টপ ৫: শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা সেরা ৫ টি বই

শুধু গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর জন্য নয় শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় জনপ্রিয় হয়েছেন তার অসামান্য আরো কিছু ঐতিহাসিক উপন্যাস ও ছোট গল্পের জন্য। গোয়েন্দা ব্যোমকেশের পাশাপাশি আরো সৃষ্টি করেছেন অজস্র চরিত্র। লিখেছেন অতি আলৌকি, প্রেম, সমাজ, হাস্য রসিকতা নিয়ে। বিশাল সাহিত্য ভান্ডারের স্রষ্টা শরদিন্দু বাঙালি জাতিকে ভাবিয়েছে তার সৃষ্টির সম্ভারে। এই পর্বে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেরা ৫ বই নিয়ে আলোচনা করব।

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেরা ৫ বই

ব্যোমকেশ সমগ্র

ব্যোমকেশ বক্সী সিরিজ
ব্যোমকেশ বক্সী সিরিজ

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেরা ৫ বই এর লিস্টের শুরুতেই আছে ব্যোমকেশ সমগ্র। এটি শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর সংকলন। গল্পে ব্যোমকেশকে বেসরকারি ডিটেক্টিভ হিসেবে দেখা যায়। অতুল চন্দ্র মিত্র ছদ্মনামে কলকাতার চীনাবাজারের কাছে একটি মেসে বসবাস শুরু করে সে।নিজেকে গোয়েন্দা বা ডিটেক্টিভ নয়, সত্যান্বেষী পরিচয় দিতে পছন্দ করত।তার রুম মেটের কলমে লেখক শরবিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যোমকেশ চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছে। ব্যোমকেশ সিরিজের প্রথম গল্প পথের কাঁটা ও দ্বিতীয় গল্প সীমন্ত হীরা লেখার পর শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যোমকেশ সিরিজ লেখার পরিকল্পনা করেন।

তিনি প্রথমে সত্যান্বেষী গল্প প্রকাশ করলে বেশ সাড়া পেতে থাকে। যার ফলে এটাকেই তার সিরিজের প্রথম গল্প হিসেবে ধরা হয়। এই সিরিজে তেত্রিশটি গল্প রয়েছে।প্রতিটি গল্পেই টান টান উত্তেজনা দেখা যায়। চুরি থেকে ধরে খুনের রহস্য উদ্ভঘাটন করতে ব্যোমকেশের চিন্তাধারা সত্যিই অবাক করে। সিরিজটি ভারত ও বাংলাদেশে ব্যপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গোয়েন্দা গল্প প্রেমি হলে বইটি অবশ্যই আপনার জন্য।

বইটি রকমারি থেকে কিনুন

ঝিন্দের বন্দী

ঝিন্দের বন্দী
ঝিন্দের বন্দী

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেরা ৫ বই এর লিস্টে পরবর্তী স্থানে আছে ঝিন্দের বন্দী। মধ্যভারতের ছোট্ট রাজ্য ঝিন্দ। রাজ্যের রাজা ভাস্কর সিংহের মৃত্যু হলে পরবর্তীতে দুই ছেলে শঙ্কর ও উদিত মধ্যে সিংহাসন নিয়ে বিরুধ শুরু হয়! অভিষেকের ঠিক আগে শঙ্কর সিং নিখোঁজ হয়ে যায়। অন্যদিকে কলকাতার এক বাঙালি ছেলে গৌরীশঙ্কর রায়কে হুবহু শঙ্কর সিংহের মতো দেখতে। ঝিন্দের পুরনো কিছু রাজকর্মী তাকেই শঙ্কর সিং বলে সিংহাসনে বসাতে চাইলেন। এবং অভিষিক্ত করলেন! অন্যদিকে সহজে তা মেনে নিতে নারাজ উদিত সিং।

কিন্তু বাস্তব অর্থে শঙ্কর সিং নিখোঁজ নন, বন্দী করে রাখা হয়েছে তাঁকে। কিন্তু কোথায়? শঙ্কর সিং কি মুক্তি পাবেন ? অন্যদিকে গৌরীশঙ্কর কি লুকিয়ে রাখতে পারবেন তার আসল পরিচয়? এমনি কিছু প্রশ্নের উত্তরের সন্ধানে উপন্যাসের ঘটনা প্রবাহ হতে থাকে। বইটি প্রকাশীত হওয়ার পর থেকে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে থাকে। যার ফলে এই উপন্যাস অবলম্বনে পরবর্তী তে চলচিত্র নির্মান করা হয়।

বইটি রকমারি থেকে কিনুন

তুঙ্গভদ্রার তীরে

তুঙ্গভদ্রার তীরে
তুঙ্গভদ্রার তীরে

শরনিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের লেখা তুঙ্গভদ্রার তীরে ঐতিহাসিক উপন্যাসের গল্পের শুরু ১৩৫২ বঙ্গাব্দের প্রারম্ভকালে। তৎকালীন সময়ে রাজাধিরাজ দেবরায় খুব প্রভাবশালী ছিলো যার কারনে তার শত্রু ছিল অনেক। এজন্য বিবাহ করার জন্য সুদুর কলিঙ্গে যেয়ে শত্রু দ্বারা প্রাণনাশের হুমকির আশঙ্কায় কন্যাপক্ষই আসতেছে সদলবলে। কলিঙ্গ রাজ্য থেকে বিজয়নগর রাজ্যে আসতে তিন মাসের মতো সময় লাগে। প্রতিপত্তি বাড়ানোর তাগিদে রাজা দেবরায় কলিঙ্গ রাজকুমারি বিদ্যুন্মালা কে চতুর্থ রাণী করতে যাচ্ছেন। তিন মাসের সুদীর্ঘ যাত্রাপথের প্রায় শেষ দিন হঠাৎ দুপুরবেলা বিদ্যুন্মালা দেখলো নৌকার অদূরে নিমজ্জিত হতে যাচ্ছেন একজন। প্রহরীকে ডেকে লোকটিকে উদ্ধার করতে পাঠালে বেঁচে যায় সে লোকটি। যার নাম অর্জুনবর্মা। বিজয়নগর পৌছে যাবে এমন সময় ঘটে যায় আকস্মিক ঝড়! যার ফলে সিটকে পড়ে যায় নৌকাগুলোর আরোহী একেকদিকে। বিদ্যুন্মালাকে অর্জুনবর্মা অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে একটি ভাসমান দ্বীপে তুলে আনে।

পরেরদিন বিদ্যুন্মালানের জ্ঞান ফিরে এলে নিজেকে একা অর্জুনের সাথে আবিষ্কার করে। অর্জুনবর্মার প্রতি একটা ভিন্ন আকর্ষণ কাজ করে এ ঘটনায়। বিদ্যুন্মালা আগে থেকেই রাজা দেবরায়ের চতুর্থ রাণী হতে রাজি ছিলো না। পরেরদিন সকালে রাজার দেবরায়ের লোকজন তাদের কে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এদিকে পরপুরুষ ছুয়ে দেওয়াতে বিয়ে তিন মাস পিছিয়ে যায় বিদ্যুন্মালার। এই তিন মাসের মাঝেই বিদ্যুন্মালা আপন করে নেয় অর্জুনবর্মা কে; দুইজনই জড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ প্রেম জালে। কি হবে এর শেষটা? শেষটারই সন্ধানে লেখক এই ঐতিহাস্যিক উপন্যাসের ফাঁকে তুলে ধরেছেন বিদ্যুন্মালাকের প্রেমের কাহিনী! যার ফলে ভিন্ন ধর্মী ঐতিহাসিকতার ছোঁয়া পেয়েছে উপন্যাসটি।

বইটি রকমারি থেকে কিনুন

মনচোরা

মনচোরা
মনচোরা

মনচোরা শরনিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাড়া জাগানো এক উপন্যাস। কলকাতা শহরের নামী জ্যোতিষী যদুনাথ চৌধুরীর পিতৃমাতৃহীন নাতি মন্মথ ও নাতনি নন্দা। চৌধুরী মশাইয়ের চিন্তা তার বহুমূল্য পদ্মরাগমণি নিরাপত্তা নিয়ে। এই মণির নাম সূর্যমণি! এক রাতে দিবাকর রায় নামে একটি চোর সূর্যমণির চুরি করতে চৌধুরিবাড়ি ঢোকে। কিন্তু সে ধরা পড়ে যায় নন্দার কাছে। নন্দা তাকে সৎ পথে নিয়ে আসার জন্য কৌশলে দিবাকরকে তার দাদুর সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। ঘটনাচক্রে নন্দার একটি নতুন গয়না চুরি যায়।

নন্দার সন্দেহের তীর দিবাকরকের দিকে উঠে। কিন্তু পরে দিবাকর গয়নাটি উদ্ধার করে আনলে নন্দা জানতে পারে, তার দাদা মন্মথই আসল চোর। দিবাকরের কথাতেই নন্দা জানতে পারে তার বেকার দাদা লিলি নামে এক প্রতারকের প্রেমে পড়ে চুরি করছে ও দাদুর তহবিল থেকে টাকা সরাচ্ছে। এরপর ধীরে ধীরে দিবাকর ও নন্দা পরস্পরের প্রেমে পড়ে যায়। এদিকে লিলির প্ররোচনায় মন্মথ সূর্যমণিটি চুরি করে। তবে দিবাকর নিজেকেই চোর বলে দাবি করে ও সব দোষ নিজের মাথায় নিয়ে নেন। উপন্যাসের শেষে দেখা যায়, মন্মথ ও নন্দা চৌধুরী মশাইকে বলে তাদের এক ‘বন্ধু’র সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছে এবং চৌধুরী মশাই নন্দাকে বলছেন, “নন্দা, তোর সেই বন্ধুটিকে গিয়ে বলিস যে, তিন বছরের মধ্যে তোর বিয়ের কোনও যোগ নেই!”

গল্প সংগ্রহ

গল্প সংগ্রহ
গল্প সংগ্রহ

গোয়েন্দা, ইতিহাস আশ্রিত গল্প গুলো বাদে লেখক শরনিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের বিচিত্র সব গল্প গুলোর সংকলন হলো ‘গল্প সংগ্রহ’! এই সংকলনের গল্প গুলো মূলত অলৌকিক, অতি অলৌকিক, প্রেম ও সামাজিক এবং রম্য রসে ভরপুর।

৮৯৯ পৃষ্ঠার বইটির উল্লেখ্য যোগ্য কয়েকটি গল্প হলো: বিজ্ঞাপন বিভ্রান্ত, কবি-প্রিয়া, এপিঠ ওপিঠ ইত্যাদি। এই সংকলনের গল্প গুলো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ভিন্ন রসে শরনিন্দু কে চিনতে চাইলে গল্প গুলো পড়ে দেখতে পারেন।

বইটি রকমারি থেকে কিনুন



error: