টপ ৫: বিজ্ঞান সম্পর্কিত সেরা ৫ টি বই

বিজ্ঞান বদলে দিয়েছে এই পৃথিবী, বদলে দিয়েছে পৃথিবীর মানুষ ও তাদের চিন্তা ধারণাকে। এই মহাবিশ্বের জন্ম লগ্নের ইতিহাস থেকে ধরে ক্ষুদ্র ন্যানো কনার মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিজ্ঞান। হাজার বছরের পরিক্রমায় অসংখ্য বিজ্ঞানীর গবেষণা ও তাদের চিন্তা ধারার হাত ধরে আজকের এই আধুনিক পৃথিবী। ঐ সব বিজ্ঞানীরা, যারা গবেষণা কে লিপিবদ্ধ করে লিখে গিয়েছিল কিছু অত্যুলনীয় বইয়ের পৃষ্ঠা ভরে। যার ফলে আমরা আজও তাদের সৃষ্টি সম্পর্কে জানতে পারি। আমরা এই পর্বে ডিসকভারি ম্যাগাজিন কতৃক ২০০৬ সালে ইস্যু করা ২৫ টি সর্বকালের সেরা বিজ্ঞান বইয়ের প্রথম ৫ টি সম্পর্কে আলোচনা করব।

বিজ্ঞান সম্পর্কিত সেরা ৫ টি বই

দ্য ভয়েজ অব দ্য বিগল

দ্য ভয়েজ অব দ্য বিগল প্রচ্ছদ

দ্য ভয়েজ অব দ্য বিগল প্রচ্ছদ

দ্য ভয়েজ অব দ্য বিগল (The Voyage of the Beagle) বা বিগল যাত্রীর কথা বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন এর পাঁচ বছরব্যাপী বিগল জাহাজে করে দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও বিভিন্ন দ্বীপ পরিক্রমা, প্রজাতি ও ভৃতত্ত্ব সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধানের রোজনামচা। ১৮৩০ সালে ডারউনের এই ভ্রমনের পর জীব জগৎ সম্পর্কে তার প্রচলিত ধারণা বদলে ফেলেন। ভ্রমনে বৈচিত্র্যময় ভূদৃশ্যের অনবদ্য বর্ণনা এবং নানা দেশের তৎকালীন সামাজিক অবস্থার আকৃষ্টকর উপস্থাপনও বইটির অতিরিক্ত সম্পদ। তৎকালীন জীববিজ্ঞানীরা ভাবতেন যে, উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতিগুলো ঈশ্বরসৃষ্ট ও অপরিবর্তনশীল। ডারউইনের এই ভ্রমন তাকে ভিন্ন দৃষ্টিতে ভাবায়। পরবর্তীতে ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত প্রজাতির উৎপত্তি বা দ্য অরিজিন অব স্পিসিস বইয়ে সকল গবেষণা প্রকাশ করেন।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: দ্য দা ভিঞ্চি কোড এর মতো আরো ৫ টি বই

দ্য অরিজিন অব স্পিসিস

দ্য অরিজিন অব স্পিসিস প্রচ্ছদ

দ্য অরিজিন অব স্পিসিস প্রচ্ছদ

বিজ্ঞানী চার্লস ডারউন এর লেখা সর্বকালের সেরা বিজ্ঞান বই দ্য অরিজিন অব স্পিসিস (The Origin of Species) ১৮৫৯ সালে প্রকাশের পর পৃথিবীতে ব্যপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ডারউইনের গবেষণা প্রচলিত জীববিজ্ঞানের ধারণার বিপরীত রূপ নিয়ে দাড়ায়। বইটির মাধ্যমে ডারউইন বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষের কাছে প্রকৃতির নির্বাচনের মাধ্যমে প্রজাতির উৎপত্তি অথবা জীবন সংগ্রামে আনুকূল্য প্রাপ্ত গোত্রের সংরক্ষণ বিষয় ও বিবর্তনবাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বিবর্তনের মাধ্যমে সকল প্রজাতির উদ্ভবের পক্ষে প্রচুর প্রমাণ উপস্থাপন করেন।এছাড়াও ১৮৩০ সালে বিগল জাহাজে করে দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও বিভিন্ন দ্বীপে অর্জিত সকল প্রজাতির নমুনার গবেষণা, অন্যদের সাথে যোগাযোগ ও পরীক্ষা নিরীক্ষার সকল ফলাফল এই বইয়ে একত্রে করেন।

ম্যাথম্যাটিকাল প্রিন্সিপাল অব ন্যচারাল ফিলোসফি

ম্যাথম্যাটিকাল প্রিন্সিপাল অব ন্যচারাল ফিলোসফি প্রচ্ছদ

ম্যাথম্যাটিকাল প্রিন্সিপাল অব ন্যচারাল ফিলোসফি প্রচ্ছদ

১৬৮৭ সালে প্রকাশিত স্যার আইজাক নিউটনের বই ম্যাথম্যাটিকাল প্রিন্সিপাল অব ন্যচারাল ফিলোসফি (Mathematical Principles of Natural Philosophy) বা ল্যটিন ভাষায় ফিলোসফিয়া নেচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা (Philosophiae Naturalis Principia Mathematica) তার বিখ্যাত একটি বই। পদার্থবিদ্যার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয় এই বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে। বইটিতে নিউটন চিরায়ত বলবিজ্ঞানের তিনটি গতির সূত্র প্রধান করেন, সার্বজনীন মহাকর্ষীয় তথ্য এবং ক্যাপলারের গ্রীহিত গতি সম্পর্কিত তথ্যের প্রমাণ উপস্থাপন করেন।যার ফলে বইটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী বই হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: দ্য আলকেমিস্ট এর মতো আরো ৫ টি বই

ডায়লগ কনসারনিং দ্য টু চিফ ওয়ার্ল্ড সিস্টেমস

ডায়লগ কনসারনিং দ্য টু চিফ ওয়ার্ল্ড সিস্টেমস প্রচ্ছদ

ডায়লগ কনসারনিং দ্য টু চিফ ওয়ার্ল্ড সিস্টেমস প্রচ্ছদ

১৬৩২ সালে লেখা ডায়লগ কনসারনিং দ্য টু চিফ ওয়ার্ল্ড সিস্টেমস (Dialogue Concerning the Two Chief World Systems) বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলের লেখা চমৎকার একটি বই। পোপ আরবান আষ্টম গ্যালিলিও কে কোপার্নিকাস গৃহীত “সৌর মন্ডলের কেন্দ্র সূর্য” এই তত্ত্বের উপর একটি বই লেখার দায়িত্ব প্রদান করেন। বইটিতে গ্যালিলিও তিনটি চরিত্রের মধ্যে কৌতুকপূর্ণ কথোপকথনের সাথে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে থাকেন। এদের মধ্যে একজন আইন প্রণেতা যিনি কোপার্নিকাস সমর্থনকারী, দ্বিতীয় জন আ্যারিস্টটলের সমর্থনকারী ও তৃতীয় জন নিরস্ত চিন্তাবিদ যিনি গির্জা বা চার্চের অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে। এই গ্রন্থটি মূলত চার্চ ও আ্যারিস্টটলের সমর্থনকে ব্যঙ্গাত্বকভাবে বড় ধরনের আঘাত করে বলে দুই দলের সমর্থনকারীরা মনে করেন। তবে এই গ্রন্থ কতৃক সৌর জগৎ-এ সূর্যের অবস্থান কেন্দ্রীক বাস্তব চিত্র গ্যালিলিও তুলে ধরেন।

অন দ্য রেভলিউশন অব হেভেনলি

অন দ্য রেভলিউশন অব হেভেনলি প্রচ্ছদ

অন দ্য রেভলিউশন অব হেভেনলি প্রচ্ছদ

নিকোলাস কোপার্নিকাসের মৃত্যুর পর ১৫৪৩ সালে প্রকাশিত অন দ্য রেভলিউশন অব হেভেনলি (On the Revolutions of Heavenly Spheres) সাড়া জাগানো একটি বই। বইটিতে কোপার্নিকাস প্রথম উপস্হাপন করেন “সৌর মন্ডলের কেন্দ্র সূর্য”। যে তত্ত্ব উপস্হাপনের জন্য তাকে তার মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনি এই গ্রন্থে বলেন, “সূর্য পৃথিবীর চারপাশে নয়, বরং পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ গুলোই সূর্যের চারপাশে ঘুরে”। যা প্রকাশ করলে তৎকালীন সময়ের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রধান বিরোধী বক্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। চার্চদের বিশ্বাস অনুসারে সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে। তাই কোপার্নিকাস জীবিত অবস্থায় চান নি কোনো ভাবে যেন উনার এই বক্তব্য প্রকাশিত হোক ও উনার চার্চ রেগে যাক। কিন্তু মজার ব্যপার হলো কোপার্নিকাসের মৃত্যুর পর বইটি প্রকাশিত হলে বইটি উনার চার্চ তেমন গুরুত্বই দেননি; যদিও বইটি তার মতাদর্শের বিরোধী ছিল।

এই ছিল ডিসকভারি ম্যাগাজিনের ইস্যু করা  সেরা পঁচিশটি বইয়ের প্রথম পাঁচটি বিজ্ঞান বই। যারা বিজ্ঞান পছন্দ করেন তাদের জন্য এই পাঁচটি বই পর্যাপ্ত নয়। স্যার আলবার্ট আইনষ্টানের লেখা রিলেটিভিটি দ্য স্পেশাল অ্যান্ড জেনারেল থিউরি, স্যার জেমস ডি ওয়াটসনের দ্য ডাবল হেলিক্স, কার্ল সাগানের দ্য কসমিক কানেকশন ইত্যাদি বই ছাড়া বিজ্ঞানের সেরা বই ভাবাই যায় না। তাই ডিসকভারি ম্যগাজিনের ইস্যু করা বাকি বই গুলো অবশ্যই একবার দেখে নিবেন।

লিংক: 25 Greatest Science Books of All Time

লেখক: ইমন বর্মণ

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap