টপ ৫: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা সেরা ৫ টি বই

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরেই লেখা। বাংলা সাহিত্যের পাঠক ও সমালোচকদের মধ্যে তাকে নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। কেউ কেউ তাঁকে অভিষিক্ত করেছেন সাহিত্য সম্রাটের শিরোপায়, আবার অনেকেই তার কপালে এঁকে দিয়েছেন সাম্প্রদায়িকের কলঙ্ক-তিলক। তবুও তার সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মন্তব্যই যথাৰ্থ বলে বিবেচিত হবার দাবি রাখে। তিনি তাকে অভিহিত করেছেন “সাহিত্যে কর্মযোগী” এবং “সব্যসাচী” হিসেবে। আজকের এই পর্বে সাহিত্যের এই সব্যসাচী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা সেরা ৫ টি বই নিয়ে আলোচনা করব।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সেরা ৫ টি বই

কমলাকান্তের দপ্তর

কমলাকান্তের দপ্তর প্রচ্ছদ

কমলাকান্তের দপ্তর প্রচ্ছদ

মোট ১৪ টি প্রবন্ধ নিয়ে লেখা কমলাকান্তের দপ্তর বঙ্কিমচন্দ্রের ব্যক্তিধর্মী প্রবন্ধ সংকলন। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৫ সালে। বাংলা সাহিত্যে কমলাকান্ত এক অভূতপূর্ব সৃষ্টি, অভিনব চরিত্র। কবি, দার্শনিক, ভাবুক, সমাজচিন্তাবিদ, ইতিহাসসন্ধানী, মানবপ্রেমিক, স্বদেশপ্রেমী, হাস্যরসিক, জীবনরসিক: স্রষ্টা ও দ্রষ্টা বঙ্কিম-সত্তার সামগ্রিক আত্মপ্ৰক্ষেপ ও বঙ্কিম-মানসের নির্যাস নিয়ে প্রস্ফুটিত এই চরিত্র। এই গ্রন্থের প্রবন্ধ গুলো হলো: (১) একা— ‘কে গায় ঐ?’, (২) মনুষ্যফল, (৩) ইউটিলিটি বা উদর-দর্শন, (৪) পতঙ্গ, (৫) আমার মন, (৬) চন্দ্রালোকে, (৭) বসন্তের কোকিল, (৮) স্ত্রীলোকের রূপ, (৯) ফুলের বিবাহ, (১০) বড়বাজার, (১১) আমার দুর্গোৎসব, (১২) একটি গীত, (১৩) বিড়াল ও (১৪) মশক। এদের মধ্যে ‘চন্দ্রালোকে” ও ‘মশক’ অক্ষয়চন্দ্র সরকারের এবং “স্ত্রীলোকের রূপ’ রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের লেখা।

[Buy কমলাকান্তের দপ্তর From Amazon]

আরো পড়ুন:  টপ ৫: আহমদ ছফার লেখা সেরা ৫ টি বই

বিষবৃক্ষ

বিষবৃক্ষ প্রচ্ছদ

বিষবৃক্ষ প্রচ্ছদ

সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের বিষবৃক্ষ প্রথম ১৮৭০ সালে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসটি আধুনিক বাংলা উপন্যাস সাহিত্যের আদিযুগের একটি উপন্যাস। বিষবৃক্ষ উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল সমসাময়িক বাঙালি হিন্দু সমাজের দুটি প্রধান সমস্যা বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা। উপন্যাসে দেখা যায় গোবিন্দপুরের জমিদার নগেন্দ্রনাথ দত্ত কলকাতা যাত্রার পথে অনাথা বালিকা কুন্দনন্দিনীর সন্ধান পান। কুন্দকে তিনি কলকাতায় তাঁর ভগিনী কমলমণির কাছে রেখে আসলে স্ত্রী সূর্যমুখীর একান্ত অনুরোধে তাঁকে গোবিন্দপুরে নিয়ে আসেন। সূর্যমুখীর দূরসম্পর্কীয় ভাই তারাচরণের সঙ্গে কুন্দের বিবাহ হলে কিছুকাল পরেই তারাচরণের মৃত্যু হলে কুন্দ বিধবা হয়। এরপর নগেন্দ্রনাথ কুন্দের রূপলাবণ্য দর্শনে তার প্রতি আকৃষ্ট হন, কুন্দও নগেন্দ্রের প্রতি অনুরক্তা হয়ে পড়েন। অন্যদিকে দেবীপুরের দুশ্চরিত্র জমিদার দেবেন্দ্রও তারাচরণের গৃহে কুন্দকে দেখে তার প্রতি আকৃষ্ট হন। হরিদাসী বৈষ্ণবীর ভেক ধরে নগেন্দ্রর বাড়িতে এসে তিনি কুন্দকে কুপ্রস্তাব দিলে হীরা দাসী এই ব্যাপারে অনুসন্ধান করে সূর্যমুখীকে অবহিত করে। এদিকে সূর্যমুখী কমলমণিকে চিঠিতে নগেন্দ্রনাথের কুন্দর প্রতি অনুরাগের কথা জানালে কমলমণি কুন্দকে কলকাতায় নিয়ে আসতে চায়। তখন কুন্দ আত্মহত্যা করতে যায় ও ব্যর্থ হয়। হরিদাসী বৈষ্ণবীর ঘটনায় সূর্যমুখী কর্তৃক অপমানিতা হয়ে কুন্দ গৃহত্যাগ করলে তার অদর্শনে নগেন্দ্র অস্থির এবং সূর্যমুখীর প্রতি রুষ্ট হন। নগেন্দ্রনাথও গৃহত্যাগের সংকল্প করেন। এমতাবস্থায় কুন্দ ফিরে এলে সূর্যমুখী নিজের উদ্যোগে স্বামীর সঙ্গে কুন্দের বিবাহ দিয়ে নিজে গৃহত্যাগ করেন। এরপর নগেন্দ্রনাথ তাঁকে খুঁজতে সব জায়গায় লোক পাঠান। তিনি নিজেও বেরিয়ে পড়েন। এদিকে ঘুরতে ঘুরতে সূর্যমুখী রোগাক্রান্ত হলে এক ব্রহ্মচারীর সেবায় সুস্থ হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে ব্রহ্মচারীই নগেন্দ্রনাথকে সংবাদ পাঠান। পরে উভয়ের পুনর্মিলন ঘটে। এদিকে নগেন্দ্রনাথ গৃহে ফিরে কুন্দর সঙ্গে দেখা না করায় কুন্দ বিষপান করে। পরদিন সকালে সূর্যমুখী যখন কুন্দকে দেখতে আসেন, তখন কুন্দ মৃত্যুর নিকটে চলে আসে। শেষে নগেন্দ্রনাথের পায়ে মাথা রেখে কুন্দ ইহলোক ত্যাগ করে।

[Buy বিষবৃক্ষ From Amazon]

কৃষ্ণকান্তের উইল

কৃষ্ণকান্তের উইল প্রচ্ছদ

কৃষ্ণকান্তের উইল প্রচ্ছদ

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা সামাজিক উপন্যাস কৃষ্ণকান্তের উইল ১৮৭৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। ত্রিভূজ প্রেমের কাহিনী বর্ণিত এই উপন্যাসটিতে দেখা যায় সুপুরুষ নায়ক গোবিন্দলালকে ঐশ্বর্যময় করে এবং পরবর্তীতে খারাপ প্রবৃত্তিগুলো সঞ্চারিত করেই পথে বসতে হয়। রোহিণীর আকর্ষণ ছাপিয়ে ভ্রমরের সাথে গোবিন্দলালের দাম্পত্যের রোমান্টিকতা এবং বিশ্বস্ততা যখন গোবিন্দলালকে যে কোনো নারীর আকাঙ্ক্ষিত পুরুষে পরিণত করে। ঠিক তখন অন্যদিকে গোবিন্দলাল পরাজিত হয় খারাপ প্রবৃত্তির কাছে। কোনো চেষ্টাই আর গোবিন্দলালকে ফেরাতে পারেনি ক্রমাগত অধঃপতনের ও পরাজয়ের হাত থেকে। সেখানে সহজসরল ভ্রমরকে মৃত্যু দিয়েও লেখক বিজয়ী করেছেন, গড়েছেন কালো ভ্রমরের স্বর্ণপ্রতিমা।

[Buy কৃষ্ণকান্তের উইল From Amazon]

আরো পড়ুন:  টপ ৫: জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সেরা ৫ বই

কপালকুন্ডলা

কপালকুন্ডলা প্রচ্ছদ

কপালকুন্ডলা প্রচ্ছদ

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস কপালকুন্ডলা। এটি ১৮৬৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। কাব্যধর্মী এই উপন্যাসে দেখা যায় তীর্থে যাওয়ার পথে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পরে তীর্থযাত্রীদের এক দ্বীপে তরী ভিড়াতে হয়। রান্না করার জন্য তরীতে কাঠ ছিল না। এদিকে দ্বীপে ভিড়ানোর পর তরীর কেউই বাঘের ভয়ে কাঠ আনতে নিচে নামার সাহস পাচ্ছিল না যার ফলে নবকুমার নিজে কাঠ আনতে যায়। কাঠের সন্ধান করতে যেয়ে নবকুমার পথ হারিয়ে ফেলে যার ফলে ফিরতে দেরি হয়! অন্যদিকে তরীর সবাই ভাবে তাকে বাঘে খেয়েছে এবং পরবর্তীতে সবাই নবকুমারকে রেখেই চলে যায়। নবকুমার এই জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপে আটকা পড়ে। সেখানে এক কাপালিক তাকে বলি দিতে উদ্যত হয়। তখন কাপালিকের পালিতা কন্যা কপালকুণ্ডলা তার প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। স্থানীয় মন্দিরের অধিকারীর সহায়তায় নবকুমার কপালকুণ্ডলাকে বিয়ে করে নিজের বাড়ি সপ্তগ্রামে ফিরে আসেন। কপালকুণ্ডলা বাল্যকাল থেকে জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপে কাপালিকের কাছে বড় হওয়ায় স্বাভাবিক সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে অপরিচিত ছিলেন। নবকুমারের বাড়িতে তিনি ধীরে ধীরে সমাজের মানুষজন ও তাদের আচারআচরণ সম্পর্কে ধারণা পায়। এরপর নবকুমারের সাথে বিচ্ছেদ হওয়া প্রথম স্ত্রী ও কপালিকের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ান কপালকুন্ডলা। শেষপর্যন্ত নবকুমার আর কপালকুণ্ডলার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব সংঘাতের মধ্য দিয়ে উভয়েই জীবনের চরম উপসংহারে উপনীত হয়।

[Buy কপালকুন্ডলা From Amazon]

দুর্গেশনন্দিনী

দুর্গেশনন্দিনী প্রচ্ছদ

দুর্গেশনন্দিনী প্রচ্ছদ

সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দুর্গেশনন্দিনী বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস। ১৮৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাস অনুসারে দিল্লীশ্বরের প্রধান সেনাপতি অম্বররাজ মানসিংহের পুত্র কুমার জগৎসিংহ বিষ্ণুপুর থেকে যাত্রাকালে ঝড়ের কবলে পড়ে। যার ফলে যাত্রাপথের নিকটবর্তী শৈলেশ্বর মহাদেবের মন্দিরে তারা আশ্রয় নেন। সেখানে ঘটনাচক্রে মান্দারণ দুর্গাধিপতির একমাত্র পুত্র মহারাজ বীরেন্দ্র সিংহের স্ত্রী বিমলা ও তার কন্যা দুর্গেশনন্দিনী তিলোত্তমার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। পরস্পর পরস্পরের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখলেও জগৎসিংহ ও তিলোত্তমা পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট হন। উপন্যাসের এক পর্যায়ে পাঠান সেনাপতি ওসমান খাঁ সুকৌশলে মান্দারণ দুর্গ অধিকার করে ও বীরেন্দ্র সিংহ এবং তাঁর স্ত্রী বিমলা ও কন্যা তিলোত্তমাকে বন্দী করে। কুমার জগৎসিংহও বন্দী হন। পাঠান নবাব কতলু খাঁর বিচার নামক প্রহসনে বীরেন্দ্র সিংহকে হত্যা করা হয়। নিহত বীরেন্দ্র সিংহের স্ত্রী বিমলা পাঠান নবাব কতলু খাঁকে হত্যা করে পতি হত্যার প্রতিশোধ নেয়। এরপর অনেক ঘাত প্রতিঘাত শেষে মান্দারণ পুনরায় স্বাধীন হয় ও দিল্লীশ্বরের প্রধান সেনাপতি অম্বররাজ মানসিংহের মাধ্যমে মহারাণী বিমলার হস্তে রাজ্যপাঠ হস্তান্তরিত হয় এবং মহাধুমধামের সাথে কুমার জগৎ সিংহ ও দুর্গেশনন্দিনী তিলোত্তমার মিলন ঘটে।

[Buy দুর্গেশনন্দিনী From Amazon]

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *