টপ ৫: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর সেরা ৫ টি বই

বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল মুখ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার শিল্প-সাহিত্য মানুষের মন কে জুড়িয়ে গেছে বার বার। বিপ্লবী এই লেখক সাহিত্যে ফুটিয়ে তুলেছেন সমাজ সংসারের হাজারও চিত্র। পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা তার কালজয়ী দুটো উপন্যাস। এছাড়াও তিনি রচনা করেছেন অজস্র উপন্যাস ও গল্প। এই পর্বে তারই সৃষ্ট সেরা ৫ টি সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করব।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর সেরা ৫ টি বই

পদ্মানদীর মাঝি

পদ্মানদীর মাঝি প্রচ্ছদ

পদ্মানদীর মাঝি প্রচ্ছদ

পদ্মানদীর মাঝি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা তার সর্বাধিক পঠিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৩৬ সালে প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। আঞ্চলিক এই উপন্যাসটির পটভূতি ছিল বাংলাদেশের বিক্রমপুর-ফরিদপুর অঞ্চলে। পদ্মা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী। এর তীর ধরে ভাঙন ও ধ্বংসাত্বক স্বভাবের কারণে একে বলা হয় ‘কীর্তিনাশা’ বা রাক্ষুসী পদ্মা। শহর থেকে দূরে এ নদী এলাকার কয়েকটি গ্রামের দীন-দরিদ্র জেলে ও মাঝিদের জীবনচিত্র এই উপন্যাসে অঙ্কিত হয়েছে। জেলেপাড়ার মাঝি ও জেলেদের জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, অভাব-অভিযোগ যা কিনা প্রকৃতিগতভাবে সেই জীবনধারায় অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ তা এখানে বিশ্বস্ততার সাথে চিত্রিত হয়েছে। জেলেদের প্রতিটি দিন কাটে দীনহীন অসহায় আর ক্ষুধা-দারিদ্র‍্যের সাথে লড়াই করে। দুবেলা দুমুঠো খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাটাই যেন তাদের জীবনের পরম আরাধ্য। এটুকু পেলেই তারা খুশি।অসামান্য এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: আহমদ ছফার লেখা সেরা ৫ টি বই

পুতুল নাচের ইতিকথা

পুতুল নাচের ইতিকথা প্রচ্ছদ

পুতুল নাচের ইতিকথা প্রচ্ছদ

১৯৩৬ সালে প্রকাশিত পুতুল নাচের ইতিকথা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বিখ্যাত আরেকটি উপন্যাস। অনেকটা নাস্তিকতূল্য চরিত্র গ্রামের ডাক্তার শশী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। তিনি ঈশ্বরের বিশ্বাস করে না।গ্রামের পটভূমিতে শশী, শশীর পিতা, কুসুম-সহ অন্যান্য চরিত্রগুলোর মাঝে বিদ্যমান জটিল সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে গড়ে উঠেছে এর কাহিনী ও প্রেক্ষাপট। এই সমাজ সংসারের স্রষ্টার হাতের পুতুল হিসেবে যদি আমরা নিজেকে কল্পনা করে থাকি তাহলে আমাদের পরিণাম ভাগ্য নির্নয় করেন একমাত্র তিনি। কিন্তু সরল চোখে দেখলে মানুষ নিজের কৃতকর্মের দ্বারাই নিজের ভাগ্য ও জীবন কে পুতুল বানিয়ে তাকে নিয়ে ভয়ংকর খেলা খেলে। পরিণামে কেবল বিচ্ছেদ, হতাশা, আর দুঃখে জর্জরিত হয় মানুষের জীবন। নিজের কৃতকর্মের জন্যই কেউ হয় গৃহী কেউ হয় সন্ন্যাসী, কেউবা বেঁচে নেয় দুঃসহ যন্ত্রনার জীবন। উপন্যাসে এ সত্যই উচ্চকিত হয়েছে।

দিবারাত্রির কাব্য

দিবারাত্রির কাব্য প্রচ্ছদ

দিবারাত্রির কাব্য প্রচ্ছদ

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিবারাত্রির কাব্য ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি লেখকের একটি কালজয়ী উপন্যাস। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হেরম্ব। পুরো উপন্যাস জুড়ে দেখা যায় তার জীবনে তিনটি নারীর সংস্পর্শ এসেছে উমা, সুপ্রিয়া ও আনন্দ। উমা হেরম্বের স্ত্রী হলেও এক মেয়ে সন্তান রেখে অজ্ঞাত কারনে আত্মহত্যা করে। উপন্যাসের শুরুতে দেখা যায় হেরম্ব পাঁচ বছর পর থানার সামনে সুপ্রিয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে। তাদের মধ্যে আগে থেকেই ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। এর জন্যই হয়ত তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে কিনা তা উপন্যাসে এক রহস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। উপন্যাসে দিনের কবিতায় হেরম্ব আর সুপ্রিয়ার বিচরণ! আর রাতের কবিতায় দেখা মিলে হেরম্বর সাথে আনন্দের। যা উপন্যাসে অনেক নাটকীয় ও ভয়ংকর ঘটনার সুত্রপাত করেছে। সমস্ত চরিত্র গুলোর মধ্যে ছিলো অভাব বোধ ও ভয়ংকর এক ক্ষুধা! মানুষের মৃত্যু কবলিত জীবন যেমন সার্থক, তেমনি সার্থকতা ক্ষণজীবী হৃদয়েও হয়তো আছে। এই উপন্যাস রূপের রূপক যা টেনে ধরে শেষ পর্যন্ত।

আরো পড়ুন:  টপ ৫: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেরা ৫ টি বই

চতুষ্কোণ

চতুষ্কোণ প্রচ্ছদ

চতুষ্কোণ প্রচ্ছদ

মানিক বন্দোপাধ্যায়ের চতুষ্কোণ নামক উপন্যাসটিতে দেখা যায় রাজকুমার নামক মূল চরিত্রের সাথে তার শারীরিক ও মানসিক অশান্তির কারন হিসেবে কিছু কারন বের হয়ে আসে যেটা অন্য সাধারণ মানুষের কাছে অসামাজিক মনে হয়। রাজকুমারের শরীর এই কারণ গুলোর অস্বাভাবিকত্বের জন্য মানসিক অশান্তি সহ্য করতে পারে না। তাকে ভিন্ন চাহিদার মধ্যে লেখক উপন্যাসে ফুটিয়ে তুলেন। রাজকুমার নারীর শারীরিক অবয়বের সাথে তার মনের অবয়বের সামঞ্জস্য আর প্রকৃতির মিল খুঁজতে চায়,ধরন বুঝতে চায়। আর তার জন্য তার দেখতে ইচ্ছা জাগে প্রতিটি আলাদা আলাদা নারীর নিরাবরণ দেহ। মানিক বন্দোপাধ্যায়ের চতুষ্কোণ উপন্যাসটি ভিতরে রয়েছে সুক্ষ্ম মনোবিজ্ঞান,যার রহস্য আমরা শুধুমাত্র চতুষ্কোণ নামক বইয়ের পৃষ্ঠায় একজন রাজকুমারকে নিজের বুদ্ধিমত্তা ও বিবেকের সংস্পর্শে নিয়ে এসে উদ্ধার করতে পারব।

জননী

জননী প্রচ্ছদ

জননী প্রচ্ছদ

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস জননী।একজন বালিকার বধু থেকে জননী হওয়ার গল্প এটা। একজন মায়ের আত্মত্যাগের গল্প। বিয়ের সাত বছর পর শ্যামা প্রথম মা হলো। এবার শ্যামা শুধু মাত্র শীতলের বউ নয়, সন্তানের জননীও বটে! এরপর একে একে চার সন্তানের জননী হয়ে উঠল সে। সংসারের দায় ভার নেওয়া শ্যমার সারাদিন সব কাজের পিছনে উদ্দেশ্য থাকতো একটাই সন্তানের ভালো থাকা। নিজের সকল প্রয়োজন মাটিচাপা দিয়ে, সন্তানের ছোট ছোট ইচ্ছাপুরণের তার শান্তি। এতেই তার সুখ। সংসার এতোটা সচ্ছল না থাকলেও ছেলেপুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার বেশ চিন্তা হতো। সে চিন্তাতেই তার দিন রাত কেটে যেতো। কিন্তু এই এতোটুকু সুখে ভাটা পরলো যখন তার স্বামী মালিকের টাকা চুরি করতে দায়ে জেলে গেলো। এই এক কঠিন সময়। লড়াই শুরু হলো বেঁচে থাকার। সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখার। কি করে সম্ভব হয়েছিলো একা শ্যামার পক্ষে এই কঠিন সময় পাড়ি দেবার? সেই কঠিন সময় পাড়ি দিবার করুণ কাহিনী নিয়েই উপন্যাসের পরবর্তী কাহিনী! এক মমতাময়ী মায়ের গল্প যিনি সকল প্রতিকূলতার পরও নিজের সন্তানদের আগলে রেখেছিল নিজের সকল স্নেহ ভালোবাসার বলে।

data-matched-content-rows-num="2" data-matched-content-columns-num="2"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *