টপ ৫: পাওলো কোয়েলহোর সেরা ৫ বই

ব্রাজিলীয় লেখক পাওলো কোয়েলহো (Paulo Coelho) তার উপন্যাসের জন্য বিশ্ব বিখ্যাত। তার লেখার আধ্যাত্মিকতা, ভালোবাসা ও দর্শন পাঠকদের মন জয় করেছে। তিনিই পৃথিবীর একমাত্র জীবিত লেখক, যিনি বই বিক্রির সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে স্থান করে নিয়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে। তার ছোট বেলা থেকে লেখক হওয়ার স্বপ্ন তাকে নিয়ে এসেছে আজকের পর্যায়ে। তিনি জীবনঘনিষ্ঠ অনেক গল্প লিখেছেন। তার গল্প ও উপন্যাসের দর্শন ঈশপ ও শেখ সাদী দ্বারা অনেকটাই প্রভাবিত। ১৯৮৬ সালে কোয়েলহো সান্তিয়াগোর তীর্থযাত্রা ‘রোড অব সান্তিয়াগো কম্পোসতেলা’ ৫০০ মাইল পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেন।কোয়েলহোর জীবনের গল্প গুলো কে মিশিয়ে দিয়েছেন তার উপন্যাসে। তাই তার উপন্যাসে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। এই পর্বে পাওলো কোয়েলহোর সেরা ৫ বই নিয়ে আলোচনা করব।

 পাওলো কোয়েলহোর সেরা ৫ বই

দ্য আলকেমিস্ট

দ্য আলকেমিস্ট প্রচ্ছদ

দ্য আলকেমিস্ট প্রচ্ছদ

পাওলো কোয়েলহোর লেখা দ্য আলকেমিস্ট বিশ্ব বিখ্যাত একটি উপন্যাস। ব্যক্তিগত  জীবন বদলে দেওয়ার পিছনে এই উপন্যাসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পর্তুগিজ ভাষায় লেখা এই উপন্যাসটি ৮০ টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। উপন্যাসে দেখা যায় সান্তিয়াগো নামের স্পেনে জন্ম গ্রহণ করা এক কিশোর স্বপ্নে পাওয়া গুপ্তধনের সন্ধানে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে পারি দিতে। সাথে মেষ পাল নিয়ে সে এক পর্যায়ে মিশরে পৌছে যায়! মিশরে পৌঁছানোর পর তার সাথে দেখা হয় এক আলকেমিস্টের। দীর্ঘ উপন্যাসে তার পথপদর্শনে এক সময় তার ভিতরে থাকা আধ্যাত্বিক ক্ষমতায় গুপ্তধনের সন্ধান পায়। এটি পাওলো কোয়েলহোর লেখা একটি রূপকধর্মী উপন্যাস। যা মানুষের জীবনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রভাব বিস্তারে সহায়ক।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: দ্য আলকেমিস্ট এর মতো আরো ৫ টি বই

দ্য পিলগ্রিমেজ

দ্য পিলগ্রিমেজ প্রচ্ছদ

দ্য পিলগ্রিমেজ প্রচ্ছদ

দ্য আলকেমিস্ট’ ও ‘দ্য পিলগ্রিমেজ’ বলা চলে, একে অন্যের পরিপূরক দুটো বই। ‘দ্য আলকেমিস্ট’ কে বুঝতে হলে ‘দ্য পিলগ্রিমেজ’ পড়ে দেখতে হবে। এই উপন্যাসের ঘটনার শুরু ১৯৮৬ সালের ২ই জানুয়ারি, যেদিন পাওলো র্যমের (RAM- Ragnum Agnus Mundi) দীক্ষা নিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়। নিজের হারানো সম্মান আর পদমর্যাদা ফিরে পেতে হলে তাকে চলতে হবে সাধারণ মানুষের হেঁটে যাওয়া পথে, নতুন করে চিনতে হবে নিজেকে। হতে হবে সান্তিয়াগোর পথের এক তীর্থযাত্রী। সান্তিয়াগোর পথে পাওলোর সঙ্গী হলো পেত্রাস। পেত্রাস তাকে শেখাল জীবনের ভিন্ন এক দিক, র্যামের বিভিন্ন অনুশীলন চর্চার মাধ্যমে নতুন করে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার নতুন উপায়। প্রতিটি মুহূর্তে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করতে হচ্ছে পাওলোর। পাওলো কি শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারবে, এই যাত্রার উদ্দেশ্য? খুঁজে কি পাবে সেই লক্ষ্য, যার খোঁজ করতে এতদূর এসেছে সে?

ইলেভেন মিনিটস

ইলেভেন মিনিটস প্রচ্ছদ

ইলেভেন মিনিটস প্রচ্ছদ

পাওলো কোয়েলহোর লেখা ইলেভেন মিনিটস আরেকটি বিখ্যত উপন্যাস। উপন্যাসটি ২০০৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসের মূল গল্প মারিয়া নামক এক ব্রাজিলিয়ান যুবতী পতিতাকে নিয়ে। তার স্বপ্নের মানুষের সাথে বিচ্ছেদ হলে মারিয়া মনে করতে শুরু করে তিনি কখনো সত্যিকারের ভালোবাসা পাবে না। বরং সে বিশ্বাস করতে শুরু করে, প্রেম একটি ভয়ংকর জিনিষ যা নিজেকে কষ্ট দেয়।উপন্যাসে মূল গল্পের মাঝে  লেখক মূলত যৌনতার প্রকৃতি ও ভালোবাসার আলাদা অনুভূতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। উপন্যাসের এক পর্যায়ে মারিয়া জেনেভায় চলে আসে। সেখানে সে খ্যতি আর ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে থাকে। কিন্তু সবার জীবনই কি সুখ থাকে। সবাই কি তাদের সুখের রাজ্যে পৌছতে পারে। কেউ কি পারে বলতে শেষ তার নিজের জীবনে সুখী। কোন মেয়ে কি পারে তাদের স্বপ্ন বার বার ভেংগে আর গড়তে। সেক্স শব্দটা শুনলেই দেহে একটা শিহরণ খেলে। কিন্তু এই শব্দটা অনেকের কাছে কখনো কখনো যন্ত্রনার মতোও মনে হয়। পতিতাদের দেহের আরালে মন ও যে আছে সে কথা কজন ভেবেছে। কেউ ভাবেনি! কারণ তারা দেহ পসারিণী তাদের মন থাকতে নেই। দেহ দেবে টাকা নেবে শেষ। সত্যি ই কি পতিতারা মানুষ নয়, তাদের কি ভালবাসা পাবার কোন যোগ্যতা নেই? নাকি তারা এই পেশায় আছে বলে তাদের মন নষ্ট হয়ে গেছে। পাওলো কোয়েলহো যেন তাদের কথাই বলতে চেয়েছেন।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সেরা ৫ বই

ব্রাইডা

ব্রাইডা প্রচ্ছদ

ব্রাইডা প্রচ্ছদ

ব্রাইডা পাওলো কোয়েলোর লেখা বিশ্বে সাড়া জাগানো আরেকটি উপন্যাস। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হওয়া এই বইটি পাঠক মহলে অন্যান্য বইয়ের মতো খ্যাতি অর্জন করেছে। জীবনের গভীরতা কে অনুভব করতে চাইলে বইটি একবার হলেও পড়ে দেখা দরকার। উপন্যাসে ব্রাইডা হচ্ছে একজন আইরিশ তরুণী। তার জ্ঞান আহরনের গল্প নিয়ে কাহিনীটি সাজানো হয়েছে। ব্রাইডার জাদুবিদ্যার প্রতি টান ছিল গভীর। একপর্যায়ে গল্পে জাদুবিদ্যায় পারদর্শী ম্যাগাসের সাথে তার দেখা হয়ে যায়। ম্যগাস জঙ্গলে বসবাস করে। তিনি ব্রাইডাকে আধ্যাত্মিক জগতের ধ্যান ধারণা দিতে থাকেন। তিনি ব্রাইডাকে বুঝাতে চেষ্টা করেন তার ভিতর ঐশ্বরিক শক্তি আছে। এক সময় ব্রাইডা জীবনের রহস্যের গভীরে জড়িয়ে পরেন। তিনি ব্রাইডাকে ভয় জয় করে জগতের আলোকত্বকে বিশ্বাস করতে শিক্ষা দেন। এছাড়াও উপন্যাসে বিভিন্ন সময় ব্রাইডার আবেগ, ভালোবাসরও বহিঃ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

দ্য স্পাই

দ্য স্পাই প্রচ্ছদ

দ্য স্পাই প্রচ্ছদ

দ্য স্পাই পাওলো কোহেলয়োর সম্প্রতি সময় জনপ্রিয় হওয়া আরেকটি আত্মজীবনি মূলক উপন্যাস। তবে এই উপন্যাসের পটভূমি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নেওয়া। উপন্যাসের শুরুতে দেখা যায় মাতা হারি নিঃস্ব অবস্থায় প্যারিসে পৌঁছান কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই হয়ে উঠেন সবচেয়ে আলোচিত নারীদের একজন। নৃত্যশৈলীর জাদুময়তা, যৌনতা ও শরীর প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি খুব দ্রুত দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তার সৌন্দর্যে বশ করে নিয়েছিলেন সমাজের প্রভাবশালী মানুষদের হৃদয়। তিনি নিজেকে জাভার এক রাজকুমারী হিসাবে জাহির করতেন। নাচের মঞ্চে তার নগ্ন উপস্থাপনা ছিল দর্শক আকর্ষণ করার প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু তার এই জাঁকজমকপূর্ণ জীবন সবার সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বযুদ্ধ চলায় তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উঠে। তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং মুখোমুখি করা হয় চরম তম শাস্তির। বাস্তবের আলোকে, উত্থান পতনে ভিরা মাতা হারির বৈচিত্রময় জীবনের গল্পটাই দ্য স্পাই এর মূল প্রতিপাদ্য।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *