু রিচার্ডকে দেথছিল না।পরবর্তীতে হায়না দ্বারা পানিতে জেব্রা ও লাইফবোটে ওরাং ওটাং এর মৃত্যু হলে পাটাতনের নিচ থেকে রিচার্ড কে বেরিয়ে আসতে দেখে পাই। এরপর রিচার্ড ঝিমি অবস্হা থেকে স্বাভাকি অবস্হায় ফিরে আসে ও থাবা বসিয়ে হায়েনাটিকে হত্যা করে। একপর্যায়ে রিচার্ড পাইয়ের দিকে আসতে চাইলে নৌকা থেকে দূরে থাকার জন্য আবার বৈঠা নিয়ে ছোট নৌকায় ভোসে থাকে। পাই বাঘ কে বশ করার জন্য সমুদ্র থেকে মাছ ধরে খাওয়াতে থাকে। এক পর্যায়ে বাঘের সাথে চোখাচুখি হলে বাঘ লাইফবোটের সাথে বেধে থাকা ছোট নৌকায় চলে যায়। এরপর পাই বেশিক্ষণ সময় লাইফবোটেই কাটাত। এইভাবে শূন্য সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে তারা এক সময় এক দ্বীপে পৌঁছে। সেই দ্বীপের গাছ গুলো মানুষখেকো হওয়ার পাই ও রিচার্ড আবার ভেসে পরে। শেষে লাইফবোটে করে তারা মেক্সিকো তীরে পৌঁছে। তখন পাই ও রিচার্ডের বিচ্ছেদ হয়। রিচার্ড এক লাফে তীরে নামে এবং হেঁটে হেঁটে জঙ্গলে চলে যায়। গল্পের শেষে দেখা যায় অসুস্থ পাইকে এক জাপানি জাহাজ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। লাইফবোটে করে বাঘের সাথে বেঁচে ফিরে আসার গল্প তখন কেউই বিশ্বাস  করছিল না।

দ্য লিটল প্রিন্স (The Little Prince)

দ্য লিটল প্রিন্স

দ্য লিটল প্রিন্স

ফরাসী কবি, কথাসাহিত্যিক ও পাইলট অ্যানটোইনি ডে সেইন্ট-এক্সোপেরি লেখা বিশ্ববিখ্যাত শিশু কিশোর ক্লাসিক দ্য লিটল প্রিন্স (The Little Prince) আলকেমিস্টের মতো একটি জনপ্রিয় রচনা। এটি ফরাসি ভাষায় লেখা সবচেয়ে বেশি পাঠিত বইয়ের তালিকার শীর্ষে। বাংলাসহ পৃথিবীর অধিক ভাষায় এই বইটি অনূদিত হয়েছে। বইয়ের গল্পে দেখা যায় লেখক সাহারা মরুভূমির উপর দিয়ে বিমান নিয়ে রেস করার সময় দূর্ঘটনায় পরে এবং বিমানটি মাটিতে ক্রাশ করে। সৌভাগ্য বসত লেখক ও তার সঙ্গী বেঁচে গেলেও তারা ছিল জনবসতি থেকে অনেক দূরে। নির্জন মরুভূমিতে শুরু হয় তাদের বেঁচে থাকার লড়াই। প্রচন্ড তাপে তারা পানিশূন্য হয়ে যায়। সাথে খাবার মতোও কিছুই ছিল না। পানি শূন্যতার কারনে তারা হ্যালোসিনেশনে শিকার হয়। এইভাবে চারদিন কাটানোর পর তারা একদল যাযাবর বেদুইনের দেখা পায় এবং তাদের সহায়তায় বিশাল মরুভূমি থেকে উদ্ধার হয়।

গল্পটি আলকেমিস্টের লেখকের নিজস্ব অভিজ্ঞতার মতো এই লেখকেরও নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে। যা বিভিন্ন ভাষা ভাষীর মানুষের কাছে অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

সিদ্ধার্থ (Siddhartha)

সিদ্ধার্থ

সিদ্ধার্থ

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মানি লেখক হেরমান হেসসিদ্ধার্থ (Siddhartha) উপন্যাসটি রচনা করেন। এটি ভারতীয় দর্শন ভিত্তিক জনপ্রিয় একটি উপন্যাস। এর গল্পে দেখা যায় ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নেওয়া যুবক সিদ্ধার্থ কে আধ্যাত্বিক পরিব্রাজক হিসেবে জীবন কাটাতে। গৌতম বুদ্ধের সময়ের সিদ্ধার্থ পরবর্তীতে দেখা যায়  অশান্তি চিত্তে নগরে ফিরে আসে। নগরে কমলা নামের এক মেয়ের প্রেমে পড়ে সে, সাথে এই নগরেরই বিত্তবান এক ব্যবসায়ীর ব্যবসার অংশীদার হিসেবে কাজ করতে থাকেন। এক সময় সিদ্ধার্থ উপলব্ধি করে প্রেম, যৌনতা ও ধনসম্পদ কখনোই স্থায়ী সুখ বা শান্তি দিতে পারে না। তখন সে আবার ফিরল তার আধ্যাত্বিক জীবনে। মাঝি হয়ে বসবাস করতে লাগল নদীর ধারে। নদীর পাড়েই যেন প্রকৃত সুখের আভা খুঁজে পায় সিদ্ধার্থ।

জার্মানি এই লেখক উপন্যাসের রসদ হিসেবে অনেকটা গৌতম বুদ্ধের জীবনি বিধান ধার করলেও মূলত এটি গৌতম বুদ্ধ নয়। লেখক এই উপন্যাসে ভারতীয় আধ্যাত্বিক দর্শন ফুটিয়ে তুলেছেন।

আলকেমিস্ট উপন্যাসের সাথে মিলালে এর অনেক অংশেই এই গল্পের সিদ্ধার্থের মাঝে সেই সান্তিয়াগো কে খুঁজে পাওয়া যায়। যে কিশোরটি পৃথিবীর বুকে হারিয়ে স্বপ্নের পাওয়া আধ্যাত্বিক গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছিল।

দ্য রোড লেস ট্রাভেলড (The Road Less Travelled)

দ্য রোড লেস ট্রাভেলড

দ্য রোড লেস ট্রাভেলড

দ্য রোড লেস ট্রাভেলড (The Road Less Travelled), মরগান স্কট পেক এর বিখ্যাত ও খ্যাতি অর্জন করা বই। বইটি তে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে গড়ে উঠা মানুষের বৈশিষ্ট্যের একটি বিবরণ, যা একজন মনস্তাত্ত্বিক ও একজন ব্যক্তি হিসাবে তার অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে পূর্ণাঙ্গ মানুষের জন্য তৈরি। বইটি চার ভাগে গঠিত। প্রথম ভাগে পেক শৃঙ্খলার ধারণাকে পরীক্ষা করে, যা তিনি মানসিক, আধ্যাত্মিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করেন এবং তিনি “আধ্যাত্মিক বিবর্তনের মাধ্যম” হিসেবে বর্ণনা করেন। স্বাস্থ্যের জন্য তৈরি শৃঙ্খলার উপাদানগুলির মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছন্দে বিলম্ব করার ক্ষমতা, নিজের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করা এবং নিজের কর্ম, সত্যের প্রতি উৎসর্গীকরণ এবং “সমীকরণ”। “ভারসাম্য” অর্থ একাধিক, জটিল, সম্ভবত দ্বন্দ্বমূলক বিষয়গুলির সমন্বয়সাধনের সমস্যাকে বোঝায় যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত-অন্যের পক্ষে বা অন্য পক্ষের উপর প্রভাব ফেলে। দ্বিতীয় অংশে, মরগান স্কট প্রেম কে প্রকৃতির ঠিকানা বলে আখ্যা করে। যা তিনি আধ্যাত্মিক বৃদ্ধি পিছনে চালিকা শক্তি বিবেচনা করেন। তিনি ভালবাসার প্রকৃতির প্রকৃতি সম্পর্কে বিভিন্ন মতপার্থক্য নিয়ে নিজের মতামতকে বৈসাদৃশ্য করেন। তৃতীয় অংশে মরগান স্কট ধর্ম নিয়ে আলোচনা করেন এবং ধর্মের বিষয়ে সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য মতামত এবং ভুল ধারণাগুলি। তিনি বেশ কয়েকটি রোগীর ক্ষেত্রে ইতিহাস থেকে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এবং ঈশ্বর, ধর্ম, নাস্তিকতা-বিশেষ করে তাদের নিজস্ব “ধর্মতত্ত্ব” বা নাস্তিকদের ধারণার বিবর্তন – মরগান স্কট কে অগ্রসর হওয়ার সাথে অগ্রগতি করে। চতুর্থ এবং চূড়ান্ত অংশটি “করুণা”, মানুষের চেতনার বাইরে উদ্ভূত শক্তিশালী শক্তি যা মানুষদের মধ্যে আধ্যাত্মিক বৃদ্ধির বিকাশ করে। বিষয়টির উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য, তিনি স্বাস্থ্যের অলৌকিক ঘটনা, অজ্ঞান এবং স্রোতচিহ্নের ঘটনাকে বর্ণনা করেন।

বইটির সাথে পাওলো কোয়েলহোর দ্য আলকেমিস্টের কিছু মনস্তাত্বিক বিষয়ের সাথে মিল পাওয়া যায়। বইটি অবশ্যই সবার পড়া উচিত।

ইট প্রে লাভ (Eat Pray Love)

ইট প্রে লাভ

ইট প্রে লাভ

এলিজাবেথ গিলবার্ট এর ইট প্রে লাভ (Eat Pray Love) বিশ্বে হৃদয় স্পর্শ করা একটি দিনলিপি বই। এটি অগণিত পাঠকের জীবন পরিবর্তিত করে, লক্ষ লক্ষ পাঠককে অনুপ্রেরণা ও ক্ষমতায়ন করে তাদের নিজেদের সেরা স্বার্থ খোঁজার জন্য। ৩০ দশকের দিকে এলিজাবেথ গিলবার্ট এমন একটি আধুনিক আমেরিকান নারী ছিলেন যিনি স্বামী, দেশের বাড়ি ও  সফল কর্মজীবন কামনা করতেন। কিন্তু খুশি ও পরিপূর্ণ অনুভূতির পরিবর্তে, তিনি প্যানিক ও বিভ্রান্তির দ্বারা ক্ষয় হয়েছিলেন। এই বুদ্ধিমান ও রোমাঞ্চকর বইটি তিনি সাফল্যের এই সব বাহ্যিক দিকের পিছনে রেখেছেন এবং তিনটি ভিন্ন সংস্কৃতির পেছনে তার প্রকৃতির তিনটি ভিন্ন দিক আবিষ্কার করতে পেরেছেন। ইতালিতে আনন্দ, ভারতে নিষ্ঠা ও আধ্যাত্বিকতা এবং ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে ভালোবাসা। বিবাহ বিচ্ছিন্ন এই নারীর জীবনে এনে দিয়েছিল এক আনুসন্ধানী ইচ্ছা। যা তার জীবনে এক নতুন মোড় নেয়। তবে সব নিঃসঙ্গ হয়ে পড়া নারীদের যে একই পন্থা বেছে নিতে হবে তা অবশ্য গিলবার্ট মনে করেন না। বরং এই তিনটা দেশ বেছে নেওয়া তার একান্তই নিজস্ব ইচ্ছা আর ঈশ্বর তো শুধু ভারতেই থাকেন না, যুদ্ধের ময়দান আর ট্রাফিক জ্যাম থেকে শুরু করে জেলখানার নিঃসঙ্গ কুঠুরি পর্যন্ত, যে কোন জায়গাতেই ঈশ্বরের খোঁজ মিলতে পারে।

পাওলো কোয়েলহোর আলকেমিস্ট উপন্যাসের সান্তিয়াগোর গুপ্তধন খোঁজার অনুসন্ধানী ইচ্ছার সাথে এই বইয়ের পরোক্ষ মিল পাওয়া যায়।

 

লেখক: ইমন বর্মণ

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *